ইরানের রাজধানী Tehran–এ সাম্প্রতিক বিমান হামলায় দেশটির উপ-গোয়েন্দা মন্ত্রী Akbar Ghaffari নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের সংবাদ সংস্থা Iranian Labour News Agency।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিমান হামলায় তেহরানের বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ওই হামলায় গুরুতরভাবে আহত হয়ে পরে মারা যান উপ-গোয়েন্দা মন্ত্রী আকবর গাফফারি। ইরান দাবি করেছে, এই হামলা যৌথভাবে চালিয়েছে United States ও Israel।
সরকারি সূত্র জানায়, নিহত গাফফারি এর আগে ইরানের East Azerbaijan Province–এর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তাকে দেশের গোয়েন্দা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার মৃত্যুর পর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর Tabriz–এ জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Islamic Republic News Agency জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান Abdolrahim Mousavi এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী Aziz Nasirzadeh নিহত হয়েছেন।
এছাড়া সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। গত ২৮ মার্চ সকালে তার বাসভবনকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে।
পরে Benjamin Netanyahu এবং Donald Trump খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও শুরুতে ইরান এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। পরে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের প্রধান ধর্মীয় নেতা নিহত হয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ইরানের রাজনীতি ও ধর্মীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ১৯৮৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের নেতা Ruhollah Khomeini–এর মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে ১৯৮০–এর দশকে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
১৯৩৯ সালে ইরানের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় শহর Mashhad–এ জন্মগ্রহণ করেন আলি খামেনি। ধর্মীয় পরিবারে বেড়ে ওঠা খামেনি ১৯৬০–এর দশকে শাহবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। পরে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সাম্প্রতিক হামলা ও উচ্চপর্যায়ের নেতাদের মৃত্যুর ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।