অর্থনীতি

ডিএসইতে টানা দরপতন, ১৩ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ১০, ২০২৫

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবারও (১০ নভেম্বর) দরপতন হয়েছে। এই নিয়ে টানা সপ্তম দিনের মতো দরপতন হলো। এই ৭ কার্যদিবসের দরপতনে এক্সচেঞ্জটির প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে ২৬১ পয়েন্টের বেশি। এর মধ্যে আজ ৩৯ পয়েন্ট কমেছে। অন্য দুই সূচকেও পতন হয়েছে। এক্সচেঞ্জটির লেনদেনেও গতি কমেছে। আজ ১৩ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে।

 

বাজার বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানত তিনটি কারণে দেশের পুঁজিবাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর মধ্যে প্রধান কারণ হলো- আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা। এছাড়া, সম্প্রতি গেজেট আকারে প্রকাশিত মার্জিন ঋণ বিধিমালা প্রক্রিয়া জটিল হওয়া এবং পাঁচ ব্যাংক একীভূত হলে বিনিয়োগকারী শেয়ার শূন্য হবেন কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা না পাওয়া।

 

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে আজ মোট ৩৮৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৭০টির। বিপরীতে কমেছে ২৭৫টির। এই দরপতন দরবৃদ্ধির চেয়ে ৩ দশমিক ৯৩ গুণ। আজ লেনদেন শেষে ৪১টি সিকিউরিটিজের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। দরপতন হওয়া সিকিউরিটিজগুলোর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৪৪টি, ‘বি’ ক্যাটাগরির ৫২টি এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরির ৭৯টি শেয়ার ও ইউনিট রয়েছে।

 

অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দর কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৯ পয়েন্টে বা প্রায় ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮৬১ পয়েন্টে নেমেছে। গত ৩০ অক্টোবরের পর থেকে এই সূচকটি টানা পয়েন্ট হারাচ্ছে। ওইদিন সূচকটির অবস্থান ছিল ৫ হাজার ১২২ পয়েন্টে। অর্থাৎ মাত্র ৭ কার্যদিবসে সূচকটি কমেছে ২৬১ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট। গতকাল (রোববার) লেনদেন শেষে সূচকটির অবস্থান ছিলো ৪ হাজার ৯০০ পয়েন্টে।

 

অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস দিনের ব্যবধানে ১২ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ১১ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। গতকাল সূচকটির অবস্থান ছিল ১ হাজার ২৩ পয়েন্টে। আর ডিএসইর বাছাই করা ৩০ কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৯ পয়েন্ট বা প্রায় ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯১০ পয়েন্টে নেমেছে। গতকাল সূচকটির অবস্থান ছিল ১ হাজার ৯২৯ পয়েন্টে।

 

ডিএসইতে আজ আগের কার্যদিবসের চেয়ে লেনদেন কমেছে ৪৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এদিন মোট ৩৫৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকার সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়েছে। এই লেনদেন ১৩ কার্যদিবস বা গত ২২ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন, ওইদিন ৩৫৫ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে ৪০২ কোটি ২০ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছিল।

 

দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) আজ অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দরপতন হয়েছে। এতে এক্সচেঞ্জটির সবগুলো মূল্যসূচক পয়েন্ট হারিয়েছে। পাশাপাশি এদিন সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে।

 

সিএসইতে আজ মোট ১৭৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টির দর বেড়েছে এবং কমেছে ১২৭টির। আর ৯টির দর দিন শেষে অপরিবর্তিত ছিল।

 

অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দরপতন হওয়ায় সিএসইর সার্বিক সূচক সিএসপিআই আজ ১৪০ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৭৪৩ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। আর সিএসসিএক্স সূচকটি ৭৫ পয়েন্ট কমে ৮ হাজার ৫০৫ পয়েন্টে নেমেছে। এছাড়া, সিএসই ৫০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬০ পয়েন্টে, সিএসই ৩০ সূচক ৭৫ পয়েন্ট কমে ১২ হাজার ৩২৭ পয়েন্টে এবং সিএসআই সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ৮৬২ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।

 

