জাতীয়

গরুর মাংস আমদানির অনুমতি চায় রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, বাজেটের আগে ১১ দফা দাবি

আক্তারুজ্জামান মে ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে গরুর মাংসের উচ্চমূল্য ও সরবরাহ সংকটের কারণে বিদেশ থেকে সরাসরি মাংস আমদানির অনুমতি চেয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সংগঠনটির দাবি, বাজারে মাংসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়।

 

রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে রেস্তোরাঁ খাতের বিভিন্ন সংকট ও সমাধানে ১১ দফা দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

 

সংগঠনটির নেতাদের দাবি, পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় গবাদিপশু পালন কমে গেছে। পাশাপাশি বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাবও মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এ পরিস্থিতিতে রেস্তোরাঁ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সরাসরি গরুর মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

 

সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন সহজ করা, এলপিজি সংকট সমাধান এবং ভ্যাট-কর কমানোর দাবিও জানানো হয়।

 

ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হলেও সম্পূরক শুল্ক, উৎসে কর ও অন্যান্য করের চাপে ব্যবসায়ীরা এখনো চাপে রয়েছেন। তাই আগামী বাজেটে উৎসে কর প্রত্যাহার এবং ক্যানটিন ও ক্যাটারিং সেবায় ভ্যাট ৫ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ এখনো নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধিও মানছে না। অন্যদিকে এলপিজি গ্যাসের সংকট ছোট ও নতুন রেস্তোরাঁগুলোর জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিকল্পিতভাবে নতুন গ্যাস সংযোগ চালু হলে ব্যবসায়িক ব্যয় কমবে এবং এলপিজির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে বলে মনে করেন তাঁরা।

 

সংগঠনটির অভিযোগ, কিছু অসাধু চক্র ট্রেড ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে রেস্তোরাঁমালিকদের ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি ও হয়রানির শিকার করছে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন নেতারা।

 

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান চৌধুরী ও দপ্তর সম্পাদক আমির হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
বদলি ঠেকাতে ডেপুটি স্পিকারের জাল ডিও লেটার, সেই এসি-ল্যান্ডের নামে মামলা

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার) ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামে জাল ডিও (ডেমি-অফিশিয়াল) লেটার তৈরি করে সরকারি বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগে বরগুনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।   রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মো. মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।   অভিযোগ যা বলছে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ জুলাই জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবের মাধ্যমে বাদী জানতে পারেন যে, আসামি শাওন মজুমদার সুমন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামে একটি জাল ডিও লেটার তৈরি করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই চিঠিতে ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, সরকারি লেটারহেড এবং অফিসিয়াল পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল সরকারি বদলি আদেশে অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে নিজের পছন্দের কর্মস্থলে পদায়ন নিশ্চিত করা।   বদলি ঠেকাতে জালিয়াতির অভিযোগ এজাহারে বলা হয়েছে, বরগুনা সদর উপজেলা থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় শাওন মজুমদার সুমনের বদলির আদেশ বাতিল করে তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় পদায়নের সুপারিশ জানিয়ে ওই ভুয়া ডিও লেটার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তবে পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয় নিশ্চিত হয় যে, কথিত ডিও লেটারটি তাদের দপ্তর থেকে ইস্যু করা হয়নি।   যাচাইয়ে মিলল জালিয়াতির প্রাথমিক প্রমাণ মামলার এজাহার অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নথিটি পরীক্ষা করে দেখেন, এতে ব্যবহৃত ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, ভাষার ধরন, পত্রের বিন্যাস এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব কারণে প্রাথমিকভাবে নথিটিকে জাল বলে শনাক্ত করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, এই জালিয়াতির মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সাংবিধানিক পদমর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করারও অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।   সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ এজাহারে আরও বলা হয়েছে, এ ঘটনার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র জড়িত থাকতে পারে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের স্বার্থে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ই-মেইল, প্রিন্টিং উৎস, আর্থিক লেনদেন এবং যোগাযোগের তথ্য তদন্তের পাশাপাশি ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।   যেসব ধারায় মামলা মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৬৫ (জালিয়াতি), ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০ এবং ১২০-বি (ষড়যন্ত্র) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া মামলার সঙ্গে আলামত হিসেবে কথিত জাল ডিও লেটারের কপি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের প্রকৃত অফিসিয়াল প্যাডের নমুনাও সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ০৭, ২০২৬

গভীর সমুদ্রের সম্পদ আহরণের চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর চারপাশে সবচেয়ে বেশি নদী দূষণ করছে ‘ঢাকা ওয়াসা’

গণমাধ্যম শক্ত থাকলে গণতন্ত্র টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল

চট্টগ্রামে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের বাসায় হামলা-অগ্নিসংযোগ

চট্টগ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাসভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নগরের দুই নম্বর গেট এলাকার চশমা হিলে অবস্থিত বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বাসভবনটি চট্টগ্রাম সিটি প্রয়াত সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পারিবারিক বাড়ি।   খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা জানা যায়নি। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।   পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রাত ২টার দিকে হামলা ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। কারা জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ওসি আরও জানান, সাত জন দুর্বৃত্ত এসে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। পরে পাইপলাইনে আগুন ধরে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়।   এ হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। স্থানীয়দের ধারণা, এই ঘটনার জেরে নওফেলের বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০৭, ২০২৬

শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুক, গণহত্যার দায় নিয়ে কারাগারে যাক : আইনমন্ত্রী

ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। ছবি- সংগৃহীত

ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, স্ত্রীসহ হাসপাতালে ভর্তি

ছবি: সংগৃহীত

শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনার ফাঁসি সমর্থন করি না: কাদের সিদ্দিকী

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার জেল হোক, ফাঁসি হোক—সেটা আমি সমর্থন করি না।’ বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জেলা শাখার সভাপতি আমিনুল ইসলাম তারেকের কবর জিয়ারত করতে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন।   কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘শেখ হাসিনা-বঙ্গবন্ধু এক না, শেখ হাসিনা-মুক্তিযুদ্ধ এক না, শেখ হাসিনা-বাংলাদেশ এক না। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, সেটা থাকবে।’   তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ায়নি এবং পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই দলটির অধঃপতন ঘটেছে বলে তাঁর মন্তব্য।   তারেক রহমান সম্পর্কে যা বললেন:  তারেক রহমান প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রীর খারাপ কাজগুলো অনুসরণ করা উচিত নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁকে সরাসরি বিরোধিতা করা তাঁর কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জাতীয় সংকটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংকটেরও মুখোমুখি, বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব রয়েছে।   কিশোরগঞ্জ সফর: বৃহস্পতিবার দুপুরে কাদের সিদ্দিকী কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় পৌঁছান। পরে জোহরের নামাজের পর তিনি শোলাকিয়া এলাকার বাগে জান্নাত গোরস্থানে গিয়ে আমিনুল ইসলাম তারেকের কবর জিয়ারত করেন। সেখান থেকে তিনি খরমপট্টি এলাকায় তারেকের বাসায় যান এবং তাঁর স্ত্রী আরিফা ইসলাম লাকীসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণে দুই মাসের স্থিতাবস্থা জারি

ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জে তিতাসের হাই-প্রেসার লাইনে অবৈধ গ্যাস সংযোগ, দুইজন গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত

ঝালকাঠি বিসিকে ৭৯ প্লটের ৫১টিই ফাঁকা, ২৫টি ফরচুন গ্রুপের

0 Comments