বাংলা সিনেমার ইতিহাসে কিছু নাম কেবল অভিনেতা হিসেবে নয়, বরং একেকটি যুগের প্রতীক হয়ে আছে। প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী ও রঞ্জিত মল্লিক—এই তিন দাপুটে তারকার একসঙ্গে পর্দা কাঁপানো উপস্থিতি শেষবার দেখা গিয়েছিল ১৯৮৪ সালের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘শত্রু’-তে। কিংবদন্তি নির্মাতা অঞ্জন চৌধুরীর পরিচালনায় নির্মিত সেই ছবি মুক্তির পর বক্স অফিসে যে তোলপাড় তুলেছিল, তা আজও দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন।
এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৪১ বছরেরও বেশি সময়। এই সময়ের মধ্যে আলাদা আলাদা পথে হেঁটে প্রত্যেকেই গড়ে তুলেছেন বাংলা সিনেমার স্বর্ণাক্ষরে লেখা নিজস্ব অধ্যায়, উপহার দিয়েছেন অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র। তবে তিন কিংবদন্তিকে একসঙ্গে একই ছবিতে দেখার স্বপ্ন রয়ে গিয়েছিল অপূর্ণ। অবশেষে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে—চার দশকের বেশি সময় পর আবারও এক ফ্রেমে ফিরছেন প্রসেনজিৎ, চিরঞ্জিত ও রঞ্জিত মল্লিক।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৮ জানুয়ারি) এসভিএফ প্রযোজিত ও চন্দ্রাশিস রায় পরিচালিত ‘বিজয়নগরের হীরে’ সিনেমার ট্রেইলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির কাছে জানতে চাওয়া হয়, চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর সঙ্গে আবার একসঙ্গে কাজ করবেন কি না। উত্তরে তিনি বলেন,
‘আমরা খুব শিগগিরই একটি সিনেমা করব। এটা আমার অনেক দিনের ইচ্ছে। আমি দীপকদা (চিরঞ্জিত চক্রবর্তী) ও রঞ্জিতদার সঙ্গে একসঙ্গে সিনেমা করতে চাই।’
প্রসেনজিতের এই বক্তব্যের রেশ ধরেই চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন,
‘হ্যাঁ, এটা অনেকদিন ধরেই ও বলছে।’
তবে কোন সিনেমায় বা কবে এই তিন তারকাকে একসঙ্গে দেখা যাবে—সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাননি তারা।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৫ বছর পর ‘বিজয়নগরের হীরে’ সিনেমায় আবার একসঙ্গে কাজ করেছেন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি ও চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। জনপ্রিয় ‘কাকাবাবু’ ফ্র্যাঞ্চাইজির চতুর্থ কিস্তি হিসেবে নির্মিত এই সিনেমাটি আগামী ২৩ জানুয়ারি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ছবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন আরিয়ান ভৌমিক, রাজনন্দিনী পাল, শ্রেয়া ভট্টাচার্য, অনুজয় চ্যাটার্জিসহ আরও অনেকে।
সব মিলিয়ে, বাংলা সিনেমার তিন কিংবদন্তির পুনর্মিলনের এই ঘোষণা ঘিরে দর্শকমহলে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। এখন প্রশ্ন একটাই—চার দশক পর তাদের একসঙ্গে পর্দায় দেখার সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত কবে আসছে?
