ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সময় ডাকাত দলের হামলার শিকার হয়েছেন র্যাবের তিন সদস্য। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন র্যাব-৯-এর গোয়েন্দা শাখার সদস্য কাজল, মালেক ও রাশেদ।
র্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে তিন সদস্যের একটি দল খাগাতোয়া গ্রামে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে যায়। এ সময় চিহ্নিত ডাকাত শফিক বাহিনীর সদস্যরা তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে জিম্মি করে নিজেদের আস্তানায় নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাদের মারধর করা হয়। হামলার সময় একজন সদস্যের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
খবর পেয়ে র্যাবের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন এবং নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
র্যাব-৯-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. নূরনবী জানান, গত ৯ মে এক ভ্যাট কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনা এবং শফিক বাহিনী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এ হামলার শিকার হন গোয়েন্দা সদস্যরা। আহতদের মধ্যে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং সেখানে সেলাই দিতে হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দাদের পুনর্বাসনে আধুনিক আবাসন নির্মাণের জন্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে চীন। একবারে পুরো অর্থ দেওয়া সম্ভব না হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে অর্থায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় চীনের কাছে আবাসন প্রকল্পের প্রস্তাব তুলে ধরা হলে রাষ্ট্রদূত বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন। বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গুলশান ও ঢাকা-১৭ নির্বাচনি এলাকার কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দাদের জন্য আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চীনের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব চীনের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবটি তারা পর্যালোচনা করে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। মীর শাহে আলম বলেন, প্রকল্পের পুরো অর্থ একসঙ্গে বিনিয়োগ করা সম্ভব না হলে অগ্রাধিকার অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে অর্থায়ন করার কথা জানিয়েছে চীন। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় ২০ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ভবনে ছোট আকারের আবাসিক ইউনিট থাকবে, যার আয়তন আনুমানিক ৬০০ থেকে ৬৫০ বর্গফুট। এসব ইউনিটে বর্তমানে বস্তিতে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে ধাপে ধাপে পুনর্বাসন করা হবে। প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, পুনর্বাসিত বাসিন্দাদের কাছ থেকে মাসিক কোনো ভাড়া নেওয়া হবে না। তবে বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি ব্যবহারের খরচ বাসিন্দাদের নিজেদের বহন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে বস্তিগুলোতে যারা বসবাস করছেন তাদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তালিকাভুক্ত কেউ যেন পুনর্বাসন কার্যক্রম থেকে বাদ না পড়েন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে নতুন আবাসনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে বস্তিতে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ ও আধুনিক আবাসনের সুযোগ তৈরি হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং রুফটপ সোলার সম্প্রসারণে সারাদেশে নতুন উদ্যোক্তা ও সার্ভিস প্রোভাইডার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর আওতায় জেলা ও ভৌগোলিক এলাকাভিত্তিক যোগ্য সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্ত করা হবে। গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো সারাদেশে এ তালিকাভুক্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত সার্ভিস প্রোভাইডাররা স্থানীয় পর্যায়ে রুফটপ সোলারসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপনে কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক প্যাকেজ, গ্রাহকসেবা এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা দেবে। সরকারের এ উদ্যোগে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। একক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগেও আবেদন করার সুযোগ থাকছে। এর মাধ্যমে নতুন ও স্থানীয় উদ্যোক্তারা জাতীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞ কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে নিজেদের কারিগরি, আর্থিক ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়াতে পারবেন। বিদ্যুৎ বিভাগ আরো বলছে, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সার্ভিস প্রোভাইডার নির্বাচন করা হবে।এর লক্ষ্য রুফটপ সোলার ব্যবসাকে শুধু বড় প্রতিষ্ঠান বা শহরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া। পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী ও উদ্ভাবনী বিনিয়োগ ও সেবা প্যাকেজ তৈরি এবং সার্ভিস প্রোভাইডারদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা হবে। রুফটপ সোলারে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা, কর ও শুল্ক সুবিধা, সহজ ও স্বল্পসুদে অর্থায়ন এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়েও কাজ করছে সরকার। