বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে প্রতিবেশী ভারত যে অধীর আগ্রহ আর উৎকণ্ঠা নিয়ে তাকিয়ে আছে, সেটা দিল্লিতে সুবিদিত। প্রতিবেশী কোনো রাষ্ট্রের একটি সাধারণ নির্বাচনে এতটা সতর্ক নজর দিল্লিতে বেশ বিরলও বটে।
আর তার প্রধান কারণ, ভারতের জন্য এমন কতগুলো নতুন বা ব্যতিক্রমী জিনিস এই নির্বাচনে ঘটতে যাচ্ছে, যা বিগত প্রায় দেড় যুগের মধ্যে ঘটেনি।
প্রথমত, এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে অনেক বছর পর বাংলাদেশে এমন একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসতে চলেছে, যাতে আওয়ামী লীগ থাকবে না।
ঢাকায় আওয়ামী লীগ সরকারে প্রায় ‘অভ্যস্ত’ হয়ে যাওয়া দিল্লির জন্য এটি একটি নতুন বাস্তবতা, যার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের প্রস্তুতি সারতে হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি একক ক্ষমতায় সরকার গড়তে পারবে কিনা, জামায়াতে ইসলামী সরকারে অন্তর্ভুক্ত হবে কিনা, সেদিকেও ভারতকে সতর্ক নজর রাখতে হচ্ছে।
এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একটি বিএনপি-জামায়াত কোয়ালিশন সরকার ঢাকার ক্ষমতায় ছিল এবং সেই পর্বে দিল্লির জন্য অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল বলা যাবে না। যদিও তারপর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলেছে।
তৃতীয়ত, জামায়াতে ইসলামী নতুন সরকারে থাকুক বা শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকুক–নতুন জাতীয় সংসদে তারা যে খুবই প্রভাবশালী হতে যাচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
বহু বছর ধরে জামায়াতকে প্রায় অঘোষিত ‘রেড লাইন’ হিসেবে গণ্য করে আসা ভারত কিভাবে এই রাজনৈতিক দলটির সঙ্গে এখন ‘এনগেজ’ করবে সেটাও অবশ্যই দেখার বিষয় হবে।
ভারত যে ইতিমধ্যেই জামায়াতের সঙ্গে এক ধরনের যোগাযোগ স্থাপন করেছে, দিল্লিতে তারও আভাস মিলছে।
তবে এসব কিছুর বাইরেও উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অবস্থান কী হয়–সেই বিষয়টিই সম্ভবত দিল্লির প্রধান দুশ্চিন্তা।
দিল্লিতে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়, যেখানে ভারত কোনো আপস করবে না।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে এর আগের তিনটি নির্বাচনে ভারতের বিরুদ্ধে কমবেশি ‘নাক গলানো’র যে অভিযোগ উঠেছিল এবারে কিন্তু সে রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কারণ ভারত গোটা প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করেছে বলে মনে হয়েছে।
২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে যে একটা ভারতবিরোধী মাত্রা ছিল, শেখ হাসিনার পাশাপাশি দিল্লির বিরুদ্ধেও তীব্র স্লোগান উঠেছিল–সেই উপলব্ধি থেকেই ভারত নিজেদের অন্তত প্রকাশ্যে এতটা নিষ্ক্রিয় রেখেছিল বলে দিল্লিতে অনেকেই মনে করেন।
এমনকি টানা দেড় বছর ধরে ভারত বাংলাদেশে ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এলেও শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ যখন সেই নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পেল না–ভারত কিন্তু তার রুটিন প্রতিবাদও করেনি।
এখন ভারতের দীর্ঘদিনের মিত্র আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও অনেকটা নির্ভর করছে পরবর্তী সরকারের রূপরেখার ওপর।
এরকম নানা জটিল বিষয় ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে জড়িত বলেই ভারতের জন্যও বাংলাদেশের এই ভোট এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
‘এখন সবার আগে দরকার স্টেবিলিটি’
