খেলাধুলা

বায়ার্নকে বিদায় করে ফাইনালে পিএসজি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

এবারও পারলো না জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে যাবার পথে এবার তাদের সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ালো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। গতবার সেমিফাইনালে খেলতে ব্যর্থ হওয়ায় বেভারিয়ান্সরা এবার দ্বিতীয় লেগে ১-১ গোলে ড্র করায় দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৬ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিদায় নিয়েছে। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টের পুসকাস এরেনায় পিএসজির প্রতিপক্ষ ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনাল।  

গতকাল মিউনিখের আলিয়াঁজ এরেনায় ম্যাচ শুরুর তিন মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে পাল্টা আক্রমণে গোল করে এগিয়ে যায় পিএসজি। ব্যালন ডি’অর জয়ী ওসমানে ডেম্বেলে লুইস এনরিকের দলের হয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।

পুরো ম্যাচে বায়ার্নের আক্রমণভাগকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় রাখতে সক্ষম হয় পিএসজি, যদিও যোগ করা সময়ে হ্যারি কেন একটি গোল শোধ দেন।

ম্যাচ শেষে পিএসজির ফরোয়ার্ড ডিসায়ার ডুয়ে বলেন, “এটি ছিল অসাধারণ একটি ম্যাচ, মিউনিখে আরেকটি জাদুকরী রাত, তাও আবার দুর্দান্ত একটি দলের বিপক্ষে।

ছোটবেলা থেকেই আমরা এমন ম্যাচ খেলার স্বপ্ন দেখেছি। এখন আমরা দল হিসেবে এটি উপভোগ করবো।”

গত মৌসুমে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিল প্যারিসের জায়ান্টরা। সেই আলিয়াঁজ এরেনায় ফিরে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিল পিএসজি।

বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ দল আর্সেনালের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ফরাসি ক্লাবটি।

১৯৯০ সালের পর থেকে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করা একমাত্র দল রিয়াল মাদ্রিদ। এবার সেই কীর্তিতে নাম লেখাতে চায় পিএসজি।

প্রথমার্ধে রেফারির বেশ কিছু সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ছিল স্বাগতিক বায়ার্ন। তবে প্যারিসে প্রথম লেগে ৫-৪ হারের ম্যাচে যে ধারালো আক্রমণ দেখা গিয়েছিল, এবার তা ছিল না। ২০২০ সালে লিসবনে পিএসজিকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর থেকে ফাইনালে উঠতে পারেনি ছয়বারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি বলেন, “আমি দীর্ঘ সময় হতাশ হয়ে থাকতে পারি না। অবশ্যই আমরা খুব শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অল্প ব্যবধানে দুটি ম্যাচ হেরেছি।”

দুই দলই সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমের ৫২তম ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমেছিল। যদিও বায়ার্নের খেলোয়াড়দের বেশী পরিশ্রান্ত মনে হয়েছে। প্রথম লেগে দুর্দান্ত খেলা মাইকেল ওলিসে এবার ছিলেন নিষ্প্রভ। বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন এবং লিগ ওয়ান শিরোপার পথে থাকা পিএসজি- দুই দলই সপ্তাহান্তের লিগ ম্যাচে অনেক খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়েছিল।

তবে প্রথম লেগের তুলনায় দুই দলই মাত্র একটি করে পরিবর্তন আনে। ইনজুরিতে থাকা আশরাফ হাকিমির পরিবর্তে পিএসজির একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন ফাবিয়ান রুইজ।

প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ বলা হচ্ছিল এবং বুধবারের ম্যাচও শুরুতে একই উত্তেজনা দেখা যায়।

রুইজের দারুণ থ্রু পাসে বাম দিক দিয়ে কাভিচা কাভারাটসখেলিয়া ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল বাড়িয়ে দেন ডেম্বেলের কাছে। নিখুঁত ফিনিশে ডেম্বেলে বল জালে প্রবেশ করান।

কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ৩৬ সেকেন্ডে গোল হজম করেও ফিরে এসেছিল বায়ার্ন। কিন্তু এবার আর ঘুড়ে দাঁড়াতে পারেনি। প্রথম আধাঘণ্টায় ওলিসে, কেন ও জসুয়া কিমিচ বারবার ভুল পাস দিয়ে আক্রমণ নষ্ট করেন। ৩০ মিনিটে ভিটিনহার ক্লিয়ারেন্স হুয়াও নেভেসের হাতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন জানায় বায়ার্ন, কিন্তু রেফারি হুয়াও পিনহেইরো তা নাকচ করে দেন।

এর আগে পিএসজির ফুলব্যাক নুনো মেন্ডেসের হ্যান্ডবলের পরও দ্বিতীয় হলুদ কার্ড না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয় স্বাগতিকরা। পিএসজি দ্বিতীয় গোল প্রায় পেয়েই গিয়েছিল। কিন্তু ম্যানুয়েল নয়্যার দারুণ দক্ষতায় নেভেসের হেড পোস্টের বাইরে পাঠান। বিরতির ঠিক আগে ছন্দ ফিরে পায় বায়ার্ন। জামাল মুসিয়ালার  একটি নিচু শটে পিএসজি গোলরক্ষক মাটভে সাফোনোভ দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন। 

দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজি আরও পরিণত ফুটবল খেলে। রক্ষণে নেমে বায়ার্নের চাপ সামাল দেয়। একইসাথে কাউন্টার এ্যাটাকও বজায় রাখে। 

বায়ার্ন বলের দখল ও মাঠের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা পায় যোগ করা সময়ে। এটি ছিল কেনের এবারের আসরে সপ্তম গোল। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। কেনের গোলটি শেষ পর্যন্ত সান্তনা হয়ে থেকেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নসহ যেসব দেশ বিশ্বকাপ বয়কট করেছিল

ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের শেয়ার বিক্রির প্রস্তাবে উয়েফা সদস্যদের বিশ্বকাপ বয়কটের হুংকার এখন ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে কোনো দল বা মহাদেশীয় সংস্থার ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে এমন কঠোর অবস্থান নেওয়ার নজির ইতিহাসে এবারই প্রথম নয়।   ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা সম্প্রতি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের শেয়ার বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে ভোট দিয়েছে। উয়েফার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘কনকাকাফ’। উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় সদ্য সমাপ্ত হওয়া এ বছরের বিশ্বকাপের আয়োজক সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের ৪১টি সদস্য সংস্থাই ইনফান্তিনোর এই প্রস্তাবটি ‘প্রত্যাখ্যান’ করেছে।     উয়েফার মতো শক্তিশালী কোনো সংস্থা আগে কখনো সরাসরি এমন বর্জনের হুমকি না দিলেও, ভূ-রাজনীতি কিংবা ফুটবলের অভ্যন্তরীণ কারণে বিভিন্ন দেশ ও পরিচালনা পর্ষদের বিশ্বকাপ বর্জন করার বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক উদাহরণ রয়েছে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে চার বছর পর ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। দক্ষিণ আমেরিকায় আয়োজিত সেই প্রথম টুর্নামেন্টে পর্যাপ্ত ইউরোপীয় দল অংশ না নেওয়ার প্রতিবাদেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় প্রতিবেশী দেশ আর্জেন্টিনাও, যারা নিজেরা সেই টুর্নামেন্ট আয়োজনের আশা করেছিল। অন্যদিকে, ১৯৫৮ বিশ্বকাপের এশিয়ান বাছাইপর্বে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও সুদান। পরবর্তীতে ইসরায়েলকে হারাতে একটি বিশেষ প্লে-অফ ম্যাচ খেলতে হয়েছিল ওয়েলসকে।     ১৯৬৪ সালের অক্টোবরে আফ্রিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ‘ক্যাফ’-এর অন্তর্ভুক্ত ১৫টি আফ্রিকান দেশ বাছাইপর্ব থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। তাদের ক্ষোভ ছিল—যেখানে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ইউরোপের জন্য ১০টি স্পট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে আফ্রিকা, এশিয়া ও ওশেনিয়া মহাদেশের জন্য যৌথভাবে মাত্র ১টি স্পট রাখা স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক।     এর আট বছর পর, ১৯৭৩ সালে চিলিতে অগুস্তো পিনোশের ক্ষমতা দখলের পর সেনা অভ্যুত্থান ঘটে। এর প্রতিবাদে সান্তিয়াগোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্লে-অফ টাইয়ের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি খেলতে অস্বীকার করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। ফলে চিলির একাদশ একাই সান্তিয়াগোর ‘এস্তাদিও নাসিওনাল’ মাঠে নামে এবং কিক-অফের পর অধিনায়ক ফ্রান্সিসকো ভালদেস হেঁটে গিয়ে ফাঁকা জালে বল প্রবেশ করান। পরবর্তীতে চিলিকে ২-০ গোলে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দলে সুযোগ না পেয়ে হতাশায় ভারতীয় ক্রিকেটারের আত্মহত্যা

সংগৃহীত ছবি

অভিযোগের সত্যতা মিললে বিপাকে পড়বেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা

ছবি: সংগৃহীত

ওয়ানডে বিশ্বকাপের ভেন্যুর তালিকায় যুক্ত হলো ভিক্টোরিয়ার নতুন স্টেডিয়াম

ছবি: সংগৃহীত
উয়েফার পর ফিফার বিরুদ্ধে অবস্থান নিল এএফসি

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার ফিফার বিতর্কিত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। এর আগে উয়েফা ও কনকাকাফ একই ধরনের আপত্তি জানিয়েছিল।   এএফসি এক বিবৃতিতে জানায়, ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো নিয়ে তাদের গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। সংস্থাটির মতে, বিষয়টি শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রস্তাব নয়; এটি ফিফার পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার প্রশ্নও সামনে এনেছে।   ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এফএফই নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করে বিশ্বকাপসহ বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব পরিচালনা করা হবে। প্রস্তাবে প্রতিষ্ঠানটির ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির কথা বলা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থ্রাইভ ইটারনাল-এর নাম আলোচনায় এসেছে।   এর আগে উয়েফা সতর্ক করে বলেছিল, প্রস্তাবটি প্রত্যাহার না হলে তারা বিশ্বকাপসহ সব ফিফা প্রতিযোগিতা বর্জনের বিষয় বিবেচনা করবে। কনকাকাফও পরিকল্পাটির বিরোধিতা করেছে।   সর্বশেষ এএফসির অবস্থানের ফলে ফিফার ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে ১৪৩টি দেশ এখন প্রস্তাবটির বিরোধিতায় রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সূত্র জানিয়েছে। এতে পরিকল্পনাটি অনুমোদনের পথ অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।   এএফসি অভিযোগ করেছে, প্রকল্পটি প্রকাশের আগে সদস্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা করা হয়নি। সংস্থাটি আরও বলেছে, বিশ্বকাপ বর্জনের মতো বিষয় জনসমক্ষে আলোচনায় চলে আসা ফুটবলের জন্য উদ্বেগজনক এবং এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া উচিত ছিল না।   ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি কার্যকর করতে সদস্যদেশগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন। তবে উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসির সম্মিলিত বিরোধিতার পর প্রস্তাবটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২৪ বছর পর আফ্রিকায় ফিরছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ, চূড়ান্ত ১২ ভেন্যু

ছবি: সংগৃহীত

না ফেরার দেশে ইতালি ও এসি মিলান কিংবদন্তি ফ্রাঙ্কো বারেসি

ছবি: সংগৃহীত

‘মেসি ফুটবলের দেবতা, তার সঙ্গে খেলতেই মায়ামিতে এসেছি’: ক্যাসেমিরো

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ বয়কটের পথে ইউরোপের ৫৫ দেশ, চাপে ফিফা

বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টে ফিফার বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে উয়েফা। সংস্থাটি ঘোষণা দিয়েছে, জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত প্রস্তাব অনুমোদন পেলে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জন করবে ইউরোপের ৫৫টি সদস্যদেশ। আজ জরুরি বৈঠকের পর উয়েফা এক বিবৃতিতে জানায়, সদস্যদেশগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফিফার টুর্নামেন্টে ব্যক্তিমালিকানার পরিকল্পনা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কোনো উয়েফাভুক্ত জাতীয় দল ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না। এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলেছে। কারণ, সর্বশেষ বিশ্বকাপের আট কোয়ার্টার-ফাইনালিস্টের ছয়টিই ছিল ইউরোপের দল। স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানির মতো দল ছাড়া বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক মূল্য ও আকর্ষণ বড় ধাক্কা খাবে বলে মনে করছে উয়েফা। এর আগে ফিফা 'ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)' নামে ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নালের নেতৃত্বে আছেন জশুয়া কুশনার, সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে তিনি আলোচনায় রয়েছেন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্যদেশগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি অনুমোদন পেলে ২০২৭-৩১ চক্রে 'ফিফা ফরোয়ার্ড' কর্মসূচির অনুদান ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলার করা হবে। পাশাপাশি এককালীন আরও ২ কোটি ডলার দেওয়া হবে সমর্থনকারী সদস্যদের। তবে প্রস্তাব পাস না হলে অনুদান দাঁড়াবে ১ কোটি ডলারে, অর্থাৎ প্রতিটি সদস্যদেশ ৩ কোটি ডলার কম পাবে। এই বিষয়টিকেই চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখছে উয়েফা। বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘জাতীয় সংস্থাগুলোর সামনে এখন এক ধরনের আল্টিমেটাম রাখা হয়েছে—হয় বিশ্বকাপের মালিকানার অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দিতে হবে, নয়তো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এটি গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভয় দেখিয়ে সিদ্ধান্ত আদায়ের চেষ্টা।’ উয়েফার ভাষ্য, বিশ্বকাপ কোনো বিনিয়োগ পণ্য নয় এবং এর মালিকানা বিক্রির অধিকার কারও নেই। তাদের দাবি, ‘যেদিন থেকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা ফিফার প্রতিযোগিতার মালিকানায় অংশীদার হবে, সেদিন থেকেই ফুটবলের সিদ্ধান্ত খেলাটির স্বার্থে নয়, শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফার স্বার্থে নেওয়া হবে।’ উয়েফা আরও বলেছে, ‘ফুটবলের ভবিষ্যৎ এমন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না, যাদের প্রথম কাজ সর্বোচ্চ লাভ করা। বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্পদ, এটি কখনোই বিক্রির জন্য নয়।’ ফিফার ২১১ সদস্যদেশের ভোটে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর এই প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। অনুমোদনের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ফিফা কাউন্সিলের সমর্থন প্রয়োজন। তাই ইউরোপের পাশাপাশি অন্য কনফেডারেশনগুলোর সমর্থন আদায়ও এখন উয়েফার বড় চ্যালেঞ্জ।

মারিয়া রহমান জুলাই ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ শেষে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার প্রথম সিরিজের সূচি প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

বার্সেলোনার জন্য ১০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন লেভানডফস্কি

ছবি: সংগৃহীত

ওয়ানডে দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন: মিরাজের স্থলাভিষিক্ত হলেন লিটন দাস

0 Comments