ভারি তুষারপাত ও বরফাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে ইউরোপজুড়ে ব্যাপক ভ্রমণ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফ্রান্সের দুটি পৃথক অঞ্চলে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার রাজধানী সারায়েভোতে তুষারের ভারে গাছ ভেঙে পড়ে এক নারী প্রাণ হারান।
ইউরোপজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে প্যারিস ও আমস্টারডামের বিমানবন্দরগুলোতে হাজারো যাত্রী আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফ্রান্সে কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় লঁদ এলাকায় বরফের কারণে দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন। এ ছাড়া প্যারিস অঞ্চলে আলাদা দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আরও দুজন। এর মধ্যে পূর্ব প্যারিসে একটি ভারী পণ্যবাহী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত হন।
অন্য ঘটনায়, এক ট্যাক্সিচালক তুষারপাতের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে ধাক্কা দিলে গাড়িটি মার্ন নদীতে পড়ে যায়। এতে একজনের মৃত্যু হয়।
বলকান অঞ্চলজুড়েও তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে ভেজা তুষারের ভারে একটি গাছ ভেঙে পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ফ্রান্সের পরিবহণমন্ত্রী জানান, মঙ্গলবার রাত ও বুধবার দেশটিতে আরও তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে জনগণকে অপ্রয়োজনীয় সড়ক ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং সম্ভব হলে বাসা থেকে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফ্রান্সের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার তুষারপাত ও কালো বরফের আশঙ্কায় দেশটির ৩৮টি জেলা সতর্কতার আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় বহু ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, রানওয়ে থেকে তুষার পরিষ্কারের জন্য বুধবার সকালে কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যারিসের রুয়াসি–শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরের ৪০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হবে। একই সময়ে অরলি বিমানবন্দরও তাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ফ্লাইট বাতিলের পরিকল্পনা করেছে।
নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামের স্কিপহোল বিমানবন্দরে বুধবার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে শত শত যাত্রী আটকা পড়েন এবং অনেকেই সংযোগ ফ্লাইটে উঠতে পারেননি। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর বড় অংশ একটি ডাচ এয়ারলাইনের পরিচালিত ছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, চরম আবহাওয়া ও সরবরাহ জটিলতার কারণে বিমানের বরফ গলানোর তরল ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষা ও পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একজন যাত্রী জানান, বিমানবন্দরের পরিস্থিতি ছিল বিশৃঙ্খল ও হতাশাজনক।
স্কিপহোল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, তুষার পরিষ্কারকারী দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিমানগুলো সতর্কতার সঙ্গে বরফমুক্ত করা হচ্ছে।
তীব্র তুষারপাতের কারণে রেল যোগাযোগেও বিঘ্ন ঘটে। মঙ্গলবার সকালে কারিগরি সমস্যার কারণে নেদারল্যান্ডসে সব ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে কিছু ট্রেন চালু হলেও দিনভর ভোগান্তি অব্যাহত থাকে। আমস্টারডাম থেকে প্যারিসগামী দ্রুতগামী ট্রেনগুলো বাতিল বা বিলম্বে চলাচল করে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্টের অনুরোধে তার সঙ্গে শিগগিরই টেলিফোনে আলাপ করবেন বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মঙ্গলবার তিনি এই তথ্য জানান। ম্যাক্রোঁ বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্টের অনুরোধে আমি শিগগিরই তার সঙ্গে কথা বলবো। সংঘাত নিরসনে ফ্রান্সের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই ফ্রান্স একটি ধারাবাহিক অবস্থান বজায় রেখেছে। আমরা সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ, কূটনৈতিক আলোচনায় প্রত্যাবর্তন এবং অঞ্চলের সব দেশের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানাই। হরমুজ প্রণালির বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, একমাত্র সম্ভাব্য বিকল্প হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সেখানে কোনও ধরনের টোল বা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা না রাখা। ট্যাঙ্কার বা বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার বিরোধিতা করে ম্যাক্রোঁ সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ট্যাঙ্কার, কনটেইনার জাহাজ বা তৃতীয় কোনও দেশের বিরুদ্ধে যেকোনও একতরফা উত্তেজনা তৈরি করা একটি বড় ভুল। এটি কেবল যুদ্ধকেই উসকে দেয় এবং পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যায়। সূত্র: এপি
ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) বিপর্যয় এবং ভারতীয় জনতা পার্টি-এর এগিয়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র একটি ইস্যুর ফল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অসন্তোষ, কৌশলগত প্রচার এবং ভোটের সমীকরণের পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে টিএমসির বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি বা সরকারবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা, সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ে অভিযোগ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ। শিক্ষক নিয়োগ, আর্থিক অনিয়মসহ একাধিক ইস্যুতে টিএমসির ভাবমূর্তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বিরোধী দল বিজেপি এসব ইস্যুকে সামনে এনে জোরালো প্রচার চালায়, যা ভোটারদের একটি অংশকে প্রভাবিত করে। অন্যদিকে বিজেপি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রচার এবং বিস্তৃত মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে। বিশেষ করে নতুন ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বাড়াতে তারা কার্যকর প্রচারণা চালায়। ভোট বিভাজনও বড় একটি কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। বিরোধী ভোট একদিকে না গিয়ে বিভিন্ন দলে ছড়িয়ে পড়ায় টিএমসি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিজেপি তার সুবিধা পায়। এছাড়া জাতীয় ইস্যুগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে বিজেপি ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করে। এতে আঞ্চলিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে অনেক ভোটার জাতীয় দলকে সমর্থন দেয়। ধর্মীয় ও সামাজিক মেরুকরণও নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক ধরে রাখতে টিএমসি চেষ্টা করলেও বিজেপি বিপরীত মেরুকরণ তৈরি করে ভোট টানতে সক্ষম হয়। সব মিলিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের এই বিপুল হার এবং বিজেপির এগিয়ে যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কৌশল, সংগঠন, ইস্যুভিত্তিক প্রচারণা এবং ভোটের গাণিতিক সমীকরণের বড় ভূমিকা রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের নির্বাচনে এই সমীকরণ আবারও বদলে যেতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর প্রথমবারের মতো ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লিতে দলের সদর দফতর থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নতুন সরকারের অগ্রাধিকার ও প্রথম মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের আভাস তুলে ধরেন। খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ বাংলা। বিজয় ভাষণে মোদি বলেন, বাংলার জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে—যেখানে উন্নয়ন, আস্থা ও নতুন উদ্যম একসঙ্গে পথ চলবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে বিজেপি দিনরাত কাজ করবে। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শপথ গ্রহণের সম্ভাব্য সময় নিয়েও ইঙ্গিত দেন মোদি। তিনি বলেন, ২৫শে বৈশাখ তথা ৯ মে—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীর দিনটিকে সামনে রেখে নতুন যাত্রা শুরু হতে পারে। এই দিনকে তিনি ‘নতুন সূচনার প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির স্বপ্নের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, আজকের এই ফলাফলে তাঁর আত্মা নিশ্চয়ই শান্তি পাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বাংলায় এখন ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং রাজ্য উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্পষ্টভাবে উঠে আসে—পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন দিশায় এগোতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ।