‘লিবার্তে, এগালিতে, ফ্রাতের্নেতে’। ফ্রান্সের এই তিন জাতীয় মূলমন্ত্রের বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘স্বাধীনতা, সমতা ও একতা’। ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের পর ফ্রান্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তিন মূলমন্ত্র বদলে হয়ে যায় ‘স্বাধীনতা, সমতা ও এমবাপ্পে’। আর এই বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ত্রয়ী যেমন খেলছে, তাতে আপনি চাইলে এই মূলমন্ত্রটি বদলে ‘এমবাপ্পে, দেম্বেলে ও ওলিসে’ করে ফেলতে পারেন!
এই বিশ্বকাপে ‘ছবির দেশে, কবিতার দেশের’ ফ্রান্সের খেলা মানেই কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের সবুজ মাঠে শিল্পীর তুলিতে আঁকা কোনো চিত্রকর্ম। বিশ্বকাপে এই তিন জনের অবদান দেখুন—এখন পর্যন্ত এমবাপ্পে ৮টি গোল করে ফেলেছেন, সঙ্গে ৩টি অ্যাসিস্ট। বেশি অ্যাসিস্টের সুবাদে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে। পরশু মরক্কোর বিপক্ষে দেম্বেলেও করে ফেলেছেন টুর্নামেন্টে নিজের পঞ্চম গোল, বিশ্বকাপে ফ্রান্সের একমাত্র হ্যাটট্রিকটি ব্যালন ডি’অরজয়ী ফরোয়ার্ডেরই। ওলিসের এখনো গোল না পাওয়াটাকে দুর্ভাগ্যের সঙ্গে রহস্যও বলতে পারেন। তবে পাঁচ গোল করিয়ে অ্যাসিস্টের তালিকায় তিনি আবার সবার ওপরে। সামনে হাতছানি দিচ্ছে কিংবদন্তি পেলের এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছয় অ্যাসিস্টের কীর্তি। এর বাইরেও তিনজনের ‘টেলিপ্যাথিক’ বোঝাপড়াটা এমনই দুর্দান্ত যে কে বলবে তিনজন এই প্রথম বড় কোনো আসরে একসঙ্গে খেলছেন!
এক বিশ্বকাপে একই দলের দুজনের অন্তত পাঁচ গোল করার আরেকটা কীর্তিও মনে করিয়ে দিয়েছেন এমবাপ্পে ও দেম্বেলে। সর্বশেষ ২০০২ বিশ্বকাপে যেটি ছিল দুই ব্রাজিলিয়ান গ্রেট রোনালদো ও রিভালদোর। কাকতালীয়ই বটে, এমবাপ্পে-দেম্বেলের মতো রোনালদো-রিভালদোর গোলও ছিল ৮টি ও ৫টি। এবার ওলিসেকে যদি সেই বিশ্বকাপের তরুণ রোনালদিনিওর সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে এই ত্রয়ী ব্রাজিলের সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিতে পারে।
তুলনাটা এখনই বাড়াবাড়িই হয়ে যাবে, ফ্রান্সের এই ত্রয়ী তো এখনো বিশ্বকাপ জেতা থেকে আরও দুই ম্যাচ দূরে। কিন্তু একটা জায়গায় ব্রাজিলের সেই ‘থ্রি আর’ কেও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। ফ্রান্সের তিনজনের এই বিশ্বকাপে মোট গোল ও অ্যাসিস্ট হয়ে গেছে ২৩টি, ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সেই তিনজনের যা ছিল মোট ২০টি। সেটি আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ ফ্রান্সের এই তিনজনের সামনে।
প্রতিপক্ষ রক্ষণের নাভিশ্বাস ছড়ানো এই তিনজনকে নিয়ে ম্যাচের পর তাই স্তুতি গাইছেন সবাই। ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচের পর তাদের কোচ স্তালে সলবাকেন যেমন ঘোষণা করে দিয়েছেন, ‘ফ্রান্সের আক্রমণ সন্দেহাতীতভাবে এই বিশ্বকাপের সেরা।’ এই তিনজনের সঙ্গে দেজিরে দুয়ের নাম যোগ করে সলবাকেন বলেছিলেন, আক্রমণে বিশ্বকাপে এই চারজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সুইডেন কোচ গ্রাহাম পটার যেমন বলেছিলেন, ফ্রান্সের এই আক্রমণকে কীভাবে থামানো সম্ভব, তিনি জানেন না! আর এই সতীর্থদের নিয়ে ফ্রান্সেরই আক্রমণভাগের আরেক সদস্য ব্রাডলি বারকোলা বলেছেন, এই তিনজনের সঙ্গে খেলাটাই অবিশ্বাস্য অনুভূতি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই ত্রয়ীর জায়গা কোথায়? ফ্রান্সেরই ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী দলে এই ত্রয়ীর মধ্যে শুধু এমবাপ্পে ছিলেন, সেবার আক্রমণের বাকি দুজন ছিলেন গ্রিজমান ও জিরু। এমবাপ্পে ও গ্রিজমানময় সেই টুর্নামেন্টে জিরু অবশ্য কিছুটা আড়ালেই ছিলেন। অন্যদিকে ১৯৯৮ ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলে সেই অর্থে কোনো ত্রয়ী ছিলেন না। সেবার ফ্রান্সের হয়ে ফাইনালে তাদের সর্বোচ্চ স্কোরার থিয়েরি অঁরিই প্রথম একাদশে খেলেননি। আর ষাট ও সত্তরের দশকে ফুটবলেও চার, এমনকি পাঁচজন ফরোয়ার্ডও একসঙ্গে খেলতেন। সত্তরের ব্রাজিল দলে যেমন পেলে-তোস্তাও-জেয়ারজিনহো ও রিভেলিনো এই চারজনের নাম একসঙ্গেই নিতে হয়।
ক্লাব ফুটবলে ত্রয়ী বলতে বার্সেলোনায় মেসি-নেইমার-সুয়ারেজের এমএসএন বা রিয়াল মাদ্রিদের বেল-বেনজেমা-রোনালদোর বিবিসি ত্রয়ীর নাম আসে। এমবাপ্পে-দেম্বেলে-ওলিসে যেভাবে খেলছেন, তাতে এই দুই ত্রয়ীর স্মৃতিও মনে পড়ে যেতে পারে আপনার!
