অর্থনীতি

ব্যাংক রেজল্যুশন বিল পাস, পুরনো শেয়ারধারীদের ফেরার সুযোগ নিয়ে বিতর্ক

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাসের আগে নতুন একটি ধারা যুক্ত হয়েছে, যাতে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকে পুরনো শেয়ারধারীদের ফেরার পথ খোলার বিষয়টি সামনে এসেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

 

এ বিষয়ে একজন ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন মতামত উঠে এসেছে।

 

বিরোধী দল শুক্রবার এ বিল পাসের সময় নতুন করে যুক্ত ১৮ক ধারা নিয়ে আপত্তি তোলে, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা টেকেনি। এ সময় সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করতে নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিনে একাধিক অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস করা হয়। এর মধ্যে দুর্বল ও সংকটাপন্ন ব্যাংক সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশও ছিল।

 

এই অধ্যাদেশের আওতায় খেলাপি ঋণ ও আর্থিক অনিয়মে বিপর্যস্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো— এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

 

এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল নজরুল ইসলাম মজুমদারের হাতে, আর বাকি চারটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপ ও তার পরিবারের হাতে।

 

অধ্যাদেশটি হুবহু পাস না করে নতুন ১৮ক ধারা যুক্ত করে বিলটি সংসদে উপস্থাপন করা হয়, যা নিয়েই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত। এ ধারায় রেজল্যুশনের আগে থাকা শেয়ারধারী বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে উপযুক্ত বিবেচিত পক্ষের জন্য ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনঃধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

 

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো ব্যাংকে বিনিয়োগের পর তার সম্পদের মূল্য শূন্য হতে পারে না, সেখানে ‘ফেয়ার ভ্যালু’ থাকতে হবে।

 

অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, নতুন ধারা ব্যাংক খাতে জবাবদিহির প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি করবে এবং এতে আর্থিক খাতের ভবিষ্যৎ কাঠামো অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

 

ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ আনার মূল উদ্দেশ্য ছিল দুর্বল ব্যাংকগুলোর পরিচালনা, পুনর্গঠন বা অবসায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে শক্তিশালী আইনি ক্ষমতা দেওয়া। এর মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগ, মূলধন বৃদ্ধি, সম্পদ ও দায় হস্তান্তর, ব্রিজ ব্যাংক গঠন এবং প্রয়োজনে অবসায়নের সুযোগ রাখা হয়।

 

পরে এই কাঠামোর আওতায় পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়।

 

নতুন ধারা ১৮ক অনুযায়ী, পুরনো শেয়ারধারী বা আগ্রহী পক্ষ ব্যাংক পুনর্গঠনের জন্য আবেদন করতে পারবে, তবে কঠোর শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে— সরকারের ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া অর্থ ফেরত, নতুন মূলধন সংযোজন, আমানত ও ঋণ পরিশোধ, কর ও রাজস্ব পরিশোধ, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো পুনর্গঠন।

 

আবেদন অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের যাচাই-বাছাই ও সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনুমোদনের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ ও দুই বছর পর্যন্ত তদারকির বিধানও রয়েছে।

 

অধ্যাদেশের অধিকাংশ কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলেও স্বেচ্ছা অবসায়ন, আমানত সুরক্ষা আইন ও কিছু প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। মোট ধারার সংখ্যা ৯৮ থেকে কমে ৭৫ হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ধারা আর্থিক খাতে অতীতের ব্যর্থ মালিকপক্ষের পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করতে পারে, যা ঝুঁকি বাড়াবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

 

অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেন, নতুন এই বিধান সরকারের আর্থিক চাপ কমাবে এবং ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। তার মতে, নির্দিষ্ট শর্তে পুরনো শেয়ারধারীদের ফিরে আসার সুযোগ দিলে আমানতকারীদের স্বার্থও রক্ষা পাবে এবং ব্যাংক খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার সহজ হবে।

 

