পদ্মা রেল লিংক চালুর পর খুলনা-ঢাকা রুটে যাত্রী চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস কম সময়ে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আগ্রহ বেড়েছে রেলপথে। জাহানাদাবাদ এক্সপ্রেসে মাত্র পৌনে চার ঘণ্টায় খুলনা থেকে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছানো যায়। কিন্তু বাড়তি চাহিদার তুলনায় ট্রেন সংখ্যা কম থাকায় টিকিট সংকটও এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা।
বাড়তে থাকা এই চাহিদার প্রেক্ষিতে এবার দক্ষিণাঞ্চলের রেল সেবাকে আরও আধুনিক ও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সম্প্রতি নতুন ট্রেন চালুর প্রস্তাবনা তৈরি করেছে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল। এরই মধ্যে প্রস্তাবনাগুলো পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। ভারতের সাথে চুক্তি অনুযায়ী নতুন ২০০টি কোচ ক্রয় করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগামী মাস থেকে রেলের এসব কোচ ধাপে ধাপে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।
এসব কোচ আসলে সেগুলো দিয়ে নতুন এসব ট্রেন চালানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ।
তিনি বলেন, ভারত থেকে আমাদের ক্রয় করা কোচগুলো আগামী মাস থেকে আসা শুরু করবে। প্রতিটি ধাপে ২০টি করে কোচ আসবে, এভাবে মোট ২০০টি কোচ আসার কথা রয়েছে। এসব কোচ নিয়ে আমাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন এই প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। ধাপে ধাপে এসব কোচ আসতে প্রায় এক বছর সময় লেগে যাবে। পর্যায়ক্রমে আমরা আরও নতুন নতুন ট্রেন চালু করতে পারবো। নতুন এসব ট্রেন চালাতে মোংলাসহ কয়েকটি স্টেশনে ওয়াশফিট চালুসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নও করতে হবে। প্রস্তাবানায় সেসব বিষয়ও উল্লেখ আছে।
এদিকে এমন প্রস্তাবনার খবরে এ অঞ্চলে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
খুলনা রেলস্টেশনে ঢাকা থেকে আসা যাত্রী মো. সোহেল রানা বলেন, বর্তমানে একটি ট্রেনে টিকিট পাওয়া খুব কঠিন হয়ে গেছে। অনেক সময় তিন-চারদিন আগেই টিকিট কাটতে হয়। হঠাৎ করে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যেতে হলে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা নতুন ট্রেনের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। এখন সরকার উদ্যোগ নিয়েছে দ্রুত বাস্তবায়ন হলে সাধারণ যাত্রীরা উপকৃত হবে।
বেসরকারি চাকরিজীবী তানভীর হাসান বলেন, প্রতি সপ্তাহেই অফিসের কাজে ঢাকায় যেতে হয়। কিন্তু সবসময় টিকিট পাওয়া যায় না। শুনেছি নতুন একটা ট্রেন চালু হচ্ছে। এটা চালু হলে আমাদের নিয়মিত যাতায়াত আরও সহজ হবে।
মোংলার ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, মোংলা থেকে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে শুধু যাত্রীসেবাই না, ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় পরিবর্তন আসবে। বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। পণ্য পরিবহন, ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও পর্যটন সব ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
রেলওয়ের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন একটি বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত এই ট্রেনটির সম্ভাব্য যাত্রা সময় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। প্রস্তাবনা অনুযায়ী এই ট্রেনটি ভোর ৫টায় বেনাপোল থেকে ছেড়ে যশোর, নড়াইল, লোহাগড়া, কাশিয়ানি, ভাঙা হয়ে ঢাকায় পৌঁছাবে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে। ট্রেনটি ঢাকা থেকে ৯টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে পদ্মা সেতু হয়ে বিরতিহীনহাবে খুলনায় পৌঁছাবে দুপুর একটা ২৫ মিনিটে। এরপরপ দুপুর আড়াইটায় খুলনা থেকে ছেড়ে বিরতিহীন ভাবে ঢাকায় পৌঁছাবে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায়।
এছাড়া মোংলা-ঢাকা রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্রেনটি মোংলা থেকে খুলনা হয়ে ঢাকায় চলাচল করবে। একই সঙ্গে মোংলা-ঢাকা-মোংলা রুটে একটি নতুন কমিউটার ট্রেন চালুর কথাও বলা হয়েছে, যা যাত্রীদের স্বল্প খরচে দ্রুত যাতায়াতে সহায়তা করবে।
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পদ্মা রেল সংযোগ চালুর পর যাত্রী চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন চালুর প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে খুলনা ও মোংলা অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো দ্রুত ও আধুনিক রেলসেবা বাড়ানো। এখন নতুন কোচ সংগ্রহ, ওয়াশফিট প্রস্তুত এবং অপারেশনাল সক্ষমতা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। ভারত থেকে নতুন কোচ পাওয়া গেলে আগামী দুই মাস পর থেকে পর্যায়ক্রমে ট্রেনগুলো চালু করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।
বর্তমানে খুলনা থেকে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ছাড়াও চিত্রা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস যমুনা সেতু হয়ে ঢাকায় চলাচল করছে। তবে যাত্রী চাহিদা বাড়তে থাকায় নতুন ট্রেন সংযোজনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন, শিল্প ও বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। তাই দ্রুত উদ্যোগ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে গত ৭ দিন ধরে দুর্বিষহ জীবন পার করছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ। গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত এ জেলায় পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে, চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে রসুলাবাদ এলাকার আবদুল মালেকের মেয়ে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার (১২) মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ঝর্ণার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন। আগের দিন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে মাইজ কাকারা এলাকায় পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় স্থানীয় সোলতান আহমদের ২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম। একই দিন সকালে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে চকরিয়া থেকে বিভক্ত হয় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে পুষ্পর (৩) এর মৃত্যু হয়। এছাড়া একইদিন ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে মারা যায় একটি পরিবারের দুই শিশু। কক্সবাজার সদর উপজেলা, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরও ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, বন্যায় ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সদর উপজেলা, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান শহর থেকে পানি নামতে শুরু করায় মাতামুহুরি নদীর পানিও বেড়েছে। তাই চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার (মাতামুহুরীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং পানি দ্রুত নামাতে স্লুইস গেটগুলো সচল রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে জানান তিনি। