মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এক শিশু প্রায় ৫৮ বছর পর ফিরে পেয়েছেন জন্মপরিচয় ও পরিবারের সদস্যদের। প্রযুক্তির সহায়তা, স্মৃতির খণ্ড খণ্ড চিত্র এবং সন্তানের নিরলস অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে সম্ভব হয়েছে এই পুনর্মিলন।
ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের কালিপুর চৌধুরী বাড়িতে। ফিরে আসা ব্যক্তির নাম দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী। দীর্ঘ ৫৮ বছর পর তাকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত পরিবারের সদস্যরা।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, দীর্ঘ ৫৮ বছর পর পরিবারের সঙ্গে দুলাল চৌধুরীর পুনর্মিলন সত্যিই অত্যন্ত আবেগঘন, বিরল এবং হৃদয়স্পর্শী একটি ঘটনা।
স্বজনরা জানান, ১৯৬৯ সালের দিকে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় বছর বয়সে নিখোঁজ হন দুলাল। এরপর পথ হারিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকায় পৌঁছান। সেখানে একটি পালক পরিবারের আশ্রয়ে বড় হন তিনি। নতুন পরিবেশে জীবন গড়ে উঠলেও নিজের প্রকৃত পরিচয়, জন্মস্থান কিংবা পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা ছিল না দুলালের।
তবে শৈশবের কিছু অস্পষ্ট স্মৃতি আজীবন তাকে তাড়িয়ে ফিরেছে। নদী, লঞ্চঘাট, একটি বাজার এবং কিছু পরিচিত পরিবেশের কথা তার মনে থাকলেও সেগুলো দিয়ে নিজের শেকড়ের সন্ধান মেলেনি।
ছেলের অনুসন্ধানেই খোলে রহস্যের জট
দীর্ঘ সময় ধরে পরিচয়ের খোঁজ চললেও কোনও অগ্রগতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাবার হারিয়ে যাওয়া অতীত খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন ছেলে ইমাম হোসাইন আকিব।
সম্প্রতি কোরবানির ঈদকে ঘিরে পারিবারিক আলোচনার সময় বাবার স্মৃতিতে ভেসে ওঠে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তিনি নদী, লঞ্চঘাট এবং কালিপুর বাজারের কথা বলেন। এসব তথ্যকে ভিত্তি করে অনুসন্ধান শুরু করেন আকিব।
গুগল ম্যাপ ও বিভিন্ন স্থানীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় মেঘনা নদীর তীরবর্তী কালিপুর অঞ্চলকে। পরে স্থানীয় সাংবাদিক ও গবেষকদের সহযোগিতায় যোগাযোগ করা হয় কালিপুরের চৌধুরী পরিবারের সঙ্গে।
এরপর সেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের পর কালিপুরে আসেন দুলাল চৌধুরী। সেখানে পৌঁছে তিনি শৈশবের স্মৃতির সঙ্গে মিল খুঁজে পান এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা ও পরিবেশের।
পুরনো গেইট, খালপথ, আমগাছ এবং লবণ তোলা ঘাটের মতো বিভিন্ন নিদর্শন দেখে তিনি স্মৃতিচারণ করেন। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরাও তার বর্ণনার সঙ্গে এলাকার অতীতের বাস্তবতার মিল খুঁজে পান।
সবশেষে জীবিত ভাই মুকুল চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয় তাদের রক্তের সম্পর্ক। প্রায় ছয় দশক পর দুই ভাইয়ের মিলনের মুহূর্তে উপস্থিত সবার চোখেই জল এসে যায়।
দুলাল চৌধুরী বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি জীবনের এই পর্যায়ে এসে নিজের পরিবারকে খুঁজে পাব। ছোটবেলার স্মৃতি ছাড়া আমার কাছে কিছুই ছিল না। আজ ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজনদের কাছে ফিরে এসে মনে হচ্ছে জীবনের বড় একটি শূন্যতা পূরণ হয়েছে।”
বাবার মুখে শোনা কিছু অস্পষ্ট তথ্য নিয়েই অনুসন্ধান শুরু করার কথা জানান ছেলে ইমাম হোসাইন আকিব। তিনি বলেন, “গুগল ম্যাপ, স্থানীয় তথ্য ও মানুষের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে সঠিক জায়গার সন্ধান পাই। পরিবারের সঙ্গে বাবার পুনর্মিলন আমাদের জন্য জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
আকিব বলেন, “আমি আমার জীবনের শেকড় খুঁজে বের করেছি। আমি এখন গর্ব করে বলতে পারি- আমার দাদার নাম শামসুল হক চৌধুরী, দাদির নাম সুফিয়া বেগম।
“আমার এই প্রাপ্তি কোনও কিছুর মাধ্যমে প্রকাশ করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। আল্লাহর রহমতে আমার বাবাকে ফ্যামিলি ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।”
দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া দুলাল চৌধুরীকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
ভাই মুকুল চৌধুরী বলেন, “ছোটবেলায় ভাই হারিয়ে যাওয়ার পর আমরা অনেক খোঁজ করেছি। একসময় আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এত বছর পর আবার তাকে ফিরে পাব, কখনো কল্পনাও করিনি। আজ আমাদের পরিবারের জন্য আনন্দের দিন।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, এত বছর পর একজন মানুষ পরিবারকে খুঁজে পেয়েছেন- এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য। ঘটনাটি সবাইকে আবেগাপ্লুত করেছে।
আরেক বাসিন্দা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে কতটা বদলে দিতে পারে, এটি তার বড় উদাহরণ। হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষ শেষ পর্যন্ত শেকড়ে ফিরে এসেছেন।
ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, এত দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকার পর আবার পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরে আসা শুধু একটি ব্যক্তিগত আনন্দের বিষয় নয়, এটি পারিবারিক বন্ধন এবং ভালোবাসার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত। এই পুনর্মিলনের মুহূর্তে পরিবারের সদস্যদের আবেগ, আনন্দ ও উচ্ছ্বাস সবাইকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।
বর্তমানে দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে আবারও যুক্ত হয়েছেন তার জন্মপরিবারের সঙ্গে। নতুন করে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি তিনি ফিরে পেয়েছেন নিজের হারিয়ে যাওয়া পরিচয়।
হারিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় দশক পর এক শিশু পরিবারের কাছে ফিরে আসার ঘটনা এখন চাঁদপুরজুড়ে আলোচনার বিষয়। প্রযুক্তির ব্যবহার, সন্তানের অদম্য প্রচেষ্টা এবং মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় এই পুনর্মিলন অনেকের কাছেই এক অনন্য মানবিক গল্প হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলে একটি ফার্নিচারের গোডাউনে আগুন লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিটের এক ঘণ্টার চেষ্টায় রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। বিজ্ঞাপন বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, খবর পাওয়ার পর সকাল ৯টা ১৯ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে বারিধারা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট। পরে সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সহযোগিতার প্রয়োজন হবে না বিধায় পূর্বাচল ফায়ার স্টেশন পথিমধ্য থেকে ফেরত চলে যায়। ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এছাড়া হতাহতের কোনো সংবাদও পাওয়া যায়নি।
জামালপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনা ও ধারনক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী দেখে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। হাসপাতাল পরিদর্শনের পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা যদি হয়ে থাকে, তবে তা এই জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল দেখে হলো।” শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে হাসপাতালটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার আমলে প্রতিষ্ঠিত এই ২৫০ শয্যার হাসপাতালে আজ ৮৬৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। ২০২১ সালেই এ হাসপাতালের ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা সত্ত্বেও এখানে ঝুঁকি নিয়ে রোগী রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশের কোথাও এমন অমানবিক চিত্র আছে বলে আমার জানা নেই।” হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ আটকে থাকার পেছনে বিগত সরকারের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর দুর্নীতিকে দায়ী করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, “এখানে ৫০০ বেডের একটি নতুন হাসপাতাল হওয়ার কথা ছিল এবং টেন্ডারও হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন ফ্যাসিবাদের এক প্রতিমন্ত্রী এবং ঠিকাদারের মধ্যে অবৈধ আর্থিক দেনদরবার ব্যাঘাত ঘটায় কাজটি বন্ধ রাখা হয়। কত নিকৃষ্ট ও অমানবিক মানুষ হলে জনস্বার্থের এমন কাজ আটকে রাখতে পারে, তা ভাবা যায় না।” হাসপাতালের বর্তমান কর্মকর্তাদের গাফিলতির সমালোচনা করে মন্ত্রী জানান, ৫০০ বেডের অনুমোদিত প্রকল্পটি বর্তমানে সময় বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে পরিকল্পনা সচিব ও দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে টেন্ডার ও ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করবেন। এছাড়া রোগীদের খাদ্য সরবরাহ ও চিকিৎসার সরঞ্জাম কেনাকাটার অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কিনা— সে বিষয়ে তদন্তের ঘোষণা দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, দ্রুতই একটি সমন্বয় সভা ডেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে এবং যারা এই অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী, তাদের কেন শাস্তির আওতায় আনা হবে না তা জানতে চাওয়া হবে। পরিদর্শনকালে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক, জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর কদমতলী থানার শনির আখড়ায় মো. আসলাম খান (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকে দোকানে ঢুকে গুলি করেছে দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে এক অভিযুক্তকে আটক করেছে। গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী মো. আসলাম খানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৮ টার দিকে শনির আখড়া রয়্যাল হাসপাতালের সামনে ‘লাকীজ কুকারিজ’ নামক দোকানে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ আসলাম খানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা তার বন্ধু মনোয়ার হোসেন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, আমরা তখন দোকানের ভেতরেই কথা বলছিলাম। হঠাৎ করে এক অজ্ঞাত যুবক দোকানে ঢুকে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আসলামকে লক্ষ্য করে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি চালিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আসলাম রক্তাক্ত হয়ে মেঝেতে পড়ে যায়। আসলামকে বাঁচাতে দ্রুত প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে পরে রাত ৯ টার দিকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। বর্তমানে জরুরী বিভাগের তার চিকিৎসা চলছে। তিনি আরও জানান, ওই দুর্বৃত্তের গুলিতে আসলামের বাম পায়ের হাঁটুর নিচে ও কপালের ডান পাশে গুলি লাগে। এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ ওই দুর্বৃত্তকে আটক করেছে। তবে প্রাথমিকভাবে কি কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বা পূর্ব শত্রুতা ছিল কিনা সে বিষয়টি এখনো জানতে পারিনি। আমি আসলামকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি তবে ওই যুবকের নাম পরিচয় জানতে পারিনি। ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, গুলিবিদ্ধ ওই ব্যক্তির হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা চলছে। আমরা বিষয়টি কদমতলী থানা পুলিশকে জানিয়েছি। ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, শনির আখড়া এলাকায় গুলির ঘটনায় দুটি বিদেশি পিস্তল, ৯ রাউন্ড গুলি ও একটি গুলির খোসাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ওই ব্যক্তির নাম মনজুরুল ইসলাম নামে জানতে পেরেছি। তবে কি উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে সে বিষয় জানা যায়নি।