বিশ্ব

হামাস যোদ্ধাদের প্রকাশ্য বিচার ও মৃত্যুদণ্ডে ইসরায়েলের নতুন আইন

মারিয়া রহমান মে ১২, ২০২৬
ইসরায়েলের সংসদ ‘নেসেট’। ছবি : রয়টার্স
ইসরায়েলের সংসদ ‘নেসেট’। ছবি : রয়টার্স

ইসরায়েলে পরিচালিত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর নজিরবিহীন হামলার সাথে জড়িতদের বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে একটি নতুন আইন পাস করেছে দেশটির সরকার। ইসরায়েলের সংসদ ‘নেসেট’-এ ৯৩-০ ভোটে বিলটি পাস হয়। সরকার ও বিরোধী দল যৌথভাবে এই ঐতিহাসিক বিলটি উত্থাপন করেছিল।

নতুন এই আইনের অধীনে জেরুজালেমে একটি বিশেষ সামরিক আদালত গঠন করা হবে।

সেখানে আটককৃত হামাসের বিশেষ বাহিনী ‘নুখবা’ ইউনিটের সদস্যদের বিচার করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, যৌন সহিংসতা ও গণহত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

বিলটির প্রস্তাবক ইউলিয়া মালিনোভস্কি বলেন, ‘সবাই দেখুক ইসরায়েল তার ক্ষতিসাধনকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে জানে।’

অনেক ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ এই বিচারকে ১৯৬২ সালের নাৎসি অপরাধী অ্যাডলফ আইখম্যানের বিচারের সাথে তুলনা করছেন। আইখম্যানই ছিলেন ইসরায়েলি বেসামরিক আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র ব্যক্তি। তবে এই বিশেষ আইনের বিরোধিতা করেছে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তাদের মতে, এটি একটি ‘লোকদেখানো বিচার’ হতে পারে।

‘ইসরায়েলে নির্যাতন বিরোধী গণকমিটি’ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, আটকদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে এবং তার ভিত্তিতেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

৭ অক্টোবরের হামলায় স্বজন হারানো অনেক পরিবার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও তাদের মনে কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন রয়ে গেছে। এলাদ কাটজির নামক এক নিহতের বোন কারমিত পাল্টি কাটজির বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের বিচারের পাশাপাশি এই ট্র্যাজেডি কিভাবে ঘটল এবং কারা এর জন্য দায়ী, সেই উত্তরগুলোও আমাদের পাওয়া প্রয়োজন।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলায় ১,২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর জবাবে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।


বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ গাজাবাসীকে এই হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে ফৌজদারি আসামি হিসেবে আটক রাখা হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি : সংগৃহীত
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা, ১ হাজার ৫০০ নিখোঁজ; ৮০০ জনই বিদেশি

নেপাল ও চীনের তিব্বতে হিমালয়ঘেঁষা এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৮ দেশের অন্তত ৮০০ বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৬৫ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।   বুধবার পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিলে নেপালের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জনপদ ও উপত্যকা প্লাবিত হয়। একই সময়ে চীনের তিব্বত অঞ্চলেও ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে বহু মানুষ আটকা পড়েন এবং যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়।   নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতের ১৭৭, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪, যুক্তরাজ্যের ৩৩ এবং কানাডার ২৫ নাগরিক রয়েছেন।   অন্যদিকে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে আরও ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।   উদ্ধার অভিযানে হাজারো সদস্য   দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালে পাঁচ হাজারের বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্যকে উদ্ধারকাজে মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে খাদ্য, তাঁবু ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে প্রতিবেশী ভারতও সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকেও ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধসেই বিপর্যয়   প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পকে এ দুর্যোগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এটি মূলত হিমবাহের শিলা ও বরফ ধসে সৃষ্ট ভূকম্পন এবং পরবর্তী ভূমিধসের ফল।   দুর্যোগকবলিত অঞ্চলটি কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাপথ। ফলে নিখোঁজদের বড় একটি অংশ পর্যটক ও তীর্থযাত্রী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে।   তীব্র প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   তথ্যসূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানাল নেপালের ভয়াবহ বন্যা

