ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানী ঢাকার রাজপথে শুরু হয় একুশের পদযাত্রা। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে গতকাল শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢল নামে অগণিত মানুষের। তাদের কারও হাতে ফুলের তোড়া, কারও হাতে ফুলের মালা আবার কারও হাতে ছিল পুষ্পস্তবক। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশাসহ সর্বস্তরের মানুষ হৃদয়ে গভীর আবেগ নিয়ে খালি পায়ে সারিবদ্ধভাবে একে একে ভাষা শহীদদের প্রতি জানান ফুলেল শ্রদ্ধা। তাদের অনেকেরই পরনে ছিল একুশের প্রতীক সাদা-কালো পোশাক। যাতে খচিত শহীদ মিনারের প্রতিকৃতি, বাংলা বর্ণমালা (অ, আ) বা শোকের প্রতীক হিসেবে বুকে সাঁটানো কালো ব্যাজ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বিস্তৃত হয় এই জনস্রোত। সকাল পেরিয়ে দুপুর না গড়াতেই শহীদ মিনারের বেদি ছেয়ে যায় ফুলে ফুলে। শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষ একুশের চেতনায় মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এর আগে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। তা চলে সেহরির আগপর্যন্ত। সেহরি শেষে সকাল সাড়ে ৬টায় প্রভাতফেরির মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু করেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। গতকাল রক্তস্নাত মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো। রাজধানীসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দিবসটি পালিত হয়।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা: অমর একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাত ১২টা ৮ মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এবারই প্রথম শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন। এরপর তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য ও নিজের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আবারও শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পর তিন বাহিনী প্রধানের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এর আগে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ ও অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা এবং ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানসহ অন্যরা। এ সময় ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবং এর বিভিন্ন সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আরও শ্রদ্ধা জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। এ সময় পুলিশের বিশেষ শাখার প্রধান গোলাম রসুলসহ বাহিনীটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অন্যান্য পদবির সৈনিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও র্যাবের মহাপরিচালক কে এম শহিদুর রহমান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বিরোধীদলীয় নেতার শ্রদ্ধা নিবেদন: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবারই প্রথমবারের মতো বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আসেন। তার নেতৃত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শীর্ষ নেতারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তারা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করেন।
শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার ব্যাখ্যায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রাচারের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করেছেন তিনি। ফুল দেওয়ার পর সাংবাদিকরা জামায়াতের আমিরের কাছে জানতে চান যে, আগে কখনো না এলেও এবার আসার কারণ কী? জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘এবার রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আমাকে আসতে হবে আমার সঙ্গীদের নিয়ে। তাই আমি এসেছি।’
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও মুজিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ কয়েকজন নেতা। ফুল দেওয়ার পর শহীদ মিনারে দাঁড়িয়েই ভাষা শহীদদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন তারা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াত। তাদের নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মোট আসন ৭৭টি। শফিকুর রহমান এরই মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।
দেশজুড়ে কর্মসূচি: অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল ছিল সরকারি ছুটির দিন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। এদিন সারা দেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, কালো ব্যাজ ধারণ ও প্রভাতফেরি হয়। বাংলাদেশ বেতার, বিটিভি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ ক্রোড়পত্র।
রক্তঝরা ইতিহাস ও সংগ্রাম: তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রথম ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে এ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন হয় এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র ও যুবসমাজ ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসেন। মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক শহীদ হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় রাজপথে নেমে আসে সাধারণ মানুষ। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের গায়েবি জানাজায় অংশ নেন। ভাষা শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তোলা হয়, যা তৎকালীন সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয়।
রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি: ভাষা আন্দোলনের দুর্বারগতিতে ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৭ মে গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরপর ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি সংবিধানে পরিবর্তন এনে বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাস হয়, যা কার্যকর হয় ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ থেকে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি: বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সেখানে ১৮৮টি দেশ সমর্থন জানালে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোতে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। ‘এখন থেকে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করবে জাতিসংঘ’—এমন একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয় ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে। সেখানে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল বাংলাদেশ। সেই থেকে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে গতকাল যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়। বাঙালির প্রাণের এই দিনে সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হয় সেই কালজয়ী গান—‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
প্রথমবারের মতো বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই মধ্যে রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে তিনি বরিশালের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৬টার পর গুলশানের বাসভবন থেকে তিনি রওয়ানা হন। বিএনপি মিডিয়া সেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী গৌরনদী ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কর্মসূচি এবং বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়কপথে বরিশাল যাবেন। সেখানে বৃক্ষরোপণের কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে। কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরবেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নে নবখনন করা সরিকল-বটাজোরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, জেলা সদরের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ত্রিশ গোডাউনসংলগ্ন সাগরনদীর পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। এছাড়া বিকেলে জেলার শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বরিশাল সদর উপজেলার ময়দানখোলা এলাকায় সাতটি শিয়াল হত্যার ঘটনায় অবশেষে মামলা করেছে বন বিভাগ। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর আওতায় দায়ের করা এ মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) ঘটনার ১০ দিন পর বরিশাল সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বাদী হয়ে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন। মামলার আসামিরা হলেন—নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকার নুরুল ইসলাম (৩৩), মোহাম্মদ হারিস (৩৬), কামাল খলিফা (৩২) এবং মোহাম্মদ জামাল খলিফা (৩২)। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই এলাকায় একে একে সাতটি শিয়াল ধরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পশুপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকরা জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান। বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তথ্যে কয়েকজন ব্যক্তি শিয়ালগুলোকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার বিষয়টি জানা গেছে। তবে শিয়ালের মাংস রান্না করে খাওয়ার যে দাবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তিনি জানান, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী আদালতে মামলা করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মামলা দায়েরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত চারজনকে এলাকায় আর দেখা যাচ্ছে না।
টানা বর্ষণ ও সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে সাতক্ষীরা জেলার ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টিতে জেলার হাজার হাজার হেক্টর আউশ ধান ও শতাধিক মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি এবং জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। সভায় জানানো হয়, জলাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টির প্রভাবে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর আউশ ধানের জমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়া পানিতে তলিয়ে বা ভেসে গিয়ে ১২৭টি মাছের ঘেরের ক্ষতি হয়েছে, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাতক্ষীরায় বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে সম্ভাব্য যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। সভায় জলাবদ্ধতা নিরসন, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ মেরামত, অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, যানজট নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত স্থানে বাস থামানো নিশ্চিত করা এবং মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।