সংসদে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয় এবং কোনো সংশোধনী ছাড়াই উত্থাপিত আকারেই তা গ্রহণ করা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ব্যাংক রেজল্যুশন বিল পাস, পুরনো শেয়ারধারীদের ফেরার সুযোগ নিয়ে বিতর্ক

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাসের আগে নতুন একটি ধারা যুক্ত হয়েছে, যাতে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকে পুরনো শেয়ারধারীদের ফেরার পথ খোলার বিষয়টি সামনে এসেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   এ বিষয়ে একজন ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন মতামত উঠে এসেছে।   বিরোধী দল শুক্রবার এ বিল পাসের সময় নতুন করে যুক্ত ১৮ক ধারা নিয়ে আপত্তি তোলে, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা টেকেনি। এ সময় সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করতে নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিনে একাধিক অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস করা হয়। এর মধ্যে দুর্বল ও সংকটাপন্ন ব্যাংক সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশও ছিল।   এই অধ্যাদেশের আওতায় খেলাপি ঋণ ও আর্থিক অনিয়মে বিপর্যস্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো— এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।   এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল নজরুল ইসলাম মজুমদারের হাতে, আর বাকি চারটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপ ও তার পরিবারের হাতে।   অধ্যাদেশটি হুবহু পাস না করে নতুন ১৮ক ধারা যুক্ত করে বিলটি সংসদে উপস্থাপন করা হয়, যা নিয়েই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত। এ ধারায় রেজল্যুশনের আগে থাকা শেয়ারধারী বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে উপযুক্ত বিবেচিত পক্ষের জন্য ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনঃধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।   ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো ব্যাংকে বিনিয়োগের পর তার সম্পদের মূল্য শূন্য হতে পারে না, সেখানে ‘ফেয়ার ভ্যালু’ থাকতে হবে।   অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, নতুন ধারা ব্যাংক খাতে জবাবদিহির প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি করবে এবং এতে আর্থিক খাতের ভবিষ্যৎ কাঠামো অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।   ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ আনার মূল উদ্দেশ্য ছিল দুর্বল ব্যাংকগুলোর পরিচালনা, পুনর্গঠন বা অবসায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে শক্তিশালী আইনি ক্ষমতা দেওয়া। এর মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগ, মূলধন বৃদ্ধি, সম্পদ ও দায় হস্তান্তর, ব্রিজ ব্যাংক গঠন এবং প্রয়োজনে অবসায়নের সুযোগ রাখা হয়।   পরে এই কাঠামোর আওতায় পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়।   নতুন ধারা ১৮ক অনুযায়ী, পুরনো শেয়ারধারী বা আগ্রহী পক্ষ ব্যাংক পুনর্গঠনের জন্য আবেদন করতে পারবে, তবে কঠোর শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে— সরকারের ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া অর্থ ফেরত, নতুন মূলধন সংযোজন, আমানত ও ঋণ পরিশোধ, কর ও রাজস্ব পরিশোধ, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো পুনর্গঠন।   আবেদন অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের যাচাই-বাছাই ও সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনুমোদনের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ ও দুই বছর পর্যন্ত তদারকির বিধানও রয়েছে।   অধ্যাদেশের অধিকাংশ কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলেও স্বেচ্ছা অবসায়ন, আমানত সুরক্ষা আইন ও কিছু প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। মোট ধারার সংখ্যা ৯৮ থেকে কমে ৭৫ হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ধারা আর্থিক খাতে অতীতের ব্যর্থ মালিকপক্ষের পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করতে পারে, যা ঝুঁকি বাড়াবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।   অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেন, নতুন এই বিধান সরকারের আর্থিক চাপ কমাবে এবং ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। তার মতে, নির্দিষ্ট শর্তে পুরনো শেয়ারধারীদের ফিরে আসার সুযোগ দিলে আমানতকারীদের স্বার্থও রক্ষা পাবে এবং ব্যাংক খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার সহজ হবে।   সংসদে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয় এবং কোনো সংশোধনী ছাড়াই উত্থাপিত আকারেই তা গ্রহণ করা হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

