সারাদেশ

চট্টগ্রামে ছিনতাইয়ের ২৯০ ভরি স্বর্ণ ঢাকায় উদ্ধার, পুলিশের সাবেক কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ৬

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৯, ২০২৬

চট্টগ্রামের আতুরের ডিপো এলাকা থেকে ৩৫০ ভরি সোনা ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার চারদিন পর অভিযান চালিয়ে ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময় চাকুরিচ্যুত এক পুলিশ সদস্যসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

শুক্রবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপির) মিডিয়া রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। এর আগে ৮ জানুয়ারি থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঢাকায় এবং চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) ও পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।

 

গ্রেপ্তররাা হলেন সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মো. মাসুদ রানা বাইক বাবু (৩০), রফিকুল ইসলাম প্রকাশ ইমন (২২), রবি কুমার দাস (৪০),পান্না রানী দাস (৩৮) ও বিবেক বনিক (৪২)। এর মধ্যে সুমন পুলিশের এএসআই ছিলেন। ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধকর্মে জড়ানোর কারণে পুলিশ থেকে তাকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হয়েছিল।

 

সংবাদ সম্মেলনে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) হাবিবুর রহমান বলেন, গত ৪ জানুয়ারি সবুজ দেবনাথ তাঁর সঙ্গে আরো ২ জনকে নিয়ে ৩৫০ ভরি সোনাসহ একটি সিএনজিযোগে কোতোয়ালি থানার সাবেরিয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন অক্সিজেনের উদ্দেশে রওনা হন।

 

পথিমধ্যে আতুরের ডিপো এলাকায় পৌঁছালে ২টি মোটরসাইকেলে থাকা চারজন ছিনতাইকারী তাঁদের পথরোধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে। এসময় তাঁদের কাছ থেকে ৩৫০ ভরি সোনা ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার পর পাঁচলাইশ মডেল থানা ও ডিবি (উত্তর) বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুর জেলার কাশিমপুর থানার মাধবপুর এলাকা থেকে সুমন চন্দ্র দাস, মো. মাসুদ রানা এবং রফিকুল ইসলাম ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এছাড়া ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী একজন এখনো পলাতক রয়েছেন। এরপর সুমনের দেওয়া তথ্যে তার স্ত্রী পান্না রানি দাশ ও রবি কুমার দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ছিনতাইকারীদের সোনার বার বহনের তথ্য দেওয়ার জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী বিবেক বণিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, গ্রেপ্তার সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করেছে তার নেতৃত্বে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা সংঘটিত হয়।

 

সুমনের সঙ্গে দোকান কর্মচারী বিবেকের সম্পর্ক ছিল। বিবেকের দেওয়া তথ্যে ছিনতাই করা হয়। বিবেক তথ্য দেয় দোকানের কর্মচারীরা সোনার বার নিয়ে যাবে। ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার পর স্বর্ণগুলো সুমন তার স্ত্রী পান্না ও শ্যালক রবির কাছে রাখে।

সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপকশিনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধকর্মে জড়ানোর কারণে সুমনে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় পুলিশ বাহিনী থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। সে আগেও সোনার বার ছিনতাইয়ের ঘটনায় জেলে গিয়েছিল। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়ে আবার ছিনতাইকাজের নেতৃত্ব দিচ্ছে। ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহার করা একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১,১৬৫ জন

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও সাতজন মারা গেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।     প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার সকাল আটটা থেকে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৯০৯ জন। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১০০ জনের। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৯।       স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত এই পরিসংখ্যানে বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সি মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যত মৃত্যু হচ্ছে, তার সবই হামে মৃত্যু বলে বিবেচনা করা হয়।       স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আজকের প্রতিবেদন বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ১৬৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৪৫।       স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ২৯। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১৯ হাজার ৯৩৩ রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।     ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৫ রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৮৮ জন।     স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি। আর হামের উপসর্গে যে সাতজন মারা গেছে, তাদের তিনজন ঢাকা বিভাগের। একজন করে সিলেট, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

