দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় একের পর এক অবৈধভাবে বাংলাদেশে লোকজন পুশইনের চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর থেকে শনিবার (৬ জুন) ভোররাত পর্যন্ত দেশের সাতটি জেলার সীমান্ত এলাকায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শতাধিক লোককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ।
তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থান, জোরদার টহল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধের মুখে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। কোথাও শূন্যরেখায় আটকে পড়েছে পুশইনের শিকার মানুষগুলো, আবার কোথাও তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, লালমনিরহাট, মেহেরপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও শেরপুর—মোট সাতটি জেলার সীমান্তে এমন ঘটনা ঘটেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৮ জনকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তের ২০৩/৬-আর পিলার দিয়ে ২৮ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। এতে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ শিশুসহ ২৮ জন শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়।
এ ঘটনায় দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। প্রায় দুই দিন শূন্যরেখায় অবস্থানের পর শনিবার (৬ জুন) বিএসএফ তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়।
নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম বলেন, গতকাল রাত পর্যন্ত তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছিল। কিন্তু আজ সকাল বেলা থেকে তাদেরকে সেখানে দেখতে পাওয়া যায়নি। আমাদের গোয়েন্দা সূত্র ও ধারণামতে, তাদেরকে ফেরত নিয়েছে বিএসএফ। এছাড়া যে কোনো ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সর্বদাই সীমান্তে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।
নওগাঁ সীমান্তে ১৯ ঘণ্টার চেষ্টাও ব্যর্থ
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি পিলার দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেয় বিজিবি।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মাহবুব আলম বলেন, ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিল। রাত ১১টার দিকে আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম তখনো বিজিবি সদস্যরা সেখানে ছিল। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে টেনেহিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায়। তারা বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যেতে চাচ্ছিল না। নিয়ে যাওয়ার সময় তারা অনেক কান্নাকাটি করছিল। বিজিবির এমন ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, খবর পাওয়ার পর ওই স্থানে বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্যরেখায় থাকতে দিলেও সন্ধ্যার পরে তাদেরকে নো-ম্যান্সল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাত ১টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
লালমনিরহাটে ৩৩ জনকে সরিয়ে নেয় বিএসএফ
শুক্রবার (৫ জুন) ভোর রাতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার পাঁচটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দিনভর শূন্যরেখায় আটকে রাখার পর রাতের আঁধারে সীমান্তের লাইট নিভিয়ে তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা মানুষদের নিজ ভূখণ্ডে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। যে কোনো ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সর্বদাই সীমান্তে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।
মেহেরপুরে গ্রামবাসীর প্রতিরোধ
শনিবার (৬ জুন) ভোরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তের ১৪০/৫ এস আন্তর্জাতিক পিলারের কাছে ছয়জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে তারা বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকতে পারেনি।
স্থানীয়দের দাবি, বিএসএফ কাঁটাতারের একটি অংশ খুলে দিয়ে তাদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। পরে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়।
তেঁতুলবাড়ীয়া বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার হাবিবুর রহমান বলেন, পুশইনকৃতদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বিএসএফকে হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে আহ্বান জানানো হচ্ছে। অবৈধ কোনো অনুপ্রবেশ কিংবা পুশইন বাংলাদেশ মেনে নেবে না। সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পঞ্চগড়ে ২৪ ঘণ্টা পরেও শূন্যরেখায় ১০ জন
শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি বাধা দিলে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করতে থাকে। এ নিয়ে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি তাদের বলেছি, যেহেতু তারা ভারতের অভ্যন্তরে ছিল, আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের (আইসিপি) মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো উচিত। রাতের অন্ধকারে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে এভাবে ফেলে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের পুশইন বাংলাদেশ গ্রহণ করবে না। যদি তারা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের ফেরত পাঠাতে হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ে শিশুসহ ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা
শনিবার (৬ জুন) ভোররাতে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দায়িত্ব পালনকালে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তের ওপারে সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে সতর্ক অবস্থান নেন।
বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে ওই ১১ জন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, মশালগাঁও সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের একটি চেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিহত করেছে। সীমান্তে আমাদের সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বদা দায়িত্বশীল, পেশাদার এবং তৎপর রয়েছে।
শেরপুরে ৫-৬ জনকে পুশইনের প্রস্তুতি ব্যর্থ করে দেয় বিজিবি
শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের সময় শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া সীমান্তের কাটাতারবিহীন এলাকা দিয়ে ৫ থেকে ৬ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের পরিকল্পনা করেছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত সতর্কতায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি তারা।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত পিলার ১১১৮-এর নিকটবর্তী এলাকায় শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ গজ ভেতরে ভারতের চেরাংপাড়া এলাকায় ওই ব্যক্তিদের জড়ো করে রাখা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মেঘালয় থেকে নিয়ে আসা এসব ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল বিএসএফ।
