বিদেশি পর্যটকদের জন্য নতুন এক প্রিমিয়াম ভিসা সেবা চালু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী জুলাই থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার ফি প্রদান করলে নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারী মাত্র ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় পেতে পারবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত একটি অস্থায়ী বিধিমালার মাধ্যমে এ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে। মূলত ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত বি১ ও বি২ ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। পাইলট প্রকল্পটি ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু থাকবে।
বর্তমানে বি১ ও বি২ ভিসার আবেদন ফি ১৮৫ ডলার। নতুন প্রিমিয়াম সেবা গ্রহণ করতে চাইলে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার পরিশোধ করতে হবে। ফলে মোট খরচ দাঁড়াবে ৯৩৫ ডলারে।
তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করলে শুধু দ্রুত সাক্ষাৎকারের সময় পাওয়া যাবে। এর সঙ্গে ভিসা অনুমোদনের সম্ভাবনা বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই।
এই সেবা সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে চালু হবে না। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি মিশনে এটি কার্যকর করা হবে। কোন কোন দূতাবাস ও কনস্যুলেট এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে, সে তালিকা পরে প্রকাশ করা হবে।
মার্কিন সরকারের ধারণা, আগামী কয়েক বছরে দেশটিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসকে সামনে রেখে বাড়তি চাপের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ হবে যুক্তরাষ্ট্র, আর ২০২৮ সালের অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেসে। কর্মকর্তাদের মতে, এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত সাক্ষাৎকার সেবার চাহিদা কতটা রয়েছে তা মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন সেবা স্থায়ীভাবে চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে।
নতুন প্রিমিয়াম সুবিধাটি শুধু বি১ ও বি২ ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে, যা ব্যবসায়িক ও পর্যটন উদ্দেশ্যে স্বল্পমেয়াদি সফরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে যেসব দেশের নাগরিকরা ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের আওতায় ভিসা ছাড়াই স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেন, তারা এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার ভারত উপমহাদেশ শাখা (একিউআইএস)। গত ১০ আগস্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মনিটরিং টিম এমন তথ্য জানায়। এ টিমটি সন্ত্রাসবাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় নজরদারি চালায়। আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের ওপর নিষেধাজ্ঞায় নজরদারি করা মনিটরিং টিম জানিয়েছে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর ভারতের দিল্লির লালকেল্লায় যে গাড়ি বোমা হামলা হয় সেটি চালায় ‘আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ’ শাখা। আর তারা এখন বাংলাদেশেরও সেল গঠনের চেষ্টা করছে। রক্তক্ষয়ী ওই হামলার পর ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা চলতি বছরের মে মাসে ১০জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়। এ ১০ জন আনসার গাজাত-উল হিন্দ নামে একটি দলের বলেও উল্লেখ করা হয়। আর এ দলটির সঙ্গে আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখার সংশ্লিষ্টতা আছে। ভারতীয় তদন্তকারীরা জানায়, ওই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন উমর উন-নবী। তিনি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহকারী প্রসেফর হিসেবে কাজ করেছেন। উমর উন-নবী ওই বোমা হামলায় নিহত হন। ভয়াবহ ওই হামলায় সেদিন ১১ জনের মৃত্যু হয়। অসংখ্য মানুষ আহত হন এবং সম্পদের ক্ষতি হয়। এখন এই হামলার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সহায়ক সংস্থা জানাল ওই হামলার জড়িত ছিল আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখা। নিরাপত্তা কাউন্সিলের সহায়ক সংস্থার এ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ একটি বিক্ষিপ্ত গ্রুপ থেকে এখন একটি আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে রূপ নিচ্ছে। এরজন্য তারা বিভিন্ন জায়গায় লজিস্টিক এবং অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। তারা বড় গ্রুপ হওয়ার বদলে বিকেন্দ্রীভূত ছোট দল ও বিক্ষিপ্ত হয়ে কাজ করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আর এই সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতারা বর্তমানে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে রয়েছেন। তাদের আফগানিস্তানের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। যা নির্দেশ করছে আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখার সঙ্গে তালেবানের সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া তারা পাকিস্তানে ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান নামে একটি সন্ত্রাসী দলের শক্তি বাড়াতে কাজ করেছে। যারা গত ৯ মে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় একটি হামলা চালিয়ে ২১ জনকে হত্যা করে। নিরাপত্তা পরিষদের সহায়ক সংস্থার এ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আল-কায়েদা ভারত উপমহাদেশ শাখা এবং ইসলামিক স্টেট এখন রাসায়নিক এবং জৈব অস্ত্র তৈরির দিকে মনোযোগ দিয়েছে। এরমধ্যে ভারত এক চিকিৎসকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল যারা রিসিন নামে একটি বিষ তৈরির চেষ্টা করছিল। এছাড়া এই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের সদস্যদের জন্য রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিল। সূত্র: ডিএনএ
বাংলাদেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ বিবেচনা করছে ভারত। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন, বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘ডিজেল সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের একটি চলমান চুক্তি রয়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে।’ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জয়সোয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ ভারত বিবেচনা করছে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের (ভারতে) ডিজেলের প্রাপ্যতা এবং পরিশোধন সক্ষমতা বিবেচনা করা হবে।’ এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়। জয়সোয়াল জানান, বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশনে অংশ নিতেও তাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যেও ভারত সফরের জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হলে আমি আপনাদের (সাংবাদিকদের) তা অবহিত করব।’
চীনের একটি পরীক্ষামূলক বুলেট ট্রেন মাত্র ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতি তুলে নিজের আগের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছে। এ সাফল্য অতি উচ্চগতির যোগাযোগব্যবস্থার পথ আরও সুগম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হুবেই প্রদেশের দুংহু ল্যাবরেটরির মাত্র এক কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পরীক্ষামূলক ট্র্যাকে এ ভারী ম্যাগলেভ ট্রেনটি স্থির অবস্থা থেকে মাত্র ৫ দশমিক ৩ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছায়। ম্যাগলেভ ট্রেনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এটি চৌম্বক শক্তি ব্যবহার করে রেললাইনের ঠিক কিছুটা ওপরে ভেসে থাকে। ফলে ট্রেনের সঙ্গে লাইনের কোনো ঘর্ষণ হয় না। লাইনের চারপাশে থাকা কয়েলের মাধ্যমে তৈরি হওয়া চৌম্বক তরঙ্গ ট্রেনটিকে সামনের দিকে তীব্র গতিতে এগিয়ে নেয়। চীনা গবেষকেরা দেখিয়েছেন, ট্রেনটি শুধু যে এ অতি উচ্চগতিতে পৌঁছাতে পারে তা-ই নয়, বরং স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং সিস্টেম বা ব্রেক ব্যবস্থার মাধ্যমে এটিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখে থামানোও সম্ভব। শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে যাওয়ার পর ট্রেনটি মাত্র ২০০ মিটারের ব্যবধানে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ মসৃণভাবে থেমে যায়। গত ছয় মাসের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো একই ট্রেন স্বল্প দূরত্বের ম্যাগলেভ গতিবৃদ্ধির বিশ্ব রেকর্ড ভাঙল। ১ দশমিক ১ টন ওজনের এ ট্রেন প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে। সে সময় এটি সাত সেকেন্ডে ঘণ্টায় প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে ম্যাগলেভ ট্রেনটি গতি বৃদ্ধির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনে যথাক্রমে ঘণ্টায় প্রায় ৭০০ কিলোমিটার ও ৭৯৮ কিলোমিটার গতি অর্জন করে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙে। চীনের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষামূলক চালনার মাধ্যমে গবেষকেরা উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ সরবরাহ, তড়িৎ-চৌম্বকীয় প্রপালশন (সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রযুক্তি), উচ্চগতির লেভিটেশন নিয়ন্ত্রণ (ভেসে থাকার প্রযুক্তি) এবং জরুরি ব্রেক ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ক্ষমতার পরীক্ষা নিয়েছেন। বর্তমানে চীন ও জাপানজুড়ে চলাচলকারী ম্যাগলেভ ট্রেনগুলো ঘণ্টায় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার গতিতে চলে। অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির বাণিজ্যিক ম্যাগলেভ ট্রেন হলো চীনের ‘ফুক্সিং’, যার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার। চীনের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজির গবেষকেরাও অতি উচ্চগতির ম্যাগলেভ ট্রেন তৈরি করছেন। তাদের একটি পরীক্ষায় ট্রেনটি মাত্র দুই সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৬৯৭ কিলোমিটার গতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ঠিক এ মুহূর্তে এ প্রযুক্তির ট্রেনটি মানুষের যাতায়াতের উপযোগী না হলেও গবেষকদের আশা, এর মূল নীতিগুলো একসময় রকেট ও ফাইটার জেট বা যুদ্ধবিমান উৎক্ষেপণব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে চীনা বিজ্ঞানীরা স্বল্প চাপ বা বায়ুশূন্য টিউবের ভেতর ট্রেন চালানোর জন্য অনুরূপ অতি উচ্চগতির ম্যাগলেভ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। তবে এ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও অবকাঠামোগত খরচ, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও দীর্ঘ দূরত্বজুড়ে নিখুঁতভাবে লাইন বা ট্র্যাক নির্মাণের মতো বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট