অর্থনীতি

বিদেশে চাহিদা বাড়ছে বাংলাদেশি ফলের

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২০, ২০২৬

বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের ফলের চাহিদা বাড়ছে বিদেশে। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে রপ্তানি আয়ে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ফল রপ্তানি করে বাংলাদেশ যেখানে মাত্র শূন্য দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল, সেখানে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সেই আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের ফল রপ্তানি আয় প্রায় ১১৬ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইং উপ-পরিচালক (রপ্তানি) মফিদুল ইসলাম বলেন, কাঁঠাল, আনারসসহ নানা জাতের ফল বাংলাদেশ থেকে নিতে চায় অনেক দেশ। বিদেশে ক্রমেই বাংলাদেশের উৎপাদিত ফলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র নীতি ও পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক আবু মোখলেস আলমগীর হোসাইন কৃষি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ বিষয়ে বাসস’কে বলেন, কৃষি পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের ডেডিকেটেড কোন কার্গো বিমান নেই। যাত্রীদের বিমানে করে কৃষি পণ্য বহির্বিশ্বে রপ্তানি হয়ে থাকে। শাকসবজি সহ পচনশীল কৃষি পণ্য রপ্তানি করতে যে ফ্যাসিলিটেজ প্রয়োজন, সেই ফ্যাসিলিটি নেই। 

তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশগুলো কৃষি পণ্যে যে ধরণের স্যানিটাইজেশন মেইন্টেন করে থাকে। আমাদের দেশে এর প্রচুর ঘাটতি আছে। গুড অ্যাগ্রিকালচার প্র্যাকটিস খুবই প্রয়োজন। কৃষকদের যদি স্যানিটাইজেশন বিষয়ে আরও বেশি বেশি প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয় তবে আমাদের কৃষি পণ্যের চাহিদা বাড়বে। ইপিবি রপ্তানিকারকদের অ্যাডভোকেসি করে থাকে। কৃষি পণ্য রপ্তানিতে রপ্তানিকারকদের যে প্রতিবন্ধকতাগুলো আছে সে বিষয়ে আমরা নিয়মিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে থাকি। 

এছাড়াও গত দুই বছর কৃষি পণ্যে রপ্তানি আয়ের সূচক নিম্নমুখী থাকলেও এবার তা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি পণ্যে রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

ইপিবি’র তথ্যমতে, ২০২০-২০২১ ও ২০২১-২০২২ অর্থবছরে কৃষিতে রপ্তানি আয় ছিল যথাক্রমে ১ দশমিক শূন্য ২ ও ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এরপর ২০২২-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে কৃষিতে রপ্তানি আয় কমে হয় যথাক্রমে ৮২৭ ও ৯৬৪ মিলিয়ন ডলার। সর্বশেষ গত অর্থবছরে এই আয় বেড়ে হয় ৯৮৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলারে।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে চা থেকে রপ্তানি আয় হয় ৪ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার। একই অর্থবছরে সবজি থেকে রপ্তানি আয় হয় ৮১ দশমিক ১২ মিলিয়ন ডলার। তামাকজাত পণ্যে রপ্তানি আয় ২৫১ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলার। মসলা জাতীয় পণ্যে রপ্তানি আয় ৫৬ দশমিক ৩১ মিলিয়ন ডলার। ড্রাই ফুডে রপ্তানি আয় ১৮৬ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার। তেল বীজ থেকে রপ্তানি হয় ২৪ দশমিক শূন্য ৬ মিলিয়ন ডলার।  

এসব তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, পান পাতার চাহিদাও বহির্বিশ্বে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ৮ দশমিক শূন্য ৯ মিলিয়ন ডলারের পান পাতা রপ্তানি হয়। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এ রপ্তানি আয় বেড়ে হয় ২১ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও, গত অর্থবছরে উদ্ভিজ্জ চর্বি এবং তেল রপ্তানিতে আয় হয় ১১৮ দশমিক শূন্য ৪ মিলিয়ন ডলার। চিনি রপ্তানিতে ২০ দশমিক ৮২, পানীয় রপ্তানিতে ৩৫ দশমিক ৪৭, খৈল রপ্তানিতে শূন্য দশমিক ১৩ ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় হয় ১২১ দশমিক শূন্য ৮ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের কৃষি পণ্য রপ্তানির বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের কৃষি পণ্য ১৩০ এর বেশি দেশি রপ্তানি হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি কৃষি পণ্য রপ্তানি হয় ভারতে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ২১১ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন ডলারের কৃষি পণ্য রপ্তানি হয়েছে ভারতে। সৌদি আরবে একই অর্থবছরে রপ্তানি হয় ১১৪ দশমিক শূন্য ৩ মিলিয়ন ডলার।

এছাড়াও, আরব আমিরাত, বেলজিয়াম, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের কৃষি পণ্যের বেশি। এসব দেশে গত অর্থবছরে যথাক্রমে রপ্তানি হয়েছে, ৭৪, ৭০, ৫১, ৪১ ও ৪৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। রপ্তানি বাজার বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ওমান, ফিলিপাইন, কাতার, চায়না ও কানাডাতেও বাংলাদেশে উৎপাদিত কৃষি পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে ৭৫৯০৩ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আর্থিক সংকটে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হিমশিম খাওয়া ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার বেশি জরুরি তারল্য সহায়তা দিয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিন মঙ্গলবার (২৪ জুন) প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শারমীন আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।     লিখিত প্রশ্নে শারমীন আক্তার জানতে চান, তারল্য সংকটের কারণে যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দিতে পারছে না, সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়া নিশ্চিত করতে সরকার কোনও পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা?     লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব ব্যাংক তারল্য সংকটের কারণে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধে সমস্যায় পড়েছে, সেসব ব্যাংককে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত এ সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।’ তবে আর্থিক সংকটে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনও ধরনের তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়নি বলে তিনি সংসদকে জানান।   অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে সরকার ইতোমধ্যে “ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬” প্রণয়ন করেছে। আইন অনুযায়ী সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, একীভূতকরণ বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’   প্রসঙ্গত, গত দেড় বছরে দেশের কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক ও বেসরকারি ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে। বিশেষ করে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে আমানত উত্তোলনে চাপ তৈরি হয়। অনেক গ্রাহক এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ তুলতে না পারা এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষার অভিযোগ করেন। ব্যাংক খাতে অনিয়ম, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বল তদারকি, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং বিতর্কিত ঋণ বিতরণকে এ সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদরা চিহ্নিত করেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক খাত সংস্কার, দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জোরদার করা হয়।   বাংলাদেশ ব্যাংক এরই অংশ হিসেবে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তারল্য সহায়তা, আন্তব্যাংক সহায়তা এবং নীতিগত সুবিধা দিয়ে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করে আসছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সব ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র বিক্রি চালু রাখার নির্দেশনা

ছবি : সংগৃহীত

জুনেও রেমিট্যান্সের রেকর্ড গতি, ২৩ দিনেই ২২৩ কোটি ডলার

ঋণ নিয়ে ঋণ শোধ, বাড়ছে অর্থনীতির চাপ

ছবি: সংগৃহীত
সোনার বাজারে বড় ধস, ভরিতে দাম কমলো ৫,৪৮২ টাকা

দেশের বাজারে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানো হয়েছে।   বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানায়, দেশে তেজাবি সোনা ও রুপার দাম কমেছে। এমন অবস্থায় বুধবার সকালে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এ ছাড়া ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা। সোনার দামের সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৪১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ–চীন বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন মোড় নিচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত

স্বর্ণ ও রুপার আজকের বাজারদর

ছবি: সংগৃহীত

রিজার্ভ চুরির পরও সুইফটের সার্ভার রুমে নিরাপত্তা দুর্বলতা, বলছে অন্তর্বর্তী সরকারের কমিটি

সংগৃহীত ছবি
রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার আয়

বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ৩০.৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় অর্জন করেছে। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই অসামান্য অবদান আবারও প্রমাণিত হলো।   মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের চতুর্দশ বৈঠকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উপস্থাপিত হয়।   সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বিদায়ী অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১৫.৬ শতাংশ।   রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ থেকে এসেছে ৪.২৬ বিলিয়ন ডলার। এর ঠিক পরপরই তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে এসেছে ৪.১৭ বিলিয়ন ডলার। এই শীর্ষ তিন দেশ সম্মিলিতভাবে ১৩.১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে, যা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৩.৪ শতাংশ।   তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখান থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার। এর পরের অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ২.৮০ বিলিয়ন ডলার।   মন্ত্রীর দেওয়া এই পরিসংখ্যান দেশের অর্থনীতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের শ্রমবাজারের একচ্ছত্র আধিপত্যকে আবারও সামনে এনেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইন—এই ছয়টি দেশ থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৩.৬৬ বিলিয়ন ডলার এসেছে, যা মোট রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রায় ৪৫ শতাংশ।   এদিকে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যেও রেমিট্যান্সের গতি বেশ ভালো ছিল। এর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইতালি, যেখান থেকে এসেছে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার। ইউরোপীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মধ্যে ফ্রান্স থেকে ৩৩৫.৫৯ মিলিয়ন ডলার এবং গ্রিস থেকে ১৮৫.২১ মিলিয়ন ডলার এসেছে। এ ছাড়া জার্মানি থেকে ১৮০.৬২ মিলিয়ন ও পর্তুগাল থেকে এসেছে ১০২.৪৩ মিলিয়ন ডলার।   প্রচলিত শ্রমবাজারের বাইরে অন্য দেশগুলো থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রেমিট্যান্স এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২২৭.০৪ মিলিয়ন ডলার, কানাডা থেকে ২২৩.৯৮ মিলিয়ন ডলার, অস্ট্রেলিয়া থেকে ১৭৭.০৯ মিলিয়ন ডলার এবং জর্ডান থেকে ১৬৮.১৭ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।   এর পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৪০২.৯১ মিলিয়ন ডলার, মালদ্বীপ থেকে ১৪১.০৯ মিলিয়ন ডলার, মরিশাস থেকে ১৪৩.৭১ মিলিয়ন ডলার, জাপান থেকে ১০৫.৯৪ মিলিয়ন ডলার এবং ব্রুনাই দারুসসালাম থেকে ৮৭.৩৮ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

সৌর শক্তিতে পাকিস্তানের অগ্রগতি থেকে শিক্ষা নিতে হবে: সিপিডি

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীদের জন্য নতুন ‘টাকা হিসাব’ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাংকের ১৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

0 Comments