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার ভ্যালেন্তিন বারকোকে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইংলিশ ক্লাব চেলসি। রবিবার (২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্লাবটি। ফরাসি ক্লাব আরসি স্ট্রাসবুর্গ থেকে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে যোগ দিয়েছেন ২১ বছর বয়সী এ ফুটবলার। গোল ডটকমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। চেলসির সঙ্গে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছেন বারকো। ব্লুকো মালিকানাধীন দুই ক্লাবের মধ্যে খেলোয়াড় স্থানান্তরের ধারাবাহিকতায় স্ট্রাসবুর্গ থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়া সর্বশেষ ফুটবলার তিনি। আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমকে সামনে রেখে জাবি আলোনসোর দলে যোগ দিচ্ছেন আর্জেন্টাইন এ আন্তর্জাতিক ফুটবলার। প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির বাকি সূচিতে তিনি নতুন সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দেবেন।
শেষ এক বছর ধরে ভারত-পাকিস্তানের শীতল সম্পর্কটা চরমে গিয়ে পৌঁছেছে। মূলত কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে হামলার পর থেকে দুই দেশের ক্রিকেটাররাও হাত মেলানোর রীতিতে বাধ সাধেন। সেই ধারা ভেঙে পাকিস্তানের ফাতিমা সানাকে জড়িয়ে ধরলেন জেমাইমা রদ্রিগেজ। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যে দৃশ্য একরকম নিয়মে পরিণত হয়ে গিয়েছিল, তাতে হঠাৎই পরিবর্তন এল। ভারত ও পাকিস্তানের দুই মহিলা ক্রিকেটার শুধু হাত মেলাননি, একে অপরকে জড়িয়েও ধরেছেন। আর এই দৃশ্যই জন্ম দিয়েছে নতুন বিতর্কের। ঘটনাটি ঘটে ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’ লিগে। সাদার্ন ব্রেভ দলের হয়ে খেলেন ভারতের জেমাইমা রদ্রিগেজ, আর পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা খেলেন বার্মিংহ্যাম ফিনিক্সের হয়ে। দুই দলের মধ্যকার ম্যাচ শেষে যখন সব খেলোয়াড় একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করছিলেন, তখন প্রশ্ন উঠেছিল—জেমাইমা ও ফাতিমা কি হাত মেলাবেন? এই মুহূর্তের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, ফাতিমার দিকে এগিয়ে যান জেমাইমা, প্রথমে হাত মেলান, এরপর দু’জনে জড়িয়ে ধরেন একে অপরকে। দু’জনের মুখেই ছিল হাসি, কথাও বলেন কিছুক্ষণ। এরপর যে যার সাজঘরের দিকে চলে যান। ২০২৫ সালে কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হামলা এবং তার পরবর্তী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে চরম তিক্ততা তৈরি হয়। সেই সময় থেকেই এশিয়া কাপে সূর্যকুমার যাদবদের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলানো বন্ধ করে দেয়। এরপর পুরুষ, মহিলা কিংবা অনূর্ধ্ব-১৯—সব স্তরের ক্রিকেটেই এই প্রবণতা বজায় ছিল, এমনকি অন্যান্য খেলাতেও তার প্রভাব দেখা গিয়েছে। কিন্তু এবার দেখা গেল একেবারে ভিন্ন চিত্র। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। একদল মনে করছেন, জেমাইমার এই আচরণ ঠিক হয়নি; দেশের অন্য ক্রিকেটারেরা যে অবস্থান বজায় রেখেছেন, তারও তা মেনে চলা উচিত ছিল, এমনকি কেউ কেউ শাস্তিরও দাবি তুলেছেন। আবার অন্য একটি অংশের বক্তব্য, জেমাইমা প্রকৃত ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন এবং খেলার মধ্যে রাজনীতি টেনে আনা উচিত নয়। তাদের মতে, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে যা সম্ভব হয়নি, বিদেশের লিগে সেটাই করে দেখিয়েছেন এই ভারতীয় ক্রিকেটার। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছর পর টেস্ট সিরিজ খেলতে দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রথম বহর। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন দলের ১৭ সদস্য। প্রথম বহরে রয়েছেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, তানজিদ হাসান তামিম, অমিত হাসান, স্পিন কোচ মুশতাক আহমেদ, ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল এবং প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। দলের সঙ্গে বোলিং কোচ ও সাপোর্ট স্টাফের কয়েকজন সদস্যও অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। বাকি ক্রিকেটার ও কর্মকর্তারা পৃথক ফ্লাইটে আগামী ২ আগস্ট দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনে। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট ম্যাকায়ে। সিরিজকে সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করবে বাংলাদেশ দল। কয়েক দিনের অনুশীলন ও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর মূল টেস্ট লড়াইয়ে নামবে টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সফর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর দেশটির মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে টাইগাররা, যা দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনারও দ্বার খুলে দিতে পারে।