ঢাকায় ভারতের সাবেক হাই কমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস মনে করেন, এই নির্বাচন থেকে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো, বাংলাদেশে একটা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক।
তিনি বলছিলেন, ‘আমরা জানি ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর থেকে আমাদের রিলেশনশিপে একটা জোর ধাক্কা লেগেছে।’
‘বাংলাদেশ নিজেই অনেক ধরনের অভ্যন্তরীণ ঝড়ঝাপটা আর গণ্ডগোলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। একটা বিশাল পলিটিক্যাল ‘চার্ন’ হচ্ছে বাংলাদেশে। তো এটাই প্রত্যাশা যে এই ইলেকশনের সাথে দেওয়ার উইল বি সাম ডিগ্রি অব স্টেবিলিটি।’
তিনি আরো বলছেন, ভারত চাইছে ঢাকায় একটি স্থিতিশীল, নির্বাচিত ও প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার আসুক, যার একটা মানুষের জন্য কাজ করার পরিষ্কার ‘ম্যান্ডেট’ থাকবে।
‘ধরুন এই এই প্রসেস হবে, এই প্ল্যান আছে তাদের। কারণ এখন অনেকটা সময় একটা ভীষণ অনিশ্চিত পর্ব গেছে। এখন সবাই চাইছে এই অঞ্চলের শান্তি আর স্থিতিশীলতার স্বার্থে যে একটা ভালো ইলেকশন হোক... আর ইলেকশনের পরে লোকদের ম্যান্ডেট নিয়ে একটা সরকার গঠন করুক’, বলছিলেন রিভা গাঙ্গুলি দাস।
কিন্তু এই নির্বাচনকে ঘিরে ভারতে যে একটা উদ্বেগ বা অস্বস্তি কাজ করছে সেটাও অনেকেই মানছেন। যেমন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ ও ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. শ্রীপর্ণা পাঠকের কথায়, ‘প্রচুর অ্যান্টিসিপেশন ও প্রচুর অ্যাংজাইটি আছে। কারণ গত দশ থেকে পনেরো বছরের মধ্যে এই ধরনের সিনারিও আসেনি!’
‘আসলে কি আওয়ামী লীগ যাওয়ার পরে একটা পলিটিক্যাল ভ্যাকুয়াম তৈরি হয়ে গেছে। জামায়াত আসবে, কি কোয়ালিশন–কেউই সেটা জানে না। এর পরে নর্থইস্টের একটা কোয়েশ্চেন তো আছেই।’
‘এর মধ্যে এখন ইন্ডিয়া কীভাবে স্টেবিলিটি খুঁজবে ... তাই জন্যই এত বেশি প্রশ্ন উঠছে, এত বেশি অ্যাটেনশন দেওয়া হচ্ছে। তো ইন্টারেস্টিং টাইমস অ্যাহেড’, বলছিলেন ড. পাঠক।
ভারতের সাবেক হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস মনে করেন, এই নির্বাচন থেকে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো–বাংলাদেশে একটা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক।
উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা ইস্যু কতটা দুশ্চিন্তার?
শেখ হাসিনার একটানা প্রায় ষোলো বছরের দীর্ঘ শাসনামলে ভারতের জন্য একটা খুব বড় স্বস্তির জায়গা ছিল উত্তর-পূর্ব ভারতের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশের মাটিতে কোনো আশ্রয়-প্রশ্রয় পায়নি।
বরং তখনকার বাংলাদেশ সরকার অনুপ চেতিয়া বা অরবিন্দ রাজখোয়ার মতো শীর্ষস্থানীয় আলফা নেতাদের ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে, যারা এখন রাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনাতেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
কিন্তু বাংলাদেশের নতুন সরকার এই প্রশ্নটিতে কী অবস্থান নেয়, সেটির দিকে ভারত অবশ্যই তীক্ষ্ণ নজর রাখবে। তবে দিল্লিতে প্রাক্তন কূটনীতিবিদদের কেউ কেউ আবার মনে করছেন, নিরাপত্তার ইস্যু নিয়ে অত চিন্তার কিছু নেই–বরং ভারতের ওপর বাংলাদেশের দৈনন্দিন নির্ভরতাই সম্পর্ককে স্বাভাবিক পথে রাখবে।
সাবেক ভারতীয় কূটনীতিবিদ তথা রাষ্ট্রদূত সৌমেন রায় যেমন বলছিলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে ইন্ডিয়া এখন একটা গ্লোবাল পাওয়ার। ইট’স ফোর্থ লার্জেস্ট ইকোনমি, খুব শিগগিরি আমরা থার্ড লার্জেস্ট হয়ে যাব–চায়নার পরেই। সুতরাং এ রকম একটা পাওয়ারের কাছে একটি নেবারিং কান্ট্রি... নেবারিং কান্ট্রিতে ইলেকশন হচ্ছে, আমরা অবভিয়াসলি কনসার্নড।’
