জাতীয়

বরিশালে ৭ শিয়াল হত্যা: ১০ দিন পর বন বিভাগের মামলা, চারজন আসামি

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল সদর উপজেলার ময়দানখোলা এলাকায় সাতটি শিয়াল হত্যার ঘটনায় অবশেষে মামলা করেছে বন বিভাগ। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর আওতায় দায়ের করা এ মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

 

রোববার (১২ জুলাই) ঘটনার ১০ দিন পর বরিশাল সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বাদী হয়ে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন।

 

মামলার আসামিরা হলেন—নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকার নুরুল ইসলাম (৩৩), মোহাম্মদ হারিস (৩৬), কামাল খলিফা (৩২) এবং মোহাম্মদ জামাল খলিফা (৩২)।

 

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই এলাকায় একে একে সাতটি শিয়াল ধরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পশুপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকরা জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান।

 

বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তথ্যে কয়েকজন ব্যক্তি শিয়ালগুলোকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার বিষয়টি জানা গেছে। তবে শিয়ালের মাংস রান্না করে খাওয়ার যে দাবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তিনি জানান, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী আদালতে মামলা করা হয়েছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, মামলা দায়েরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত চারজনকে এলাকায় আর দেখা যাচ্ছে না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি : সংগৃহীত
এসপি মাসুদের কাছে দোজখ-জাহান্নামের সংজ্ঞা জানতে চাইলেন সন্ত্রাসী রায়হান

পুলিশের অভিযানের মুখে ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যাওয়া চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান আলম এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমকে। নিজের ফেসবুক আইডি থেকে এসপিকে উদ্দেশ্য করে রায়হান লিখেছেন, ‘দোযখ আর জাহান্নামে তফাৎ কি মাসুদ স্যার?’   গতকাল রোববার (২ জুলাই) তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই স্ট্যাটাস দিলেও বিষয়টি সোমবার (৩ জুলাই) জানাজানি হয়। সম্প্রতি নোয়াখালীতে এক অভিযানে রায়হানকে প্রায় ধরে ফেলেছিল পুলিশ। তবে শেষ মুহূর্তে ছাদ থেকে লাফিয়ে গ্রেপ্তার এড়িয়ে পালান তিনি। পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ আলম মন্তব্য করেছিলেন, ‘রায়হান কোনোভাবে ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে গেছে। তবে সে জাহান্নাম না দেখলেও দোযখ দেখে ফেলেছে।’ ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশ সুপারের সেই মন্তব্যের জের ধরেই ফেসবুকে এই পোস্ট দিয়েছে রায়হান। একই পোস্টে রায়হান নোয়াখালীর স্থানীয় কিছু বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিখেছে, ‘ধন্যবাদ নোয়াখালী রংমালার মানুষদের। তারা এমন নিখুঁতভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে।’ শীর্ষ এ সন্ত্রাসী আরও উল্লেখ করেছেন, বিপদে সব ধরনের মানুষই সাহায্য আশা করে, যা সে নোয়াখালী থেকে পেয়েছে। সুযোগ পেলে ভালো পথে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বিপদ আসবেই, তাই বলে হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। এদিকে আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম নিজেই সন্ত্রাসী রায়হানের এই ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি সামনে আনেন। সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ আলম বলেন, ‘আমরা তাকে ধরতে ওই এলাকায় প্রায় ৫ ঘণ্টা চিরুনি অভিযান চালিয়েছিলাম। হতে পারে কেউ তাকে পালিয়ে যেতে কিংবা লুকাতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া সেটা তো আমরা বলতে পারব না।’ রায়হানের পোস্টে নোয়াখালীবাসীকে ধন্যবাদ জানানোর প্রসঙ্গে এসপি বলেন, ‘পুরো নোয়াখালীবাসী তো আর তাকে সাহায্য করেনি। হতে পারে গুটি কয়েক লোক জেনে বা না জেনে তাকে আশ্রয় দিয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আজ সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক

