জাতীয়

বর্জ্য পোড়ানোর ছবি পাঠালে দেওয়া হবে পুরস্কার

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫ 0

বায়ুদূষণ রোধে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নাগরিকদের জন্য এক ব্যতিক্রমী পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এখন থেকে বর্জ্য পোড়ানোর ছবি তুলে পাঠালে প্রতি মাসে সেরা ১০ জনকে পুরস্কার দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানায়, যানবাহন ও ইটভাটার ধোঁয়ার পাশাপাশি যত্রতত্র বর্জ্য পোড়ানো বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। এর ফলে শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য প্রাণঘাতী। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বায়ুদূষণের উৎসগুলো চিহ্নিত করতে সরাসরি নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে চায় সরকার।

বায়ুদূষণ রোধে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে সরকার দেশের সব নাগরিকের নিকট বর্জ্য পোড়ানোর ছবি পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্জ্য পোড়ানোর ঘটনা চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট ছবি climatechange2@moef.gov.bd ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে অনুরোধ করা হলো। অবশ্যই প্রেরক বা ফটোগ্রাফারের নাম, মোবাইল নম্বর, ছবির অবস্থান, এলাকার ঠিকানা এবং ঘটনার সময় উল্লেখ করতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রতি মাসে প্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে সেরা ১০টি ছবি নির্বাচন করা হবে এবং নির্বাচিতদের যথোপযুক্ত পুরস্কার প্রদান করা হবে। সরকারের এই উদ্যোগে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, যুবক গ্রেফতার

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ ও এর ভিডিও ধারণের পর ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নাইম হোসেন নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোররাতে উপজেলার বাগদা বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার নাইম হোসেন (৩৩) কাটাবাড়ি ইউনিয়নের লালপুকুর মোল্লাপাড়া গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে। জানা গেছে, কিছুদিন আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে নাইমের পরিচয় হয়। এরপর থেকে তিনি প্রায়ই ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে চাইতেন। গত ৪ মার্চ সন্ধ্যার পর বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তিনি ওই নারীর বাড়িতে যান এবং ধর্ষণ করেন। এ সময় তিনি মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেন।   এরপর থেকে নাইম ওই নারীকে ফোন করে হুমকি দিতেন। তিনি জানান, প্রতিদিন শারীরিক সম্পর্ক না করলে এবং পাঁচ লাখ টাকা না দিলে ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবেন। এভাবে ব্ল্যাকমেইল করে তিনি একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ভিডিওটি তার স্বামীর কাছেও পাঠিয়ে দেবেন বলে হুমকি দেন। পরে কোনো উপায় না পেয়ে ওই নারী গোবিন্দগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।   মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই প্রদীপ কুমার বর্মণ জানান, অভিযুক্ত নাইম হোসেনকে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোররাতে বাগদা বাজারের একটি পানের দোকান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানান, গ্রেফতার নাইম হোসেনকে বৃহস্পতিবার সকালে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালতের বিচারক আবেদনের শুনানি শেষে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
জাতীয় ঈদগাহ। ছবি: সংগৃহীত

ভিন্ন সাজে জাতীয় ঈদগাহ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আপাতত যমুনায় উঠছেন না প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

চবির সাবেক উপাচার্য আনোয়ারুল আজিম ইন্তেকাল করেছেন

ছবি : সংগৃহীত
আজও বাতিল মধ্যপ্রাচ্যের ২৬ ফ্লাইট, ২০ দিনে ৬১৪

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।   এর ধারাবাহিকতায় আজ (১৯ মার্চ) মোট ২৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১৪।   বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, আকাশপথ বন্ধ থাকায় ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২টি, ১১ মার্চ ২৭টি, ১২ মার্চ ২৮টি, ১৩ মার্চ ২৫টি, ১৪ মার্চ ২৪টি, ১৫ মার্চ ২৩টি, ১৬ মার্চ ২৮টি, ১৭ মার্চ ২৬টি, ১৮ মার্চ ২৬টি এবং ১৯ মার্চ ২৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।   বৃহস্পতিবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে—কুয়েতগামী ৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ) ৬টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ২টি, কাতার এয়ারওয়েজ ৪টি, এমিরেটস ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজ ৪টি এবং ফ্লাইদুবাই ৪টি ফ্লাইট।   মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ফ্লাইট বাতিলের এই ধারা অব্যাহত রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও প্রবাসীদের চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৯, ২০২৬ 0

