ইরাকে গত ডিসেম্বরে মোট ৩৮টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া ও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এসব ভূমিকম্পের বেশিরভাগই ইরাকের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঘটেছে। খবর শাফাক নিউজ।
সংস্থাটির ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ বিভাগের পরিচালক আলী আবদুল খালিক জানান, এর মধ্যে ১৬টি ভূমিকম্প ইরাকের ভেতরে এবং ২২টি সীমান্তের কাছাকাছি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ঘটেছে।
সীমান্তবর্তী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে ১১টি ইরানে, ১০টি তুরস্কে এবং একটি সিরিয়ায় রেকর্ড করা হয়েছে। এসব কম্পনের মাত্রা ছিল ১ দশমিক ১ থেকে ৪ দশমিক ৫ এর মধ্যে। ভূমিকম্পগুলোর গভীরতা ছিল ৯ থেকে ৩৯ কিলোমিটার।
ইরাকের ভেতরে সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প হয়েছে দিয়ালা ও নিনেভে প্রদেশে—প্রতিটিতে চারটি করে। সুলাইমানিয়া ও এরবিলে তিনটি করে এবং কিরকুকে দুটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।
আলী আবদুল খালিক বলেন, ইরাকের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কোনো ভূমিকম্প হয়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি আরবীয় টেকটোনিক প্লেটের গতিবিধি উল্লেখ করেন, যার ফলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রবণতা বেশি।
তিনি আরও জানান, ডিসেম্বরে এসব ভূমিকম্পে কোনো প্রাণহানি বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি এবং কোনো জরুরি সতর্কতাও জারি করতে হয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং সেই চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ও রয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী সময়ে শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও চুক্তির কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তাদের মতে, তেহরান চুক্তির শর্ত পূরণ করলে তবেই ইরান অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সূচনা হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায়। একই সঙ্গে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এরপরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। চলতি সপ্তাহেও দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত হামলা বাতিল করেছেন, কারণ আলোচকরা ‘একটি দারুণ সমঝোতায়’ পৌঁছেছেন এবং খুব শিগগিরই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে। শুক্রবার ইরানি গণমাধ্যমে কথিত ১৪ দফা চুক্তির কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত সমঝোতার কোনো সম্পর্ক নেই এবং সেগুলো সত্যের প্রতিফলন নয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে এবং এখন শুধু চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা। চলমান আলোচনায় ইসরায়েল সরাসরি অংশ নিচ্ছে না। এই আলোচনা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর পথ তৈরি করবে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গবেষণার মতো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে বিস্তারিত ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে। এরপর ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হবে, যার মূল বিষয় হবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত এই ইউরেনিয়াম দেশটির ভেতরেই ধ্বংস করা হবে এবং পরে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সে প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অর্থনৈতিক বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, কোনো অর্থ আগাম দেওয়া হবে না। এর মাধ্যমে তারা ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনের বিরোধিতা করেছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল বড় ধরনের আলোচনার আগেই ইরানের কিছু জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করে দেওয়া হবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পুনঃঅন্তর্ভুক্ত করা হবে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ সম্পদ মুক্ত করার মতো পদক্ষেপও পর্যায়ক্রমে নেওয়া হবে। চুক্তির আওতায় ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং অঞ্চলের অন্যান্য ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, এই সমঝোতা পারস্পরিক আস্থা বা প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে নয়; বরং ‘কার্যকর বাস্তবায়নের’ ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, ইরান যে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরই দেশটি অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান এবং মধ্যস্থতাকারী আরেক দেশ কাতারের পক্ষ থেকে সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করা হলেও চুক্তি চূড়ান্ত হতে এখনো কিছুটা পথ বাকি রয়েছে। গত কয়েক মাসে এমন কয়েকটি সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে গেছে। তবে এবার পার্থক্য হলো, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আগের চেয়ে বেশি আশাবাদী এবং চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কেও তুলনামূলক বেশি খোলামেলা অবস্থান নিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেন, ‘আলোচনার শেষ ধাপ সম্পন্ন হলেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা হতে পারে। আমি অত্যন্ত আশাবাদী।’ তিনি আরও বলেন, সমঝোতা স্মারকের প্রথম বিষয়ই হলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার। হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ব্যবস্থাপনা ‘আগের মতো থাকবে না’। প্রণালি বন্ধ করার পর থেকে ইরান সেখানে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের দাবি করে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, সব জাহাজের জন্য এই পথ উন্মুক্ত ও অবাধ থাকা উচিত। ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরও জানান, সমঝোতা স্মারকে ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের আগের কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লেবাননের বিষয়টি এই চুক্তির অংশ নাও হতে পারে। তবে ইরান এটি অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে জোর দিয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, উত্তর ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত থাকলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাবে তার দেশ। সূত্র: বিবিসি
