পার্থে প্রথম দিন থেকে মনে হচ্ছিল, এটা বোধহয় বোলারদের ম্যাচই হতে যাচ্ছে। তৃতীয় ইনিংস পর্যন্ত হাবভাব ছিল তেমনটাই। কিন্তু চতুর্থ ইনিংসে যেন সব পাল্টে গেলো। এক হেডই পাল্টে ফেললো সব হিসেব-নিকেষ। ফলাফল, অ্যাশেজের প্রথম টেস্ট শেষ হলো মাত্র দু-দিনেই। আর অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডকে হারালো ৮ উইকেটে।
প্রথম ইনিংসে ইংলিশদের স্কোর ছিল একেবারেই টেনেটুনে পাস করার মতো। জ্যাক ক্রাউলি, বেন ডাকেট, জো রুট বা বেন স্টোকস, কেউ-ই নামের সঙ্গে সুবিচার করতে পারেন নি। মাঝে অবশ্য অলি পোপের ৪৬, হ্যারি ব্রুকের ৫২ আর জেমি স্মিথের ৩৩ রানে ভর করে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭২-এ।
মূলত মিচেল স্টার্কের বোলিং তোপে ক্রিজে থিতুই হতে পারেননি ইংলিশ ব্যাটার বেশিরভাগই। অজি এই পেসারই তুলে নেন ৭ উইকেট।
নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অজি ব্যাটারদেরও দেখা গেছে হতশ্রী রূপ। ৩০-এর কোটা পার করতে পারেন নি একজনও। স্টিভেন স্মিথের ১৭, ট্রাভিস হেডের ২১ আর অ্যালেক্স ক্যারির ২৬ রানে ১৩২-এ পৌঁছে অলআউট হয় 'মাইটি অজি'রা।
ইংল্যান্ড যখন দ্বিতীয় ইনিংসে নামে, তখন অনেকে আশা করেছিলেন, হয়ত এবার অ্যাশেজের উত্তেজনার কিছুটা দেখা মিলতে পারে। কিন্তু তারা হতাশ করে সবমিলিয়ে করতে পারে ১৬৪। অবশ্য ডাকেট, পোপ বা অ্যাটকিনসনরা আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু আশার প্রদীপ নিভে যেতেও সময় লাগেনি।
লক্ষ্য ছোট, কিন্তু আগের তিন ইনিংস দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, কিছু একটা হলেও হতে পারে। কিন্তু ইংল্যান্ড সমর্থকদের হতাশায় ডোবান এক ট্রাভিস হেড। যেখানে পার্থের পিচ মনে হচ্ছিল বোলারদের স্বর্গরাজ্য, সেই পিচকেই রীতিমত ব্যাটিং পিচ বানিয়ে ফেলেন তিনি।তার ৮৩ বলে ১২৩ রানে ৫ দিনের টেস্ট দুই দিনেই শেষ করে ফেলে অজিরা। এ দফায় ওয়ানডাউনে নামা মারনাস লাবুসেনও মোটামুটি মারকুটে স্টাইলে ফিফটি হাঁকান।
প্রথম ইনিংসে ৭ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়ে মিচেল স্টার্ক হয়েছেন ম্যান অফ দ্য ম্যাচ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার গ্রানিত জাকাকে অধিনায়ক করে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে সুইজারল্যান্ড। এর ফলে এই ফুটবলার দেশের হয়ে টানা সপ্তম বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন। ৩৩ বছর বয়সী এই জাকা জাতীয় দলের অধিনায়ক কোচ মুরাত ইয়াকিনের ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে থাকা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ পাঁচজন খেলোয়াড়ের একজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বার্নলির ফরোয়ার্ড জেকি আমদুনি, যিনি স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হওয়া একমাত্র বিস্ময়কর নাম। হাঁটুর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকায় তিনি এই মৌসুমে বদলি হিসেবে তিনটি সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিতে মাত্র ৪৫ মিনিট ফুটবল খেলেছেন। ইয়াকিন জানান,তিনি এখনও শতভাগ ফিট নয়। তবে দেশের হয়ে তার ভূমিকা সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। সুইজারল্যান্ড সবশেষ তিনটি বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোতে এবং গত দুটি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছেছে। বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে দেশটি। ১৩ জুন সান ফ্রান্সিসকোতে তারা প্রথম ম্যাচে কাতারের মুখোমুখি হবে। এরপর ১৮ জুন বসনিয়া-হার্জেগোভিনা এবং ২৪শে জুন