আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে যেন কোনোভাবেই ব্যবহার করা না যায়, সে লক্ষ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে ভোটের সময় কঠোর নিরাপত্তার আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সে আলোচনা শেষে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৪৮তম রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠকে এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার ঠেকানোই ছিল মূল আলোচ্য বিষয়।
সভায় জানানো হয়, ভোটের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পুরোপুরি বন্ধ না করলেও জরুরি যাতায়াত ছাড়া বাইরে চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি আরোপ করা হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পগুলো কার্যত ‘সিল’ করে গোটা এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্বে থাকা ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কমান্ডিং অফিসারদের পরিবর্তন না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটের কাজে নিয়োজিত প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, প্রতিদিনই নতুন রোহিঙ্গারা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে অনুপ্রবেশ যেন না বাড়ে, সে বিষয়ে সীমান্তে তৎপরতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও বলা হয়।
সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যাহত হয়—এমন কোনো কার্যক্রম রোহিঙ্গাদের করতে দেওয়া হবে না। ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “ভোটের সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত অনেকটা সিল থাকবে। সরকার কোনো ছাড় দেবে না। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত সিল করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহও মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে অস্ত্র পাচার বা নাশকতার ঝুঁকি রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরের ক্যাম্পগুলোতে ১১ লাখ ৭৩ হাজার ১৭১ জন রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৯৩৭ জন রোহিঙ্গা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দেশে প্রথমবারের মতো এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণে খাতা নতুন করে দেখা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ৫৬ হাজার ২৫৯টি উত্তরপত্রে নম্বর পরিবর্তন এসেছে। চার হাজার ৫৮৫ শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের। এর মধ্যে নতুন করে তিন হাজার ৭৯ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। শিক্ষা বোর্ড-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে কোনো বছর পুনর্নিরীক্ষণে এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেনি। এবারই ফলে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন ধরা পড়েছে। গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শেষ হয় ১৭ আগস্ট। এর ২৩ দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোথাও সঠিক উত্তরেও নম্বর দেওয়া হয়নি। কোথাও উত্তর মূল্যায়নই করা হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খাতার ভেতরে দেওয়া নম্বর মূল নম্বরপত্রে সঠিকভাবে তোলা হয়নি। সঠিক উত্তরকে ভুল ধরে নম্বর না দেওয়ার ঘটনাও পাওয়া গেছে। এখন প্রশ্ন আসছে, প্রথম দফার মূল্যায়ন ও পুনর্মূল্যায়িত ফলে বড় রকমের পার্থক্য হলো কীভাবে? অবশ্য ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের দিন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, এবার সঠিক মূল্যায়ন করায় ফলের প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করে চার লাখ দুই হাজার ৫২ জন। তারা মোট ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। ঢাকায় বদলেছে ২১ হাজারের বেশি খাতার নম্বর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তরপত্রের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ শিক্ষার্থী দুই লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। এর মধ্যে ২১ হাজার ৬৯টি উত্তরপত্রের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে আট হাজার ৯৯৯ জনের।পুনর্নিরীক্ষণের পর ঢাকা বোর্ডে ৩৩৭ জন ফেল থেকে পাস করেছে। নতুন জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯০৬ জন। ময়মনসিংহে ৭১ হাজার ৬৬টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ আবেদনের বিপরীতে ছয় হাজার ৫৩৮টি উত্তরপত্রের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে পাঁচ হাজার ৩২১ জনের। এ বোর্ডে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি– এক হাজার ১৮০ জন ফেল থেকে পাস করেছে। