আন্তর্জাতিক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পালটাপালটি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবার পুরোদমে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্তগুলো ওয়াশিংটন আর মানবে না। শনিবার ইরানও এমওইউ সম্পর্কে একই অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এভাবে আর দু-তিন দিন হামলা চালালে তেহরান ‘সর্বাত্মক অভিযান’ শুরু করবে।

 

যুক্তরাষ্ট্র শনিবার টানা সপ্তম দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে পারস্য উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট দেশের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে ইরান।

 

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে এমওইউ সই করে। এতে সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা, ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল।

 

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ২২ জুন সুইজারল্যান্ডে মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের নেতা ও কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেন। এ বৈঠকের পরপর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পালটাপালটি হামলা শুরু হয়। থেমে থেমে তা অব্যাহত ছিল। কিন্তু গতকাল টানা সপ্তম দিনের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোকেও নিশানা করছে। নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটিতে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এদিকে জর্ডানে গত শুক্রবার ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান আলোচনায় না ফিরলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। এর পর থেকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে মার্কিন বাহিনী।

 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গতকাল লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন করছে। এতেই প্রমাণ হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ‘মূল্যহীন ও অকার্যকর’।

 

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন হামলা আরও দু–তিন দিন অব্যাহত থাকলে তেহরান সর্বাত্মক অভিযান আবার শুরু করবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে টানা সপ্তম দিনের হামলায় তারা ইরানের নজরদারি ব্যবস্থা, সামরিক রসদ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার ও নৌবাহিনীর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, হরমোজগান প্রদেশে সর্বশেষ মার্কিন হামলায় তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। দুটি সেতু, একটি সড়ক সুড়ঙ্গ, টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১১৬টি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার অচল হয়ে পড়েছে।

 

মার্কিন হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশ কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) গতকাল জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা কুয়েতের একটি তেল স্থাপনা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। কুয়েতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার কারণে কয়েকটি উৎপাদন ইউনিট বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

 

বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত শেখ ইসা বিমানঘাঁটির বিমান আশ্রয়কেন্দ্র, জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও সংযোগকারী কয়েকটি সেতু লক্ষ্য করে হামলা চালনো হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইরান। পাশাপাশি জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে দেশটি।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন মাস পর শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রথমবারের মতো সৌদি আরবেও হামলা চালিয়েছে ইরান। রাজধানী রিয়াদের কাছে আল-খারজে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু এলাকায় সতর্কসংকেত বেজেছে।

 

ঘটনার বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন দুই ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেন, আল-খারজের ওই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছেন। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা ইরান হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

 

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন–ইসরাইলি হামলা শুরুর পর প্রথম পর্যায়ে ১৩ মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। এরপর এক বিমান দুর্ঘটনায় পাইলটের মৃত্যু হয়। এখন জর্ডানে নিহত দুজনসহ নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬।

বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য

ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের কর্মকর্তারা জানান, গত ১০ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ১২টি শহরের ৯৫টি স্থানে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। হামলার ফলে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও পানি শোধনাগারের পাম্পে হামলার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের সুপেয় পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন করে সংঘাত শুরুর পর ৬ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

 

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। তাই তেহরানও ওই সমঝোতার আওতায় থাকা নিজেদের সব অঙ্গীকার স্থগিত করেছে।

 

যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পালটাপালটি হামলা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। ইরানে টানা হামলার পরিধি ও মাত্রা দিন দিন বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোয় হামলা চালিয়ে জবাব দিচ্ছে। তিন মাসের মধ্যে প্রথমবার সৌদি আরবে হামলা হয়েছে। সিরিয়ায় এই প্রথমবারের মতো হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে।

 