নাওজোরে আগুন, ফায়ার সার্ভিসের ৮ ইউনিট কাজরত

ঘণ্টাখানেকের মধ্যে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো স্থগিত

লাল ব্যানার মানেনি চালক, লাইনচ্যুত নীলসাগর এক্সপ্রেস

বৃষ্টি-যানজটে ভোগান্তি, রেল-নৌপথেও বিপর্যয়

যানজট, রেল-নৌপথে দুর্ঘটনা আর বৃষ্টিতে দুর্ভোগের ঈদযাত্রা পোশাক কারখানাগুলো ছুটির পর কর্মীরা বাড়ি যাওয়ার জন্য সড়কে নেমে এলে আগের ব্যবস্থাপনা আর কুলোয়নি। এবারের ঈদযাত্রায় এতদিন ভোগান্তি তেমন ছিল না বললেই চলে। তবে গাজীপুর অঞ্চলের অর্ধেকের বেশি কারখানা একযোগে ছুটি দিলে বদলে যায় সড়কের পরিস্থিতি। বুধবার কারখানাগুলো ছুটির পর কর্মীরা বাড়ি যাওয়ার জন্য সড়কে নেমে এলে আগের ব্যবস্থাপনা আর কুলোয়নি। এতে মহাসড়কে প্রায় ২০ কিলোমিটার জুড়ে যানজট তৈরি হয়। এর মধ্যে শেষ বিকেলের বৃষ্টি বাসের জন্য অপেক্ষমান ও ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। যানজটও আরও প্রবল হয়। এদিন চাপ ছিল ট্রেনেও। বরাবরের মত ভেতরেতো বটেই, ছাদেও বোঝাই যাত্রী নিয়ে ট্রেনগুলো একের পর এক রাজধানী ছেড়ে গেছে। সন্ধ্যার পর বৃষ্টিতে নাকাল হতে হয়েছে যাত্রীদের, বিশেষ করে ছাদে গাদাগাদি করে ছিলেন যারা। ঈদযাত্রা শুরুর পর সপ্তাহজুড়েই ট্রেন মোটামুটি সময়মতো চললেও এদিন দুপুরে সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার পর উত্তরের কয়েকটি ট্রেনের সময়মতো চলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নৌপথেও ছিল ঘরমুখো মানুষের স্রোত। এর মধ্যে সদরঘাটে দুই লঞ্চের মাঝে পড়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকার এক যাত্রী নিহত, একজন গুরুতর আহত ও অন্তত দুজন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।   চন্দ্রায় উত্তরের যাত্রীদের ভোগান্তি ঈদযাত্রায় উত্তরমুখী মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবারও গাজীপুরে কারখানাগুলো ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১৬ মার্চ ৬২টি, ১৭ মার্চ ৪৪৪টি, ১৮ মার্চ এক হাজার ৪১৪টি কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে। ১৯ মার্চ ৮৩৩টি কারখানা ছুটি হবে। সবচেয়ে বেশি কারখানা ছুটি হয়েছে বুধবার। মোটামুটি সকাল থেকেই ঢাকার সাভার, বাইপাইল, ইপিজেড, গাজীপুরের চন্দ্রা, কোনাবাড়ি এলাকার সড়কের পাশে ছিল বাসের জন্য অপেক্ষমান মানুষের উপচেপড়া ভিড়। এত লোককে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত বাস ছিল না। তবে যাত্রী তোলার জন্য বাসগুলো রাস্তার ওপর দাঁড়ানোর কারণে দুপুরের আগে থেকেই চন্দ্রা মোড় থেকে শুরু হয় প্রচণ্ড যানজট। ইফতারের আগে এই যানজটের লেজ ২০ কিলোমিটার ছড়ায়। এর মধ্যে বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়ায় ঘরমুখো মানুষকে আরও নাকাল হতে হয়। শোভন আহমেদ নামে গাইবান্ধাগামী একজন যাত্রী জানাচ্ছেন ১২টা ৪০ মিনিটে তিনি কল্যাণপুর থেকে বাসে উঠেছেন। চন্দ্রার যানজট ঠেলে সাড়ে ৭ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমড়ুল পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছেন। কিবরিয়া তালুকদার নামের আরেকজন বলছেন, দুপুর ২টায় মহাখালী থেকে রওনা দিয়েছেন। রাত ১০টায় তিনি চন্দ্রার যানজটে আটকে থাকার কথা জানিয়েছেন। কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম বলছেন, "যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম থাকায় চাপ অনেক বেড়েছে। এর ওপর বৃষ্টি হয়ে যাওয়ায় যানবাহন ধীরগতিতে চলছে।" তারা (পুলিশ) সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন, বলেন এই কর্মকর্তা। সাভারের ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে দেখা গেছে, উত্তর ও দক্ষিণমুখী শত শত যাত্রী মালবাহী ট্রাকে চড়ে গন্তব্যে রওনা হয়েছেন। বড় বড় ট্রাকে ত্রিপল বিছিয়ে তার ওপর নারী, পুরুষ ও শিশুদের তোলা হচ্ছে। আবার মালবাহী ট্রাকে অনেককে মই দিয়ে উঠতে দেখা গেছে। ট্রাকের যাত্রী হয়ে বসা পোশাক শ্রমিক রোকসানা আক্তার বলছেন, "বাসে টিকিট পাই নাই, আর পাইলেও দাম ডাবল। পরিবার নিয়ে বাড়ি তো যাইতে হবে, তাই বাধ্য হয়ে ট্রাকে উঠছি।"   দুর্ঘটনায় রেল, সময়সূচি নিয়ে শঙ্কা নীলফামারীর চিলাহাটিগামী 'নীলসাগর এক্সপ্রেস' এর নয়টি বগি বগুড়ার আদমদীঘিতে লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকার সঙ্গে সরাসরি উত্তরের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বুধবার দুপুর ২টা থেকে। ঈদযাত্রার চূড়ান্ত মুহূর্তে বুধবার দুপুরে এ দুর্ঘটনার পর উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা তাদের ভ্রমণ নিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েন। কারণ বগুড়ার সান্তাহার জংশনের যে জায়গায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে সেই পথ ধরেই উত্তরের ট্রেনগুলোকে চলাচল করতে হয়। পরে রেলওয়ে মন্ত্রণালয় যাত্রীদের ঈদযাত্রার কথা ভেবে বিকল্প পদ্ধতিতে ঢাকা-উত্তরের পথে ট্রেন চালানোর ঘোষণা দেয়। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, "ঢাকা থেকে আজ সন্ধ্যায় ও রাত্রে ছাড়বে এরকম সব ট্রেন বের হয়ে এসেছে। শুধু পঞ্চগড় এক্সপ্রেস সেকশন ক্লিয়ার না হলে আসতে পারবে না। "চিলাহাটি এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সঠিক সময়ে ছাড়া সম্ভব হবে। এর মধ্যে উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্ত হলে এগুলোর কোনোটিই বাধাপ্রাপ্ত হবে না। "যদি উদ্ধার কাজ শেষ নাও হয়, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস সান্তাহার থেকে বিকল্প পথে কুড়িগ্রাম পাঠানো যেতে পারে। উদ্ধারকাজ শেষ না হলে সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দ্রুতযানও পথের মধ্যে আটকা পড়তে পারে। "বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেস ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।" পরে এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে রেজাউল বলেন, "রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা থেকে নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটগামী যাত্রীরা ট্রেন পরিবর্তনের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছাবেন। "এই প্রক্রিয়ায় পঞ্চগড় থেকে আসা এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের যাত্রীরা দুর্ঘটনাস্থলের দুই প্রান্তে নেমে একে অপরের ট্রেনে উঠে যাত্রা সম্পন্ন করবেন।"   পাটুরিয়ায় নৌযান বন্ধের এক ঘণ্টা পর চালু গাজীপুর বা ঢাকার উত্তর অংশে বসবসাকারী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক মানুষ পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে যাতায়াত করেন। বুধবারও দিনভর এই ঘাটে ফেরি ও লঞ্চে মানুষ ও যানবাহনের উপচেপড়া ভিড় ছিল। তবে শেষ বিকেলের ঝড়ো হাওয়ায় ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ গেলে ভোগান্তি বাড়ে ঘুরমুখো মানুষের। ঝড়ো হাওয়ার কারণে সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে ওই পথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। রাত পৌনে ৯টার দিকে নৌপথে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয় বলে বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম মো. সালাম হোসেন জানান। ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাটুরিয়া ঘাটে বাসের সারি দীর্ঘ হয়েছে। অনেকে এই অবস্থাকে পদ্মা সেতু হওয়ার আগের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন। ঘণ্টা খানেক পর আবহাওয়া শান্ত হয়ে এলে আবার নৌযান চলাচল শুরু হয়।   সদরঘাটে দুর্ঘটনায় মৃত্যু, নিখোঁজ ঈদযাত্রার ভিড়ের মধ্যে এদিন বিকাল ৫টার দিকে সদরঘাটে দুটো লঞ্চের চাপায় পড়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকার এক যাত্রীর প্রাণ গেছে, গুরতর আহত হয়েছেন আরো একজন। এ ঘটনায় আরো '২-৩ জন' নিখোঁজ রয়েছেন বলে কোতোয়ালি থানার ওসি শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ জানিয়েছেন। সেখানে আসলে কী ঘটেছিল, তার একটি বিবরণ পাওয়া যায় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সম্রাট হাওলাদারের কথায়। তিনি বলেন, বিকাল ৫টার দিকে একটি লঞ্চ সদরঘাট ছেড়ে যাওয়ার জন্য পেছাতে (ব্যাকগিয়ার) শুরু করলে দুই লঞ্চের চাপায় পড়ে যায় ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি। "দুই লঞ্চের চাপায় একজন যাত্রীর পা টুকরো হয়ে কেটে যায়। আরেকজন যাত্রী পিষ্ট হয়ে পানিতে পড়ে যায়।" সম্রাট বলেন, "এই ঘটনা সবাই দেখেছে। ট্রলার যখন লঞ্চের নিচে পড়ে, তখন সাত থেকে আটজন যাত্রী ছিল। যখন লঞ্চের নিচ থেকে ট্রলার বের হয়, তখন কোনো যাত্রী ছিল না। তারা কোথায় গেল জানা যায়নি।" ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে লঞ্চে ওঠার চেষ্টা করছিলেন ওই যাত্রীরা।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ : ঈদেও চালু থাকছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ

ছবি : সংগৃহীত

তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই : হুইপ দুলু

ছবি : সংগৃহীত

ফসল বীমা চালুর উদ্যোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিপূরণ পাবেন কৃষক : কৃষিমন্ত্রী

0 Comments