তিনি বলেন, ‘যদিও তার মানে এই নয় নিরাপত্তা প্রশ্নে আমাদের চিন্তিত হতে হবে ... এখন রাইট ফ্রম শিলিগুড়ি ডাউন টু মিজোরাম, আসাম আমরা পুরোটা নতুন এয়ারফোর্স বেস বানিয়ে দিয়েছি অলরেডি। প্রচুর সোলজার ওখানে আছে, সুতরাং সিকিওরিটি অ্যাংগল থেকে খুব একটা প্রবলেম নেই’।
দিল্লিতে মনোহর পারিক্কর ইনস্টিটিউট অব ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালিসিসের (আইডিএসএ) সিনিয়র ফেলো স্ম্রুতি পট্টনায়কের আবার বলতে দ্বিধা নেই – উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারত বিন্দুমাত্র শিথিলতা দেখাবে না।
তিনি বলছিলেন, ‘নর্থ ইস্টের সিকিওরিটি আসলে ভারতের জন্য খুব খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওটা এমন একটা জায়গা যেখানে ইন্ডিয়া কম্প্রোমাইজ করবে না। আর এটাও আমি ভালভাবে জানি যে এই জিনিসটা বাংলাদেশে সব স্টেকহোল্ডারকেও বলেও দেওয়া হয়েছে যে এখানে কোনো কম্প্রোমাইজ করা যাবে না।’
ড. পট্টনায়ক বলেন, ‘এমন কী আপনার যত সম্পর্ক দরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সব আপনি করতে পারেন, ওদেরকে সিকিওরিটি ক্লিয়ারেন্স ছাড়াই আপনি বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পারেন – তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সেটা যেন আমাদের নর্থ ইস্টের নিরাপত্তার মুল্যে না হয়’।
আইডিএসএ-র স্ম্রুতি পট্টনায়কও জানাচ্ছেন, ভারত আসলে আওয়ামী লীগ-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্য নিজেদের অনেকটাই প্রস্তুত করে ফেলেছে।
বিএনপি ‘মন্দের ভাল’
প্রয়োজনে জামায়াতের সঙ্গে এনগেজ করার মানসিক প্রস্তুতি থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের প্রথম পছন্দ যে বিএনপি, সেটা অবশ্য দিল্লিতে সবাই বুঝতে পারছেন!
যে বিএনপি-কে একটা সময় ভারত-বিরোধী রাজনীতির সমার্থক হিসেবে দেখা হত, সেই দলটির ব্যাপারে দিল্লিতে মনোভাবও অনেক বদলেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ ড. শ্রীপর্ণা পাঠক যেমন বলছিলেন, ‘আমার মনে হয় ইন্ডিয়া মেন্টালি প্রিপেয়ার্ড একটা বিএনপি গভর্নমেন্টের জন্যই!’
‘তাই জন্য এত বেশি আউটরিচ করা হয়েছে ... খালেদা জিয়ার যখন শরীর খারাপ ছিল, তিনি মারা যাওয়ার আগে – তখনও প্রাইম মিনিস্টার মোদী টুইট করেছিলেন।’
ড. পাঠক মনে করেন, আসলে ভারতের হাতে এই মুহুর্তে বাংলাদেশে যে অপশনগুলো আছে তার মধ্যে বিএনপি-ই হলো ‘মন্দের ভাল’ আর তারা তাই সেটাকেই বেছে নিতে চাইছে।
‘কারণ ইন্ডিয়ার জন্য বিএনপি তুলনামূলকভাবে স্টেবল। গত বছর, মানে ২০২৫র মাঝামাঝি থেকে বিএনপি জামাতের সঙ্গে দূরত্বও বাড়িয়েছে।’
‘তো এই সব জিনিস দেখার পরেই বিএনপিকে স্টেবল মনে হচ্ছে – সেই জন্য ইন্ডিয়া এনার্জিও ইনভেস্ট করছে এতো বেশি, বিএনপি-তে। যদিও এখন বিএনপি আসবে, কী কোয়ালিশন হবে ... সেটা তো আমরা জানি না’, বলছিলেন ড. পাঠক।
আইডিএসএ-র স্ম্রুতি পট্টনায়কও জানাচ্ছেন, ভারত আসলে আওয়ামী লীগ-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্য নিজেদের অনেকটাই প্রস্তুত করে ফেলেছে।
তিনি বলছিলেন, ‘আসলে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল এখনকার পরিস্থিতিতে দুটো যে পার্টি ক্ষমতায় আসতে পারে তাদের সঙ্গে কীভাবে ওরা কাজ করবে।’
‘আমরা তো দেখেছি বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ইন্ডিয়া বিএনপি-র প্রতি একটা আউটরিচ, ওপেন আউটরিচ করেছিল।’
‘আমি বলছি না যে আগেও আউটরিচ হয়নি, কিন্তু এটা ছিল অনেক বেশি ওপেন আউটরিচ – আর লক্ষ্য করে দেখুন, সেটাও ঠিক ইলেকশনের আগে!’