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জন্মদিনের হিসাবেই আমাদের বয়স বাড়ে। কিন্তু শরীরের প্রতিটি অঙ্গ যে একই গতিতে বয়সের ছাপ নেয়, এমনটা নয়। আপনার বয়স হয়তো ৩০ বা ৪০, অথচ আপনার ফুসফুস কাজ করতে পারে আরো বেশি বয়সী একজন মানুষের মতো। ফুসফুসের এই কার্যক্ষমতার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয় ‘লাং এজ’ বা ফুসফুসের বয়স। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বয়স কম বলেই ফুসফুস সুস্থ আছে এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। হিন্দুস্তান টাইমসে পালমোনোলজিস্ট ডা. সৌপর্ণ সাহা জানিয়েছেন, কিছু ৩০ ও ৪০ বছর বয়সী মানুষের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা অনেক বেশি বয়সী ব্যক্তির মতো হতে পারে। আবার কেউ কেউ অনেক বেশি বয়স পর্যন্ত ভালো ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে পারেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, ভারতে আনুমানিক ৫ থেকে সাড়ে ৫ কোটি মানুষ ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি-তে আক্রান্ত। এই রোগটি ফুসফুসের অকাল বার্ধক্য ও ক্ষতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। লাং এজ কী ‘লাং এজ’ বলতে বোঝায় আপনার ফুসফুস কতটা ভালোভাবে কাজ করছে, সেটি আপনার একই বয়স, লিঙ্গ ও শারীরিক গঠনের একজন সুস্থ মানুষের ফুসফুসের সঙ্গে তুলনা করে বোঝার একটি ধারণা। ডা. সৌপর্ণ সাহার ভাষায়, এটি হলো আপনার ফুসফুসের কার্যক্ষমতা আপনার বয়স, লিঙ্গ ও উচ্চতার সঙ্গে প্রত্যাশিত কার্যক্ষমতার তুলনায় কেমন তার একটি পরিমাপ। ফুসফুসের বয়স নির্ধারণে সাধারণত স্পাইরোমেট্রি পরীক্ষা করা হয়। এটি একটি সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের পরীক্ষা, যেখানে কতটা বাতাস ফুসফুস থেকে বের করতে পারছেন এবং কত দ্রুত বের করতে পারছেন, তা পরিমাপ করা হয়। তবে ‘লাং এজ’ মানেই আয়ু কতদিন এমন কোনো পূর্বাভাস নয়। বরং প্রকৃত বয়সের তুলনায় ফুসফুসের বয়সে বড় পার্থক্য থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। যে ৭ কারণে ফুসফুস দ্রুত বুড়িয়ে যেতে পারে ১. ধূমপান ফুসফুসের অকাল বার্ধক্যের সবচেয়ে পরিচিত কারণগুলোর একটি হলো ধূমপান। তামাকের ধোঁয়া ফুসফুসে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসনালির আবরণ এবং ফুসফুসের ক্ষুদ্র বায়ুথলিগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অথচ শরীরে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব বায়ুথলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ২. পরোক্ষ ধূমপান আপনি নিজে ধূমপান না করলেও আশপাশের মানুষের ধোঁয়া আপনার ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ধীরে ধীরে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমতে পারে। সমস্যা হলো, এই ক্ষতি দীর্ঘ সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই চলতে পারে। ফলে শুরুতেই বিষয়টি বুঝে ওঠা কঠিন হয়। ৩. বাইরের বায়ুদূষণ যানবাহন, শিল্পকারখানা ও জ্বালানি পোড়ানোর ফলে তৈরি সূক্ষ্ম কণা ও বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস শ্বাসনালিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসে থাকার ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতায় স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ৪. ঘরের ভেতরের দূষণ শুধু বাইরের বাতাসই নয়, ঘরের বাতাসও ফুসফুসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচলযুক্ত রান্নাঘরের ধোঁয়া, কঠিন জ্বালানি এবং তামাকের ধোঁয়া ঘরের ভেতরে জমে যেতে পারে। বাইরের বায়ুদূষণের সঙ্গে এসব দূষণের প্রভাব যোগ হয়ে ফুসফুসের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। ৫. কর্মক্ষেত্রের ধুলা-রাসায়নিক নির্মাণকাজ, খনি, স্বাস্থ্যসেবা, টেক্সটাইল ও কারখানায় কাজ করা ব্যক্তিদের নিয়মিত ধুলা, রাসায়নিক বা ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসতে হয়। যথাযথ সুরক্ষা সরঞ্জাম ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে দীর্ঘদিন এসব উপাদানের