জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বিপন্ন লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিকে কাজে এবং অঙ্গীকারকে ফলাফলে পরিণত করার, যেন বিশ্ব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যতকে আলিঙ্গন করতে পারে।
আমরা আশা করি, কপ-৩১ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে এবং বাংলাদেশ তার ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।
মঙ্গলবার দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ১৭তম ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এ ‘শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ’ শীর্ষক এক অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়, আমরা এটিকে সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আমরা এখানে উপস্থিত সকলে মিলে একটি সবুজ, নিরাপদ, টেকসই এবং আরো ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।
তিনি বলেন, কোনো দেশ একা জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকার। কপ-৩১ এবং কপ-৩২ এর দিকে তাকিয়ে আমরা তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিতে চাই। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও অনুমানযোগ্য সহায়তাসহ ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনতে হবে।
দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরো সহজলভ্য, সহজসাধ্য এবং চাহিদা-সাপেক্ষ হতে হবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও ত্বরান্বিত হওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে, আমাদের ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’ (জিসিএফ)-এর বৃহত্তর সংহতকরণ এবং কার্যকরীকরণ প্রয়োজন।
তৃতীয়ত, প্রশমনের পাশাপাশি অভিযোজনও অপরিহার্য। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য অভিযোজন কোনো নীতিগত বিকল্প নয়, এটি একটি অপরিহার্য বিষয়।
ইউএনসিটিএডি’র মতে, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্মিলিত পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা (এনসিকিউজি) উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রশমন ও অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে অপর্যাপ্ত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আজ এখানে শুধু জলবায়ু সংকটে একটি সম্মুখসারির রাষ্ট্র হিসেবেই নয়, বরং বৈশ্বিক সমাধানে আগ্রহী একটি জাতি হিসেবেও সমবেত হয়েছি।
তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার একটি অগ্রণী জলবায়ু-সহনশীল জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিবেশ সুরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ প্রবৃদ্ধি এখন আমাদের জাতি গঠন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে ভাবি এবং যার জন্য আমি সচেষ্ট থাকি। এটি জীবন, জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার বিষয়।
জলবায়ু সংক্রান্ত বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আমরা আগামী ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করার পরিকল্পনা করেছি। আমরা পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, কৃষিকে সহায়তা করতে এবং জলবায়ুগত অভিঘাত মোকাবেলার লক্ষ্যে আমাদের প্রধান নদীর উপর পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা একটি মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ব্যারেজকেও আধুনিকীকরণ করছি।
তিনি আরো বলেন, আমরা আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকার করেছি। স্কুল, সম্প্রদায় এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী একটি আন্দোলনের মাধ্যমে, যেমন ‘এক শিক্ষার্থী, এক গাছ কর্মসূচি’র মাধ্যমে, আমরা বনাঞ্চল সম্প্রসারণ করব, জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করব, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব এবং তাপমাত্রা হ্রাস করব।
বাংলাদেশ সরকার বন, জলাভূমি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গ্রামীণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য বিনিয়োগ করছি এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ মান চালু করছি। একই সঙ্গে, আমাদের সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর, বায়ু, বর্জ্য থেকে শক্তি এবং অন্যান্য সমাধানের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বাংলাদেশের অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, আমরা পাটজাত পণ্য এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ পরিবেশবান্ধব পরিবহনের মতো সবুজ শিল্পকেও উৎসাহিত করি। সবুজ বিনিয়োগ এবং কার্বন-ক্রেডিটের সুযোগ উন্মোচনের জন্য একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশ সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার, জৈব সার উৎপাদন এবং চক্রাকার অর্থনীতি উদ্যোগের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনাও করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবুজ উৎপাদন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছি। এখন আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড প্রত্যয়িত কারখানার মধ্যে ৬৯ টিই বাংলাদেশের।
তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই তাদের মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে লাখ লাখ মানুষের জন্য তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, যাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কপ-৩১ এর উচিত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কাঠামো কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য ও চেতনাকে পুনঃনিশ্চিত করা। এ প্রসঙ্গে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপকে উৎসাহিত করতে, ঐকমত্য গড়ে তুলতে এবং সম্মিলিত পদক্ষেপকে অনুপ্রাণিত করার জন্য একটি মূল্যবান মঞ্চ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ফরিদপুরে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্র, এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) জেলার বিভিন্ন স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র নিহত: বিকেলে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের আখ সেন্টারের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সোয়াদ মোল্লা (১৫) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে তার দুই সহপাঠী তামিম ও শাওন। সোয়াদ হাটগোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান মোল্লার ছেলে এবং কানাইপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, স্কুল ছুটির পর তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে বের হয়। শহর থেকে ফেরার পথে একটি ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিয়ে মহাসড়কে ওঠার সময় মোটরসাইকেলটি একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে সোয়াদ ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আহত দুজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তারা আশঙ্কামুক্ত। করিমপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় বৃদ্ধার মৃত্যু একই মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার মাঝকান্দি এলাকায় অজ্ঞাত একটি গাড়ির চাপায় আমেনা বেগম (৭০) নিহত হন। তিনি মাঝকান্দি এলাকার মৃত এলাহি শেখের স্ত্রী। হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক মো. আব্দুস সালাম জানান, অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় ঘটনাস্থলেই ওই নারীর মৃত্যু হয়। অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল পথচারীর ফরিদপুর শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় আনোয়ার মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল ইনস্টিটিউটের প্রধান ফটকের সামনে সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়। আনোয়ার মিয়া আলফাডাঙ্গা উপজেলার চানড়া গ্রামের মৃত জব্বার মিয়ার ছেলে। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, তিনটি দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত মানবিক উদ্যোগগুলোর একটি ভাসানচর প্রকল্প। প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশে হাজারো বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার আবাসন, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবিকায়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছিল প্রশাসনের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। এই বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিচালনায় সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জাতিসংঘের সংস্থা এবং বিভিন্ন মানবিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ছিল সাফল্যের অন্যতম পূর্বশর্ত। এই প্রেক্ষাপটে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ভাসানচরে দায়িত্ব পালন করে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর পৃথক আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র পেয়েছেন অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মো. মাহফুজার রহমান। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ভাসানচরের প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘ সময় যুক্ত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মো. মাহফুজার রহমানের দায়িত্বকালে খাদ্য বিতরণ, সাইট ব্যবস্থাপনা, জীবিকায়ন কর্মসূচি, নিরাপত্তা, জরুরি সেবা এবং বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গত ২০ জুন ডব্লিউএফপির ভাসানচর কার্যালয়ের প্রধান জন মারুটি স্বাক্ষরিত এক প্রশংসাপত্রে তার নেতৃত্ব, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সমন্বয় সক্ষমতার প্রশংসা করা হয়। সংস্থাটি উল্লেখ করে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে খাদ্যসহায়তা ও রেশন পুনর্বিন্যাসের মতো সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মো. মাহফুজার রহমানের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্তের ফলে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ভাসানচরে মানবিক সহায়তা, উন্নয়ন এবং শান্তিভিত্তিক সমন্বিত কাঠামো (এইচডিপি নেক্সাস) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তার অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়। এর কিছু দিন পর অর্থাৎ ২৯ জুন ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন স্বাক্ষরিত পৃথক প্রশংসাপত্রেও তার প্রশাসনিক ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সংস্থাটি জানায়, প্রতিকূল পরিবেশে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সাইট ব্যবস্থাপনা, জীবিকায়ন কর্মসূচি, জরুরি সেবা পরিচালনা এবং বিভিন্ন কার্যক্রম হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় তার সহযোগিতা কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়িয়েছে। সরকারি সংস্থা, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মানবিক অংশীদারদের মধ্যে গঠনমূলক সমন্বয় প্রতিষ্ঠায় তার অবদানও প্রশংসিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাসানচরের মতো একটি সংবেদনশীল মানবিক প্রকল্পে প্রশাসনিক দায়িত্ব কেবল সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে আস্থা, সমন্বয় এবং কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই সমন্বয়ের মাধ্যমেই খাদ্য বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবিকায়ন, নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক ফেলো ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মো. মানসুরুল হক বলেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গা ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা, মানবিক দায়বদ্ধতা এবং সমন্বিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। অতিরিক্ত আরআরআরসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. মাহফুজার রহমান সরকারি সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জাতিসংঘ এবং মানবিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ডব্লিউএফপি ও ইউএনএইচসিআরের পৃথক প্রশংসাপত্র তার ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের সমন্বিত মানবিক ব্যবস্থাপনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিরও প্রতিফলন। তাঁর এই কর্মযজ্ঞ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিশেষ স্বীকৃতি ও প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মতো জটিল মানবিক পরিস্থিতিতে দক্ষ প্রশাসন, জবাবদিহি এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ভবিষ্যতে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করবে এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করবে। বর্তমানে মো. মাহফুজার রহমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ভাসানচরে অর্জিত তার দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা এবং বহুপক্ষীয় সমন্বয়ের অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্টদের অভিমত, ডব্লিউএফপি ও ইউএনএইচসিআরের পৃথক প্রশংসাপত্র কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়; এটি রোহিঙ্গা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশ সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
আগ্নেয়গিরি থেকে উত্তপ্ত লাভা, ছাই এবং ধোঁয়া বেরোনোর কথা সবাই জানেন। কিন্তু স্বর্ণ? দুর্মূল্য সেই ধাতুও বের হচ্ছে আগ্নেয়গিরি থেকে। দু-এক গ্রাম নয়, প্রতিদিন অন্তত ৮০ গ্রাম। এন্টার্কটিকার দক্ষিণে রস সমুদ্রের ভেতরে রস দ্বীপে রয়েছে মাউন্ট এরেবাস আগ্নেয়গিরি। ভৌগোলিকভাবে চিহ্নিত পৃথিবীর দক্ষিণ মেরু থেকেও আরও ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এটি। মাউন্ট এরেবাসকে পৃথিবীর দক্ষিণতম প্রান্তের সক্রিয় আগ্নেয়গিরি বলা হয়। বরফের মধ্যে থেকেও এই পাহাড়কে ঘিরে রয়েছে ফুটন্ত লাভার হ্রদ। সেখানেই পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল থেকে প্রতিদিন বেরিয়ে আসছে স্বর্ণ। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, একেবারে নিখাদ খাঁটি স্বর্ণ। যে কোনো সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থেকেই প্রায় অনবরত গ্যাস, ধোঁয়া, ধুলো এবং লাভা বেরোতে থাকে। মাউন্ট এরেবাসের গ্যাসের মধ্যে স্ফটিকাকার মৌলিক স্বর্ণের অতিসূক্ষ্ম কণাগুলো বিজ্ঞানীদের বহু দিন ধরে ভাবাচ্ছে। আগ্নেয়গিরিটি নিয়ে গবেষণা হয়েছিল ১৯৯১ সালে। তার ফল ‘জিয়োফিজিক্যাল রিসার্চ লেটারস’ নামে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সেখানেই প্রথম বলা হয়েছিল, দিনে ৮০ গ্রাম করে স্বর্ণ উগরে দেয় এরেবাস। আণুবীক্ষণিক সেই স্বর্ণকণা অন্তত এক হাজার কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, লেগে থাকে বরফের গায়ে। তবে আগ্নেয়গিরি থেকে স্বর্ণ নিঃসরণ নতুন কিছু নয়। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের কিলাউয়েয়া কিংবা ইতালির এটনা, আলাস্কার অগাস্টিন কিংবা মেক্সিকোর এল শিশন আগ্নেয়গিরি থেকে নিঃসৃত পদার্থেও স্বর্ণের খোঁজ মিলেছে। সেখান থেকে প্রতিদিন আরও বেশি স্বর্ণ নির্গত হয়। তবে মাউন্ট এরেবাসের আলাদা বিশেষত্ব রয়েছে। এর আগে কখনো কোনো আগ্নেয়গিরি থেকে স্ফটিকাকারে মৌলিক স্বর্ণের কণা বেরোতে দেখা যায়নি। কীভাবে তা উত্তপ্ত ম্যাগমার স্তর পেরিয়ে অক্ষত অবস্থায় বাইরে আসছে, সেটাই রহস্য। বিজ্ঞানীরা এর একাধিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে একমত হতে পারেননি কেউ। আমেরিকার নিউ মেক্সিকো ইনস্টিটিউট অব মাইনিং অ্যান্ড টেকনোলজির ভূ-রসায়নবিদ কিম্বারলি মিকার এবং তার দলের মতে, এরেবাসে স্বর্ণ এমন আচরণ করছে, যা অন্য কোথাও দেখা যায় না। এই গবেষকদলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এরেবাসের জ্বালামুখের চারপাশের বরফ, লাভা হ্রদ থেকে ওঠা গ্যাসের কুণ্ডলী এবং আগ্নেয়গিরি থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে এন্টার্কটিকার ট্রপোস্ফিয়ার থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন। তিনটি ক্ষেত্রেই নমুনায় স্বর্ণের ক্ষুদ্র কণা পাওয়া গেছে। গবেষকদের একটি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, লাভার সঙ্গে বেরিয়ে আসা ক্লোরিনযুক্ত যৌগের মাধ্যমে স্বর্ণ বাইরে আসে। তারপর গ্যাস ঠান্ডা হলে স্বর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শেষমেশ এন্টার্কটিকার সুবিস্তৃত বরফের গায়ে জমা হতে থাকে। নিউ মেক্সিকো ইনস্টিটিউট অব মাইনিং অ্যান্ড টেকনোলজির আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ ফিলিপ কাইল পরে আরেকটি ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালের গবেষকদলের সদস্য ছিলেন তিনি। তার মতে, লাভা হ্রদের ওপরের স্তরে স্বর্ণ ধীরে ধীরে জমা হয়। তারপর গ্যাসের সঙ্গে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। এই তত্ত্বের সঙ্গেও সবাই পুরোপুরি একমত হতে পারেননি। ৩০ বছর ধরে তাই রহস্যের নাম মাউন্ট এরেবাস। এখনো সমাধান খুঁজে চলেছেন বিজ্ঞানীরা।