রাজধানীর মহাখালী টোবাকো ভবনে আগুন

ঝিনাইদহে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলামের প্রয়াণ

ছবি: সংগৃহীত
দাফন নাকি দাহ: লাশের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আদালতে চূড়ান্ত শুনানি

মায়ের দাবি, মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করায় ছেলে শুভ (বিল্লাল)-কে দাফন করতে হবে। অন্যদিকে, বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, ছেলে হিন্দু ধর্মে জন্ম, তাই তাকে চিতায় দাহ করতে চান তিনি।     দুই পক্ষের এমন দাবিতে পাঁচদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে পড়ে আছে শুভর মরদেহ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে শুভর লাশটি ফ্রিজিং গাড়িতে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর থানার ওসি মোহাম্মদ সাজিদুর রহমান।     সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়ায় গুলিতে নিহত শুভর (৩০) মরদেহের শেষকৃত্য নিয়ে পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিরোধ। এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় লাশবাহী একটি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে সংরক্ষণ করা হচ্ছে মরদেহটি।     বিষয়টি গড়িয়েছে আদালতে।     বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের পরই শুভর মরদেহ দাফন করা হবে, নাকি দাহ করা হবে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।     শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, তার ছেলে হিন্দু।   সে অনুযায়ী তিনি ছেলের মরদেহ চিতায় দাহ করতে চান। তবে শুভর মা দাবি করছেন, তার ছেলে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করেন। ফলে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।     মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মফিজুর জানান, শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাস ও মা আয়েশা বেগমের তালাক হয়ে যায় ২০০৩ সালে।     এরপর শুভ (বিল্লাল), তার মা ও এক ভাই ও বোন মুসলমান হয়। শুভর ভাই ইব্রাহিম ও বোন সুমাইয়া। আবার স্ত্রী জ্যুথি মুসলমান ও তাদের সন্তান সুমাইয়া। শুভ এফিডেভিট বা হলফনামার মাধ্যমে মুসলমান হয়ে বিল্লাল নাম রাখেন। মুসলিম ধর্ম অনুযায়ী কাবিনের মাধ্যমে মুসলিম পরিবারে বিয়ে করেন।     শুভর ভাই ইব্রাহিম বলেন, আমরা দুই ভাই একসঙ্গে মুসলমান হই এবং সুন্নতে খাতনা করি। পাশাপাশি একইসঙ্গে দুজন নারায়ণগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকায় রওজাতুস সালেহীন মাদরাসায় পড়াশোনা করি।     নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান বলেন, শুভ হিন্দু না মুসলিম, এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এ কারণে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। বিষয়টি এখন আদালতের বিবেচনায় রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুভর মরদেহ দাহ বা দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। আপাতত লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।       প্রসঙ্গত, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনে সড়কে শুভকে (বিল্লাল) গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি গুলির খোসা এবং মরদেহের পাশ থেকে ১০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।     হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও সোহান (২৪) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে শুভর এক সহযোগীকে দিয়ে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ফেলে। পরে তাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।     হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সর্বশেষ অগ্রগতি আসে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর)। রিমান্ডে থাকা সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নবাব সলিমুল্লাহ রোডের রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে একটি ঝোপ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগজিন উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২ হাজার ২৬৮ মামলা

