বাংলাদেশ এক নতুন ইতিহাসের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে আয়োজন করা হচ্ছে বহুল আলোচিত গণভোট, যার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদে উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারপ্রস্তাবগুলো নিয়ে জনগণের চূড়ান্ত মতামত যাচাই করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে যে প্রশ্ন ঘোষণা করেছেন, সেটি মাত্র একটি হলেও এর ভেতর অব্যক্ত রয়েছে রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন, সাংবিধানিক কাঠামোর রূপান্তর, রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য এবং জনগণের ভবিষ্যৎ-আকাঙ্ক্ষার অসংখ্য সূক্ষ্ম জটিলতা। প্রশ্নটি হলো, জনগণ জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর প্রতি সম্মতি দেবে কি না।
এই একটি প্রশ্নের মধ্যেই গুঁজে রাখা হয়েছে চারটি বড় প্রস্তাব, যেগুলোর প্রতিটিই স্বাধীনভাবে একটি সাংবিধানিক সংস্কার বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গণভোটে সেগুলোকে একত্র করে উপস্থাপন করায় ভোটারের কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াটি হয়ে উঠেছে আরও জটিল। প্রস্তাবগুলোকে বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়, সংস্কারের ইচ্ছা থাকলেও প্রশ্নগুলো যে সাধারণ মানুষের বোধগম্য হবে, সে নিশ্চয়তা নেই।
প্রথম প্রস্তাবটি নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠনের বিষয়ে। এখানে শব্দবন্ধগুলো জনগণের পরিচিত হলেও ‘জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়া’—এই অংশটি বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। কারণ সাধারণ ভোটার তো বটেই, অনেক সচেতন নাগরিকও সনদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানেন না। সনদটি পুরোপুরি প্রচারিত হয়নি; তার পদ্ধতি, দায়িত্ব ও প্রয়োগ কাঠামোও অনেকাংশে অস্পষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে আসলে কোন প্রক্রিয়াকে অনুমোদন-এটা কি গ্রামের কৃষক থেকে শহরের শিক্ষক পর্যন্ত সবাই বুঝতে পারবেন? গণভোটের প্রশ্ন যদি মানুষের অজ্ঞানতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে গণতন্ত্র সেখানে দুর্বলই হয়ে পড়ে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের পরিকল্পনা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বহন করে। উন্নত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দুই কক্ষ নীতি ও আইন প্রণয়নে ভারসাম্য রক্ষার ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ হবে ১০০ সদস্যের, এবং দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে সেই সদস্য সংখ্যা নির্ধারিত হবে। এতে ছোট দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে—এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দ্বিকক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া কতটা সহজ হবে? আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ক্ষুদ্র বিষয়েও মতের অমিল দূর করা কঠিন। একটি উচ্চকক্ষ ও একটি নিম্নকক্ষের মধ্যে নীতিগত বা মতাদর্শগত অমিল দেখা দিলে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হলে ভবিষ্যতে সাংবিধানিক পরিবর্তন আরও দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে। কিন্তু সাধারণ ভোটার কি দ্বিকক্ষের এই জটিল কাঠামো, এর ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা সম্পর্কে অবগত? ‘উচ্চকক্ষ’ বা ‘দ্বিকক্ষ’—এসব শব্দ সাধারণ মানুষের কাছে এখনো বিমূর্ত। তারা যখন ভোট দিতে যাবেন, তখন কি জানবেন তাদের ভোটের প্রভাব কোথায় গিয়ে পড়বে? এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই।
তৃতীয় প্রস্তাবে রয়েছে সবচেয়ে বিস্তৃত সংস্কারের তালিকা—নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা এবং আরও নানা কাঠামোগত রূপান্তর। শুনতে নিঃসন্দেহে এটি একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নীলনকশার মতো। কিন্তু এর বাস্তব প্রয়োগও প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো এসব বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। কিন্তু জনগণের ভোটের ওপর দাঁড়ানো নির্বাচিত সরকারকে এভাবে আগেই বাধ্যবাধকতার কাঠামোর মধ্যে বেঁধে ফেলা কি গণতন্ত্রের মানসিকতার সঙ্গে যায়? আবার বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার বা সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন এটিকে অনেকেই ক্ষমতার ভারসাম্যের অংশ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু সাধারণ ভোটার কি গ্রহণ করবেন? যাকে তারা কম পছন্দ করে ভোট দেয়নি, তাকেই আবার গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে? আরও বড় সমস্যা হলো, জুলাই সনদের ওই ৩০টি প্রস্তাব জনগণ কতটা জানেন? শহরের উচ্চশিক্ষিত ভোটার হয়তো খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করতে পারবে, কিন্তু গ্রামীণ বা কম-শিক্ষিত ভোটার কি জানবে এসবের সুফল-কার্যকারিতা? যদি তারা না জেনেই ভোট দেন, তাহলে গণভোট কার্যত জনগণের চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠবে।
