সারাদেশ

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগ, তদন্তে ভিন্ন চিত্র পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
সিফাত আব্দুল্লাহ ও তার দেখানো বিদ্যুৎ বিলের কাগজ। ছবি: সংগৃহীত
সিফাত আব্দুল্লাহ ও তার দেখানো বিদ্যুৎ বিলের কাগজ। ছবি: সংগৃহীত

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন গাজীপুরের কলেজছাত্র সিফাত আব্দুল্লাহ। ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে সমালোচনার সৃষ্টি হলে তাকে গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। তবে সিফাতের উত্থাপিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তদন্ত করে ভিন্ন চিত্র পেয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১।

 

সিফাত তার ভিডিওতে দাবি করেন, গত দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয়েছে তাকে। পরে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এক মাসের বিদ্যুৎ বিল একটা পুরো পরিবারকে জিম্মি কইরা ফেলবো?’

 

অভিযোগের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আহসান কবীর। তার স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনে সিফাত আব্দুল্লাহর পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিলের বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।

 

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সিফাতের পিতা মো. সেকান্দার আলীর নামে গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত দোতলা বাড়িটিতে মোট তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, একটি মিটার (মিটার নম্বর: S000433*7) দিয়ে মে মাসে ৪৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল এসেছে ৩১৭ টাকা। জুনে ৫০ ইউনিটে ৩৪২ টাকা, জুলাইয়ে ১৫০ ইউনিটে ১ হাজার ১৮২ টাকা এবং আগস্টে ৭৫ ইউনিটে ৫১৩ টাকা বিল এসেছে। চার মাসে এই মিটারে মোট ৩২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল হয়েছে ২ হাজার ৩৫৪ টাকা।

 

দ্বিতীয় মিটারটিতে (মিটার নম্বর: S000218*5) মে মাসে ২৫০ ইউনিট ব্যবহারে বিল এসেছে ১ হাজার ৮১২ টাকা। জুনে ২০০ ইউনিটে ১ হাজার ৫৮৪ টাকা, জুলাইয়ে ৪০০ ইউনিটে ৩ হাজার ৫৯৪ টাকা এবং আগস্টে ২৮৫ ইউনিটে ২ হাজার ৩৯৭ টাকা বিল আসে। চার মাসে এই মিটারে মোট ১ হাজার ১৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল হয়েছে ৯ হাজার ৩৮৭ টাকা।

 

তৃতীয় মিটারটির (মিটার নম্বর: S000424*7) হিসাবে মে মাসে ১২৫ ইউনিটে ৮৪৭ টাকা, জুনে ১২০ ইউনিটে ৬৯০ টাকা, জুলাইয়ে ২০৫ ইউনিটে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা এবং আগস্টে ১৭৫ ইউনিটে ১ হাজার ৩৬২ টাকা বিল এসেছে। চার মাসে এই মিটারে মোট ৬২৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল হয়েছে ৪ হাজার ৫৩২ টাকা।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তদন্ত প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের মে থেকে আগস্ট—এই চার মাসে সিফাতের বাড়ির তিনটি আবাসিক মিটারে মোট ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। এর বিপরীতে মোট বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।

 

তদন্তের সময় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা সিফাতের বাড়িতে গিয়ে বাসায় ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের প্রকৃত তালিকা সংগ্রহ করতে চাইলে পরিবারের পক্ষ থেকে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে বাড়ির গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, সিফাতের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে করা অভিযোগ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু একটি মিটারের বিল বিবেচনা করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। কারণ, তার বসবাসের বাড়িটিতে মোট তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিনটি মিটারের ব্যবহার, ইউনিট ও বিলের হিসাব একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

 

তদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া হিসাবের সঙ্গে সিফাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের পার্থক্য থাকায় তার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সিফাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য এবং তদন্ত প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
মুন্সীগঞ্জের যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং ভেঙে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে গেছে দর্শনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। এ দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন।   শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে হাসাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী দর্শনা পরিবহনের বাসটি একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায়।   দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধার করা ১১ জনকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এছাড়া ৫ জনকে ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।   ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনায় নিহত একজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার নাম রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। নিহত অপর দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।   আহত ১৬ জন হলেন—হৃদয় (৩০), শাহিন আক্তার (৩২), নূর ইসলাম (৫৫), ইমরান (২৭), গিলবাড সরকার (৫৫), তরিকুল ইসলাম (৩৬), সাইফুল ইসলাম (৪০), মিরাজুল ইসলাম (২৮), রফিকুল ইসলাম (৩৫), অনিফিন (১৭), সন্দীপন বসু (৪০), ইকরাম (৪০), রায়হান (২১), হাসিব (২২), তিশা (২৪) ও বোরহান উদ্দিন (৫৫)।   আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, ডামুরহুদা ও কাপাসডাঙ্গায়। এছাড়া মেহেরপুরের মুজিবনগর, ঝিনাইদহের মহেশপুর, ঢাকার আফতাবনগর এবং মাগুরা সদরের বাসিন্দাও রয়েছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৪, ২০২৬

ইশরাকের অভিযান চালানো সেই স্পটে এবার পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ২৮

রমনায় পুলিশ কর্মকর্তার কার্যালয়ের পাশে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

ছবি: সংগৃহীত

পাহাড়ে অবরোধ ঘিরে গোলাগুলি, আতঙ্কে থমথমে সাজেক, ধস পর্যটন ব্যবসায়

কক্সবাজারের হোটেলে আবারও আগুন, তিন শতাধিক পর্যটক নিরাপদে উদ্ধার

কক্সবাজারের হোটেলে আবারও আগুন লেগেছে। এবার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টের দ্য সি প্রিসেন্স আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন লাগার সময় হোটেলটিতে তিন শতাধিক পর্যটক অবস্থান করছিলেন।     তবে দ্রুত সবাইকে বের করে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।     শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে হোটেলটির নিচতলার পার্কিং এলাকায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় আধঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস ও হোটেল কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।   এতে পার্কিং এলাকায় থাকা জেনারেটরসহ বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে জেনারেটরের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।     হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাদের বলেন, হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে। কর্মীদের তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পর্যটকেরা সবাই নিরাপদে রয়েছেন।     উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার ছয় দিনের মাথায় কক্সবাজারের আরেকটি আবাসিক হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় পর্যটনকেন্দ্রের হোটেলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   কক্সবাজারে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটক হোটেল ও রিসোর্টে অবস্থান করেন। এসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক সংযোগ, জেনারেটর এবং জরুরি বহির্গমনপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। আগুন লাগলে পর্যটকদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য কর্মীদের প্রস্তুতিও থাকা প্রয়োজন।   দ্য সি প্রিসেন্স হোটেলে প্রাণহানি না ঘটলেও পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। হোটেলগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষ ও ট্রাকে চাপা পড়ে নিহত ৬

ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের রামপালে নির্মিত হতে যাচ্ছে ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে সোমবার চালু হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস, টিকিট পাবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-খুলনা সড়কে ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত ৩

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর অংশের মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর তিনটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।   হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি এলাকায় ফরিদপুর থেকে মাগুরাগামী অ্যাম্বুলেন্স ও মাগুরা থেকে ছেড়ে আসা কিং ফিশার নামের লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সের তিন যাত্রী নিহত ও চারজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালান।    মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. শামিম রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।   এ বিষয়ে করিমপুর হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুস সালাম বলেন, বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার কাজ চালাচ্ছি, পরে বিস্তারিত বলা যাবে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৩, ২০২৬

কক্সবাজারের সৈকত: অসচেতনতা, বৈরী আবহাওয়ায় বাড়ছে প্রাণহানি

অর্ধশতাধিক সুস্থ ব্যক্তির নামে প্রতিবন্ধী ভাতা, ইউপি সদস্য আটক

ছবি: সংগৃহীত

থানার ওসিকে ঘিরে রুমিন ফারহানার মন্তব্য, ‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন’

0 Comments