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, সরকারি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন যার মধ্যে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১৪ হাজার ৬১ জন। এছাড়া তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার নগদ টাকা। ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত জেলায় গত ৬ দিনে ৭শ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান।
ক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এআই দিয়ে তৈরি ছবি ছড়িয়ে সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিমের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর শহরের এ মিছিল হয় বলে জানান রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী। ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিমকে আরও দুজনের সঙ্গে বসে থাকতে দেখা যায়। ছবিতে তাদের সামনে একটি ট্রেতে দুটি মদের বোতলও দেখা যায়। বিএনপির দাবি, ছবিটি এআই দিয়ে সম্পাদনা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, মূল ছবিতে মদের বোতল ছিল না। ফ্যাক্ট-চেক প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানারও ছবিটিকে ভুয়া বলে শনাক্ত করেছে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম পিন্টু মঙ্গলবার রামগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “এআই দিয়ে তৈরি ছবি ছড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।” বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা বলেন, এআই দিয়ে ভুয়া ছবি তৈরি এবং ফেইসবুকে ছড়িয়ে একজন জনপ্রতিনিধির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা করা হয়েছে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম শেখ, সংসদ সদস্যের স্থানীয় প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম পিন্টু, আবুল বাসার সেতু, সাবেক সদস্যসচিব আলমগীর হোসেন মিয়া এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আওরঙ্গজেব বাবলু।
নাটোরের জাহিদুল ইসলাম অমি (৩৬)। ছোট বেলা থেকেই জড়িয়ে পড়েন বিএনপির রাজনীতিতে। গত দেড় যুগে অনেকবার শিকার হয়েছেন জেল জুলুমের। পরিবারে মনোযোগ নেই, দলের প্রতি টান বেশি— সেই অভিযোগে সন্তানকে নিয়ে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে গেছেন অনেক দিন আগেই। নিজের পিতা-মাতাও তাকে বাড়িতে স্থান দেন না। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অন্যের বাড়িতে থাকেন। অবশেষে তিনি উপায় না পেয়ে নিজের বিছানাপত্র নিয়ে দলের কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়ে শুরু করেছেন বসবাস। জাহিদুল ইসলাম অমি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ওই ইউনিয়নের বাঁশিলা গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে। তিনি বসবাস করার জন্য তিনি প্রায় দুই মাস আগে উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের বাঁশিলা ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে উঠেছেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাহিদুল কিশোর বয়স থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। গত ১৭ বছর তিনি অনেকবার জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন। তবুও কখনো পিছুপা হননি, রাজনীতি ছাড়েননি। বিরক্ত হয়ে তার স্বজনেরা তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরিবারে মনোযোগ নেই দলের প্রতি টান বেশি সেই অভিযোগে স্ত্রী লাকী বেগম গত মে মাসে ছোট মেয়ে তানিসাকে নিয়ে বাবার বাড়ি বরিশালে চলে গেছেন। নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতাও তাকে বাড়িতে স্থান দেন না। গত মাসে স্ত্রী লাকী বেগম তাকে তালাকনামাও পাঠিয়ে দিয়েছেন। রাতে গ্রামের বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে থাকতেন জাহিদুল। দীর্ঘদিন এভাবে বসবাস করায় গ্রামের মানুষও এখন আর তাকে আশ্রয় দিতে চান না। এমন অবস্থায় জাহিদুল ইসলাম স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়েই বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। ফলে দলের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী একটি কাঠের চৌকি কিনে দিয়েছেন। বাঁশিলা ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ের এক কোনায় সেই চৌকিতে বিছানা পেতেছেন তিনি। এক কক্ষের দলীয় কার্যালয়ে বসে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাহিদুল বলেন, রাজনীতি আমার মগজে। রাজনীতি বাদ দিতে বললে আমার মাথা নষ্ট হয়ে যায়। তাই পিতা-মা ও স্ত্রী-সন্তানের মন জয় করতে পারিনি। আমি একে একে সব হারিয়েছি। এখন পেটের দায়ে অন্যের কাজ করি, বাকি সময় অফিসে কাটাই। নেতারা বাধা না দিলে এখানেই বাকি জীবন কাটিয়ে দিব। আর যদি কোনো নেতার দয়া হয়, তাহলে তার কাছে একটা ঘর চাইব।’ এ সম্পর্কে মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি রায়হান মিয়া বলেন, জাহিদুল ইসলাম একজন ভালো কণ্ঠশিল্পী। তার অনেক নির্বাচনি গান রয়েছে। তার জন্য আমরা কিছুই করতে পারিনি। তাই আজ তিনি দলীয় কার্যালয়ে উঠে বসবাস শুরু করেছেন। স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, জাহিদুল দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ওর থাকার জায়গা নাই। আপাতত অফিসে থাকুক। জেলার নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ওর থাকার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সানোয়ার হোসেন তুষার জানান, জাহিদুল ব্যাপারে খোঁজ নিতে উপজেলার নেতাদের বলা হয়েছে। খোঁজ খবর নিয়ে জাহিদুলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।