কানাডার বিপক্ষে খেলবে। এর আগে ৩১ মে জর্ডান এবং ৬ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। সুইজারল্যান্ড স্কোয়াড: গোলরক্ষক: গ্রেগর কোবেল (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড), মারভিন কেলার (ইয়ং বয়েজ), ইভন মভোগো (লরিয়েন্ট) ডিফেন্ডার: রিকার্ডো রদ্রিগেজ (রিয়াল বেটিস), সিলভান উইডমার (মাইনৎস), ম্যানুয়েল আকানজি (ইন্টার মিলান), মিরো মুহেইম (হামবুর্গ), নিকো এলভেডি (বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখ), অরেলে আমেন্ডা (আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট), লুকা জাকেজ (স্টুটগার্ট), এরে কোমের্ট (ভ্যালেন্সিয়া)। মিডফিল্ডার: ইয়োহান মানজাম্বি (ফ্রাইবুর্গ), গ্রানিট জাকা (সান্ডারল্যান্ড), রেমো ফ্রেউলার(বোলোগনা), ডেনিস জাকারিয়া (মোনাকো), আরডন জাশারি (এসি মিলান), মিশেল এবিশার (পিসা), ডিজিব্রিল সো (সেভিলা), ক্রিশ্চিয়ান ফাসনাখ (ইয়ং বয়েজ), ফ্যাবিয়ান রিডার (অগসবার্গ)। ফরোয়ার্ড: নোয়া ওকাফোর (লিডস), ড্যান এনডয়ে (নটিংহাম ফরেস্ট), জেকি আমদোনি (বার্নলি), ব্রিল এম্বোলো (রেনেস), রুবেন ভার্গাস (সেভিলা), সেড্রিক ইটেন (ফর্তুনা ডুসেলডর্ফ)
২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দুই স্তরের বাছাইপর্বের প্রক্রিয়া তৈরি করতে যাচ্ছে ইউয়েফা। নতুন এই নিয়মের ফলে সান মারিনো, জিব্রাল্টার কিংবা অ্যান্ডোরার মতো দুর্বল বা ছোট দলগুলোর বিপক্ষে ইউরোপের বড় ফুটবল পরাশক্তিদের আর মাঠে নামতে হবে না। বাছাইপর্বের একপেশে ও কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলো বাদ দেওয়ার জন্য ফুটবল বিশ্লেষক ও সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিলেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৮ নেশনস লিগের র্যাঙ্কিংয়ের ওপর ভিত্তি করে শীর্ষ ৩৬টি দেশকে 'লিগ ১'-এর অধীনে ১২টি দল করে মোট ৩টি গ্রুপে ভাগ করা হবে। অন্যদিকে, বাকি ১৮টি দেশ খেলবে সম্পূর্ণ আলাদা একটি টুর্নামেন্টে। ধারণা করা হচ্ছে, এই পদ্ধতি দুর্বল দলগুলোর জন্য আরও বেশি ন্যায়সঙ্গত হবে, যেখানে তাদের ম্যাচ জেতার বা ভালো ফলাফল করার সুযোগ থাকবে অনেক বেশি। বিশ্বকাপের এই বাছাইপর্বের পুরো প্রক্রিয়াটি চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান ফরম্যাটের আদলে সাজানো হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে যেখানে কোনো কোনো দেশকে ৬টি আবার কোনো কোনো দেশকে ৮টি ম্যাচ খেলতে হয়েছে, নতুন নিয়মে এখন সব দলকেই সমান ৬টি করে ম্যাচ খেলতে হবে। ১২টি দলের একেকটি গ্রুপে থাকা প্রতিটি দল ৬টি ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৩টি হোম এবং ৩টি অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। এই প্রতিপক্ষগুলো নির্ধারণ করা হবে পটের ভিত্তিতে—প্রতিটি পট থেকে দুটি করে দল প্রতিপক্ষ হিসেবে মিলবে। এর ফলে গ্রুপ পর্বের চেনা ফরম্যাট—যেখানে একই গ্রুপের সব দল একে অপরের বিরুদ্ধে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলত—সেই প্রথা উঠে যাচ্ছে। 'লিগ ১'-এর প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ বা সেরা র্যাঙ্কিংয়ের দলগুলো সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাবে। আর বাকি জায়গাগুলো নির্ধারণ করা হবে প্লে-অফের মাধ্যমে। তবে কতটি দল সরাসরি সুযোগ পাবে, সেই সুনির্দিষ্ট সংখ্যাটি উয়েফা এখনো চূড়ান্ত করেনি। বাকি থাকা তলানির ১৮টি দেশ অংশ নেবে 'লিগ ২'-এ। বর্তমান নেশনস লিগের ফরম্যাট অনুযায়ী হিসাব করলে—'লিগ সি'-র গ্রুপ চ্যাম্পিয়নরা ছাড়া বাকি সব দল এবং 'লিগ ডি'-র ৭টি দেশই মূলত এই স্তরে খেলবে। তবে 