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালিকবিহীন একটি পরিত্যক্ত স্যুটকেস থেকে ২২৩টি জীবন্ত প্রাণী উদ্ধার করেছে দুবাই কাস্টমস। ঘটনাটি বিমানবন্দরের ইতিহাসে অন্যতম অস্বাভাবিক বন্যপ্রাণী জব্দের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিদিন লাখো যাত্রীর আনাগোনার এই বিমানবন্দরে কোনো পরিচয়চিহ্নবিহীন একটি স্যুটকেস নজরে আসে কর্তৃপক্ষের। প্রথমদিকে এতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি এবং কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেরও ইঙ্গিত ছিল না। তবে স্যুটকেসটি খুলতেই বিস্মিত হন পরিদর্শকরা। ব্যক্তিগত মালপত্রের পরিবর্তে এর ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল শত শত জীবন্ত প্রাণী। পরবর্তীতে সেখান থেকে মোট ২২৩টি প্রাণী উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর মধ্যে ছিল ১২৯টি টিকটিকি, ৩৬টি বিচ্ছু, ৮টি সাপ এবং ৫০টি ব্যাঙ। সব মিলিয়ে মোট ২২৩টি প্রাণী উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষের ধারণা, এসব প্রাণীর মধ্যে কয়েকটি প্রজাতি কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইন এনড্যানজার্ড স্পেসিজ অব ওয়াইল্ড ফনা অ্যান্ড ফ্লোরা তথা আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ চুক্তির (সিআইটিইএস) আওতাভুক্ত সংরক্ষিত প্রাণী হতে পারে। জব্দের পর দুবাই কাস্টমস সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রাণীগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করে। বন্যপ্রাণী পাচারকে আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধের অন্যতম লাভজনক খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের অপরাধ শুধু বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলে না, বরং জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং বৈশ্বিক সংরক্ষণ কার্যক্রমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ ও পরিবহন নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণের ফলে পাচারকারীরা ক্রমেই আরও কৌশলী হয়ে উঠছে। সীমান্ত অতিক্রম করে সংরক্ষিত ও বিরল প্রাণী পরিবহনের জন্য তারা আন্তর্জাতিক ট্রানজিট রুটগুলো ব্যবহার করছে, যা বন্যপ্রাণী পাচার প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। দুবাই কাস্টমসের যাত্রী কার্যক্রম বিভাগের পরিচালক খালিদ আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে সীমান্ত সুরক্ষা শুধু নিষিদ্ধ পণ্যের চলাচল ঠেকানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর অর্থ জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বকে অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচারের ক্রমবর্ধমান হুমকি থেকে রক্ষা করাও।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই জব্দের ঘটনা আমাদের পরিদর্শন দলের সতর্কতা, দক্ষতা ও প্রস্তুতির প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক পরিবেশগত দায়বদ্ধতা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিশ্রুতিরও প্রমাণ।’
২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে ধস নেমেছিল, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ পৃথিবীকে আবার সেই পর্যায়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ঋণদাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক। বৃহস্পতিবার ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রোসপেক্ট’ নামের একটি প্রতিবেদনে এ দাবি করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক এই ঋণদাতা সংস্থা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাংকের হিসেব বলেছিল যে চলতি বছরের শেষ দিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ঘটবে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। “কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় বহু দেশকে অতিরিক্ত দাম দিয়ে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে সেসব দেশে ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতি শুরু হয়েছে। ফলে বাৎসরিক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকও তার পূর্ববর্তী ধারণা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এখন বিশ্বব্যাংকের আনুমানিক ধারণা, যদি শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শেষ হয়— তাহলেও বছরশেষে মোট বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি পৌঁছাবে ২ দশমিক ৪ শতাংশে।” যদি এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হয় তাহলে প্রবৃদ্ধি আরও কমবে। নিকট অতীতে করোনা মহামারির সময় এমন অবস্থা দেখা গিয়েছিল।” ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে মতবিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এদিকে মার্কিন বাহিনী অভিযান শুরুর পরই হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। অবরোধ আরও দৃঢ় করতে প্রণালির বিভিন্ন জায়গায় জলমাইনও পেতে রাখা হয়। ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথগুলোর মধ্যে একটি। বিশ্বের মোট জ্বালানিপণ্যের এক পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয় এই জলপথ দিয়ে। এছাড়া সার ও রাসায়নিক পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যেও এ জলপথের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। হরমুকে ইরান অবরোধ জারির পর থেকে মারত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে গড়ে ১২০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৫ থেকে ৭টিতে। প্রণালীর বাইরে আটকে আছে আছে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ। জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি পণ্যের বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের গড় মূল্য ছিল ৯৪ ডলার। এই দাম গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেমে মে পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের গড় মূল্যের তুলনায় শতকরা ৩৬ ভাগ বেশি। এছাড়া নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সারের আন্তর্জাতিক বাজারেও। হরমুজে অবরোধ এবং তার জেরে সরবরাহ ব্যবস্থা এলোমেলো হয়ে পড়ায় বাড়ছে সারের দাম। এর ফলে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের দামে মূল্যস্ফীতি দেখা দেবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। “যদি জ্বালানি পণ্য ও সারের বাজারে অস্থিরতা থাকে, তাহলে বছরশেষে প্রবৃদ্ধি কমবে ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি বাড়বে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় বিশ্ব অর্থনীতিতে এমন অবস্থা দেখা গিয়েছিল”, বলা হয়েছে বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকোনমি প্রসপেক্ট’ প্রতিবেদনে। সূত্র : আলজাজিরা