সাবেক ভারতীয় কূটনীতিবিদ তথা রাষ্ট্রদূত সৌমেন রায় বলছিলেন, নেবারিং কান্ট্রিতে ইলেকশন হচ্ছে, আমরা অবভিয়াসলি কনসার্নড, যদিও তার মানে এই নয় নিরাপত্তা প্রশ্নে আমাদের চিন্তিত হতে হবে'
সম্পর্ক স্থাপন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও?
ড. পট্টনায়ক বিবিসিকে আরও জানাচ্ছেন, তার তথ্য বলছে জামায়াতের সঙ্গেও ভারত এক ধরনের যোগাযোগ ইতিমধ্যেই তৈরি করেছে।
‘আসলে কী, ইন্ডিয়া বিএনপি ও জামায়াত - এই দুটো পালিটিক্যাল পার্টির সঙ্গেই ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ গড়তে চাইছে।’
‘এটা একটা ক্রুশিয়াল জিনিস ... মানে আমরা দেখাতে চাই আমরা শুধু আওয়ামী লীগ নয়, যে কোনো পার্টি যদি পপুলার ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসে, আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করব।’
‘আর ঠিক এই কনটেক্সটেই জামায়াতের সঙ্গেও (ভারতের) একটা দেখাসাক্ষাত হয়েছে, কর্মকর্তা পর্যায়ে’, বলছিলেন স্ম্রুতি পট্টনায়ক।
কিছুদিন আগে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানও রয়টার্সের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, একজন ভারতীয় ডিপ্লোম্যাট তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন এবং সেই দেখা করার কথা ভারতই গোপন রাখতে অনুরোধ করেছিল।
ভারত অবশ্য এই দাবির সত্যতা যেমন স্বীকার করেনি, তেমন অস্বীকারও করেনি।
আসলে জামায়াত নেতৃত্বের সঙ্গে ভারতের যে খুব সন্তর্পণে ও নীরবে একটা যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে, তার নানা ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে।
তাহলে কি যে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘকাল ধরে ভারতের জন্য অঘোষিত ‘রেড লাইন’ ছিল, তাদের সম্বন্ধে দিল্লি অবস্থান পাল্টাচ্ছে?
ভারতের সাবেক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিবিদ রিভা গাঙ্গুলি দাস জবাবে বলছিলেন, ‘দেখুন জামায়াত তো আগেও ২০০১ সালে বিএনপি-র সাথে রীতিমতো একটা নির্বাচনী সমঝোতা করে সরকারের অংশ ছিল। তাদের দুজন মন্ত্রীও ছিলেন। আমি ওই সময় বাংলাদেশে পোস্টেডও ছিলাম।’
‘তো স্বাভাবিকভাবেই একটা প্র্যাকটিক্যাল আসপেক্ট তো থাকেই রিলেশনশিপে, যে উই হ্যাভ টু ডু বিজনেস উইথ ইচ আদার।’
‘আসলে আমরা পরস্পরের প্রতিবেশী, আর প্রতিবেশীকে তো পাল্টাতে পারব না। আর ভারত সরকার তো এনিওয়েজ আগেই বলেছে যে নো ম্যাটার যে-ই পাওয়ারে আসুক, তার সঙ্গে ইন্ডিয়া রেডি টু ডু বিজনেস।’
সুতরাং ঠিক এই কারণেই রিভা গাঙ্গুলি দাস নিশ্চিত, জামায়াত যদি সে দেশে পরবর্তী সরকারের অংশ হয় ভারত তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কই চাইবে – কারণ ‘এখন সবার আগে পরিস্থিতি এগিয়ে নিতে হবে – থিংস হ্যাভ টু মুভ ফরোয়ার্ড!’
বস্তুত ভারতের জন্য বাংলাদেশের এই নির্বাচন যে অনেকগুলো ‘আননোওনস’ বা অজানা বিষয় ডেকে এনেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
কিন্তু তারপরও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের ‘অনিশ্চয়তা’র চেয়ে নির্বাচন-পরবর্তী 'নিশ্চয়তা'ই এখন ভারতের প্রধান চাওয়া।
আর এই পটভূমিতে দিল্লিতে পর্যবেক্ষকরা একটা বিষয়ে একমত, বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারে যারাই আসুক – তারা যদি অন্তত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো অ্যাড্রেস করতে রাজি থাকে, তাদের সঙ্গে ‘পরিপূর্ণ এনগেজমেন্টে’ যেতে দিল্লির কোনো সমস্যা থাকবে না!