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭৭৭ জন। দিনাজপুরে ৮৯ হাজার ২৮৬টি আবেদনের বিপরীতে পাঁচ হাজার ৬৩৬টি উত্তরপত্রের নম্বর সংশোধন হয়েছে। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে তিন হাজার ৩৫৪ জনের। ফেল থেকে পাস করেছে ৮৬৭ জন। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৭৫ জন। কুমিল্লায় ৯১ হাজার ৪৯৪টি উত্তরপত্রের মধ্যে চার হাজার ৭৩টিতে নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে দুই হাজার ১৫৫ জনের। ফেল থেকে পাস করেছে ৩৩৬ জন। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২০৭ জন। যশোরে ৭৪ হাজার ৭১৭টি উত্তরপত্রের মধ্যে এক হাজার ৯৪৪টিতে নম্বর সংশোধন হয়েছে। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এক হাজার ৬৮৪ জনের। ফেল থেকে পাস করেছে ৩৮০ জন। নতুন জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৮২ জন। চট্টগ্রামে এক লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি উত্তরপত্রের বিপরীতে দুই হাজার ৯৭৫টিতে নম্বর পরিবর্তন এবং এক হাজার ১৮৫ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ১৯০ জন। নতুন জিপিএ ৫ পেয়েছে ৮৩ জন। বরিশালে ৫০ হাজার ২৯৩টি উত্তরপত্রের মধ্যে তিন হাজার ১১৮টিতে নম্বর সংশোধন হয়েছে। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এক হাজার পাঁচজনের। ফেল থেকে পাস করেছে ৭৯ জন। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১১২ জন। সিলেটে ৫০ হাজার ৭১৩টি উত্তরপত্রের বিপরীতে দুই হাজার ৫৮৭টিতে নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এক হাজার ২৮৬ জনের। ফেল থেকে পাস করেছে ১৮৬ জন। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১২১ জন। রাজশাহীতে ৯৮ হাজার ৭১০টি উত্তরপত্রের বিপরীতে এক হাজার ৪০৩টিতে নম্বর পরিবর্তন এবং ৬৩১ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ১১১ জন। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭৭ জন। মাদ্রাসা ও কারিগরিতেও বড় পরিবর্তন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজার ১২০ শিক্ষার্থী এক লাখ তিন হাজার ৫০৩টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৯৪৪টি উত্তরপত্রের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এক হাজার ৫৪৯ জনের। ফেল থেকে পাস করেছে ২৫৫ জন। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৯৩ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজার ৩০৭ শিক্ষার্থী ৩৪ হাজার ৩০৫টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। এতে এক হাজার ১৭২টি উত্তরপত্রের নম্বর পরিবর্তন এবং ৬৬৭ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। ফেল থেকে পাস করেছে ৬৬৪ জন। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪৬ জন। অর্থাৎ, সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি– সব মিলিয়ে চার হাজার ৫৮৫ শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। ৯ সাধারণ বোর্ডে ফল বদল ৪৯ হাজারের বেশি ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে তিন লাখ ৪১ হাজার ৬২৫ শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। তারা মোট ৯ লাখ ১৮ হাজার ৬৫০টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। এর মধ্যে ৪৯ হাজার ১৪৩টি উত্তরপত্রে নম্বর সংশোধন হয়েছে। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৫ হাজার ৬২০ জনের। ফেল থেকে পাস করেছে তিন হাজার ৬৬৬ জন। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে দুই হাজার ৭৪০ জন। প্রশ্নের মুখে প্রথম দফার মূল্যায়ন একজন পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন অনেকাংশে নির্ভর করে পাবলিক পরীক্ষার ফলের ওপর। একটি বা দুটি নম্বরের জন্য বদলে যেতে পারে গ্রেড, জিপিএ কিংবা পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ। পুনর্নিরীক্ষণে বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্রে নম্বর পরিবর্তনের ঘটনায় সেই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন সামনে আসছে। বোর্ড-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক খাতা দেখতে হয়– এসব বাস্তবতা থাকলেও একজন পরীক্ষকের দায়িত্বে অবহেলার সুযোগ নেই। কারণ, একটি নম্বরও একজন শিক্ষার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হওয়া উদ্বেগের বিষয়। খাতা দেখার সময় শিক্ষকদের যে সতর্কতা ও মনোযোগ থাকা দরকার, অনেক ক্ষেত্রেই তার ঘাটতি ছিল বলে মনে হচ্ছে।’ ওই কর্মকর্তা বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাতা মূল্যায়নের চাপ, অসতর্কতা কিংবা তাড়াহুড়ার কারণে কোনো কোনো পরীক্ষক উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে থাকতে পারেন। যেসব পরীক্ষকের ভুলের কারণে শিক্ষার্থীদের ফল পরিবর্তন হয়েছে, তাদের বিষয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা করা হতে পারে। ১০ নম্বরের বেশি পরিবর্তনে ব্যবস্থা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, যেসব উত্তরপত্রে ১০ নম্বরের বেশি পরিবর্তন হয়েছে, সেগুলো আলাদাভাবে শনাক্ত করা হবে। এর পর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের মূল্যায়ন পদ্ধতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে ১০ নম্বরের বেশি পরিবর্তন হওয়া উত্তরপত্রের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে বলেও তিনি জানান। দায় কি শুধু পরীক্ষকের? মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. ফারুক আহম্মেদ জানিয়েছেন, পুনর্নিরীক্ষণে নম্বর পরিবর্তন হওয়া উত্তরপত্রগুলো পর্যালোচনা করা হবে। শুধু প্রথম পরীক্ষক নন, প্রধান পরীক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বও খতিয়ে দেখা হবে। কোনো পরীক্ষকের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এতে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, উত্তরপত্র মূল্যায়নের পুরো ব্যবস্থায় তদারকি কতটা কার্যকর। প্রথম পরীক্ষকের পর প্রধান পরীক্ষক, পরীক্ষণ নিয়ন্ত্রণ ও বোর্ড পর্যায়ে যে একাধিক ধাপের নজরদারি থাকার কথা, সেসব ধাপ পেরিয়েও যদি হাজার হাজার খাতায় ভুল থেকে যায়, তাহলে দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়াটিও কি নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন? গত বছর ১৫ হাজার ফল পরিবর্তন ২০২৫ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণে দাখিল, কারিগরিসহ ১১ বোর্ডের ১৫ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়। নতুন করে জিপিএ ৫ পায় এক হাজার ৪৫ জন। ফেল থেকে পাস করে চার হাজার শিক্ষার্থী। এ বছর ফলের সঙ্গে বেড়েছে প্রশ্নও এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল অনুযায়ী পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। পুনর্নিরীক্ষণের পর নতুন করে চার হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং তিন হাজার ৭৯ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। এতে সংশোধিত ফলের পাশাপাশি বাড়ছে পাসের হার ও মোট জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। অভিভাবক ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান জিয়াউল কবির দুলু বলেন, একটি পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্রে নম্বর দেওয়া শুধু একটি প্রশাসনিক কাজ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ। তাই পুনর্নিরীক্ষণে ৫৬ হাজারের বেশি উত্তরপত্রে নম্বর পরিবর্তনের ঘটনা কেবল কিছু শিক্ষার্থীর ভাগ্য বদলের গল্প নয়, এটি পুরো মূল্যায়ন ব্যবস্থার জন্যও একটি সতর্কবার্তাও। যাদের গাফিলতিতে মূল্যায়নে ত্রুটি ছিল, তাদের শাস্তি দিতে হবে। পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত আগে জানতেন না শিক্ষকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ বলেন, এ বছর খাতা পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত হওয়ায় সুযোগটা বহু পরীক্ষার্থী নিয়েছে। পরীক্ষকও সংগত কারণে সতর্কভাবে খাতা দেখেছেন। এতে বহু পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। প্রথম পরীক্ষক যখন খাতা দেখেছেন, তখনও সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি এ বছর খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। ফলে তিনি তাঁর মনমতোই নম্বর দিয়ে গেছেন। মনিনুর রশিদ বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকলেও আমাদের দেশে খাতা মূল্যায়নের কোনো সঠিক মানদণ্ড বা রুব্রিক্স ঠিক করে দেওয়া নেই। সংগত কারণেই একেক শিক্ষক একেক রকম মূল্যায়ন করেন। আবার একই শিক্ষক সকালে এক রকম, বিকেলে আরেক রকম নম্বর দেন। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে শিক্ষা বোর্ডগুলোর উচিত একটি মূল্যায়ন মানদণ্ড তৈরি করে যথাযথ রুব্রিক্স তৈরি করা। এর পর তার আলোকে বাছাই করা শিক্ষকদের পরীক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া।’
গরমের তীব্রতা বৃদ্ধির মুখে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট। একই সময়ে বন্ধ আছে আরএনপিএলের বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে নতুন করে ঘাটতি বেড়েছে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের। সব মিলিয়ে ঘাটতি ছাড়িয়ে গেছে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট। একদিকে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে গরম বাড়ছে, অন্যদিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল হয়ে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই সময় দেশে ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি হয়েছে। এর অর্থ চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের দিকেই যাচ্ছে পরিস্থিতি। এই