এদিকে আজ এক্সচেঞ্জটিতে সার্বিক লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা। গতকাল সিএসইতে ২২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছিল।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
পোশাক রপ্তানিতে টানা পঞ্চমবার বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নানা প্রতিযোগিতা সত্ত্বেও তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৫’ অনুযায়ী, টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মর্যাদা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।   ডব্লিউটিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশ ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানি বাজারে দ্বিতীয় অবস্থান নিশ্চিত করেছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ চীন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে—প্রথমে চীন, দ্বিতীয় বাংলাদেশ, তৃতীয় ভিয়েতনাম, চতুর্থ ভারত এবং পঞ্চম তুরস্ক।   সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের তুলনায় প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ফলে বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় অবস্থান আরও সুসংহত হয়েছে।   তবে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ভিয়েতনাম বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বছর ব্যবধানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১ শতাংশ, বিপরীতে ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি প্রায় ১১ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমান অবস্থান ধরে রাখলেও ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।   খাত-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক বাজারে দ্বিতীয় অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে উৎপাদন ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে অটোমেশন (স্বয়ংক্রিয়করণ), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উৎপাদন, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে আরও জোর দিতে হবে।   এছাড়া পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত সরবরাহ সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে পারলে বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।   বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস। এই খাতের ওপর নির্ভরশীল লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থান এবং জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি। তাই বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই বর্তমান সাফল্যে আত্মতুষ্ট না হয়ে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, দক্ষতা ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যতেও বিশ্ববাজারে দেশের শক্ত অবস্থান বজায় রাখা সম্ভব হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংকে চলতি হিসাবের অর্থ লিয়েন রাখার সুবিধা বাতিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে এডিবির নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৩ বছরের এলএনজি আমদানিতে নীতিগত অনুমোদন

ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ফের কর্মসূচি ঘোষণা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিত, সৎ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। একইসঙ্গে ব্যাংক থেকে লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।   সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ফোরামের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় সদস্য সচিব মোতাছিম বিল্লাহসহ বিপুলসংখ্যক গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।   লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং কোটি কোটি গ্রাহকের আস্থার প্রতীক। দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ এ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা জাতীয় অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   তিনি বলেন, গত ২৪ মে থেকে গ্রাহকরা ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। একইসঙ্গে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।   সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমকে অপসারণ করেছে এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা এখনো আইনে পরিণত হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলেও দাবি করেন তারা।   গ্রাহক ফোরাম তাদের সাত দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— সৎ, যোগ্য ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটপাটের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও দায়ীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিল এবং ইসলামী ব্যাংক নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার।   ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়, এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।   দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ৯ জুলাই ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল, ১৪ জুলাই জেলা শহরের বিভিন্ন শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং ১৮ জুলাই রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গ্রাহক মহাসমাবেশ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কঠোর মুদ্রানীতিতে বাজেটের লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হতে পারে: ডিসিসিআই

ছবি: সংগৃহীত

বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে জুতা কারখানা গড়বে ইতালি-আয়ারল্যান্ডের যৌথ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান

ছবি: সংগৃহীত

গুলশান থেকে আটক সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ

সংগৃহীত ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের বেসিক শতভাগ বৃদ্ধি নিয়ে ফেসবুকে গুজব, যা বলছে অর্থ মন্ত্রণালয়

নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির সভা শেষ হয়েছে গতকাল বুধবার। সভায় জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে-স্কেলের বিষয়টি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যেই সচিব কমিটির সভার সূত্র দিয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শতভাগ বেসিক বৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পে-স্কেল সংক্রান্ত একাধিক গ্রুপে পোস্ট দিয়ে দাবি করা হয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পে-স্কেলের পর্যন্ত আংশিক বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। আর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শতভাগ মূল বেতন কার্যকরের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ধরনের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেসিক বৃদ্ধি নিয়ে তিন ধরনের পরিকল্পনা সচিব কমিটির রয়েছে। এই তিন পরিকল্পনার মধ্যে একটি বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে কোনটি বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সচিব কমিটি।   নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগামী জানুয়ারি মাস থেকে নয়; সরকার চাইলে ১ জুলাই থেকেই শতভাগ বেসিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে জুলাই থেকে শতভাগ বেসিক কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। আগামী জানুয়ারি মাস থেকে শতভাগ বেসিক বৃদ্ধির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফেসবুকে কেন এবং কারা এ ধরনের তথ্য ছড়াচ্ছে সেটি তারাই ভালো বলতে পারবে।’   বেসিক বৃদ্ধি পেতে পারে যেভাবে নবম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেসিকের কত শতাংশ আগামী অর্থবছর থেকে বৃদ্ধি পাবে সেটি জানা না গেলেও তিনটি বিকল্প ধরে কাজ করছে সরকার বলে জানা গেছে। সচিব কমিটির প্রথম প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ১০ম-২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করা হতে পারে। আরেকটি বিকল্প হিসেবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেসিক শতভাগ বৃদ্ধির চিন্তাভাবনাও রয়েছে।   নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বেসিক নিয়ে একাধিক বিকল্প রয়েছে। কোনটি কার্যকর হবে সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসবে। এ বিষয়ে আমাদের পক্ষে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। কেননা সরকার চাইলে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পাটপণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক বহাল রাখল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

শেয়ারবাজারে ৬২ কোম্পানিতে ‘রেড এলার্ট’

ছবি: সংগৃহীত

অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি: তিন কোম্পানির শেয়ার লেনদেন তদন্তে বিএসইসি

0 Comments