সংস্পর্শে থাকা ফুসফুসে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তৈরি করতে পারে। ৬. বারবার শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বারবার বা গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণও ফুসফুসের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে শৈশবে এমন সংক্রমণ হলে ফুসফুসের টিস্যুতে ক্ষত তৈরি হতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ৭. বংশগত কারণ সব মানুষের ফুসফুস ক্ষতির ঝুঁকি এক রকম নয়। কারও কারও জেনেটিক বা বংশগত কারণেই ফুসফুস ক্ষতির প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারেন। ফুসফুসের ক্ষতি শুরু হলে কী বোঝা যায় ফুসফুসের ক্ষতি সবসময় শুরুতেই স্পষ্ট হয় না। অনেক সময় শ্বাসতন্ত্রের ছোট ছোট অংশে পরিবর্তন শুরু হয়ে যায়, কিন্তু তখন বড় কোনো উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে। বিশেষজ্ঞের মতে, ফুসফুসের ক্ষতির প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট শ্বাসনালি আক্রান্ত হতে পারে। এটি পরবর্তী সময়ে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি-এর মতো দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমলে শরীরে যা ঘটে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলে তার প্রভাব দৈনন্দিন জীবনেও ধীরে ধীরে দেখা দিতে পারে। যেখানে আগে সহজে সিঁড়ি দিয়ে উঠতেন, এখন লিফট খুঁজছেন। আগে যে দূরত্ব হেঁটে যেতেন, এখন হাঁটলেই হাঁপিয়ে যাচ্ছেন। পছন্দের শারীরিক কাজগুলোও ধীরে ধীরে এড়িয়ে চলছেন, কারণ শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। ডা. সৌপর্ণ সাহার মতে, ফুসফুসের অবনতির প্রথম দিকের লক্ষণগুলো অনেক সময় চোখে পড়ে না বা মানুষ সেগুলোকে গুরুত্ব দেন না। ধীরে ধীরে শারীরিক কর্মকাণ্ড কমিয়ে দেয়া, সিঁড়ির বদলে লিফট ব্যবহার করা, আগের পছন্দের কাজ এড়িয়ে চলা কিংবা অল্পতেই ক্লান্ত ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করা এসবকে শুধু বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন ধরে নেয়া উচিত নয়। কারণ, এসব উপসর্গের পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। তাই নিয়মিত কাজকর্মে আগের তুলনায় বেশি ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট হলে বিষয়টি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলাই ভালো।
নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে সব সময় প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখতে ভালোবাসেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা সিদ্ধার্থ নিগম। তবে এবার ভক্তদের বড় ধরনের চমক দিয়ে নিজের ভালোবাসার মানুষের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন এই তারকা। একটি রহস্যময়ী নারীর সঙ্গে ধারাবাহিক কয়েকটি ছবি শেয়ার করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি বর্তমানে সম্পর্কে রয়েছেন। সেই বিশেষ মানুষটির নাম রিয়া থাক্কর। সম্পর্কের বিষয়টি আড়ালে রাখার পেছনে কোনো বিতর্ক নয়, বরং ব্যক্তিগত জীবনকে জনসমক্ষে এনে অপ্রয়োজনীয় আলোচনার শিকার হওয়া থেকে বাঁচাতেই তিনি বিষয়টি এতদিন গোপন রেখেছিলেন বলে জানিয়েছেন। টেলিভিশনের মেগা সিরিয়াল ‘চক্রবর্তী সম্রাট অশোক’ ও ‘আলাদিন: নাম তো শুনাহোগা’-তে অনবদ্য অভিনয়ের পাশাপাশি বড় পর্দাতেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন সিদ্ধার্থ। শিশুশিল্পী হিসেবে ‘ধুম ৩’ দিয়ে আত্মপ্রকাশের পর সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কাপ্তান’ এবং ‘কিসি কা ভাই কিসি কি জান’ চলচ্চিত্রে দেখা গেছে তাকে। ক্যারিয়ারজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পেলেও প্রেমের ক্ষেত্রে সিদ্ধার্থ ছিলেন একেবারেই মুখচোরা। