শৈত্যপ্রবাহের ধারাবহিকতায় বরিশালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত বিভিন্ন বয়সী রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে বয়স্কদের পাশাপাশি বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। হাসপাতালগুলোতে শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ রেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। তবে সংকট থাকলেও রোগীদের সব ধরনের সেবা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার দুটি শিশু ওয়ার্ডে রোগীদের চাপ বেড়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৪১ শয্যার বিপরিতে ভর্তি আছে ৩০০ এর অধিক শিশু। আর দুটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছেন ১৫০ এর বেশি রোগী। পাশাপাশি হাসপাতালের বহিঃভাগেও রোগীদের ভিড় বাড়ছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রাম থেকে অনেক মা-বাবা শিশুদের নিয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে কেউ কেউ শিশুর জ্বর ও ঠান্ডার জন্য স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাইয়েছেন। এতে শিশু সুস্থ না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
রোগীর স্বজনরা বলছেন, প্রচন্ড শীতের কারণে পেটে ব্যথ্যা, ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া নিয়ে তারা হাসপাতালে এসেছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রোগীর স্বজন আলেয়া বেগম বলেন, প্রথমে গ্রামে ডাক্তার দেখাই। জ্বর কমে বাড়ে। পরে বরিশাল হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে আসার পর পরিক্ষা করে দেখি বাচ্চার নিউমোনিয়া হয়েছে। নাজমা বেগম নামে আরেক স্বজন বলেন, স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানোর পরও জ্বর ও কাশি না কমায় বরিশাল নিয়ে আসি। পরে জানতে পারি নিউমোনিয়া হয়েছে। এখন চিকিৎসা চলছে।
হাসপাতাল সূত্র বলছে, আন্তওয়ার্ড ছাড়াও বহির্বিভাগে সরকারি খোলার দিন চিকিৎসা নিচ্ছে গড়ে ৫০০ এর অধিক শিশু। এদের মধ্যে এখন বেশিরভাগই জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছে। অনেকে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ না হয়ে পরে হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন। আগের তুলনায় দেড়গুণ রোগী বেড়েছে বলে বলছেন চিকিৎসকরা।
বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (শিশু স্বাস্থ্য) ডা. মো. নুরুল আলম বলেন, এখন হাসপাতালে স্বাভাবিকের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সকাল ৯টা থেকে ২ টা পর্যন্ত ডিউটি থাকলেও এখন তিনটা পর্যন্ত রোগী দেখতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এখন ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। এধরনের রোগী সামনে আরো বাড়বে। এছাড়া মা তার সন্তানকে যে কাপর দিয়ে ঢেকে রাখে তাতে ঘাম থেকেও শিশুর ঠান্ডা লাগতে পারে। তাই তিনি মায়েদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, হাসপাতালের পরিচালক বলছেন, তারা রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বেড সংকট দূর করা গেলে সেবার মান আরও বাড়ানো যাবে বলে মনে করেন পরিচালক।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মসিউল মুনীর বলেন, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা কম। তারপরও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রদান করে যাচ্ছি। চিকিৎসকদের চেয়ে বেশি বেগ পোহাতে হয় নার্সদের। সব রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এই সময়ে সকল অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণেই ঠান্ডাজনিত রোগের সংক্রামণ বাড়ছে বলেও জানান চিকিৎসকরা। সচেতনতা বাড়ালে ও চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিলে ঠান্ডাজনিত রোগের সংক্রমণ কমবে বলে মনে করেন তারা।
বরিশালের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে বরিশালে সর্বনিন্ম ৯ ডিগ্র সেলসিয়াস তাপমাত্রা থেকে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচন আজ (২ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় (নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় সকাল ১০টায়) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক ঘূর্ণমান পদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী এবার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সভাপতি নির্বাচিত করা হবে। এই নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয় এস কাকোরিস। পূর্বে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই পদের জন্য তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তবে একই পদে ফিলিস্তিনের প্রার্থী থাকায় বাংলাদেশ সে সময় প্রার্থিতা স্থগিত রাখলেও প্রত্যাহার করেনি। পরবর্তীতে ফিলিস্তিন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলে বাংলাদেশের প্রার্থিতা আবারও পুনরুজ্জীবিত হয়। