জাতীয়

চলনবিল যেন প্রাণ হারাচ্ছে

Unknown নভেম্বর ০৮, ২০২৫

দেশের বৃহত্তম বিল চলনবিল এখন অস্তিত্ব সংকটে। একসময় থইথই পানিতে ভরা, পাখ-পাখালি আর নানা প্রজাতির মাছে পরিপূর্ণ এই জলাভূমি আজ মৃতপ্রায়। নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জুড়ে বিস্তৃত ৮০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিল বর্তমানে সঙ্কুচিত হয়ে মাত্র ৬৬ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। দখল-দূষণ, নদ-নালার প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া, পলি ভরাট, সড়ক-ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ এবং অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণে ধীরে ধীরে বিলটি হারাচ্ছে তার প্রাণ।

 

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চলনবিলকেন্দ্রিক আত্রাই, নন্দকুঁজা, গুমানী, বড়ালসহ ২২টি নদীর পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অতীতে এই বিলের পানির উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছিল কৃষি, মৎস্য ও নৌবাণিজ্যকেন্দ্রিক সমৃদ্ধ অর্থনীতি। কিন্তু বর্তমানে জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পথে, জীবিকার উৎস হারিয়ে পেশা বদলে ফেলেছেন হাজার হাজার জেলে ও কৃষক।

ইতিহাস ও বিস্তৃতি

১৮৮১ সালে প্রকাশিত ‘ইম্পেরিয়েল গেজেট অব ইন্ডিয়া’-তে উল্লেখ আছে, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁ জেলা নিয়ে বিস্তৃত ছিল চলনবিল। তখন ৫০০ বর্গমাইল এলাকায় ৩৯টি বিল, ১৬টি নদী ও ২২টি খাল নিয়ে ছিল এই জলাশয় অঞ্চল। আত্রাই, বড়াল, তুলসীগঙ্গা, গুমানী, করতোয়া, গুড়, চেঁচিয়া, চিকনাই, রূপনাইসহ অসংখ্য নদী ও খাল মিলিয়ে গড়ে উঠেছিল এক বিশাল জলজ পরিবেশ।

 

পলি ও দখলে বিলুপ্তি

গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি বছর ২২২১ মিলিয়ন ঘনফুট পলি প্রবেশ করে চলনবিলে, যার বেশিরভাগই থেকে যায় বিলের ভেতর। ফলে পানির গভীরতা ও প্রবাহ কমে গিয়ে নদীগুলো মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। গত ৫০ বছরে বিলের আয়তন ৯২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার বাঁধ, ১ হাজার ১৮৮ কিলোমিটার সড়ক, শতাধিক সেতু ও শত শত কালভার্ট নির্মাণের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

 

বড়ালের মুখে স্লুইসগেটের সর্বনাশ

পদ্মা থেকে যমুনায় প্রবাহিত ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বড়াল নদী চলনবিলের প্রাণরেখা। কিন্তু ১৯৮৪ সালে নদীর উত্সমুখে সরু স্লুইসগেট নির্মাণের পর থেকেই পানি প্রবাহ কমে যায়। ৫০০ ফিট প্রস্থের নদীটির প্রবাহ আটকে যাওয়ায় বড়ালসহ এর সঙ্গে যুক্ত ২২টি নদী ও শতাধিক খাল-বিল শুকিয়ে যায়। গত কয়েক দশকে বড়ালের ১২০ কিলোমিটার অংশ বেদখল হয়ে গেছে।

নতুন সংকট—বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বুড়ি পোতাজিয়া এলাকায়, যেখানে অর্ধশত নদীর পানি মিলেমিশে যমুনায় প্রবাহিত হয়, সেখানে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, সেখানে কংক্রিট স্থাপনা নির্মাণ হলে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে চলনবিলের জলজ বাস্তুতন্ত্র আরও বিপর্যস্ত হবে এবং জলাবদ্ধতা বাড়বে।

ব্যর্থ খনন ও নাব্যতা সংকট

বিলের প্রাণ ফেরাতে আত্রাই, গুমানী, বড়াল ও তুলশীগঙ্গা নদীর কিছু অংশ খনন করা হলেও নাব্যতা ফেরেনি। খননের পর উচ্ছিষ্ট মাটি ফেলায় নদী আরও সংকুচিত হয়েছে। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। পানি সংকটে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নেমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে।

