মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে সারাদেশে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি। এ বছর স্বাধীনতার ৫৪ বছরকে স্মরণীয় করে তুলতে প্রথমবারের মতো সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যৌথ ব্যবস্থাপনায় ৫৪ জন প্যারাট্রুপার পতাকা হাতে স্কাইডাইভিং করবেন, যা বিশ্বে সর্বাধিক পতাকা হাতে একসঙ্গে জাম্পের নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিজয় দিবসের প্রস্তুতি নিয়ে সোমবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় দিবসটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপনের জন্য নানা আয়োজনের অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সারাদেশব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়ার বিষয়টি সভায় জানান।
১৬ ডিসেম্বর সকাল ১১টা থেকে ঢাকার তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী পৃথকভাবে ফ্লাই-পাস্ট মহড়া প্রদর্শন করবে। একই স্থানে বিশেষ ব্যান্ড-শো অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্তিকে প্রতীকী অর্থে ধারণ করে পতাকা হাতে আকাশে ঝাঁপ দেবেন। পুরো আয়োজন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দেশের অন্যান্য শহরেও সশস্ত্র বাহিনীর ফ্লাই-পাস্ট মহড়া অনুষ্ঠিত হবে এবং পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনী ব্যান্ড-শো করবে।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বিজয়মেলা আয়োজন করা হবে। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ১৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অ্যাক্রোবেটিক শো এবং যাত্রাপালা ‘জেনারেল ওসমানী’ মঞ্চস্থ হবে। ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে একই স্থানে বিজয় দিবসের গান পরিবেশিত হবে। পাশাপাশি দেশের সব জেলার শিল্পীরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশন করবেন।
বিজয় দিবসে বিধি অনুযায়ী সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি সব ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হবে। ৩১ বার তোপধ্বনি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ অনুষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা—সব আয়োজনই থাকবে আগের মতোই। চট্টগ্রাম, খুলনা, মংলা, পায়রা বন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ জনসাধারণের জন্য সারাদিন উন্মুক্ত রাখা হবে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সিনেমা হলে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিনা টিকেটে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করা হবে। মিলনায়তন ও উন্মুক্ত স্থানে প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হবে। সব সরকারি-বেসরকারি জাদুঘরও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনা টিকেটে উন্মুক্ত থাকবে। সারাদেশের শিশুদের জন্য বিনোদনকেন্দ্রগুলো বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা থাকবে।
মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, ডে কেয়ার, শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও শিশু পরিবারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রীতিভোজের আয়োজন থাকবে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন যে, এ বছরের বিজয় দিবস উদ্যাপন হবে ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় আয়োজন। নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ, সৃজনশীল অনুষ্ঠান ও বিশ্বরেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি এবারের উদ্যাপনকে বিশেষ মাত্রায় উন্নীত করবে বলে তারা মনে করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) সভাপতি এবং জাপানের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি। সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে মাসুমি কাকিনোকির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নে তার ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারি আরো সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় মাসুমি কাকিনোকি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পসহ সম্ভাবনাময় খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি কাঠামোর মাধ্যমে এসব খাতে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।’ কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং দেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাইয়ে জাপানের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্কার, বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি জোরদারের মাধ্যমে জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ আরো সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।’ এর আগে গত ১১ অক্টোবর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসায়ুকি ওমোতোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।
দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ এডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারকে কাজের সুযোগ দিতে বিরোধী দলগুলোর আন্তরিক সহযোগিতাও কামনা করেছেন তিনি। আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিষদ আয়োজিত ‘বর্তমান গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হুইপ দুলু বলেন, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর দেশে গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা অনুপস্থিত ছিল। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন, রক্ত ও দীর্ঘ ত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে এবং মানুষ গণতন্ত্র ও স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার ফিরে পেয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। কিন্তু বিগত সরকারের সীমাহীন লুটপাট ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে হুইপ বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভাতার আওতায় আনার মতো জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে একসাথে লড়াই করা বিরোধী দলগুলোর প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারকে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। অর্জিত গণতন্ত্র যেন আবার বিপন্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দুলু বলেন, পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কোনো ধরনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দল নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনি আসেন, আমরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছি। বাংলাদেশের মানুষ আপনার অপেক্ষায় আছে।’ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মো. রমিজ উদ্দিন কাজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মোস্তফা কামাল মজুমদার ও জাতীয় সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার উর্মি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ফ্রান্সের অবনতিশীল সরকারি আর্থিক পরিস্থিতি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) চলতি সপ্তাহের বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। তবে ইউরোজোনের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে তাৎক্ষণিকভাবে সংকট থেকে উদ্ধারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো সহায়তার হাত বাড়াবে— এমন সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। ইসিবি এবার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি বছর এরই মধ্যে দুই দফা সুদের হার বাড়িয়েছে ব্যাংকটি। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে ধাক্কা লেগে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ইউরোজোনের অর্থনীতিকে সচল রাখার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে ইসিবি। তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারে ফ্রান্সের পরিস্থিতি। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের প্রধান ইউরোপীয় অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু কেনিংহাম বলেন, বৈঠকে ফ্রান্সের চলমান আর্থিক ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ইসিবি কী পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সরকারি ঋণ নেওয়ার ব্যয় নির্দেশক ফরাসি সরকারি বন্ডের মুনাফার হার গত সপ্তাহে বেড়ে ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী বছরের বাজেট নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফ্রান্সের বিপুল সরকারি ঋণের বোঝা কমানোই ওই বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে, সরকারি সেবায় ব্যয় বাড়ানোর দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ একপর্যায়ে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সড়ক সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এ অবস্থায় বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ঠেকাতে ইসিবি প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ সংকট মোকাবিলা কর্মসূচি ব্যবহার করে ফরাসি বন্ডের মুনাফার হার কমানোর চেষ্টা করতে পারে বলে জল্পনা চলছে। তবে ‘ট্রান্সমিশন প্রোটেকশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ (টিপিআই) নামে পরিচিত এই কর্মসূচি চালুর শর্ত কঠোর। অধিকাংশ পর্যবেক্ষকের ধারণা, ফ্রান্সের বর্তমান পরিস্থিতি সেই শর্ত পূরণ করছে না। ইসিবির নিয়ম অনুযায়ী, আর্থিক অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলে বাজারের ‘অযৌক্তিক’ ওঠানামা মোকাবিলায় এ কর্মসূচি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে দুর্বল রাজস্বনীতি বা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে এ কর্মসূচি ব্যবহারের সুযোগ নেই। ইসিবির প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দ, যিনি একসময় ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী ছিলেন, এ ধরনের পদক্ষেপের বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেমন আগ্রহ দেখাননি। চলতি মাসের শুরুতে ফরাসি বন্ডের মুনাফার হার বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক ও প্রধান সমাধানটি ফ্রান্সের অভ্যন্তরেই রয়েছে। আর সেটি রাজস্বনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত।’ ইসিবির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানও সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্বহীন করে দেখেছেন। তার ভাষায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় ‘শর্তগুলো পূরণ হয়নি’। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের কেনিংহামের পূর্বাভাস, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ফ্রান্সের জন্য কোনো বিশেষ সহায়তা ঘোষণা করা হবে না। সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হলেও ইউরো ব্যবহারকারী ২১টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইসিবি মূল সুদের হার ২ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসিবির সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ তাদের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত জানাবে। সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর পর ফেডও এবার হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরোজোনে মূল্যস্ফীতি সেপ্টেম্বরে বেড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে জ্বালানি ও খাদ্যের মতো অস্থির মূল্যসম্পন্ন পণ্য বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। আইএনজি ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ কার্স্টেন ব্রজেস্কি এএফপিকে বলেন, ‘জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব অন্য খাতে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা এখন পর্যন্ত খুবই সামান্য।’ তিনি আরও বলেন, ফ্রান্সের সংকটের কারণে ইসিবির আরেক দফা সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বরং কমেছে। সরকারি বন্ডের মুনাফার হার বেড়ে গেলে ঋণ নেওয়ার শর্ত কঠিন হয়। এর ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারের ঋণ নেওয়ার ব্যয় বাড়তে পারে। সুদের হার বাড়লেও একই ধরনের প্রভাব দেখা যায়। অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, ইসিবি চলতি সুদের হার বৃদ্ধির ধারার শেষ দফা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ডিসেম্বরে নিতে পারে। ওই সময় ব্যাংকটির হাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ পূর্বাভাস থাকবে। ইসিবির প্রধান হিসেবে ক্রিস্টিন লাগার্দের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন তিনি। আগামী বছরের অক্টোবরে তার মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই পদত্যাগ করতে পারেন— এমন জল্পনা বাড়ছে।