সারাদেশ

বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের মাঝে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার চার হাজার ৬২৫টি দুস্থ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এ সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারি বরাদ্দের ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কার্ড বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে ভাগ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। 

 

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈশ্বরদী পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে সভা করে দল দুটির নেতাদের মধ্যে এই কার্ড ভাগ করে দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আরিফুর রহমান বলেন, পৌরসভায় মেয়র বা কাউন্সিলর না থাকায় ঝামেলা এড়াতে শীর্ষ নেতাদের কাছে কার্ড দেওয়া হয়েছে।

ঈশ্বরদী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে ‘কার্ড ভাগাভাগি’র ওই সভায় রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ছিলেন স্থানীয় এমপি পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের প্রতিনিধি হিসেবে পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গোলাম আজম, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের প্রতিনিধি হিসেবে পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবলু এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী পৌর বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর প্রতিনিধি হিসেবে পৌর বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনি।

বৈঠকের আগে পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে সভায় অংশ নেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ১৫-২০ জন নেতা, ঈশ্বরদী থানার ওসি মমিনুজ্জামান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান, শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি নান্নু রহমান, ঈশ্বরদী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তাইবুর রহমান, জ্যেষ্ঠ করণিক মাসুদুল ইসলামসহ পৌরসভার অন্য কর্মকর্তারা।

তিন পক্ষের বৈঠক শেষে চার হাজার ৬২৫টি কার্ডের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দুস্থদের জন্য ৬২৫টি কার্ড রেখে বাকি চার হাজার কার্ড বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়। এতে বিএনপিকে দুই হাজার, জামায়াতে ইসলামীকে এক হাজার ২০০ এবং বিএনপির বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাদের জন্য ৮০০টি কার্ড ভাগ করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আরিফুর রহমান বলেন, এসব কার্ড সাধারণত মেয়র-কাউন্সিলরদের মাধ্যমে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দুস্থ পরিবারের মধ্যে বণ্টন করা হয়। কিন্তু এখন পৌরসভায় মেয়র বা কাউন্সিলর নেই, তাই ঝামেলা এড়াতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের পৌরসভায় ডেকে তাদের মধ্যে কার্ড ভাগাভাগি করে দেওয়া হয়েছে। তারা এসব কার্ড দুস্থদের মধ্যে বণ্টন করবেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনও বাড়াবাড়ি করে না, শান্তিপূর্ণ সমাধানের স্বার্থে কার্ডের সংখ্যা কম পেলেও আমরা তা মেনে নিয়েছি।

সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন জনি বলেন, আমি বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর প্রতিনিধি হিসেবে মিটিংয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম। ভিজিএফ কার্ড ভাগ করার ক্ষেত্রে আমরা ছাড় দিয়ে পৌরসভার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।

 

পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবলু বলেন, ভিজিএফ কার্ড প্রদান করার জন্য আমাকে পৌরসভায় আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। সেখানে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কার্ড ভাগ না করে আমাদের তিনজনকে একত্রে আলোচনার জন্য বসিয়ে বিএনপির অন্য গ্রুপকেও কার্ড দেওয়া হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
গ্রেপ্তার হলেন সাবেক এমপি রুমী

লালমনিরহাট জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল।   বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান। এর আগে বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য সফুরা বেগম রুমী লালমনিরহাট শহরের তালুক খুটামারা এলাকার আব্দুল্লাহর স্ত্রী। তিনি সংরক্ষিত নারী আসন-২ (লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম) এর সাবেক সদস্য এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য পদে রয়েছেন।   বিজ্ঞপ্তিতে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, নাশকতা ও হত্যাসহ ৫টি মামলায় অভিযুক্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নেত্রী অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তাকে লালমনিরহাট নিয়ে আসা হয়েছে এবং আইনিপ্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে।    

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ০৯, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি

আজ যেসব এলাকায় ব্যাংক বন্ধ

ছবি : সংগৃহীত

পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত, মরদেহ হস্তান্তর

ছবি : সংগৃহীত

পুলিশ পরিচয়ে মাদ্রাসাছাত্রী অপহরণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৬

