দেশের বৃহত্তম বিল চলনবিল এখন অস্তিত্ব সংকটে। একসময় থইথই পানিতে ভরা, পাখ-পাখালি আর নানা প্রজাতির মাছে পরিপূর্ণ এই জলাভূমি আজ মৃতপ্রায়। নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জুড়ে বিস্তৃত ৮০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিল বর্তমানে সঙ্কুচিত হয়ে মাত্র ৬৬ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। দখল-দূষণ, নদ-নালার প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া, পলি ভরাট, সড়ক-ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ এবং অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণে ধীরে ধীরে বিলটি হারাচ্ছে তার প্রাণ।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চলনবিলকেন্দ্রিক আত্রাই, নন্দকুঁজা, গুমানী, বড়ালসহ ২২টি নদীর পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অতীতে এই বিলের পানির উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছিল কৃষি, মৎস্য ও নৌবাণিজ্যকেন্দ্রিক সমৃদ্ধ অর্থনীতি। কিন্তু বর্তমানে জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পথে, জীবিকার উৎস হারিয়ে পেশা বদলে ফেলেছেন হাজার হাজার জেলে ও কৃষক।
ইতিহাস ও বিস্তৃতি
১৮৮১ সালে প্রকাশিত ‘ইম্পেরিয়েল গেজেট অব ইন্ডিয়া’-তে উল্লেখ আছে, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁ জেলা নিয়ে বিস্তৃত ছিল চলনবিল। তখন ৫০০ বর্গমাইল এলাকায় ৩৯টি বিল, ১৬টি নদী ও ২২টি খাল নিয়ে ছিল এই জলাশয় অঞ্চল। আত্রাই, বড়াল, তুলসীগঙ্গা, গুমানী, করতোয়া, গুড়, চেঁচিয়া, চিকনাই, রূপনাইসহ অসংখ্য নদী ও খাল মিলিয়ে গড়ে উঠেছিল এক বিশাল জলজ পরিবেশ।
পলি ও দখলে বিলুপ্তি
গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি বছর ২২২১ মিলিয়ন ঘনফুট পলি প্রবেশ করে চলনবিলে, যার বেশিরভাগই থেকে যায় বিলের ভেতর। ফলে পানির গভীরতা ও প্রবাহ কমে গিয়ে নদীগুলো মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। গত ৫০ বছরে বিলের আয়তন ৯২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার বাঁধ, ১ হাজার ১৮৮ কিলোমিটার সড়ক, শতাধিক সেতু ও শত শত কালভার্ট নির্মাণের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
বড়ালের মুখে স্লুইসগেটের সর্বনাশ
পদ্মা থেকে যমুনায় প্রবাহিত ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বড়াল নদী চলনবিলের প্রাণরেখা। কিন্তু ১৯৮৪ সালে নদীর উত্সমুখে সরু স্লুইসগেট নির্মাণের পর থেকেই পানি প্রবাহ কমে যায়। ৫০০ ফিট প্রস্থের নদীটির প্রবাহ আটকে যাওয়ায় বড়ালসহ এর সঙ্গে যুক্ত ২২টি নদী ও শতাধিক খাল-বিল শুকিয়ে যায়। গত কয়েক দশকে বড়ালের ১২০ কিলোমিটার অংশ বেদখল হয়ে গেছে।
নতুন সংকট—বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বুড়ি পোতাজিয়া এলাকায়, যেখানে অর্ধশত নদীর পানি মিলেমিশে যমুনায় প্রবাহিত হয়, সেখানে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, সেখানে কংক্রিট স্থাপনা নির্মাণ হলে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে চলনবিলের জলজ বাস্তুতন্ত্র আরও বিপর্যস্ত হবে এবং জলাবদ্ধতা বাড়বে।
ব্যর্থ খনন ও নাব্যতা সংকট
বিলের প্রাণ ফেরাতে আত্রাই, গুমানী, বড়াল ও তুলশীগঙ্গা নদীর কিছু অংশ খনন করা হলেও নাব্যতা ফেরেনি। খননের পর উচ্ছিষ্ট মাটি ফেলায় নদী আরও সংকুচিত হয়েছে। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। পানি সংকটে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নেমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে।
জেলেদের দুর্দিন
১৯৮২ সালে চলনবিলে যেখানে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার জেলে জীবিকা নির্বাহ করতেন, সেখানে ২০০৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৭৫ হাজারে। বর্তমানে অধিকাংশ জেলে পেশা বদল করেছেন। পানির অভাব, দূষণ ও ফসলহানিতে স্থানীয় অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে।
চলনবিল রক্ষায় আন্দোলন
বাপা, বড়াল রক্ষা আন্দোলন ও নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন সংগঠন ২০০৮ সাল থেকে বিল ও নদ-নদী রক্ষায় আন্দোলন করে আসছে। পদ্মার উত্স থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ২২০ কিলোমিটারব্যাপী মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন সরকারি বৈঠকে বড়াল নদীর বাধা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
করণীয় ও সুপারিশ
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলনবিলের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে হলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বাঁধ ও স্লুইসগেট অপসারণ, নদীগুলোর পুনঃখনন এবং পানিপ্রবাহ পুনঃস্থাপন করতে হবে। বিলের চারপাশে নতুন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে হবে এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
গবেষকরা প্রস্তাব করেছেন, “চলনবিল কর্তৃপক্ষ” নামে একটি বিশেষ সংস্থা গঠন করে পুরো অঞ্চলের নদী, খাল ও জলাশয়ের সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্তি ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে।
সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বড়াল নদীর অববাহিকায় পানি সম্পদ পুনরুদ্ধারে একটি ২ হাজার ৫২ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বড়ালসহ অন্যান্য নদীর প্রবাহ ফেরানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একসময় যে চলনবিল ছিল জীববৈচিত্র্যের ভান্ডার, আজ তা নিঃশেষের দ্বারপ্রান্তে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হারিয়ে যাবে দেশের বৃহত্তম এই বিলের প্রাকৃতিক অস্তিত্ব—চলনবিল হয়তো কেবল ইতিহাসের পাতায়ই থেকে যাবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
অনুমোদনবিহীন এজেন্সি, গ্রুপ বা কাফেলার হজ কার্যক্রমের প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মন্ত্রণালয়ের হজ-৩ শাখা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কিছু অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় হজ প্যাকেজ প্রচার করে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকার অনুমোদিত বৈধ লাইসেন্সধারী ও তালিকাভুক্ত হজ এজেন্সি ছাড়া অন্য কোনো এজেন্সি, এজেন্ট, গ্রুপ বা কাফেলার মাধ্যমে হজ কার্যক্রম পরিচালনা কিংবা হজে গমন সম্ভব নয়। এ অবস্থায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত হজ এজেন্সি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে হজসংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সবার প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন শিগগিরই ঘোষণা করা হবে উল্লেখ করে, সরকারি নির্দেশনা ও অনুমোদিত প্যাকেজ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে ৯ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালিয়েও তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৪ জুন) ভোরে সাপাহার উপজেলার আদাতলা সীমান্তের একটি অংশ দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৯ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সতর্ক অবস্থান নেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও টহলের কারণে পুশইনের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সতর্ক অবস্থান বজায় রাখে বিজিবি সদস্যরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত এলাকায় উপস্থিত থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখেন। তাদের মতে, বিজিবি সদস্যরা দায়িত্বশীল ও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। গভীর রাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর সীমান্ত এলাকায় দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পুশইনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় বিএসএফ তাদেরকে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্তের ওই এলাকায় বর্তমানে বিজিবির টহল ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং যে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সীমান্ত দিয়ে যাদের প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং তিনজন শিশু ছিল।
বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছে দেশটির সরকার। বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (জননিরাপত্তা বিভাগ) এক অফিস স্মারকে বলা হয়েছে, এই মর্যাদা শুধু আনুষ্ঠানিক বা প্রটোকল-সংশ্লিষ্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ব্যারাকপুরের সাবেক এমপি ও বিজেপি নেতা ত্রিবেদী দুইববার ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য গত ১২ জুন তিনি বাংলাদেশে পৌঁছান। বৃহস্পতিবার তিনি ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করবেন। চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা ঘোচানোর জন্য পোড় খাওয়া এই রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রদূত করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দীনেশ ত্রিবেদী বাংলা বলতে পারেন এবং দুই বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও ভালো ধারণা রাখেন। সেতারবাদক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। গুজরাটি দম্পতি হীরালাল ত্রিবেদী এবং উর্মিলাবেন ত্রিবেদীর ছোট ছেলে দীনেশ ত্রিবেদী হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক ডিগ্রি পান। তারপর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করেন। প্রবীণ এই রাজনীতিক দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। আশির দশকে ছিলেন কংগ্রেস নেতা। পরে ১৯৯০ সালে জনতা দলে চলে যান। ১৯৯০-৯৬ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে সেই দলে যোগ দেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনিই দলটির প্রথম সাধারণ সম্পাদক। ২০০২-০৮ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের এমপি ছিলেন দীনেশ। ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন। ওই আসনে জিতে কেন্দ্রের মনমোহন সিংহ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হন। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে সেই দায়িত্ব সামলান দীনেশ। পরে তাকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ব্যারাকপুর থেকে আবারও তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন দীনেশ, কিন্তু সেবার বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে হেরে যান। তারপর তৃণমূল তাকে আবার রাজ্যসভায় পাঠায়। কিছুদিন পর তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় দীনেশের। এর ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করেন এবং ৬ মার্চ বিজেপিতে যোগ দেন।