সময় বিদ্যুতের চাহিদা দেখানো হয়েছে ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট, যা সর্বোচ্চ চাহিদা থেকে অন্তত এক হাজার মেগাওয়াট কম। এই সময় উৎপাদন হচ্ছিল ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট যা সাধারণ উৎপাদন পরিস্থিতি থেকে অন্তত এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট কম। দেশে বিদ্যুতের চাহিদা যখন বেড়ে যায়, তখন সব ধরনের সংকটের মধ্যেও দেশে ১৪ হাজার থেকে সাড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে দেখা গেছে। বিদ্যুতে হঠাৎ এই ঘাটতির কারণ খুঁজে পাওয়া গেল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলামের কথায়। তিনি জানান, হঠাৎ করে আদানির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। তারা দ্রুত তা মেরামতের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে আরএনপিএলের একটি ইউনিটও বন্ধ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে একযোগে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের নতুন করে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া বাদবাকি পুরোনো সমস্যাগুলো তো আগের মতোই রয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বুধবার রাত ১১টায় আদানির বিদ্যুৎ হঠাৎ ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট থেকে ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াট যা একদিন আগেও ছিল ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুকেন্দ্র ছাড়াও কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে একই সময়ে। আশুগঞ্জে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র একদিন আগেও ৩১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল। কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি বন্ধ হয়ে পড়েছে। এছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে কেবল ঢাকা অঞ্চলে বন্ধ অথবা স্বল্প সক্ষমতায় চলছে অন্তত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে একটি করে কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এদিকে বিদ্যুতের এমন ঘাটতিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। মাঝে কয়েক সপ্তাহের জন্য কমে আসা লোডশেডিং আবার তীব্র আকার ধারণ করেছে। শহরাঞ্চলে দিনে চার বার করে বিদ্যুৎ গেলেও গ্রামের দিকে আবারও ৭ থেকে ১০ ঘণ্টার লোডশেডিং ফিরে এসেছে।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মুমূর্ষু স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করলে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেছেন এক ব্যক্তি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান। নিহত শাহিনা আক্তার (২২) সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে। তিনি পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোরসেলিম আকাশ সিয়াম নিজেই একটি প্রাইভেটকার চালিয়ে স্ত্রী শাহিনাকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক ইসিজি পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপরই সিয়াম দ্রুত গাড়ি নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি গাড়ি নিয়ে চলে যান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক হৃদয় মণ্ডল বলেন, চিকিৎসক শাহিনাকে মৃত ঘোষণার পর সিয়ামের আচরণ ও তৎপরতা নিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর তিনি দ্রুত প্রাইভেটকার নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। পরে সিয়াম নিজ এলাকায় গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দাম্পত্য জীবনে শাহিনাকে প্রায়ই মারধর করতেন সিয়াম। নিহতের মা রহিমা বেগমের দাবি, সিয়াম মাদকাসক্ত এবং ঘটনার আগের দিনও তার মেয়েকে মারধর করা হয়েছিল। তিনি মেয়েকে হত্যার অভিযোগ করেছেন। শাহিনার চাচা মাজিদুর রহমানও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য, কয়েক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর সিয়াম ও শাহিনার বিয়ে হয়। তাদের চার ও এক বছর বয়সী দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। দাম্পত্য কলহ নিয়ে একাধিকবার সালিশও হয়েছে বলে তিনি জানান। পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম জানান, শাহিনা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গিয়েছিলেন। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান জানান, শাহিনার মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পুরোনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলায়ও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁস নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং আটক সিয়ামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।