এডিবির ১১৬ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন : নারায়ণগঞ্জে পানি, ড্রেনেজ ও সবুজায়নে বড় প্রকল্প

ছবি : সংগৃহীত

ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার পণ্যে পাল্টাপাল্টি শতভাগ শুল্ক আরোপ

ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাবে আইএমএফ

ছবি : সংগৃহীত
এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সামনে রেখে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই : শিল্পমন্ত্রী

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, লিস্ট ডেভলপড কান্ট্রিজ (এলডিসি) গ্র্যাজুয়েশন সামনে রেখে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় ১২টি ব্যাংক ও ৪টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আমাদের শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে এসএমই খাতের জন্য সহজ শর্তে এবং সময়োপযোগী অর্থায়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে দেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসএমই ফাউন্ডেশনকে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। এসময় তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশে স্বল্পমূল্যের জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন বাহ্যিক চ্যালেঞ্জও যুক্ত হয়েছে। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের ফলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া অনেক কনসেশনাল ঋণের সুযোগ ইতোমধ্যে সীমিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরো সংকুচিত হবে। ফলে দেশের অর্থনীতিকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।  তিনি বলেন, প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য ধারাবাহিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা অপরিহার্য। শুধু উন্নয়ন নয়, বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতেও আমাদের একটি নির্দিষ্ট হারে প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের লজিস্টিক খরচ জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক মান প্রায় ১০ শতাংশ। এই ব্যবধান কমাতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়বে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিশেষ করে জিডিপিতে ভূমিকা রাখতে যোগ্য করে তুলতে কাজ করছে সরকার। উল্লেখ্য, স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন।  ফাউন্ডেশনের রিভলভিং ফান্ড থেকে ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হবে। একজন উদ্যোক্তা সর্বনিম্ন এক লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এই ঋণের সুদের হার হবে ৮ শতাংশ। এ লক্ষ্যে ১৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সহায়তায় সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকটার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল)-এর সাথে চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদেরকে ৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২৫ কোটি টাকা ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। এই প্রকল্পে একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে অংশীদার ১১টি ব্যাংক ও ৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীগণ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন।  ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স ও ইউনাইটেড ফাইন্যান্স। এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন এবং শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার এবং উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।  অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল -ফাইল ছবি

ওয়ার্কিং ও ফ্যাসিলিটিজ কমিটির দায়িত্বে তামিম

ছবি : সংগৃহীত

২০২৬-এর শুরুতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য উন্নতি : জিইডি

ছবি : সংগৃহীত

দেশে দুই মাসের পেট্রোল-অকটেন মজুত রয়েছে: জ্বালানি মন্ত্রণালয়

সংগৃহীত ছবি
আরও ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে আলাদাভাবে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বুধবার (৮ এপ্রিল) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, জরুরি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিনটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়। তিনটি প্রস্তাবই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে উপস্থাপন করা হয় এবং ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এগুলো নীতিগতভাবে অনুমোদন করে। এছাড়াও, টিকাদান কর্মসূচি ইপিআইয়ের আওতায় মাঠ পর্যায়ে টিকা নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইউনিসেফের মাধ্যমে ক্রয়ের পদ্ধতিতে নীতিগত অনুমোদন প্রস্তাব দেয়া হয়। এর আগে, গত শনিবারও (৪ এপ্রিল) সরকারি ছুটির দিনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধেও টাকা অবমূল্যায়নের চাপ নেই, দেশে স্থিতিশীল ডলারের বাজার

বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিথিপর্ন চিরাসাওয়াদি আজ শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বাংলাদেশ-থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের সুযোগ রয়েছে: শিল্পমন্ত্রী

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। ফাইল ছবি

বৈদ্যুতিক স্কুল বাস আমদানিতে শুল্ক শূন্যে নামানোর সিদ্ধান্ত: এনবিআর চেয়ারম্যান

0 Comments