জেলেদের দুর্দিন

১৯৮২ সালে চলনবিলে যেখানে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার জেলে জীবিকা নির্বাহ করতেন, সেখানে ২০০৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৭৫ হাজারে। বর্তমানে অধিকাংশ জেলে পেশা বদল করেছেন। পানির অভাব, দূষণ ও ফসলহানিতে স্থানীয় অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে।

চলনবিল রক্ষায় আন্দোলন

বাপা, বড়াল রক্ষা আন্দোলন ও নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন সংগঠন ২০০৮ সাল থেকে বিল ও নদ-নদী রক্ষায় আন্দোলন করে আসছে। পদ্মার উত্স থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ২২০ কিলোমিটারব্যাপী মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন সরকারি বৈঠকে বড়াল নদীর বাধা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

করণীয় ও সুপারিশ

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলনবিলের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে হলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বাঁধ ও স্লুইসগেট অপসারণ, নদীগুলোর পুনঃখনন এবং পানিপ্রবাহ পুনঃস্থাপন করতে হবে। বিলের চারপাশে নতুন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে হবে এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
গবেষকরা প্রস্তাব করেছেন, “চলনবিল কর্তৃপক্ষ” নামে একটি বিশেষ সংস্থা গঠন করে পুরো অঞ্চলের নদী, খাল ও জলাশয়ের সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্তি ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে।

সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বড়াল নদীর অববাহিকায় পানি সম্পদ পুনরুদ্ধারে একটি ২ হাজার ৫২ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বড়ালসহ অন্যান্য নদীর প্রবাহ ফেরানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

একসময় যে চলনবিল ছিল জীববৈচিত্র্যের ভান্ডার, আজ তা নিঃশেষের দ্বারপ্রান্তে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হারিয়ে যাবে দেশের বৃহত্তম এই বিলের প্রাকৃতিক অস্তিত্ব—চলনবিল হয়তো কেবল ইতিহাসের পাতায়ই থেকে যাবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

জুলাই আন্দোলনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না : প্রধানমন্ত্রী

ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   বুধবার (১৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশে সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।   প্রধানমন্ত্রীর স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-   ১৬ জুলাই। ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস। শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশে সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সারাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।   ২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ কমপক্ষে ছয়জন শহীদ হয়েছিলেন। রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন শহীদ আবু সাঈদ। আবু সাঈদের বুকে পুলিশের গুলি করার দৃশ্য গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে। কোটা সংস্কারের দাবি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে মোড় নেয়। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।   আমি মহান আল্লাহর দরবারে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ ১৬ জুলাইয়ের সকল শহীদের মাগফিরাত কামনা করছি।   ১৬ জুলাই আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ। এদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির নির্মম প্রয়োগ এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র অথচ অদম্য সাহসী বীর ছাত্র-জনতা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল। বিশেষ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ আবু সাঈদের সেই অমলিন দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না; সেটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক।   জুলাইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলনই ছিল না, এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। সেই আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের শক্তিতেই বাংলাদেশের মানুষ তাদের মর্যাদা, অধিকার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ লাভ করেছে। ঐতিহাসিক সেই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর আজ আমাদের সরকার শহীদদের পবিত্র আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।     আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অমর চেতনা আমাদের জন্য কেবল ইতিহাসের গৌরব নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা।   রাষ্ট্র এবং সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, সেইসব অকুতোভয় শহীদদের গৌরবময় আত্মত্যাগের পথ ধরে বর্তমানে দেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমেই আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে পারি। আমি আবারও আল্লাহর দরবারে সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি। গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৬, ২০২৬
জুলাই আন্দোলনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ : রাষ্ট্রপতি

বিমান বাংলাদেশের বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ। ছবি : সংগৃহীত

২৭ জুলাই ফের উড়বে ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট

সংগৃহীত ছবি

উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইনে জমির পর্চা (খতিয়ান) অনুসন্ধান ও সার্টিফাইড কপি আবেদনের নিয়ম।
ঘরে বসেই অনলাইনে জমির পর্চা অনুসন্ধান ও আবেদনের নিয়ম