কাতারভিত্তিক আরব পারস্পেকটিভস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেইদন আলকিনানি আলজাজিরাকে বলেন, যুদ্ধ যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। ধীরে ধীরে এটা অনেক বেশি বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। আলকিনানির মতে, আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো এই যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক কোনো সংগঠনের উদ্যোগের অনুপস্থিতি এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আইনের কোনো কার্যকারিতা না থাকা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে মুসলিম বিশ্বের শত্রু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা : মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শুধু ইরানের বিরোধী নয়, পুরো মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।   রোববার (৩০ আগস্ট) মুসলিম ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   মোজতবা খামেনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা, ন্যায়বিচার ও অভিন্ন লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, তাদের বিরোধিতা শুধু ইরান বা ইরানের জনগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার দেশসহ পুরো মুসলিম উম্মাহ তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।   পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোর শাসকদেরও নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। খামেনির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত সরকারগুলোর ওপরও বিভিন্ন ধরনের চাপ ও অসম্মান করা হচ্ছে।   মুসলিম বিশ্বের বিভাজনকে ‘শত্রুদের বড় সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় ও মতাদর্শগত পার্থক্যের পাশাপাশি জাতিগত, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বিভেদও কাজে লাগানো হচ্ছে।   তার দাবি, মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত করে তাদের শক্তি দুর্বল করা এবং পরে তাদের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করাই আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর উদ্দেশ্য।   মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন খামেনি। তার বক্তব্য, যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন তৈরিতে ভূমিকা রাখে, তারা জেনে বা না জেনে শত্রুদের স্বার্থকে এগিয়ে দিতে পারে।   বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে ফিলিস্তিন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে খামেনি প্রশ্ন তোলেন, মুসলিম বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ থাকলে ফিলিস্তিনিরা কি এতটা অসহায় অবস্থার মুখোমুখি হতো?   পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল নিয়েও মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, ওই অঞ্চলের দেশগুলোর জনগণ ও সরকারগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাইরের কোনো শক্তির পক্ষে তাদের ভূখণ্ড ও সম্পদের দিকে আগ্রহ দেখানো কঠিন হতো।   মুসলিম ঐক্যের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। এগুলো হলো—বিভেদ এড়িয়ে ঐক্য ধরে রাখা, হুমকি ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একে অন্যকে সহযোগিতা করা এবং সম্পদ, নিরাপত্তা, জ্ঞান ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো।   খামেনির মতে, মুসলমানদের ঐক্যই শক্তিশালী ইসলামি সভ্যতা গঠনের অন্যতম ভিত্তি। মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের মাধ্যমেই নতুন একটি ইসলামি সভ্যতার পথ তৈরি করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ৩০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

নেপালের বন্যায় জলবিদ্যুৎ টানেলে নিখোঁজ ৮৯৮, উদ্ধার ৩৬১

সংগৃহীত ছবি

নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যা, মৃত বেড়ে ৬৮৬; নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, বাড়ছে হতাহত

ছবি: সংগৃহীত
কিয়েভে ড্রোন হামলায় ৩৭ জন নিহত, আহত ৪২

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে একটি গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে রুশ ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। আলজাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।   কিয়েভের পশ্চিমে বুচা জেলার মিলা শহরের কাছে ওই গুদামটি অবস্থিত। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়ার রাতভর চালানো ড্রোন হামলার পর সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর আগুন দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।   কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে কয়েকটি বাড়ি ও একটি রেস্তোরাঁয়ও। হামলার এলাকা থেকে প্রায় ৪০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।   নিহতদের মধ্যে দিমিত্রিভস্কা গ্রামের মেয়র তারাস দিদিচও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর।   ইউক্রেনীয় প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, গুদামটিতে বিস্ফোরক সামগ্রী রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তারা ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছেন। সেখানে বিস্ফোরক সংরক্ষণের অনুমতি ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তা বিধি মেনেছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ড্রোন হামলার পর ওই স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে। তার মতে, আবাসিক এলাকার কাছে গোলাবারুদ সংরক্ষণের অনুমতি নেই। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্হি কোরেতস্কি বলেছেন, জুলাই মাসে কিয়েভের কাছে ভিশনেভে একটি গোলাবারুদ গুদামে হামলায় প্রাণহানির পরও একই ধরনের ভুল আবার ঘটেছে। তার অভিযোগ, আবাসিক এলাকার কাছাকাছি গোলাবারুদ রাখার মতো অব্যবস্থাপনা গুরুতর অবহেলার শামিল।   ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৬৭টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।   সূত্র: আলজাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে মালয়েশিয়ায় ৬ দফা দাবি