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে গ্রামীণ ও অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী এলাকার গ্রাহক ও উদ্যোক্তাদের এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রুফটপ সোলার থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের নীতিপত্রে নিরাপদ, সাশ্রয়ী, টেকসই ও নিম্ন-কার্বন জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ জনবল, স্থানীয় উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং কার্যকর সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে, নতুন এ উদ্যোগের ফলে রুফটপ সোলার দেশের জ্বালানি রূপান্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, স্থানীয় বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। পঞ্চগড় থেকে পটুয়াখালী এবং কুড়িগ্রাম থেকে কক্সবাজার দেশের সব অঞ্চলের ব্যবসায়ী, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্রমবর্ধমান বাজারে যুক্ত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সিগন্যাল ছাড়তেই বাঁধভাঙা স্রোতের মতো ছুটে চলেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। ব্যস্ত সড়কের সব লেনেই যেন তাদের দখলে। গলি থেকে প্রধান সড়ক; রাজধানীর সর্বত্রই বাড়ছে দাপট। শুধু চলাচল নয়, রাজধানীর বিভিন্ন গ্যারেজ-ওয়ার্কশপে চলছে অটোরিকশা তৈরির হিড়িক। বসিলা, মোহাম্মদপুর, রায়েরবাজার, যাত্রাবাড়ী ও খিলগাঁওয়ে চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত কারিগররা। প্রতিদিন নামছে নতুন নতুন গাড়ি, নেই অনুমতির তোয়াক্কা। অটোরিকশা নির্মাণকারী কয়েকজন শ্রমিক বলেন, আমার এখানে প্রতিদিন সপ্তাহে ৪ থেকে ৫টা রিকশা বিক্রি হয়। বর্তমানে সেল অনেকটা কমে গেছে। নির্দেশনা যখন পাব, আমরা তখন সেই নির্দেশনা মেনে চলব। ২০১০ সালের পর থেকেই রাজধানীতে দ্রুত বাড়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। বৈধতার বাইরে থাকায় সঠিক সংখ্যাও নেই সরকারি হিসাবে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাজধানীতে চলছে ২০ লাখের বেশি অটোরিকশা। এবার লাগাম টানতে নতুন নীতিমালা করছে সরকার। যেখানে থাকছে একগুচ্ছ নির্দেশনা। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের এসব নিয়ম মেনেই চলতে চান চালকরাও। এ প্রসঙ্গে কয়েকজন অটোরিকশা চালক জানান, যে জীবনে অটো চলেনি, গাড়ি চালায়নি, সেও অটোরিকশা চালায়। অবশ্যই শৃঙ্খলা হওয়া দরকার। যোগ্যতাসম্পন্ন ড্রাইভার হওয়া দরকার। অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে নগরবাসীরা বলেন, হঠাৎ করে আর কী সামনে থেকে এসে পড়ছে। আমার বাইকের সামনের অংশ ভেঙে ফেলছে একবার। মেইন রোডে ওগুলো উঠতে দেয়া উচিত না। এটা বাংলাদেশের জন্য একটা বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে নগরবাসীরা বলেন, হঠাৎ করে অটোরিকশা নিয়ে সামনে থেকে এসে পড়ছে। আমার বাইকের সামনের অংশ সবটাই ভেঙে ফেলেছে একবার। এই রিকশা মেইন রোডে উঠতে দেয়া উচিত না। এটা বাংলাদেশের জন্য একটা বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নীতিমালা কার্যকর হলে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে অটোরিকশার দাপট। তবে বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজন সঠিক গবেষণা ও সমন্বিত পরিকল্পনা। এ বিষয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ হাদিউজ্জামান বলেন, ওয়ার্কশপে অটোরিকশা তৈরি করতে গেলে একটা টেকনিক্যাল বডি থাকবে, যাদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। আমরাও মনের মাধুরী মিশিয়ে অটোরিকশা বানাচ্ছি। আমরা দেখছি, কোনটার পেট মোটা, কোনটার পেট চিকন, কোনটা লম্বা। তার মানে এখানে কোনো মডেল স্পেসিফিকেশন নেই, কোনো স্ট্যান্ডার্ড নেই। এভাবে হতে পারে না। সেখানে এই বিধিমালায় এসেছে যে, বুয়েটের যে প্রোটোটাইপ আছে, সেটাকে বেস ধরে আমাদের অটোরিকশা তৈরি করতে হবে। তবে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাইফুন নেওয়াজ বলেন, জোনভিত্তিক করা হলে একজন অন্য জোনে যেতে পারবে না। এটা অটোমেটিক তার স্টার্টটা বন্ধ হয়ে যাবে। এই ব্যাপারগুলো ঠিক আছে। কিন্তু পাওয়ার সোর্স যেটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট। অর্থাৎ বিদ্যুৎনির্ভরতা থাকবে কি না, নাকি এটা সোলার সিস্টেম হবে। আমি মনে করি, এই জায়গাতে কিন্তু আমাদের আরেকটু গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। সরকার বলছে, প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে কোনোভাবেই অটোরিকশা চলতে দেয়া হবে না। অটোরিকশা চলাচল প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সড়কে কোনো অবস্থাতেই অটোরিকশা চালানোটা যানজটমুক্তবান্ধব হবে না। যার ফলে ওই জায়গায় আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছি। অটোরিকশা চলাচল প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়কে কোনো অবস্থাতেই অটোরিকশা চালাতে দেয়া হবে না। এ বিষয়ে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছি। অটোরিকশা বন্ধ নয়, এবার নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ সরকারের। কিন্তু নীতিমালার বাস্তবায়নই হবে বড় পরীক্ষা। প্রশ্ন একটাই, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কতটা কার্যকর হবে এই নতুন উদ্যোগ?