আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। দলের অন্যতম অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস চোটে পড়েছেন, যা বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
শনিবার সকালে করা মেডিকেল পরীক্ষায় পারেদেসের ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট ধরা পড়ে। প্রাথমিকভাবে এটি সাধারণ পেশির টান বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তী স্ক্যানে পেশি ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
এই চোটের কারণে বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে তার খেলা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দলের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও তাকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি বোকা জুনিয়র্স-এর হয়ে কোপা লিবার্তাদোরেসে ইউনিভার্সিদাদ ক্যাতোলিকার বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে গিয়েই এই চোট পান পারেদেস। পুরো ম্যাচে তাকে অস্বস্তি নিয়েই খেলতে দেখা যায়।
ম্যাচ শেষে পারেদেস জানান, তিনি পুরো সপ্তাহজুড়ে হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় ভুগছিলেন। তবুও দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হওয়ায় মাঠের বাইরে থাকতে চাননি।
তিনি বলেন, ‘চোটের সমস্যা ছিল, কিন্তু দলের জন্য খেলতে চেয়েছি। সামনে বিশ্বকাপ থাকলেও আবেগের কারণে ম্যাচটি মিস করতে পারিনি।’
পারেদেসের এই চোট আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এখন তার দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্বকাপের শুরুতেই মাঠে নামতে পারবেন কি না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এডিনবার্গে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্কটল্যান্ড নারী ক্রিকেট দল-এর কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে দলের সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। এছাড়া ২২ রান করে অবদান রাখেন সোবহানা মোস্তারি ও স্বর্ণা আক্তার। জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ১২, দিলারা আক্তার ১১ এবং শারমিন আক্তার ১০ রান করেন। ১৩৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে ছিল স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশি বোলারদের ওপর কোনো চাপ অনুভব না করে স্বাচ্ছন্দ্যে রান তুলতে থাকে স্বাগতিকরা। স্কটল্যান্ডের হয়ে অধিনায়ক ক্যাথরিন ব্রাইস অপরাজিত ৫৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এছাড়া ক্যাথেরিন ফ্রেজার ২৮ রান করেন। ডার্সি কার্টার ও সারাহ ব্রাইস করেন ২৩ রান করে। মাত্র ১৫.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্কটল্যান্ড। ফলে ২৬ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় তারা। এই হারের মধ্য দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলো হতাশা দিয়ে। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ এখন নিগার সুলতানার দলের সামনে।
গেল মাসে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড ভাঙার পর নতুন করে গঠিত হয় বিসিবির অ্যাডহক কমিটি। যার দায়িত্ব সভাপতি হিসেবে গ্রহণ করেন তামিম ইকবাল। বর্তমানে দুই মাসের কাছাকাছি হতে চলেছে এই বোর্ডের সময়। এর মধ্যে নিজেদের দ্বিতীয় বোর্ড মিটিংয়েই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক এবং ম্যাচ ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বোর্ড। ঘরোয়া ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর দাবি অনেক দিন ধরেই ছিল। যা আগের বোর্ডগুলো কার্যকর করতে পারেনি। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর পুরুষ এবং নারী উভয় বিভাগে বেড়েছিল পারিশ্রমিক। সঙ্গে বেড়েছে ম্যাচ ফিও। সম্প্রতি বিসিবির চার-ছক্কা পডকাস্টে এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য এবং ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরু। তিনি বলেন, ‘যদি এটা করতে চান (প্লেয়ারদের বেতন বাড়াতে চান) তাহলে একটা বোর্ড মিটিংয়েই সম্ভব। আমরা আমাদের (বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির) দ্বিতীয় বোর্ড মিটিংয়েই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন বাড়িয়েছি, নারী এবং পুরুষ উভয়েরই। আমার মনে হয়, এটা অনেক দিন ধরেই প্লেয়ারদের পাওনা ছিল। আগেই করা যেত, আমরা এসেই করেছি।’ ইসরাফিল আরও বলেছেন, ‘প্লেয়াররা অনেক খুশি, তারা এটা ডিজার্ভ করে। তাদেরকে তো এক্সট্রা কিছু দিচ্ছেন না। এটা তাদের পাওনা, তারা এটা ডিজার্ভ করে। আপনি তো প্লেয়ারদের বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সামনে নিতে পারবেন না।’
রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক হচ্ছে অলিভার পিকের, আগের দিনই নিশ্চিত করেছেন জশ ইংলিস। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে, অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট রিকি পন্টিংয়ের একটি রেকর্ড ভেঙে দেবেন এই তরুণ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শনিবার মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান। এই ম্যাচ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে অভিষেকের রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন পিক। এদিন পিকের বয়স ১৯ বছর ২৬১ দিন। ১৯৯৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় পন্টিংয়ের। সেদিন তার বয়স ছিল ২০ বছর ৫৮ দিন। ওই ম্যাচে ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ১ রান করেছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ২৫২তম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে খেলতে যাচ্ছেন পিক। ২০২৪ সালে ১৭ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ইংলিস শুক্রবার বলেন, “আমি নিশ্চিত করছি, আগামীকাল (শনিবার) অলি পিকের অভিষেক হতে যাচ্ছে। পিকের জন্য এটা দারুণ রোমাঞ্চকর একটা মুহূর্ত।” অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে অভিষেকের রেকর্ডটি অবশ্য প্যাট কামিন্সের, ১৮ বছর ১৬৪ দিন। কামিন্সসহ দলের বেশ কয়েকজন নিয়মিত তারকা এই সফরে নেই। মূলত অগাস্ট থেকে পরবর্তী ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়ার ঠাসা টেস্ট সূচি (প্রায় ২১টি টেস্ট) থাকায় মূল খেলোয়াড়দের এই সফরে বিশ্রামে রেখেছেন নির্বাচকরা। প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়া পিক এখন পর্যন্ত ছয়টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছেন। দুই ফিফটিতে ১৪৭ রান করেছেন তিনি। স্বীকৃতি টি-টোয়েন্টিতে সাত ম্যাচে ১৮৪ রান করেছেন তিনি ১৩৭.৩১ স্ট্রাইক রেটে। পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়ার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের বাকি দুটি লাহোরে। আগামী মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার।