ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো গণহত্যামূলক হামলায় প্রকৃত মানবিক ক্ষয়ক্ষতি আগের সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত একাধিক স্বাধীন গবেষণায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের শুরু পর্যন্ত ৭৫ হাজারের বেশি প্রাণহানির প্রমাণ মিলেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
একাধিক গবেষণা নিবন্ধের ধারাবাহিক প্রকাশনায় উঠে এসেছে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক নথি আসলে মৃত্যুর সংখ্যাকে বাড়িয়ে দেখায়নি। বরং সেটি ছিল একটি সংযত নিম্নসীমা। গবেষণাগুলো ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানির পরিসর বোঝার জন্য একটি শক্ত ভিত্তি দিয়েছে।
দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথে প্রকাশিত গাজা মর্টালিটি সার্ভের (জিএমএস) এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭৫ হাজার ২০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এটি যুদ্ধের আগে থাকা গাজার ২২ লাখ মানুষের প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যে ৪৯ হাজার ৯০টি সহিংস মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল, তার তুলনায় এই সংখ্যা ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৭১ হাজার ৬৬২ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ৪৮৮ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল বরাবরই এই সংখ্যাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তবে জানুয়ারিতে দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধের সময় গাজায় প্রায় ৭০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
গবেষকেরা বলেন, নিহত ব্যক্তিদের ৫৬ দশমিক ২ শতাংশই নারী, শিশু ও বয়স্ক। জিএমএস জরিপে ২ হাজার পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এতে ৯ হাজার ৭২৯ জনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি মৃত্যুর সংখ্যা নির্ধারণে একটি কঠোর ও প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি দিয়েছে।
গবেষণার প্রধান লেখক রয়্যাল হলোওয়ে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতির অধ্যাপক মিশেল স্প্যাগাট বলেন, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন নির্ভরযোগ্য। তবে মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করার যে অবকাঠামো দরকার, যুদ্ধের কারণে তা ভেঙে পড়ায় সংখ্যাটি স্বভাবতই কমে গেছে।
উল্লেখ্য, এই গবেষণা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত আগের এক গবেষণার চেয়ে উন্নত। ওই গবেষণায় পরিসংখ্যানভিত্তিক ‘ক্যাপচার-রিক্যাপচার’ মডেল ব্যবহার করে যুদ্ধের প্রথম ৯ মাসে ৬৪ হাজার ২৬০ জনের মৃত্যুর হিসাব দেওয়া হয়েছিল।
আগের গবেষণাটি সম্ভাব্যতার ভিত্তিতে কম গণনার বিষয়টি দেখিয়েছিল। নতুন এই গবেষণা গাণিতিক অনুমান থেকে সরে এসে সরাসরি পরিবারের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বাস্তব যাচাই করেছে। এটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়েছে। ৭৫ হাজারের বেশি সহিংস মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
২০২৫ সালের শেষ দিকে গাজার ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা জোরপূর্বক খালি করতে বাধ্য করা হয়। উত্তর গাজা ও রাফাহ প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। ওই বছরের আগস্টে উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়, যা আহত মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে আরও কমিয়ে দেয়।
গবেষকেরা বলছেন, এই গবেষণাগুলো তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে সুরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও গাজার স্বাস্থ্য অবকাঠামো বারবার হামলার শিকার হচ্ছে-এই অবস্থা চলতে থাকলে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইরানকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক সামগ্রী পাঠিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি এসব সামগ্রীর চালানবাহী ২ ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজ কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে পৌঁছেছে। গোয়েন্দা নথি এবং পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গত কাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক জিম ল্যামসন এনবিসিকে এ সম্পর্কে বলেন, “এ তথ্য থেকে আমরা দু’টি ব্যাপার জানতে পেরেছি— (১) মস্কো এবং তেহরান নিজেদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করছে এবং (২) মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযানের জেরে ইরানের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে; অর্থাৎ ইরানের অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ করে মার্কিন বিমান বাহিনীর অভিযানগুলো সফল হয়েছে।” ইরানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে যেসব জাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো সব রুশ জাহাজ নির্মাতা কোম্পানি এমজি-ফ্লোটের তৈরি। ২০২৪ সাল থেকে এ কোম্পানি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ নামে একটি ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তেহরান এবং মস্কোর মধ্যে। এই চুক্তির শর্ত অনুসারে, আগামী ২০ বছর পর্যন্ত প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি খাতে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে রাশিয়া ও ইরান। এই চুক্তির অনেক আগে থেকেই অবশ্য রাশিয়াকে সহযোগিতা করে আসছে ইরান। বিশেষ করে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়াকে নিয়মিত নিজেদের তৈরি লাদেন বা সুইসাইড ড্রোন শাহেদ এবং গোলাবারুদ পাঠিয়েছে ইরান। রাশিয়া আবার নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাদ্যমে শাহেদ ড্রোনের মান ও বিধ্বংসী ক্ষমতার উন্নয়নও করেছে। ইরানকে অস্ত্র সহায়তা পাঠানোর ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনে যোগাযোগ করেছিল এনবিসি। তবে ক্রেমলিনের কর্মকর্তরা এই তথ্যকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার ভোরে মন্দির-সংলগ্ন পাঁচতলা ‘বিদেশিনী’ হোটেলে এ আগুন লাগে। ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকে। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে মঙ্গলবার তারাপীঠের ১৫টি আবাসিক হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন মেঘালয়ের বাসিন্দা। অপর চারজনের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায়। আগুনের ঘটনায় ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ‘বিদেশিনী’ হোটেলের মালিকের ছেলেকে সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছিল। মঙ্গলবার হোটেলটির মালিক প্রবীর কুমার পালককেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রাবণ মাস উপলক্ষে শিবপূজা ও তারাপীঠের মা তারা মন্দিরে পূজা দিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী সেখানে জড়ো হন। তাঁদের অনেকেই স্থানীয় আবাসিক হোটেলগুলোতে অবস্থান করছিলেন। সোমবার ভোর ৪টার দিকে ‘বিদেশিনী’ হোটেলে হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ধোঁয়া ও আগুনে পাঁচতলা ভবনটি আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। হোটেলের সামনের অংশে থাকা রেস্তোরাঁয় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় সেদিক দিয়ে বের হওয়ার সুযোগ ছিল না। অন্যদিকে, ভবনের পেছনের জরুরি বহির্গমন দরজাটিও তালাবদ্ধ ছিল বলে জানা গেছে। ফলে অনেকেই ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন এবং ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। অগ্নিকাণ্ডের সময় জীবন বাঁচাতে কয়েকজন হোটেলের ব্যালকনি থেকে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ ঘটনায় মঙ্গলবার পুকুরটিতেও তল্লাশি চালান সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া ১৫টি আবাসিক হোটেলকে এর আগেও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করে। পরে পরিদর্শনে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ায় হোটেলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিকে ‘বিদেশিনী’ হোটেলে আগুন লাগার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দমকল ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের কারণের পাশাপাশি হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: দ্য হিন্দু
২০২৬ সালের মার্চে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা তৈরি হয়েছে। ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের প্রকাশিত এক তালিকা অনুযায়ী, এই সংকটে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে যায়। মঙ্গলবার ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে। গত পাঁচ দশকের বড় যুদ্ধ ও তেল সংকটের কারণে তৈরি সরবরাহ ঘাটতির তুলনায় হরমুজ সংকটের মাত্রা অনেক বেশি। ১৯৭৮-৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের সময় প্রতিদিন প্রায় ৫৬ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ কমেছিল, যা তালিকায় দ্বিতীয় বৃহত্তম সংকট। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আরব তেল অবরোধ এবং চতুর্থ অবস্থানে ১৯৯০ সালে কুয়েতে ইরাকের হামলা। দুটি ঘটনাতেই বিশ্ব তেল সরবরাহ প্রতিদিন প্রায় ৪৩ লাখ ব্যারেল কমে যায়। ১৯৮০-৮১ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সরবরাহ কমেছিল প্রায় ৪১ লাখ ব্যারেল। এরপর ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন প্রায় ২৩ লাখ ব্যারেল এবং ২০১১ সালের লিবিয়া গৃহযুদ্ধের সময় প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে যায়। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। তাই এই নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী বাধা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। শাফাক নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের বিধিনিষেধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর নৌপথটি সাময়িকভাবে খুললেও নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার পর আবার বন্ধ হয়ে যায়। তেহরান অবশ্য দাবি করছে, হরমুজ প্রণালি এখনো ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সূত্র: শাফাক নিউজ