ফাইল ছবি

মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে গণধোলাই

ছবি: সংগৃহীত
সস্তায় ইলিশের বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা, অগ্রিম টাকা নিয়েই ব্লক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আকর্ষণীয় নাম দিয়ে পেজ খুলে সস্তায় ‘চাঁদপুরের ইলিশ’ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয় চক্রটি। সেই বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে ক্রেতারা অর্ডার করলে অগ্রিম টাকা চাওয়া হয়। এরপর ডেলিভারি কোড, ওটিপি বা সার্ভার সমস্যার অজুহাতে আরও টাকা দাবি করে চক্রটি। কয়েক দফায় টাকা নেওয়ার পর ক্রেতার নম্বর ব্লক করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় প্রতারক চক্রটি।   এভাবে অনলাইনে ‘চাঁদপুরের ইলিশ’ বিক্রির নামে প্রতারণা করে আসা একটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে চাঁদপুর জেলা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তে চক্রটির মূল শিকড় নড়াইলে পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে একের পর এক অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।   সবশেষ গত রোববার নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় যৌথ অভিযান চালিয়ে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ফুরকান শেখ (২৫), চান মিয়া (২৫), রাতুল হোসেন (২৫) ও শহিদুল শেখ (২৩)। আজ মঙ্গলবার তাঁদের চাঁদপুরের আদালতে পাঠানো হয়। তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ১০টি মুঠোফোন, ৪৬টি সিম কার্ড (২টি ভারতীয়) ও ৭৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।   এর আগে একই অভিযোগে নড়াইল থেকে পৃথক দুটি অভিযানে ২৬ আগস্ট পাঁচজন ও ২০ আগস্ট দুজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নুর প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশের ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অনেক অভিযোগ আমরা পাচ্ছি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে দেখা গেছে, চক্রটির মূল শিকড় নড়াইলে। এর আগেও আমরা সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি। পুরো চক্রটিকে নির্মূল করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’   যেভাবে চলে প্রতারণা পুলিশ ও ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চক্রটি ফেসবুকে ‘চাঁদপুর ইলিশ বাজার’ কিংবা ‘চাঁদপুর মাছওয়ালা’ ইত্যাদি আকর্ষণীয় নামে পেজ খুলত। এসব পেজে চাঁদপুরের তাজা ইলিশের এডিটেড ছবি ও ভিডিও এবং ভুয়া গ্রাহক রিভিউ ব্যবহার করা হতো। এরপর কম দামে ইলিশ বিক্রির বিজ্ঞাপন ফেসবুকে বুস্ট করা হতো।   ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জন করার জন্য চক্রটি অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও চাঁদপুরের বিভিন্ন মৎস্যঘাটের ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স দেখাত। বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে কোনো ক্রেতা অর্ডার করার পর বিকাশ বা নগদে অগ্রিম টাকা চাওয়া হয়। এরপর ক্রেতারা টাকা পাঠালে ডেলিভারি কোড বা ওটিপি দেওয়ার কথা বলে কিংবা সার্ভার সমস্যার অজুহাতে আরও টাকা চাওয়া হতো। এভাবে কয়েক কিস্তিতে টাকা নেওয়ার পর ক্রেতার নম্বর ব্লক করে দিত চক্রটি।   নিবন্ধনের উদ্যোগেও প্রতারণা থামছে না সম্প্রতি এতিমখানার শিশুদের ইলিশ খাওয়ানোর জন্য অনলাইনে আট কেজি ইলিশ অর্ডার করেন চট্টগ্রামের সংবাদকর্মী মীর মোহাম্মদ আসলাম। এ জন্য তিনি প্রবাসীদের পাঠানো টাকা ব্যবহার করেন। পরে ওটিপি ও সার্ভার সমস্যার অজুহাতে ধাপে ধাপে তাঁর কাছ থেকে ১৫ হাজার ৯৮০ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। কুমিল্লার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বসিরূল আলম ভূঁইয়াও একই ধরনের প্রতারণার শিকার হন। ‘চাঁদপুর মাছওয়ালা’ নামের একটি পেজের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে চার হাজার টাকা নেওয়া হয়। এসব ঘটনায় চাঁদপুরের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।   অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিক্রেতাদের নিবন্ধনের উদ্যোগ নিলেও প্রতারণা থামছে না। চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল বারি জমাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা অনলাইনে ইলিশ কেনা থেকে সাধারণ মানুষকে বিরত থাকার অনুরোধ করছি। চাঁদপুরের তাজা ইলিশ পেতে হলে ক্রেতাকে সরাসরি ঘাটে আসতে হবে। অনলাইনে কিনতে গেলেই প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।’

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মাদকের বিরোধে তিন ভাইয়ের ওপর হামলা, কুপিয়ে জখম

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩

সন্ত্রাসী নবী হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী বাহিনীকে ‘প্রক্সি’ বানানোর ছক, ভারি অস্ত্র-প্রশিক্ষণের অভিযোগ

0 Comments