গণমাধ্যমের ওপর সরকার কোনো অন্যায় পদক্ষেপ নিলে রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা না করে তার প্রতিবাদ করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংবাদপত্রের সম্পাদকরা। একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সংসদকে সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে দৈনিক সংবাদপত্রের সম্পাদকদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সম্পাদকদের নতুন সংগঠন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
মাহমুদুর রহমান বলেন, সম্পাদকরা বিরোধীদলীয় নেতার কাছে প্রত্যাশা জানিয়েছেন—সরকার কোনো গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অন্যায় পদক্ষেপ নিলে সেই গণমাধ্যমটি বিরোধী দলকে সমর্থন করে কি না, তা বিবেচনা না করে প্রতিবাদ করতে হবে। বিরোধীদলীয় নেতা এ বিষয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সভায় ডা. শফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে ‘ফোর্থ স্টেট’ বা ‘ফোর্থ ডাইমেনশন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো ভুল থাকলে তা তুলে ধরার পাশাপাশি গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়ার জন্য সম্পাদকদের প্রতি আহ্বান জানান।
মাহমুদুর রহমান বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যাওয়ার পর ধীরে ধীরে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার নজির রয়েছে। বর্তমান সরকার সে পথে যাবে না—এমন প্রত্যাশা রয়েছে। তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সব বিষয়ে মন্তব্য না করে একটি কার্যকর ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ গঠন করা হলে তা জনগণ ও সরকার উভয়ের জন্য ইতিবাচক হবে। এতে সরকারের ওপর কার্যকর নজরদারি তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে সরকার পরিচালনার জন্য বিরোধী দলেরও প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে। বিরোধীদলীয় নেতা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে তাদের একটি শ্যাডো ক্যাবিনেট রয়েছে এবং এর সদস্যদের প্রশিক্ষণ চলছে।
সভায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে মাহমুদুর রহমান জানান, ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ স্বাভাবিক সম্পর্ক চায় জামায়াতে ইসলামী। তবে কোনো দেশের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা কিংবা বৈরিতা—কোনোটিই তারা চায় না বলে বিরোধীদলীয় নেতা জানিয়েছেন।
দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান বলেন, গণতন্ত্রকে টেকসই করতে সরকার ও বিরোধী দলকে সংসদকেন্দ্রিক রাজনীতির চর্চা করতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের ধারাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ফ্যাসিবাদ ও বিরোধী দলের নৈরাজ্য—দুই ধরনের পরিস্থিতিই যাতে আর ফিরে না আসে, সে বিষয়ে সম্পাদকরা পরামর্শ দিয়েছেন।
দৈনিক ওয়াদা-এর সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, সভায় প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দলের ভূমিকা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সম্পাদকরা গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আলোচনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও কথা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সরকার ও বিরোধী দলের দায়িত্বশীলতার ঘাটতি নিয়েও আলোচনা হয়।
সম্পাদকরা মনে করেন, অতীতে সরকার ও বিরোধী দলের কর্মকাণ্ডে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে সংসদকে সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যাতে সংসদ দেশের জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।
সভায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম, বিরোধী দলের ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়। আলোচনায় অংশ নেওয়া সম্পাদকরা জানান, বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আগের তুলনায় ভালো অবস্থানে থাকলেও এ ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’-তে বাংলাদেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এ উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশেরও এতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশ্ব নেতাদের আমন্ত্রণ রয়েছে। একই সঙ্গে মক্কার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ ও ধর্মীয় সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মক্কা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। মধ্যপ্রাচ্য বা ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে কোনো নিরাপত্তা জোট গঠিত হলে সেখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অস্বাভাবিক হবে না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’-তে স্বাক্ষর করে। চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।
সেনাবাহিনীর বীর ইউনিটগুলোর সদস্যদের দেশমাতৃকার সেবায় কাজ করে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজশাহী সেনানিবাসস্থ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের (বিআইআরসি) শহীদ নকীব হলে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের (বীর) ২১তম বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। আইএসপিআরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সেনাবাহিনী প্রধান বিআইআরসি সম্মেলন কক্ষে পৌঁছালে তাকে ভারপ্রাপ্ত জিওসি, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক); কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টার; জিওসি, ১১ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, বগুড়া এরিয়া অভ্যর্থনা জানান। সেনাবাহিনী প্রধান বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের সব অধিনায়কদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মত বিনিময়কালে তিনি বীর ইউনিটগুলোর সদস্যদের দেশমাতৃকার সেবায় কাজ করে যাওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন বীর ইউনিটগুলো পদাতিক বাহিনীর মেরুদন্ড হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া, তিনি বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের সব প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত জিওসি, আর্টডক; কমান্ড্যান্ট, ইবিআরসি; সেনাবাহিনীর এ্যাডজুটেন্ট জেনারেল; সেনাবাহিনীর সামরিক সচিব; কমান্ড্যান্ট, বিআইআরসি; জিওসি, ১১ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, বগুড়া এরিয়া; কমান্ড্যান্ট, এসআইএন্ডটি; সেনাসদর ও সংশ্লিষ্ট এরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা; বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টগুলোর অধিনায়ক এবং বিভিন্ন সংস্থার সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কারখানায় উৎপাদন বন্ধ, দীর্ঘদিনের লোকসান ও ঋণাত্মক নিট সম্পদ—সব মিলিয়ে আর্থিকভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড। এর মধ্যেই কোম্পানিটির শেয়ারদরে অস্বাভাবিক উত্থান দেখা দিয়েছে। তবে এ দরবৃদ্ধির কারণ জানতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চিঠির কোনো জবাব দেয়নি কোম্পানিটি। সোমবার (২৪ আগস্ট) নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে বিষয়টি জানিয়েছে ডিএসই। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট তুং হাই নিটিংয়ের শেয়ারদর ছিল ২ টাকা ৮০ পয়সা। ২৩ আগস্ট লেনদেন শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ টাকা ১০ পয়সায়। অর্থাৎ মাত্র ২১ দিনে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ২ টাকা ৩০ পয়সা বা প্রায় ৮২ শতাংশ। অস্বাভাবিক এই দরবৃদ্ধির পেছনে কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য রয়েছে কি না, তা জানতে কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল ডিএসই। তবে তুং হাই নিটিং কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি। এর আগে কোম্পানিটির কারখানা পরিদর্শন করে ডিএসইর একটি বিশেষ পরিদর্শক দল। পরিদর্শনের সময় কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়। পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি অব্যবহৃত থাকায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক যন্ত্রপাতিতে মরিচা ও ময়লার স্তর জমে থাকার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানানো নিয়ম অনুযায়ী বাধ্যতামূলক। তবে তুং হাই নিটিং এ বিষয়ে যথাযথ তথ্য প্রকাশ করেনি বলে ডিএসইর পরিদর্শনে উঠে এসেছে। উৎপাদন বন্ধ থাকার পাশাপাশি কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থাও নাজুক। দীর্ঘদিনের লোকসানের কারণে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারের ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ঋণাত্মক। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ঋণাত্মক ৬ টাকা ৩৫ পয়সা। অর্থাৎ কোম্পানিটির সম্পদের তুলনায় দায়ের পরিমাণ বেশি। এ ছাড়া তুং হাই নিটিংয়ের পুঞ্জীভূত লোকসান প্রায় ৭৬ কোটি টাকা। কয়েক বছর ধরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশও দিতে পারেনি কোম্পানিটি। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং ২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১০৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং মোট শেয়ার ১০ কোটি ৬৬ লাখের বেশি। শেয়ারহোল্ডিংয়ের হিসাবে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩০ দশমিক ০৪ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৬২ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার।