ভ্যালেন্টাইনস ডের দিনই ইতালির বিখ্যাত প্রাকৃতিক শিলাস্তম্ভ ‘লাভার্স আর্চ’ বা প্রেমের সেতুটি ধসে পড়েছে সাগরে। কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টি ও শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়ার পর এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিবিসি জানিয়েছে, আড্রিয়াটিক উপকূলবর্তী মেলেন্দুনিও শহরের সান্ত’আন্দ্রেয়া এলাকায় অবস্থিত প্রাকৃতিক পাথরের অর্ধবৃত্তাকার ওই স্থাপত্য কাঠামোটি দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র ছিল। বিশেষ করে, প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য এটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় ছিল। এটি দক্ষিণ ইতালির উপকূলীয় অঞ্চলের একটি পরিচিত প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো।
মেলেন্দুনিওর মেয়র মাউরিজিও সিস্টার্নিনো স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভ্যালেন্টাইনস উপহার।’
তিনি একে নিজ অঞ্চল ও পর্যটন খাতের জন্য ‘খুবই বড় আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ‘প্রকৃতি যেমন এই খিলানটি তৈরি করেছিল, তেমনি আবার তা ফিরিয়েও নিল।’
রোববার সকালে পথচারীরাই প্রথম লক্ষ্য করেন, প্রাকৃতিক এই নিদর্শনটি আর নেই। কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক ঝড় ‘ওরিয়ানা’ দক্ষিণ ইতালিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এই ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট প্রতিকূল আবহাওয়া শিলাস্তম্ভটির ক্ষয় ত্বরান্বিত করে এবং এর ফলে এটি ধসে পড়ে।
পুগলিয়া অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টনিয় ডেকারো সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের অঞ্চলের একটি পরিচায়ক বৈশিষ্ট্য, একটি প্রতীকী সম্পদ হারিয়েছি।
ডেকারো মনে করেন, উপকূলীয় ক্ষয় রোধ এবং সমুদ্রতীর সংরক্ষণে এখন আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম আবহাওয়ার ঘটনা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে উপকূল ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
যে অঞ্চলটিতে এই শিলা স্থাপনাটি ছিল, সেটি ইতালির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্বচ্ছ সমুদ্রের জন্য বিখ্যাত এই অঞ্চল প্রতিবছর হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটককে আকৃষ্ট করে। ‘লাভার্স আর্চ’-এর পতন তাই শুধু একটি প্রাকৃতিক কাঠামোর বিলুপ্তিই নয়, বরং স্থানীয় মানুষের আবেগ ও পর্যটন অর্থনীতির জন্যও এক বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আনুগত্য যাচাই করছে বলে একটি ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে দেখা গেছে। সামরিক সহায়তা ও নিরাপত্তা সুরক্ষা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মিত্র দেশগুলো ট্রাম্পের প্রতি কতটা অনুগত, তা যাচাই করা হচ্ছে বলে ওই নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গ নিউজের পর্যালোচনা করা নথিতে প্রতিটি ন্যাটো সদস্য দেশের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে কি না। এর মধ্যে ন্যাটোর সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সামরিক হামলার বিষয়ও রয়েছে। এছাড়া মিত্র দেশগুলো তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীর ওপর কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং ভবিষ্যতে এসব নিষেধাজ্ঞা কমাতে বা পুরোপুরি তুলে নিতে তারা রাজি কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বিষয়টি সঙ্গে অবগত কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, মিত্র দেশগুলো এই উদ্যোগে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের মতে, মার্কিন সুরক্ষার বিনিময়ে দেশগুলোকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশ্নপত্রের একটি প্রশ্নে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মিত্রদের মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শক্ত, স্পষ্ট এবং নীরব থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ন্যাটোর অনুমোদন ছাড়াই ইরানে হামলা চালানোর পর কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটনের জন্য তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর মধ্যে স্পেনও ছিল। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে এখন সরাসরি এসব নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছে। একইভাবে জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো অভিযানের বিষয়টিও পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন উদ্যোগের প্রতি মিত্রদের সমর্থন নিয়ে করা প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরোপে ওই অভিযানকে ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হয়েছিল। প্রশ্নপত্রে প্রতিরক্ষা খাতে মিত্র দেশগুলো মার্কিন কোম্পানিগুলোকে চুক্তি দেওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে কি না, ইউরোপে তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার নীতির প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছে কি না, সেসবও জানতে চাওয়া হয়েছে। কোনো দেশ এমন বিরোধিতা না করে থাকলে ভবিষ্যতে তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে রাজি কি না, সেটিও প্রশ্ন করা হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়ায় এই প্রশ্নগুলো ন্যাটোর মিত্রদের মধ্যে বিশেষভাবে বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে পেন্টাগনের ছয় মাসের পর্যালোচনার মধ্যেই প্রশ্নপত্রটি ফাঁস হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ওই পর্যালোচনা শেষ হওয়ার কথা। এরই মধ্যে ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো ইউরোপে মার্কিন সেনা কমানোর আশঙ্কা করছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহার করা হবে। তবে একই সময়ে পোল্যান্ডে আরও ৫ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জাতীয়তাবাদী মিত্র জয়ী হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামরিক উপস্থিতির সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে অবশ্য ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি পর্যালোচনার বিষয়টিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন। ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ায় এ ধরনের পর্যালোচনা যুক্তিসংগত বলে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, এটি ন্যাটোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠতা তৈরি করছে। তবে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে সামরিক সুরক্ষার সঙ্গে রাজনৈতিক আনুগত্যকে সরাসরি যুক্ত করার বিষয়টি ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাকালীন নীতির সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা এই জোটের অন্যতম ভিত্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, যা সদস্যদেশগুলোর পৃথক নীতিগত মতপার্থক্য থাকলেও বহাল থাকার কথা। চলতি মাসের শেষ দিকে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিতব্য এক বৈঠকে ন্যাটোর মিত্র ও কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনার বিষয়টি আরও আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে। সূত্র : ব্লুমবার্গ
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রয়োগ করা সামরিক কৌশল এবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে ইরান। আকাশ প্রতিরক্ষাকে বিভ্রান্ত করতে কোনো একক অস্ত্রের ওপর নির্ভর না করে একসঙ্গে ড্রোন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে সমন্বিত আক্রমণ চালাচ্ছে তেহরান। মূলত মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ানো এবং ব্যয়বহুল ‘প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর’ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত শেষ করে দেওয়াই এই কৌশলের মূল লক্ষ্য। জর্ডানের তিনটি মার্কিন ঘাঁটিতে টানা পাঁচ দিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ঢেউ পাঠায় ইরান। এর মধ্যে এমন কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যা আকাশে হঠাৎ দিক পরিবর্তন করতে পারে। প্রথম চার দিন যুক্তরাষ্ট্র বেশির ভাগ হামলা ঠেকালেও ১৭ জুলাই একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ভেদ করে মার্কিন ঘাঁটির অস্থায়ী আবাসে আঘাত হানে। এই হামলায় ৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা গেলেও একটি ভেতরে ঢুকে পড়ে। জানা গেছে, চলমান এই যুদ্ধে পেন্টাগন ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে এবং তাদের কাছে এখন ১ হাজার ৭০০টিরও কম মিসাইল অবশিষ্ট রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক সেথ জি জোন্স জানান, ইউক্রেনে ব্যবহৃত রুশ কৌশল দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নিরাপত্তাকে কঠিন করে তুলছে ইরান। যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলো মেরামত করে তারা আবারও আক্রমণ শুরু করেছে। এমনকি মাটির ৩০০ ফুটেরও বেশি গভীরে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর মতো অতি সুরক্ষিত স্থানে নিজেদের পরমাণু সরঞ্জাম ও শীর্ষ নেতৃত্বকে নিরাপদ রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।
রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের সেভাস্তোপোলে বোমা হামলায় এক রুশ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনীর হয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সেভাস্তোপোলে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। অঞ্চলটির গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ হামলায় এক সামরিক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে হামলার ঘটনায় ইউক্রেন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। নিহত কর্মকর্তা কে? রুশ কর্তৃপক্ষ নিহত কর্মকর্তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও দেশটির কয়েকটি অনানুষ্ঠানিক টেলিগ্রাম চ্যানেলের দাবি, নিহত ব্যক্তির নাম রবার্ট শাগেয়েভ। ওই চ্যানেলগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তিনি আগে ইউক্রেনের নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখলের পর মস্কোর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। সে সময় তিনি ইউক্রেনের সাবমেরিন জাপোরিঝঝিয়া-এর কমান্ডার ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের অনানুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট মিরোটভোরেতস, যেখানে যুদ্ধাপরাধী ও বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের তথ্য প্রকাশ করা হয়, সেখানে শাগেয়েভকে ‘হত্যা করা হয়েছে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিস্ফোরণের পর নারী গ্রেপ্তার গভর্নর রাজভোজায়েভ জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার নারী একজন রুশ নাগরিক। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনীর হয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বা হামলার সঙ্গে ইউক্রেনের কোনো সংস্থার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নতুন গুরুত্ব ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে অতীতেও একাধিক হামলার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ সেভাস্তোপোলের এই বিস্ফোরণের ঘটনাও চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সূত্র: রয়টার্স, তাস ও দ্য মস্কো টাইমস।