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পুনঃমনোনয়ন দেওয়া হয়। সদস্য দেশগুলোর ভোটে খলিলুর রহমান নির্বাচিত হলে ৪০ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো কোনো বাংলাদেশি প্রতিনিধি এই গৌরব অর্জন করবেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। গত ১৩ মে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে খলিলুর রহমান নির্বাচিত হলে ‘পূর্ণকালীন সভাপতি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার এবং সবার সভাপতি হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তার ছয়টি পরিকল্পনার প্রস্তাব তুলে ধরেন। ওই অনুষ্ঠানে অ্যান্ডোরার প্রতিনিধি জানতে চান, সাধারণ পরিষদের পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হলে তাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে কি না। জবাবে খলিলুর রহমান জানান, তিনি পদত্যাগ করবেন না, বরং প্রধানমন্ত্রী তাকে এক বছরের রেহাই দিতে পারেন বা তিনি ছুটিতেও যেতে পারেন। এ প্রসঙ্গে সোমবার (১ জুন) বিকেলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচিত হলে খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই নেবেন। তিনি স্পষ্ট করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে বহাল থেকে এই দায়িত্ব পালনে কোনো আইনি বাধা বা নিয়ম নেই। নির্বাচনে বাংলাদেশের বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের বিশাল কর্মঅভিজ্ঞতা থাকায় বাংলাদেশ এই নির্বাচনে অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং জয়ী হলে তা দেশের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত হিসেবে নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হতে ভোটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস। মর্যাদাপূর্ণ এই পদের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং সাইপ্রাসের পক্ষে দেশটির বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গোপন ব্যালটে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ভোটে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জুটতে পারে সভাপতির চেয়ার, সেজন্য ভোটের ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সংস্থাটির এক বছর মেয়াদের জন্য পরবর্তী সভাপতি নির্বাচনে আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদকক্ষে সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি বিশেষ সমীকরণে এই ভোটের ফলাফল নির্ধারণ হতে পারে। সেটি হলো— ‘রেসিপোকাল সাপোর্ট অ্যারেঞ্জমেন্ট’ (একে অপরকে ভোট প্রদানের জন্য পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতামূলক চুক্তি)। এই পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি আদায়ে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের প্রার্থীর মধ্যে যিনি এগিয়ে থাকবেন, তারই ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মর্যাদাপূর্ণ সভাপতি পদে আগামীকাল সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস। বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং সাইপ্রাসের পক্ষে বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিস লড়ছেন। মাত্র তিন মাসের প্রচারণায় বাংলাদেশ ‘গ্লোবাল সাউথ’ ও মুসলিম দেশগুলোর ভোট টানতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও, ১০ বছর ধরে প্রচারণা চালানো সাইপ্রাসের সঙ্গে বাংলাদেশের এই ভোটের লড়াই বেশ তীব্র ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে লড়াইটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে জানিয়ে ঢাকা, নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে কর্মরত বাংলাদেশের একাধিক কূটনীতিক ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, বাংলাদেশ নাকি সাইপ্রাসের প্রার্থী জিতবেন, তা নিশ্চিত করে বলা দুরূহ। দুই প্রার্থীরই জেতার সামর্থ্য আছে এবং যে কেউ হতে পারেন ৮১তম অধিবেশনের নতুন সভাপতি। ভোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৬০টিরও বেশি ‘রেসিপোকাল সাপোর্ট অ্যারেঞ্জমেন্ট’ আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্য থেকে হয়তো দু-চারটি ভোট হাতছাড়াও হতে পারে। আঞ্চলিক পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদটি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপের জন্য নির্ধারিত। বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস একই গ্রুপ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে; তবে সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও এর বিভিন্ন কমিটিতে নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্বের সুবিধার্থে বৈশ্বিক সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপে বিভক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো— আফ্রিকান গ্রুপ, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপ, পূর্ব ইউরোপীয় গ্রুপ, ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় গ্রুপ এবং পশ্চিম ইউরোপীয় ও অন্যান্য গ্রুপ। পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যে আফ্রিকান ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপে ভোটের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মাত্র তিন মাসের প্রচারণায় বাংলাদেশ নানা কূটনৈতিক কৌশলে আফ্রিকান ভোট টানার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছে। বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমান নিজেই সমর্থন চাইতে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদরদপ্তর আদ্দিস আবাবা সফর করেছেন। শুধু তাই নয়, আফ্রিকার ভোট পেতে সেনেগাল এবং মরোক্কো সফর করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। প্রতিমন্ত্রী দুটি বহুপক্ষীয় ফোরামে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আফ্রিকান দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে খলিলুর রহমানের জন্য ভোট চেয়েছেন। "আমাদের সমস্যা একটাই— আমরা প্রচারণার জন্য মাত্র তিন মাস সময় পেয়েছি। অন্যদিকে, সাইপ্রাস বিগত ১০ বছর ধরে এই পদের জন্য চেষ্টা করছে। তবে, ভোটের ফলাফল নির্ধারিত হতে পারে আরএসএ-এর ওপর। আরএসএ এক ধরনের নৈতিক দায়বদ্ধতা। আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের একটি ‘ক্লিন ইমেজ’ বা ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে, যার প্রভাব ভোটে পড়বে বলে আমরা আশাবাদী" - বাংলাদেশ সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সেনেগাল এবং মরোক্কো সফরে প্রতিমন্ত্রী কয়েকটি ‘রেসিপোকাল সাপোর্ট অ্যারেঞ্জমেন্ট’ আদায়ে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া, আফ্রিকায় প্রভাব থাকা চীনকেও কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে ঢাকা। গত এপ্রিলে বেইজিং সফর করে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদের জন্য আফ্রিকার দেশগুলোর ভোট পেতে চীনের সমর্থন চায় বাংলাদেশ। সরকারের এক কূটনীতিক জানান, আফ্রিকান ভোট বাংলাদেশ পুরোপুরি পাবে না, কারণ সেখানে ভোট ভাগ হয়ে গেছে। তবে, শতাংশের হিসাবে বাংলাদেশের দিকেই পাল্লা ভারী। অন্য চারটি অঞ্চলের ভোটের পরিসংখ্যান সম্পর্কে এই কূটনীতিক আরও জানান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ্রুপের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দু-একটি দেশের ভোট বাংলাদেশ নাও পেতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এ বিষয়ে বিভক্ত, কারণ বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে সাইপ্রাসের সঙ্গে ‘রেসিপোকাল সাপোর্ট অ্যারেঞ্জমেন্ট’ করে ফেলেছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্য তথা মুসলিম দেশগুলোর জোটের সমর্থন বাংলাদেশ বেশি পাবে। এছাড়া পূর্ব ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় এবং পশ্চিম ইউরোপীয় গ্রুপ থেকে দুই দেশের মধ্যেই ভোট ভাগাভাগি হবে। ইউরোপের অল্প কিছু ভোট বাংলাদেশও পাবে— জানান ওই কূটনীতিক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর জাতিসংঘের সভাপতি পদের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থী করা হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে। তিনি ভোটে জিততে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন। এই সময়ে তিনি সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য (লন্ডন), তুরস্ক, ভারত, চীন, মরিশাস, বেলজিয়াম, ইথিওপিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন। এছাড়া তিনি ভোটের প্রচারণায় কয়েক দফা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন সফর করেছেন। "আমাদের প্রার্থী অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি চমৎকার। গ্লোবাল সাউথ-এর সমর্থন, মুসলিম ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভোট, শান্তিরক্ষা ও জলবায়ু কূটনীতিতে ইতিবাচক ভাবমূর্তির কারণে বৃহৎ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। সবকিছুর ইতিবাচক প্রভাব ভোটে পড়তে পারে" - বাংলাদেশ সরকারের আরেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) খলিলুর রহমানের জেতার সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, আমাদের সমস্যা একটাই— আমরা প্রচারণার জন্য মাত্র তিন মাস সময় পেয়েছি। অন্যদিকে, সাইপ্রাস বিগত ১০ বছর ধরে এই পদের জন্য চেষ্টা করছে। তবে, ভোটের ফলাফল নির্ধারিত হতে পারে আরএসএ-এর ওপর। আরএসএ এক ধরনের নৈতিক দায়বদ্ধতা। আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের একটি ‘ক্লিন ইমেজ’ বা ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে, যার প্রভাব ভোটে পড়বে বলে আমরা আশাবাদী। সরকারের আরেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, আমাদের প্রার্থী অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি চমৎকার। গ্লোবাল সাউথ-এর সমর্থন, মুসলিম ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভোট, শান্তিরক্ষা ও জলবায়ু কূটনীতিতে ইতিবাচক ভাবমূর্তির কারণে বৃহৎ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। সবকিছুর ইতিবাচক প্রভাব ভোটে পড়তে পারে। বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমান বর্তমানে বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘের সভাপতি নির্বাচিত হলে তাকে সমানতালে দুটি দায়িত্ব সামলাতে হবে। ভোটের প্রচারণায় বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিপক্ষ সাইপ্রাসের প্রার্থী এটি নিয়ে নেতিবাচক প্রচার করছেন। তবে, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হলে ‘পূর্ণকালীন সভাপতি’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেছেন খলিলুর রহমান। এই লক্ষ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এক বছরের জন্য ছুটির আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বর্তমান (৮০তম) অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোটের মধ্য দিয়ে ৮১তম অধিবেশনের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হবেন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর এই অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবং ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। এর আগে, বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার খলিলুর রহমান নির্বাচিত হলে তিনি হবেন এই গৌরব অর্জনকারী দ্বিতীয় বাংলাদেশি। গোপন ব্যালটের এই নির্বাচনে জয়-পরাজয় মূলত নির্ধারিত হবে দেশ দুটির ‘পারস্পরিক ভোট প্রদান চুক্তি’ বা আরএসএ-এর সংখ্যার ওপর। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৬০টির বেশি দেশের সমর্থন আদায় করতে পেরেছে। নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে ১৯৮৬ সালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দ্বিতীয় কোনো বাংলাদেশি হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের এই ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করবেন খলিলুর রহমান যেভাবে প্রার্থী হলেন খলিলুর রহমান ২০২০ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন এই পদে নির্বাচনের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ২০২৬ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে বাংলাদেশের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে মনোনীত করা হয়েছিল। তবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস ছাড়াও ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি থাকায় ঢাকা তখন কিছুটা ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। এরপর টেকনোক্র্যাট কোটায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয় খলিলুর রহমানকে, যিনি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রার্থী পরিবর্তন করে খলিলুর রহমানকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয় এবং তৌহিদ হোসেন বাদ পড়েন। এর মধ্যে ফিলিস্তিনও নির্বাচন থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় মঙ্গলবারের (২ জুন) নির্বাচনে এখন মুখোমুখি সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বসছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। ৪ দিনব্যাপি ৫৭তম এবারের সীমান্ত সম্মেলন শুরু হবে ৮ জুন। সম্মেলনে বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। বিজিবি সূত্র বলছে, সীমান্ত হত্যা, পুশইন (ঠেলে দেওয়া), ও মাদকপাচার বন্ধের বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশের তরফ থেকে সম্মেলন এসব ইস্যু তোলা হবে। এছাড়া আগরতলা থেকে আখাউড়ার দিকে প্রবাহিত সীমান্তবর্তী চারটি খালের বর্জ্য পানি অপসারণে উপযুক্ত পানি শোধনাগার স্থাপন; সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো বন্ধসহ বেশ কিছু আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া লালমনিরহাটের দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন সংযোগের বিষয়টি আলোচনায় আসবে। এমন এক সময়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যখন পশ্চিমবঙ্গ থেকে ‘কথিত’ অবৈধ ও নথিবিহীন বাংলাদেশিদের নিয়মিত বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে। বিজিবি জানায়, বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর ও যৌথ নদী কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ প্রতিনিধিত্ব করবেন। অপর দিকে, বিএসএফ মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন। ভারতীয় প্রতিনিধিদলে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তাগণ প্রতিনিধিত্ব করবেন। বিএসএফের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআই জানিয়েছে, অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে বিএসএফের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীন কুমার। বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হচ্ছে বিজিবি-বিএসএফের। সীমান্তে কাঁটাতার, অনুপ্রবেশ রোধ এবং পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বসবাসরত ‘কথিত’ নথিবিহীন বাংলাদেশিদের বিজিবির কাছে হস্তান্তরের বিষয়গুলি উঠে আসতে পারে বৈঠকে। পাশাপাশি বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার অভিযোগগুলো নিয়েও কথা হতে পারে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রতিনিধিদের মধ্যে। পিটিআই বলছে, ঘটনাচক্রে এমন এক সময়ে এই বৈঠক হচ্ছে যখন বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি আরও বৃদ্ধি করেছে ভারত। পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য বিএসএফ-এর হাতে জমি হস্তান্তর করেছে। অনুপ্রবেশকারীরা ধরা পড়লে তাঁদের বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুপ্রবেশকারী এবং অবৈধবাসীদের রাখার জন্য জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টারও খোলা হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার। দীর্ঘ এই সীমান্তের ৮৬০ কিলোমিটার এলাকা এখনও কাঁটাতারহীন অবস্থায় রয়েছে। এই ৮৬০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১৭৪ কিলোমিটার সীমান্তে ভৌগোলিক ও অন্যান্য কারণে কাঁটাতার বসানো সম্ভব নয়। বাংলাদেশে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে দলটি। নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দিল্লি ও ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সেই সম্পর্ক আবার মসৃণ করতে তৎপর হয়েছে দু’দেশই।