জাতীয়

হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারে নামবেন তারেক রহমান

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১০, ২০২৬

আগামী ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সিলেট সফরে যাবেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করবেন তিনি।

আজ শনিবার বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বাসস’কে এ কথা নিশ্চিত করেছেন।

ভোটের প্রচার শুরুর বিষয়ে আজ শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ২২ তারিখ থেকে আমাদের সকল রকম পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাব।’

ভোটের প্রচারের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি বিএনপি চেয়ারম্যান।

জানা যায়, আগামী ২১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা।

বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবে। এর অংশ হিসেবে তারেক রহমান সিলেটে হযরত শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণার সূচনা করবেন। পরে সিলেট থেকে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার সময় তিনি বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও জনসভায় অংশ নেবেন।

এরই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজারে একটি জনসভায় যোগ দেওয়ার পর তিনি শ্রীমঙ্গলে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখবেন। ঐতিহ্যগতভাবেই হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে বিএনপি।

এর আগে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে দলের স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠক শেষে তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলের সফর স্থগিতের কথা জানানো হয়। সেই সঙ্গে এদিন দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার নেন তারেক রহমান।

গতকাল বৈঠক শেষে এ বিষয়ে জানানোর পাশাপাশি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে সফরের নতুন সময়সূচি জানানো হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা পদকে সেরা নীলফামারীর দুই শিক্ষক

প্রাথমিক শিক্ষা পদক–২০২৬-এর জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন নীলফামারী জেলার দুই শিক্ষক। তারা হলেন কিশোরগঞ্জ উপজেলার শরিফাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হেদায়েত হোসেন এবং সৈয়দপুর উপজেলার শ্বাসকন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।   শনিবার (১১ জুলাই) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানানো হয়, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় পর্যায়ের মূল্যায়নে অংশ নিয়ে তারা এই সাফল্য অর্জন করেন।   প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে ১৭টি ক্যাটাগরির মধ্যে মো. হেদায়েত হোসেন শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক (পুরুষ) এবং মো. মোস্তাফিজুর রহমান শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (পুরুষ) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।   জাতীয় পর্যায়ের এই সম্মাননা আগামী ১৫ জুলাই রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।   প্রতিক্রিয়ায় মো. হেদায়েত হোসেন বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছরের শিক্ষকতা জীবনের এই স্বীকৃতি তাকে আরও দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করবে। অন্যদিকে মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদেরও প্রেরণা জোগাবে এবং ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেবে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত ইসরাইলি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পথে আয়ারল্যান্ড

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেলের কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেল পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

গোয়াইনঘাট সীমান্তে গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু, তদন্তে বিজিবি-পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত
সড়ক ধসে চার দিন ধরে বিচ্ছিন্ন বাঘাইছড়ি, দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ টানা চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে বাঘাইহাট-মারিশ্যা সড়কের ‘৩ কিলো’ এলাকায় বড় অংশ ধসে পড়ায় ৮ জুলাই থেকে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।   তবে শুক্রবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কমতে শুরু করায় উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা থেকে ধীরে ধীরে পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষজনও নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।   খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার জানান, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে মাটি ভরাট ও সংস্কার কাজ চলছে। আপাতত ভারী যানবাহন চলাচল সম্ভব না হলেও আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।   উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে পৌরসভা, সাজেক, বঙ্গলতলীসহ বিভিন্ন এলাকার ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৫৮৭টি পরিবারের ২ হাজার ৩৬৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় নিয়েছিলেন সাজেকের বাঘাইহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে।   বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।   এদিকে রাঙ্গামাটি প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত অতিরিক্ত ১২.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অসহায় বৃদ্ধার ঘর সংস্কারে ২০টি ঢেউটিন দিলেন বিএনপি নেতা

ছবি: সংগৃহীত

ছয় মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, নিরাপদ সড়কে ৫ দফা দাবি

ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে যাবে না তুরস্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান

ছবি: সংগৃহীত
হাদি হত্যা মামলার বিচার না হলে সরকারের পদত্যাগের আহ্বান জামায়াত আমিরের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, হাদি হত্যা মামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি দাবি করেন, বিচার করতে ব্যর্থ হলে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত এবং পরবর্তী সরকার এ ঘটনার বিচার সম্পন্ন করবে।   শনিবার রংপুরে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের এক সমাবেশে তিনি এসব বক্তব্য দেন।   সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ চাঁদাবাজিতে জড়িত নয়। তাঁর ভাষ্য, যারা চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত, তারা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে না।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১১, ২০২৬
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

জাতিসংঘের প্রস্তুতি ও আসিয়ান বৈঠকে যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদেশ সফর

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লোগো | ছবি : সংগৃহীত

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নামে প্রতারণা চক্র সক্রিয়, সতর্কবার্তা জারি

আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হচ্ছেন বাংলাদেশি রাবাব ফাতিমা

0 Comments