ঘটনার পর ৩৯ বিজিবির সব বিওপিতে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। সম্ভাব্য পুশইন পয়েন্টগুলোতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে মাইকিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নুরুল আমিন বায়েজীদ বলেন, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমানা রক্ষায় এবং যেকোনো অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তে মাদক, চোরাচালান এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে পুশইন করার কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে না। সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও লাইনের দুই পাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডালপালা কাটার কারণে আজ শনিবার (২৭ জুন) চট্টগ্রাম ও নাটোরের বেশ কিছু এলাকায় কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের তথ্য নিশ্চিত করেছে। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ৮ ঘণ্টা চন্দনাইশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকবে মুনসেফ বাজার, বাদশা পাড়া, কেরানী বাড়ি, বৃষ্টি পুকুর পাড়, চৌধুরী মার্কেট, দেয়াং পাড়ার আংশিক অংশ, পেশকার বাড়ি, নিধিরামপুর, মিজ্জির দোকান, ছগিরের দোকান, বদুরপাড়ার আংশিক এলাকা, জিয়া খাল, দুল্লভ পাড়া, কাজিপাড়া, চন্দনাইশ পৌরসভা, চন্দনাইশ থানা, চন্দনাইশ মেডিকেল কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিষদ, ফায়ার সার্ভিস, নোয়াপাড়া ও গাছবাড়িয়া এলাকা। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–২ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩৩ কেভি লাইনের জরুরি মেরামত কাজের জন্য শনিবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ৫ ঘণ্টা জেলার কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। বনপাড়া ৩৩ কেভি ফিডার, বড়াইগ্রাম–১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্র এবং বড়াইগ্রাম–৩ (গড়মাটি) উপকেন্দ্রের আওতাধীন বনপাড়া পৌরসভা, জোয়াড়ি, মাঝগাঁও, গোপালপুর, চান্দাই, দুয়ারিয়া ইউনিয়নের আংশিক অংশ এবং নগর ইউনিয়নের কিছু এলাকায় এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটবে। গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হচ্ছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে অত্যন্ত জ্ঞানী উল্লেখ করে অন্য মন্ত্রণালয় নিয়ে তার ‘আগ্রহ ও অতি তৎপরতা’ নিজের মন্ত্রণালয়ে দেখালে দেশবাসী উপকৃত হতো বলো মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের ঘাগড়াজুড়ি গ্রামে একটি সড়কের নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। রুমিন ফারহানা বলেন, অর্থনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা—এই দুটি জায়গায় যদি দৃশ্যমান অগ্রগতি না হয়, তাহলে এই সরকারের পরিণতি সত্যিকার অর্থেই দুঃখজনক হবে। নতুন অর্থবছরের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, সেই বাজেটের বিশ্লেষণ করে আমি সংসদেও কথা বলেছি এবং এটি কতটুকু বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে নাজুক অবস্থা, এতোটা নাজুক নিকট অতীতে ছিল না। সেই সব দিক বিবেচনা করে আমার মনে হয়, সরকারের দুটো মন্ত্রীর ঘাড়ে পঞ্চাশ শতাংশ দায়িত্ব, অর্থ এবং স্বরাষ্ট্র। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অন্য সব মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে যতটুকু আগ্রহ-উৎসাহ এবং অতি তৎপরতা, এই তৎপরতা যদি ওনি ওনার নিজের মন্ত্রণালয়ে দেখাতেন, তাহলে দেশবাসী উপকৃত হতো। এ সময় তিনি মামলা বাণিজ্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, এলাকায় এলাকায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা মামলার ব্যবসা করছে৷ এটা আমি সংসদেও বলেছি। আমি সরকারকে বলব এবং আমাদের অত্যন্ত জ্ঞানী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব, বিষয়টি আপনি দেখবেন। কারণ, মনে রাখবেন 'নাথিং গোউজ আর আননোটিশড অ্যান্ড আনপানিশড। আজকে আপনি যা করছেন, একদিন আপনাকে তার জন্য কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে তার কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
মেহেরপুর সীমান্তে অবৈধভাবে বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো গাংনী উপজেলার দুটি সীমান্ত এলাকায় আরও পাঁচজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালালেও বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সীমান্তবাসীর তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধলা ও সহড়াতলা সীমান্তে পৃথক দুটি ঘটনায় এক নারীসহ পাঁচজনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি জানতে পেরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিবাদ জানায়। পরে সকাল ৭টার দিকে বিএসএফ ওই পাঁচজনকেই ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের নদীয়া জেলার মুরটিয়া থানার রংপুর গ্রামের দিক থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৩৫ নম্বর মেইন পিলারের ৭এস সাব-পিলার ধলা সীমান্ত এলাকা দিয়ে এক নারীসহ তিনজনকে শূন্যরেখায় এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ সময় শূন্যরেখায় রাখার পর বিএসএফ তাদের আবার ভারতীয় অংশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। একই সময় মুরটিয়া থানার বিজয়নগর সীমান্ত এলাকায় আরও দুইজনকে জড়ো করে সহড়াতলা সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১৪৪ নম্বর মেইন পিলারের ৫এস সাব-পিলার এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। সেখানেও বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। এদিন পুশইনের চেষ্টা করা পাঁচজনের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন। ৪৭ বিজিবির কাথুলী বিওপির কোম্পানি কমান্ডার ওছিকুর রহমান বলেন, বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হয়নি। সীমান্তে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার ভোরে একই উপজেলার সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে এক নারীসহ সাতজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। সেদিনও বিজিবির বাধার মুখে তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একই সীমান্ত এলাকায় দুই দফায় মোট ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বিএসএফ। এ নিয়ে চলতি জুন মাসে মেহেরপুর সীমান্তে অন্তত চার দফা পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। এর মধ্যে গত ৬ জুন তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন, ১৯ জুন বুড়িপোতা ইউনিয়নের খালপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৪ জন, ২৫ জুন সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে ৭ জন এবং সর্বশেষ ২৬ জুন ধলা ও সহড়াতলা সীমান্ত দিয়ে আরও ৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রতিটি ঘটনায় বিজিবির তৎপরতায় পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।