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা তার সাম্প্রতিক পোস্টটি অনুরাগীদের সামনে এই অভিনেতার রোমান্টিক রূপটি প্রথমবারের মতো উন্মোচন করেছে। রিয়া থাক্করের সঙ্গে সিদ্ধার্থের মিষ্টি মুহূর্তের সেই ছবিগুলো মুহূর্তেই নেটদুনিয়ায় আলোড়ন তৈরি করে। ছবিগুলোর সঙ্গে দেওয়া একটি দীর্ঘ আবেগঘন বার্তায় সিদ্ধার্থ লেখেন, দুইজন অপরিচিত মানুষ, দুটি ভিন্ন জীবন—আর এমন একটি দেখা যা আমাদের গল্পের এত সুন্দর একটি অংশ হয়ে উঠবে তা আমরা কেউই জানতাম না। এখানে কোনো পরিকল্পনা ছিল না, কোনো চিত্রনাট্যও ছিল না। আমরা কেবল একে অপরকে খুঁজে পেয়েছি। সাধারণ দিনগুলো, নিভৃত কথোপকথন, একসঙ্গের হাসি আর জীবনের নানা মুহূর্তের মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে সুন্দর কিছু একটার জন্ম হতে শুরু করে। অনেক দিন ধরে এই বিষয়টি কেবল আমাদের নিজেদের ছিল। আমরা নীরবে তা অনুভব করেছি, যত্ন করে আগলে রেখেছি। কিন্তু যখন কোনো কিছু আপনার জীবনে প্রচুর ভালোবাসা, উষ্ণতা ও অর্থ নিয়ে আসে, তখন মাঝে মাঝে আপনার মনে হতে পারে সেই আলোটুকু পৃথিবীর সঙ্গে কিছুটা ভাগ করে নেওয়া যাক। তাই আমরা আজ এখানে অবস্থান করছি—এমন একটি বিশেষ অংশ সামনে নিয়ে যা আমাদের কাছে অনেক বড় অর্থ বহন করে। যেভাবে হোক আমরা একে অপরকে পেয়েছি, আর তার জন্য আমরা সব সময় কৃতজ্ঞ। পর্দায় পেশাদার ক্যারিয়ার এবং পর্দার বাইরের ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা সিদ্ধার্থ আরও জানিয়েছেন, সম্পর্কটিকে প্রকাশ্যে না আনার সিদ্ধান্তটি ছিল তার একেবারে নিজস্ব ও পরিকল্পিত। তিনি চেয়েছিলেন যেন তাদের এই পথচলাটি অপ্রয়োজনীয় আলোচনা ও জনসমক্ষে আসার চাপ এড়িয়ে স্বাভাবিক নিয়মে বিকশিত হতে পারে। ভক্তদের ক্রমবর্ধমান কৌতূহলের পরও প্রেমিকা রিয়া থাক্করের সার্বিক পরিচয় নিয়ে অতিরিক্ত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন এই তারকা অভিনেতা। সব মিলিয়ে, নিজের বিশেষ মুহূর্তের ততটুকুই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন যতটুকুতে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা পায়। সূত্র: মিড-ডে
‘মাইসা’ ছবির অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়ে কোমর ও হিপে চোট পেয়েছিলেন দক্ষিণী তারকা রাশমিকা মান্দানা। চিকিৎসকেরা তাঁকে সপ্তাহখানেক বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে হাতে থাকা কাজের ব্যস্ত সূচির কারণে বেশি দিন বিরতিতে না থেকে দ্রুত শুটিং সেটে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিনেত্রী। তবে এই চোটের মধ্যেও জীবনের জন্য একটি ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন রাশমিকা। তাঁর ভাষ্য, চোট পাওয়ার কারণে বাড়িতে থাকার সুযোগে স্বামী বিজয় দেবরাকোন্ডার সঙ্গে কিছুটা বেশি সময় কাটাতে পেরেছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে রাশমিকা জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের বিয়ে হওয়ার পর টানা ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘ তিন মাস একে অপরের সঙ্গে ঠিকমতো সময় কাটাতে পারেননি তাঁরা। এমনকি একে অপরকে দেখার সময়ও হয়ে উঠত না। ফোনে কথা বলেই সময় কাটছিল দুজনের। রাশমিকার মতে, হয়তো মহাবিশ্বই তাঁদের একটু ধীরে চলার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। চোটের কারণে বাড়িতে থাকতে হওয়ায় বিজয়ের সঙ্গে কয়েকটি দিন কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, কোমরে চোট পাওয়ার একটি ‘লাভ’ হয়েছে, স্বামীর সঙ্গে সময় কাটাতে পেরেছেন। এই বিরতিতে বিজয়কে নিজের পছন্দের কে-ড্রামার সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন রাশমিকা। অভিনেত্রী কে-ড্রামা পছন্দ করলেও বিজয়ের পছন্দ গুরুগম্ভীর ধরনের শো। তবে কয়েক দিনের এই অবসরে বিজয়কে কে-ড্রামা দেখতে অভ্যস্ত করে ফেলেছেন বলে জানিয়েছেন রাশমিকা। এদিকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দীর্ঘ বিশ্রামে থাকছেন না অভিনেত্রী। হায়দরাবাদে তাঁর বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘রণবালী’র বাকি ১০ দিনের শুটিং শেষ করতে খুব শিগগিরই কাজে ফিরছেন তিনি। পরপর একাধিক কাজ থাকায় ব্যস্ত শিডিউল নিয়েও কথা বলেছেন রাশমিকা। তাঁর দাবি, ঠাসা ক্যালেন্ডার ও ব্যস্ততার কারণে মানসিক অস্থিরতা বা অ্যাংজাইটিও বাড়ছে। তাই কিছুটা সুস্থ বোধ করতেই কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।