'লিগ ২'-এ খেললেও এই ছোট দেশগুলোর সামনেও প্লে-অফের মাধ্যমে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার সুযোগ থাকবে। ইউয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন বলেন, ‘নতুন এই ফরম্যাট প্রতিযোগিতার ভারসাম্য আরও উন্নত করবে, গুরুত্বহীন বা ডেড ম্যাচের সংখ্যা কমাবে এবং ফুটবলপ্রেমীদের আরও আকর্ষণীয় ও গতিময় এক প্রতিযোগিতা উপহার দেবে। একই সাথে আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে অতিরিক্ত কোনো ম্যাচের দিন (ডেট) না বাড়িয়েই এটি সব দলের জন্য চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।’ উয়েফা আরও ঘোষণা করেছে যে, ২০২৮ সাল থেকে নেশনস লিগের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হবে। নতুন নিয়মে টুর্নামেন্টটি ১৮টি করে দল নিয়ে মোট ৩টি স্তরে বিভক্ত হবে—যেখানে প্রতি ডিভিশনে ৬টি করে দল নিয়ে ৩টি গ্রুপ থাকবে। দলগুলোকে আগের মতোই ৬টি ম্যাচ খেলতে হবে, তবে প্রতিপক্ষ থাকবে ৫টি ভিন্ন দল। এখানে ৬টি করে দল নিয়ে মোট ৩টি পট করা হবে। উদাহরণস্বরূপ—১ নম্বর পটে থাকা একটি দল, একই পটের অন্য একটি দলের বিপক্ষে হোম ও অ্যাওয়ে (নিজেদের মাঠে ও প্রতিপক্ষের মাঠে) ভিত্তিতে দুটি ম্যাচ খেলবে। এর পাশাপাশি ২ নম্বর ও ৩ নম্বর পট থেকে দুটি করে দলের বিপক্ষে (হোম অথবা অ্যাওয়ে ভিত্তিতে) বাকি ম্যাচগুলো খেলবে। তবে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল, ফাইনাল এবং দলগুলোর উন্নতি ও অবনমন প্রক্রিয়া আগের নিয়মেই চালু থাকবে।
অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারতের মতো ক্রিকেট পরাশক্তিদের বিপক্ষে আরও বেশি টেস্ট খেলার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করার পর ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই আকুতি জানান টাইগার দলনেতা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাক-টু-ব্যাক দুটি টেস্ট খেলে দুটিতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ দল। দলের এই ধারাবাহিকতায় গর্বিত শান্ত। তবে দল হিসেবে আরও পরিপক্ব হতে ক্রিকেটের ‘বিগ থ্রি’র বিপক্ষে খেলার বিকল্প দেখছেন না তিনি। শান্ত বলেন, ‘আমরা এখন অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত এই দলগুলোর সাথেও বেশি বেশি টেস্ট খেলতে চাই। হোক সেটা হোম বা অ্যাওয়ে। কারণ, আমরা যখন আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব এবং নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করব, তখনই আমাদের দলটা আস্তে আস্তে সত্যিকারের শক্তিশালী দল হিসেবে গড়ে উঠবে।’ আইসিসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক আরও বলেন, ‘আশা থাকবে আইসিসি যেন আমাদের বেশি বেশি করে সব দলের সাথে টেস্ট ম্যাচ দেয়। এখন আমরা তুলনামূলক বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি, এটা অবশ্যই একটা ইতিবাচক দিক। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারতের সাথে যদি আমরা আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই, তবে সেটা নিশ্চিতভাবেই আমার দলের জন্য আরও বড় কিছু হবে।’ বাংলাদেশ যেভাবে স্নায়ুচাপ সামলে জয় তুলে নিয়েছে, তাতে ছেলেদের মানসিকতার উন্নতি দেখছেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘আগের টেস্ট ম্যাচগুলোর চেয়ে এখন আমাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা বা আতঙ্কিত না হওয়ার বিষয়টা একটু ভালো হয়েছে। তবে বড় দলগুলো হয়তো মাঠে আরও বেশি শান্ত থাকে, তাই এই জায়গাটাতে আমাদের আরও একটু উন্নতির দরকার আছে। তবে এই সামগ্রিক উন্নতিতে অধিনায়ক হিসেবে আমি খুশি।’