ছবি: সংগৃহীত

বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যস্ত তিব্বত সীমান্তে ড্রোন পাঠাল চীন

ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানিতে মর্মাহত নেপালের প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
নেপালে বন্যায় নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ৪৬৬ জন বিদেশি নাগরিক। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপাল পুলিশ নিখোঁজদের সংখ্যা আপডেট করেছে। তারা বলেছে, নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকরা ২৮টি দেশের নাগরিক। এছাড়া ১১৩ জন নিখোঁজ পর্যটক নেপালের নাগরিক।   নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪ জন রয়েছেন। যুক্তরাজ্যের নিখোঁজ নাগরিকের সংখ্যা ৩৩ জনে অপরিবর্তিত রয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর ব্যাপক উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ও সড়ক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান শনাক্ত ও তাদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে গেলেও দুর্যোগের ব্যাপকতা ‘কল্পনারও বাইরে’ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এটিকে নেপালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। স্থানীয় এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ‘কল্পনারও বাইরে’। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় নিখোঁজদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। সূত্র: বিবিসি

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মোজতবা খামেনির মৃত্যুর খবর বিশ্বাস করেন না ট্রাম্প

তুরস্ক ও ইসরায়েলের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্ককে নিয়ে ইসরায়েলের ভয়

বদলে গেল ভারতের এক রাজ্যের নাম

সংগৃহীত ছবি
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরান, নতুন বিক্ষোভের আশঙ্কা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক অবরোধ ব্যর্থ হবে বলে দাবি করলেও দেশে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে ইরান সরকার। দেশটির অন্যতম শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন, ক্রমাগত মার্কিন চাপ সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যা আবারও জনগণকে রাজপথে নামাতে বাধ্য করবে। সোমবার ইরানের কট্টরপন্থি পুলিশ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ-রেজা রাদান তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে বলেন, শত্রুপক্ষ মানুষের জীবিকা, জ্বালানি, অর্থনীতি ও বেকারত্বকে কাজে লাগিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ চালুর ঘোষণার পরই এই সতর্কবার্তা এলো। এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো তেহরানকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা এবং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে জড়িত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে ইরান। চলতি সপ্তাহে খোলা বাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের দর সর্বকালের সর্বনিম্ন ২০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়ে গেছে। দেশটিতে সাধারণ মানুষ ওষুধ ও পেট্রোলের মতো জরুরি পণ্যের তীব্র সংকটে ভুগছে। আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনীতি ৫.৪ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮.৯ শতাংশে। বিশেষ করে পেট্রোলের মূল্য ও সরবরাহের ঘাটতিকে সরকার অন্যতম বড় রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে দেখছে। মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশটির জ্বালানি উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হয়েছে এবং তেহরান, মাশহাদ ও কারমানের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ২০১৯ সালে আকস্মিকভাবে পেট্রোলের দাম বাড়ানোর পর ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ইতিহাস স্মরণ করে সরকার এখন বেশ সতর্ক। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারির রক্তক্ষয়ী সরকারবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি এখনও ইরানি সমাজে তাজা। ওই বিক্ষোভে কর্তৃপক্ষের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ৩ হাজার ১১৭ জন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসেবে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হন। এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের মনে শোক ও ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়ে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কমান্ডার রাদান দ্রুত সাড়াদানকারী দল এবং আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজকে প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ও সমাজের ‘অন্ধকার স্তরগুলোতে’ নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র: আল-মনিটর

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৬, ২০২৬

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় ১৭ জনের মৃত্যু

ছবি : রয়টার্স

ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি, বিশ্বজুড়ে সাক্ষাৎকার স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন পাতা নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি

0 Comments