ছবি: সংগৃহীত

জিম্বাবুয়েতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৭

সংগৃহীত ছবি

গাছে বেঁধে গায়ে আগুন, সেই ভারতীয় ইনফ্লুয়েন্সারের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ভাষণ নিয়ে বাজি, সাবেক হোয়াইট হাউস কর্মীকে জরিমানা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যের আগাম গোপন তথ্য ব্যবহার করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বাজি ধরার দায়ে হোয়াইট হাউসের সাবেক এক টেলিপ্রম্পটার অপারেটরকে ১ লাখ ৭২ হাজার ডলারেরও বেশি (প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার পাউন্ড) অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধ স্বীকার ও তদন্তে সহযোগিতার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এই বড় আর্থিক জরিমানা ও ট্রেডিং নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত জারি করেছে।   অভিযুক্ত গ্যাব্রিয়েল পেরেজ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন ভাষণে কী কী বিষয় বা শব্দ উল্লেখ করা হবে, তা আগেই জানতে পেরে ‘কালশি’ নামক একটি প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্মে বাজি ধরেন। কালশি মূলত এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে ব্যবহারকারীরা বাস্তব বিশ্বের নানা ঘটনার ওপর ভিত্তি করে অর্থ বাজি ধরতে পারেন। এ ঘটনার পর মার্কিন কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশন (সিএফটিসি) তদন্ত শেষে পেরেজকে বাজি ধরে আয় করা ১ লাখ ৭ হাজার ৫৩৯.০২ ডলার সমর্পণের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৬৫ হাজার ডলার বেসামরিক জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।   প্রকাশিত এই কেলেঙ্কারির বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে গত জুলাই মাসে তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেছিলেন যে পেরেজকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং তিনি আর তার পুরোনো পদে ফিরে আসবেন না।    শুক্রবার চুক্তি ও জরিমানার বিষয়টি ঘোষণার সময় সিএফটিসি জানায়, পেরেজ হোয়াইট হাউসের গোপনীয়তা ও বিশ্বাসের নীতি লঙ্ঘন করে ট্রাম্পের বক্তব্যের ওপর আগাম বাজির সুবিধার্থে তার পূর্বজ্ঞানকে অসদুপায়ে ব্যবহার করেছেন। তবে তদন্তের ক্ষেত্রে তার অভূতপূর্ব সহযোগিতার কারণে বেসামরিক জরিমানার পরিমাণ কিছুটা কমানো হয়েছে। জরিমানার পাশাপাশি পেরেজকে আগামী তিন বছরের জন্য যেকোনো ধরনের ট্রেডিং বা বাজিতে অংশ নেওয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কালশির প্রধান আইনজীবী ববি ডি’নল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, আপনার পরিচয় যা-ই হোক না কেন, আমাদের নিয়ম কিংবা ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করলে তাকে পরিণতি ভোগ করতেই হবে।    এর আগে কোম্পানিটি সংবাদমাধ্যম ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছিল যে, গত মার্চ মাসে তাদের বিশ্লেষকরা ‘মেনশন মার্কেট’ বা নির্দিষ্ট বক্তব্য-সংক্রান্ত বাজির চুক্তিতে অস্বাভাবিক লেনদেন প্রত্যক্ষ করেন। মেনশন মার্কেটে মূলত কোনো বক্তা নির্দিষ্ট দেশ, নির্বাচনের স্লোগান বা বিশেষ কোনো শব্দ ব্যবহার করবেন কি না—তার ওপর বাজি ধরা হয়। পরে অ্যাকাউন্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায় যে লেনদেনকারী ব্যক্তি হোয়াইট হাউসের টেলিপ্রম্পটার পরিচালনাকারী একজন সরকারি কর্মচারী এবং পরবর্তীতে বিষয়টি সিএফটিসিকে অবহিত করা হয়।   প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্ম কালশি গত জুলাইয়ে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছিল যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিংবা ফেডারেল রিজার্ভের প্রধানের মতো রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য ফরেক্স মার্কেট, জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ বাজার এবং শেয়ারবাজারে কোটি কোটি ডলারের হেরফের ঘটায়। তাই এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্যের অপব্যবহার অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। একই মাসে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর হোয়াইট হাউস ম্যানেজমেন্ট অফিস থেকে সকল কর্মকর্তা ও সহযোগীদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্মে যেকোনো ধরনের বাজি ধরা থেকে বিরত থাকার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে নিশ্চিত করেছেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সূত্র: বিবিসি

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ৩০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫, ডিএনএ সংরক্ষণের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

ইরান-ওমানের হরমুজ সমঝোতা, বাস্তবায়নে নির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ায় প্রতিদিন ১ হাজার ড্রোন হামলার লক্ষ্য জেলেনস্কির

0 Comments