ছবি : সংগৃহীত
বোতলে অকটেন নিয়ে পুলিশ-র‍্যাবের সামনেই সংঘর্ষ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ফিলিং স্টেশনে বোতলে অকটেন সরবরাহকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন।   বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলার একটি ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাবের উপস্থিতিতেই তেল সরবরাহ কার্যক্রম চলছিল।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিং স্টেশনটিতে একদিকে মোটরসাইকেলের জন্য এবং অপরদিকে বোতলে অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছিল। এতে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছিল এবং অনেকেই সময়মতো তেল নিতে পারছিলেন না।   পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে একপর্যায়ে বোতলে অকটেন সরবরাহ সাময়িক বন্ধ রেখে মোটরসাইকেলে তেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা বোতল সরিয়ে রাখলে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এক ব্যক্তি স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর হামলা চালান। পরে ঘটনাটি সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং একাধিক ব্যক্তি এতে জড়িয়ে পড়েন।   ঘটনার সময় উপস্থিত পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন, ফলে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।   আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।  

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ০৯, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বৃহস্পতিবার, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন

সংগৃহীত ছবি

নোঙর তুলেছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’, কাল অতিক্রম করবে হরমুজ প্রণালি

ছবি : সংগৃহীত

মিড-ডে মিলের রুটিতে ছত্রাক, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ

ছবি : সংগৃহীত
কুড়িগ্রামে প্রথম পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন, কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন শুরু হয়েছে। এতে জেলার কৃষিতে নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে বলে মনে করছেন কৃষকরা। ধান ও আলুর মতো প্রচলিত ফসলে লোকসান গুনে বিকল্প হিসেবে এই অর্থকরী ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন স্থানীয় কৃষকরা।   জেলার রাজারহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছাটমাধাই গ্রামে গিয়ে দেখা যায় পেঁয়াজ বীজের নতুন এই চিত্র। ওই গ্রামের কৃষক রাসেল আহমেদ গত ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৬০ শতক জমিতে 'পলিক্রস' জাতের পেঁয়াজ রোপণ করেন। বর্তমানে মাঠজুড়ে সাদা ফুলে ছেয়ে গেছে ক্ষেত। গাছগুলো বেশ সুস্থ ও সবল রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে বীজ সংগ্রহ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   কৃষক রাসেল আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ধান ও আলু চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এসব ফসলে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছিলেন না তিনি। অনেকটা শখের বশেই এবার পেঁয়াজের বীজ চাষ শুরু করেছেন।   তিনি বলেন, ফলন খুব ভালো দেখা যাচ্ছে। যদি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তবে ভালো লাভ করতে পারব। এবার সফল হলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা আছে। এদিকে রাসেলের এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি করেছে। তার বীজ বাগানে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ জন নারী ও পুরুষ শ্রমিক কাজ করছেন। কাজের ধরন অনুযায়ী তারা দৈনিক ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পাচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, এলাকায় এ ধরনের চাষাবাদ বাড়লে বেকারত্ব দূর করতে তা বড় ভূমিকা রাখবে। ​ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে কুড়িগ্রামে পেঁয়াজের বীজের জন্য মূলত ফরিদপুর অঞ্চলের ওপর নির্ভর করতে হতো। এবারই প্রথম জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই বীজ উৎপাদন শুরু হলো। মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় বড় পরিসরে এই চাষ ছড়িয়ে দিতে পারলে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। ​ কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পেঁয়াজ দেশের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। কুড়িগ্রামের আবহাওয়া এই বীজ উৎপাদনের জন্য বেশ উপযোগী। আগ্রহী কৃষকদের কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।  

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ০৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বগুড়ায় নির্বাচন অফিস ঘেরাও, জামায়াতের নারী কর্মীদের বিক্ষোভ

ছবি : সংগৃহীত

তেল সংকটে উত্তেজনা, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ

ছবি: সংগৃহীত

আকস্মিক বাজার পরিদর্শন বাণিজ্যমন্ত্রীর

0 Comments