ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভারন্যান্স (আইসিওজি-ডিইউ) এবং চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফি (এফআইও)-এর যৌথ উদ্যোগে আজ দেশের উপকূলীয় জলসীমায় আধুনিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশগত মডেলিং কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে দিনব্যাপী এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হীট এটিএফ সাব- প্রজেক্ট ১৩০২৫-এর আওতায় আয়োজিত এ সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
এসময় আরও বক্তৃতা করেন আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর, হীট প্রকল্পের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ড. টোনিয়া অ্যাস্ট্রিড ক্যাপুয়ানো, এফআইও - এর বিজ্ঞানী ড. শুমিন জিয়াং।
স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিওজি - এর পরিচালক অধ্যাপক ড. কে. এম. আজম চৌধুরী।
এছাড়া, সেমিনারে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক, শিক্ষার্থী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফির বিজ্ঞানীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
অনুষ্ঠানে আইসিওজি-ডিইউ ও এফআইও -এর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে ক্রেস্ট বিনিময় করা হয়।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, সমুদ্রবিজ্ঞান, উপকূলীয় পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে চলমান বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা, উপকূলীয় ঝুঁকি মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
উপাচার্য আরও বলেন, বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক বাংলাদেশের অর্থনীতি, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা সমুদ্রসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। এ প্রেক্ষাপটে চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফির সঙ্গে পরিচালিত যৌথ গবেষণা কার্যক্রম দেশের সমুদ্র পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি জানান, আন্দামান সাগরে জিএনএসএস বয়া সফলভাবে স্থাপন এবং মেঘনা মোহনায় সিএনএসএস বয়া স্থাপনের চলমান উদ্যোগ বাংলাদেশের সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। এসব প্রযুক্তি উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা, নৌ-নিরাপত্তা, দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি, জলবায়ু অভিযোজন এবং টেকসই ব্লু ইকোনমি পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উপাচার্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনুমোদিত ‘ডিপ প্রেজেন্ট’ প্রকল্পের অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, এ অর্জন দেশের গবেষকদের সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
প্রকল্পটির গবেষণালব্ধ ফলাফল টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী দিনের সামুদ্রিক ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষণার নেতৃত্ব তাদেরই দিতে হবে। জ্ঞান, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুস্থ সমুদ্র পরিবেশ এবং জলবায়ু সহনশীল বিশ্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সেমিনারের কারিগরি অধিবেশনে এফআইও -এর বিজ্ঞানীরা আধুনিক সমুদ্র পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, সামুদ্রিক ভূ-ঝুঁকি এবং উপকূলীয় পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এছাড়া হীট প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রকল্পের মডেলিং কাঠামো এবং জিএনএসএস বয়া ডেপলয়মেন্ট প্রজেক্ট -এর ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্বও অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির আওতায় অত্যাধুনিক মাঠপর্যায়ের প্রযুক্তি ও সংখ্যাগত মডেলিংকে সমন্বিত করা হয়েছে।
ডেলফট ৩ ডি মডেলিং সিস্টেম ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দূষণের গতিশীলতা, বিষাক্ত পদার্থের বিস্তার এবং উপকূলীয় অঞ্চলে দূষণ সঞ্চয়ের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করা হবে।
একই সঙ্গে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ পরিবেশগত ডেটাবেইস গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষকদের জন্য রিয়েল-টাইম বয়া তথ্য বিশ্লেষণ, সমুদ্রবিজ্ঞান ভিত্তিক মডেলিং, উপকূলীয় ঝুঁকি পূর্বাভাস এবং পরিবেশগত পর্যবেক্ষণে দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি মাইক্রোপ্লাস্টিক, ভারী ধাতু ও তেল দূষণের প্রভাব মূল্যায়ন এবং তা মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ের ১০২ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিয়েছে সরকার। আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আলোচনা সভায় শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মাননা হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষককে দুই লাখ টাকা, একটি ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়েছে। সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের ১০ জন, মাধ্যমিকের ২০ জন, কলেজের ২৫ জন, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ জন, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন এবং অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত সাতজন শিক্ষককেও সম্মাননা দেওয়া হয়। জাতি গঠনে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি দিতে এবং তাঁদের মর্যাদা, অধিকার, পেশাগত উন্নয়ন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে ২০০টি ডাস্টবিন স্থাপন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। একইসঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, বায়ুদূষণ ও নগরীর অপরিচ্ছন্নতা মোকাবিলায় ডিএসসিসির সাপ্তাহিক ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচির আওতায় রাজধানীর ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় ডিএসসিসির সাপ্তাহিক ‘ক্লিনিং ডে’ এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে নগরীর সব শিক্ষার্থীকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে পথ দেখিয়েছে। বর্তমান বায়ুদূষণ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিতে হবে। শহীদ মিনার, টিএসসি ও শাহবাগের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ২০০টি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরো জোরদার করতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, ফগার মেশিন বিতরণ ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং নিয়মিতভাবে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে টিএসসি থেকে জনসচেতনতামূলক র্যালি বের হয়ে কলা ভবনের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ডিএসসিসি কর্তৃক স্থাপিত ২০০টি ডাস্টবিনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন। এছাড়া ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষ্যে রাজধানীর মুগদায় একটি জনসচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে অতিথিরা ওয়াসা রোড প্রান্তের মান্ডা খাল পরিদর্শন করেন এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানে অংশ নেন। পরে তারা হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন। সাপ্তাহিক ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও জনগণের অংশগ্রহণে এসব কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এসময় বিভিন্ন এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানোসহ বর্জ্য অপসারণ ও অন্যান্য পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিং ও আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সভায় অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মঙ্গলবার থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষার্থীদের পৃথক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের তিন ক্যাটাগরিতে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এক বছরের একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা জরিমানা, ছয় মাসের একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, শিক্ষার্থীরা যাতে প্রথমবারের ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ পায়, সে জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি জরিমানার বিকল্প রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ হলে সরাসরি বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হবে বলেও জানান তিনি। শাস্তির আওতায় আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইন বিভাগের ৫ জন, মার্কেটিং বিভাগের ১৯ জন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৪ জন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১০ জন রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, পত্র ইস্যুর তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে দ্বিগুণ হারে জরিমানা প্রযোজ্য হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, র্যাগিংয়ের ঘটনায় মোট ৪৮ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। ‘র্যাগিংয়ের বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। প্রাথমিকভাবে চারটি বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। ওই চার বিভাগের শিক্ষার্থীদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।’ আরেকটি বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের নাম উল্লেখ না থাকায় পুনরায় তদন্ত করতে বলা হয়েছে জানিয়ে প্রক্টর বলেন, নামসহ পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।