কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz–এ একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার দায় স্বীকার করে Iran জানিয়েছে, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় জাহাজটিকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। বিষয়টি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী Seafsia Vishnu tanker নামের একটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। জাহাজটি পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে অবস্থান করছিল।
এক বিবৃতিতে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) জানায়, তাদের নৌবাহিনীর ইউনিট জাহাজটিকে একাধিকবার সতর্কবার্তা ও সংকেত পাঠিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করায় ট্যাঙ্কারটির ওপর আঘাত হানা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইআরজিসি নৌবাহিনীর দেওয়া সতর্কতা বারবার অমান্য করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে Iraq–এর উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় Zephyros tanker নামের মাল্টার পতাকাবাহী আরেকটি জ্বালানি ট্যাঙ্কারও হামলার শিকার হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরাকের কয়েকটি তেলবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একজন বন্দর নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, হামলার পর সমুদ্র থেকে এক বিদেশি নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে আবারও দাবি করেছে Iran। দেশটির সামরিক অভিযান তদারককারী Khatam al-Anbiya Central Headquarters এক বিবৃতিতে জানায়, বর্তমানে প্রণালিটি Islamic Revolutionary Guard Corps Navy–এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, United States এবং সাম্প্রতিক হামলায় জড়িত দেশগুলোর জাহাজের এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের কোনো অধিকার নেই। এই সতর্কবার্তার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইরানের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারের সময় যৌথ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ হামলায় অন্তত পাঁচ ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কতৃপক্ষ। বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূপাতিত একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রু-কে উদ্ধারের অভিযানের সময় এ হামলা চালানো হয়। প্রতিবেদনে কহগিলুয়েহ ও বয়ার-আহমাদ প্রদেশের গভর্নরের বরাত দিয়ে বলা হয়, প্রদেশটির পাহাড়ি এলাকা ‘ব্ল্যাক মাউন্টেন’ অঞ্চলে হামলায় ওই পাঁচজন নিহত হয়। তাৎক্ষনিকভাবে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ও নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে এ হামলা ওই অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে, ইরানে মার্কিন এফ-১৫ বিমানটি ভূপাতিত হয়। তবে বিমানটি ভূপাতিত হলেও নিরাপদে বেরিয়ে আসেন পাইলট। যুদ্ধবিমানের ওই সদস্যকে শনাক্ত করার পর উদ্ধার অভিযান চালায় মার্কিন স্পেশাল ফোর্স। এ সময় তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির আত্মীয়দের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে থাকা সোলাইমানির ভাতিজি হামিদেহ সোলাইমানি আফশার এবং তার মেয়েকে শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হেফাজতে রয়েছেন। তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। শনিবার (০৪ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরানের নিহত সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির আত্মীয়দের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (গ্রিন কার্ড) বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে শাস্তি দেওয়ার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আফশার ইরানের সরকারের একজন ‘প্রকাশ্য সমর্থক’ এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মন্তব্য করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়, যেসব বিদেশি নাগরিক সন্ত্রাসী বা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করে, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে পারে না। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সোলাইমানির মেয়ে জয়নব সোলাইমানি। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া নারীদের সঙ্গে তাদের পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই এবং মার্কিন সরকারের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। উল্লেখ্য, কাসেম সোলাইমানি ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের পদক্ষেপ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ মাসেই আরও এক ঘটনায়, ইরানের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলি লারিজানির কন্যা ফাতেমেহ আরদেশির-লারিজানির মার্কিন বসবাসের অনুমতিও বাতিল করা হয়। তার বিরুদ্ধেও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য মুসলিমদের বৃহৎ বার্ষিক সম্মেলনের ওপর জারি করা সরকারি নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন দেশটির একটি প্রশাসনিক আদালত। এর ফলে গতকাল শুক্রবার (৩ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ল্য বুরজে এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। আয়োজক সংগঠন ‘মুসলমান দ্য ফ্রঁস’ এক বিবৃতিতে আদালতের এ সিদ্ধান্তকে মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, পূর্বে জারি করা নিষেধাজ্ঞাটি ছিল অযৌক্তিক, অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আইনগতভাবে টেকসই নয়। আদালতের জরুরি বিচারক তার রায়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার একটি মৌলিক স্বাধীনতা, যা সুরক্ষিত রাখা রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনে সীমিত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে, তবে তা হতে হবে একান্তই শেষ অবলম্বন হিসেবে। সংগঠনটির ভাষ্য, প্যারিস পুলিশ প্রশাসন অনুষ্ঠান শুরুর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তার পক্ষে পর্যাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেনি। রায়কে আইনি সাফল্য হিসেবে স্বাগত জানালেও নিষেধাজ্ঞা জারির সময় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আয়োজকরা। তাদের মতে, কয়েক সপ্তাহের প্রস্তুতি, উল্লেখযোগ্য আর্থিক বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ—সংগঠন, প্রদর্শক, বাণিজ্যিক অংশীদার ও হাজারো অংশগ্রহণকারীর জন্য এ সিদ্ধান্ত বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো কার্যকর সংলাপ বা বিকল্প প্রস্তাব ছাড়া অনুষ্ঠান শুরুর অল্প সময় আগে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়। সংগঠনটি আরো জানায়, এই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা তাদের অধিকার নিয়ে আপস না করার অবস্থান তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং এর লক্ষ্য পারস্পরিক সংলাপ, সংহতি ও সামাজিক সম্পৃক্ততা জোরদার করা। উল্লেখ্য, ফ্রান্সে মুসলিমদের এ বার্ষিক সম্মেলনটি দেশটির অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক সমাবেশ হিসেবে পরিচিত। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মীয় নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ দর্শনার্থীরা অংশ নেন।