চতুর্থ প্রস্তাবটি সবচেয়ে বিমূর্ত। এতে বলা হয়েছে—রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অন্যান্য সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। প্রশ্ন হলো—এই ‘অন্যান্য সংস্কার’ কী? কে নির্ধারণ করবে? কোন দলের প্রতিশ্রুতি কার্যকর হবে? জনগণ কি এ বিষয়ে কোনো ভূমিকা রাখবে? ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে ভোটার আসলে কোন অজানা সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মতি দিচ্ছেন? এই অস্পষ্টতা গণতান্ত্রিক কাঠামোকে বরং আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এখানেই গণভোটের বাস্তব সংকটগুলো সামনে আসে। প্রথমত, সাংবিধানিক পরিভাষা সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়। দ্বিকক্ষ, সংস্কার পরিষদ, অনুমোদন প্রক্রিয়া—এসব শব্দ যেন এক ধরনের প্রশাসনিক গোলকধাঁধা। দ্বিতীয়ত, এক প্রশ্নে চারটি ভিন্নমুখী কাঠামোগত প্রস্তাবের প্রতি হ্যাঁ বা না বলতে বলা হচ্ছে। যদি কোনো ভোটার দুটি বিষয়ে সম্মত এবং দুটি বিষয়ে অসম্মত হন, তাহলে তিনি কোন সিদ্ধান্ত নেবেন? রাজনৈতিকভাবে সচেতন মানুষও এখানে বিভ্রান্ত হবেন, প্রান্তিক জনগণের কথা তো বাদই দিলাম। তৃতীয়ত, জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট হওয়া যেমন সুবিধাজনক, তেমনি এতে রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কা প্রবল হয়ে ওঠে। নির্বাচন প্রচারণার উত্তাপে গণভোটের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার প্রবণতা গণভোটেও একইভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া সংবিধানের ১৪২(১) অনুযায়ী সংবিধানের নির্দিষ্ট অংশ পরিবর্তনের জন্য সংসদের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি গণভোট ডাকতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সংসদ গঠনের আগেই গণভোট আয়োজন কতটা সংবিধানসম্মত—এ বিষয়েও জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।
সবকিছুর শেষে মূল সত্যটি হলো—গণভোট তখনই অর্থবহ হয়, যখন জনগণ জানে তারা কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। প্রস্তাবগুলো যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, তাতে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ অনেকাংশে সংকুচিত হয়ে গেছে। গণভোটকে সফল করতে হলে এখন প্রয়োজন স্বচ্ছ ব্যাখ্যা, বোধগম্য ভাষা এবং ব্যাপক গণশিক্ষা। গ্রামীণ ভোটার থেকে শহরের তরুণ—সবার কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছাতে হবে প্রস্তাবগুলো কী, কেন প্রয়োজন, এবং এর ফল কী হবে। জুলাই সনদ ও গণভোট চাইলে নতুন রাজনৈতিক দিগন্ত খুলে দিতে পারে। কিন্তু যদি জনগণের বোঝাপড়া ছাড়া এটি কেবল রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়, তাহলে গণভোট পরিণত হবে সংখ্যার খেলা—যেখানে জনগণের কণ্ঠ নয়, প্রাধান্য পাবে কেবল রাজনৈতিক শক্তির হিসাব।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লীতে প্রবেশে বাধা দেয়ার ঘটনায় জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম। সোমবার ( ১৫ জুন) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ দাবি জানান। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান বলেন, গতকাল আমাদের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এবং আমি যতটুকু জেনেছি যথাযথ কূটনৈতিক চিঠি দেওয়ার পরও দুই ঘণ্টা তাকে দিল্লী ইন্দিরাগান্ধী এয়ারপোর্টে বসিয়ে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা শেষ পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি ফিরে এসেছেন। এ ব্যাপারে আসলে আমাদের কূটনীতিক ব্যর্থতা কী এবং এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ৩০০ বিধিতে মন্ত্রীর বিবৃতি আমি দাবি করছি। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এটা পয়েন্ট অব অর্ডার হলো না। নোটিশ দিলে বিবেচনা করা হবে।
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে দিল্লির বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে ঘটনার আনুষ্ঠানিক ও কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তলবের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, রোববার দিল্লির বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে যে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের কাছে ঢাকা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এদিকে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। দিল্লির ঘটনাটিকে অত্যন্ত ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঠিক কী কারণে এবং কোন পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই ইস্যুতে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ ও অবস্থান কী হবে, তা আজ বিকেলে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে স্পষ্ট করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দিল্লিতে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে হওয়া ঘটনার বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। এ ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।