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার সংবাদপত্রে পাঁচ দিন ছুটি থাকবে। আজ সোমবার সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এ তথ্য জানিয়েছে। নোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরীর সই করা ছুটির নোটিশে বলা হয়, নোয়াবের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে, সংবাদপত্রে ২৬ থেকে ৩০ মে ঈদুল আজহার ছুটি উদ্যাপন করা হবে। সে হিসাবে ২৭ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে না। এর আগে, দেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ জানালেন, দেশের আকাশে এরই মধ্যে দেখা গেছে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ। ফলে আগামী ২৮ মে সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। এর আগেও, গতকাল সৌদি আরবে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়। এ ছাড়া তুরস্ক, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইসহ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে জিলহজ মাসের শুরু এবং ঘোষণা করেছে ঈদুল আজহার তারিখ। এসব দেশে ঈদুল আজহা পালিত হবে ২৭ মে। ইসলামি চন্দ্রবর্ষের শেষ মাস জিলহজের ১০ তারিখে পালিত হয় ঈদুল আজহা। এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিন দেশের তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। আগামী ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এসব ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা ছুটি পাবেন। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী শনিবার দেশের তফসিলি ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা খোলা থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মোঃ হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার 'নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে জাতীয় সমন্বয় কমিটি' নিম্নরূপে পুনর্গঠন করেছে। কমিটির সভাপতি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সহ-সভাপতি হচ্ছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ মহাপরিদর্শক, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এর মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই) এর মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এর মহাপরিচালক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেল (এনটিএমসি) এর মহাপরিচালক, র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর মহাপরিচালক, এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ অব পুলিশ (এসবি) এর অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক। সহায়তাদানকারী কর্মকর্তাগণ হলেন, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)এর অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ) এর অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ও বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান কর্মকর্তা, তবে তিনি কমিটি কর্তৃক আহবান করা হলে যোগদান করবেন এবং কমিটির চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করবেন। সহায়তাকারী আরও সদস্য হলেন , মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। কমিটির কার্যপরিধির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি, ক্ষেত্র ও পরিধি নির্ধারণ করবে। নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের ওপর একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতঃ এতদসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং আন্তঃসংস্থা বাস্তবায়ন তদারকিকরণ করাও কমিটির কার্য পরিধির অন্তর্ভুক্ত। নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থাসমূহের কার্যপরিধি এবং ক্ষেত্র নির্ধারণ করবে। নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করতঃ প্রয়োজনে প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান সংশোধন ও সংস্কার এবং নতুন আইন ও বিধি-বিধান প্রণয়নে সুপারিশকরণ এবং নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত সকল ধরনের সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র, সংস্থা ও অনলাইন প্লাটফর্মসমূহ নিয়মিতভাবে তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদনুযায়ী গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন ও নির্দেশনা প্রদান করবে কমিটি। মন্ত্রী পরিষদের প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, কমিটির সভা প্রয়োজনানুসারে অনুষ্ঠিত হবে। কমিটি প্রয়োজন ও ক্ষেত্র বিবেচনায় সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংস্থার প্রধান বা অন্য কোনো কর্মকর্তাকে কমিটিতে সদস্য বা সহায়তাদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কো-অপ্ট করতে পারবে। কমিটির সচিবালয় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই) কর্তৃক কমিটির সচিবালয় সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা প্রদান করা হবে। তবে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সভাপতির নির্দেশক্রমে পরবর্তীতে অন্য যে কোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদে কমিটির সচিবালয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের স্মারকের অনুবৃত্তিক্রমে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
রাজধানী ঢাকার নাগরিক সেবাকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এখন থেকে ফোন কলের মাধ্যমেই বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ ও সেবাসংক্রান্ত তথ্য জানাতে পারবেন নগরবাসী। এ লক্ষ্যে চালু করা হচ্ছে বিশেষ সেবা ‘হ্যালো ডিসি’। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘হ্যালো ডিসি’ সেবার মাধ্যমে নাগরিকরা ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা, দালালচক্রের হয়রানি, বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, অবৈধ দখল, শব্দদূষণ, সরকারি অফিসে অনিয়মসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। এছাড়া জরুরি নাগরিক সেবা, প্রশাসনিক সহায়তা এবং সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যাবে এই প্ল্যাটফর্মে। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল সেবার বিস্তারের অংশ হিসেবে ‘হ্যালো ডিসি’ জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করবে। এতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই সহজে নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন এবং সেবার স্বচ্ছতাও বাড়বে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয় এবং দ্রুত সেবা পায়, সেজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।” খুব শিগগিরই ‘হ্যালো ডিসি’ সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে জানা গেছে। এরপর নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে ফোন করেই নাগরিকরা সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।