জমি কেনাবেচা, মালিকানা যাচাই, নামজারি (মিউটেশন), ব্যাংক ঋণ কিংবা আদালতে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জমির কাগজপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। এসব গুরুত্বপূর্ণ নথির মধ্যে জমির পর্চা অন্যতম। আগে পর্চা সংগ্রহে ভূমি অফিসে যেতে হলেও বর্তমানে ডিজিটাল ভূমিসেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধান ও পর্চার জন্য আবেদন করা যায়।     জমির পর্চা কী? জমির পর্চা হলো খতিয়ানের একটি ব্যবহারযোগ্য বা প্রত্যয়িত কপি, যেখানে জমির মালিকের নাম, দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর, জমির শ্রেণি, পরিমাণসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ থাকে। এটি জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।     কেন গুরুত্বপূর্ণ? জমি ক্রয়-বিক্রয়, নামজারি, উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা হস্তান্তর, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ কিংবা আদালতে জমি-সংক্রান্ত মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে পর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জমির তথ্য যাচাই এবং প্রতারণা এড়াতেও এটি কার্যকর একটি নথি।     অনলাইনে যেভাবে পর্চা খুঁজবেন বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধান করা যায়। এজন্য বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করে খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করতে হয়। সঠিক তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট জমির রেকর্ড দেখা যায় এবং পরবর্তী ধাপে পর্চার জন্য আবেদন করা সম্ভব।Language      আবেদন করতে যেসব তথ্য লাগবে অনলাইনে পর্চার জন্য আবেদন করতে সাধারণত বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজার নাম, খতিয়ান বা দাগ নম্বর, জমির মালিকের নাম, আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), সচল মোবাইল নম্বর এবং অনলাইন ফি পরিশোধের ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়।     সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের নিয়ম প্রথমে অনলাইনে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান অনুসন্ধান করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে আবেদন সম্পন্ন করলে সার্টিফায়েড কপি ডাউনলোড করা যাবে অথবা ডাকযোগে সংগ্রহ করা যাবে। এই কপি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি কাজে গ্রহণযোগ্য।     পর্চা ও খতিয়ানের মধ্যে পার্থক্য খতিয়ান হলো জমির মূল রেকর্ড (Record of Rights), যেখানে মালিকানা, দাগ নম্বর, জমির শ্রেণি, পরিমাণ ও অন্যান্য তথ্য সংরক্ষিত থাকে। অন্যদিকে পর্চা হলো সেই খতিয়ানের একটি কপি, যা বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়। সহজভাবে বলতে গেলে, খতিয়ান হলো মূল নথি আর পর্চা হলো সেই নথির ব্যবহারযোগ্য অনুলিপি।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৫, ২০২৬
জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সংস্থাটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ ও এসডিজি অর্জনে জাতিসংঘের সহযোগিতা আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

অনুপস্থিত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিশেষ সুযোগ, পদার্থবিজ্ঞানের ভুলে পূর্ণ নম্বর

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে সরলেন শিক্ষার্থীরা, যান চলাচল স্বাভাবিক

ছবি : সংগৃহীত
ছয় দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে ৬ শিক্ষার্থী, পদত্যাগের দাবি প্রত্যাহার

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসে ছয় দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছয়জন প্রতিনিধি।   বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তারা শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন।   এর আগে বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে ছয়জন প্রতিনিধিকে সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।   শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি– ১. দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যারা পুনরায় অংশ নিতে চায়, তাদের সেই সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।   ২. যারা একই বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় দেবে, তাদের ক্ষেত্রে আগের ও পুনঃপরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরটি চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করতে হবে।   ৩. প্রশ্নপত্রে থাকা ভুল প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দিতে হবে।   ৪. চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার জন্য কিছু সময় দিয়ে এরপর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।   ৫. পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রশ্নপত্রের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় শিক্ষার্থীদের কাছে অপরিচিত ছিল। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নম্বর মূল্যায়ন করতে হবে।   ৬. পরীক্ষা চলাকালে ‘সচেতন গার্ড’-এর নামে কিছু শিক্ষকের কঠোর ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বন্ধ করতে হবে, যাতে পরীক্ষার্থীরা ভীত না হয় বা মানসিক চাপে না পড়ে।   এর আগে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করলেও সচিবালয়ে আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া প্রতিনিধি দলের দাবির তালিকায় মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি রাখা হয়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

উত্তরার শিক্ষার্থীরা আর রাস্তায় নামবে না : ডিসি তারেক

ছবি : সংগৃহীত

উত্তরার অবরোধ তুলে নেওয়া হলো, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে পরবর্তী কর্মসূচি

অনন্ত অ্যাপারেলসের কাপড়ের গোডাউনে আগুন

0 Comments