সংগৃহীত ছবি

পুলিশের অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৮ কর্মকর্তাকে বদলি

সংগৃহীত ছবি

প্রতি চারজনে এক শিশু খর্বকায়, অপুষ্টিতে জাতীয় অর্থনীতির বড় ক্ষতি

ছবি : সংগৃহীত
হাইড্রোলিক হর্ন ও হুটার ব্যবহারে বিআরটিএর কঠোর নিষেধাজ্ঞা

অ্যাম্বুল্যান্স, অগ্নিনির্বাপক ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবার যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো মোটরযানে হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার কিংবা অন্যান্য অননুমোদিত হর্ন ব্যবহার না করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। ২১ জুলাইয়ের একটি বিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩ আগস্ট) এক জরুরি বার্তায় এই নিষেধাজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি। বিআরটিএর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২–এর ৮১ নম্বর বিধি অনুযায়ী জরুরি সেবায় নিয়োজিত নির্দিষ্ট যানবাহন বাদে অন্য কোনো গাড়িতে বিভিন্ন সুরের বহুমুখী হর্ন কিংবা তীব্র, কর্কশ, আকস্মিক, বিকট ও ভীতিকর শব্দ উৎপাদনকারী হর্ন বা যন্ত্র স্থাপন, পুনঃস্থাপন এবং ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।     বিআরটিএর ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের অননুমোদিত হর্নগুলোর কারণে সাধারণ মানুষের জনদুর্ভোগ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব হর্ন জনস্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর। এছাড়া এ ধরনের তীব্র শব্দ চালকদের বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাতে উৎসাহিত করে, যা সড়কে দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।     বর্তমানে বিভিন্ন গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন ও হুটারের যত্রতত্র ব্যবহার জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এই পরিস্থিতি রোধে জরুরি সেবার নির্ধারিত যানবাহন ব্যতিরেকে অন্য সব মোটরযানে এ ধরনের বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী অননুমোদিত হর্ন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিআরটিএ।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

জুন-জুলাইয়ের বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি: বিভ্রান্তিতে না কান দেওয়ার পরামর্শ মন্ত্রণালয়ের

ছবি : সংগৃহীত

পে স্কেলের গেজেটসহ ৫ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি

ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল

ছবি : সংগৃহীত
আইএমএফের আপত্তি সত্ত্বেও নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে নামছে সরকার

বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট শিগগিরই প্রকাশ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।     তিনি জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।     মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললেই প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক সক্ষমতা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) অন্তত দুই বছর পে স্কেল বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিলেও সরকার তা গ্রহণ করছে না। বরং অক্টোবরে আইএমএফের বার্ষিক সভার আগেই গেজেট প্রকাশ করে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।   এক যুগ ধরে নেই নতুন পে স্কেল বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি।     এ সময়ে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে স্কেলের দাবি জোরালো হয়।     ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম জাতীয় পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।     এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল।     তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল পৃথক একটি কমিটি গঠন করে পে স্কেলের পুরো বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা শুরু করে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।     অতীতের পে স্কেলে কত বেড়েছিল বেতন স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আটবার জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে।   প্রতিটি পে স্কেলেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বিভিন্ন হারে বাড়ানো হয়েছে। ১৯৭৩ সালের প্রথম পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ছিল ১৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা। ১৯৭৭ সালের দ্বিতীয় পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৭৩ শতাংশ বেড়ে ২২৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৫০ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার টাকা হয়।     ১৯৮৫ সালের তৃতীয় পে স্কেলে সবচেয়ে বড় বেতন বৃদ্ধি দেখা যায়। এ সময় সর্বনিম্ন মূল বেতন ১২২ শতাংশের বেশি বেড়ে ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন দ্বিগুণ হয়ে ৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।     ১৯৯১ সালের চতুর্থ পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৮০ শতাংশ বেড়ে ৯০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন প্রায় ৬৭ শতাংশ বেড়ে ১০ হাজার টাকা হয়।   ১৯৯৭ সালের পঞ্চম পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন প্রায় ৬৭ শতাংশ বেড়ে দেড় হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৫০ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।   ২০০৫ সালের ষষ্ঠ পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৬০ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৫৩ শতাংশ বেড়ে ২৩ হাজার টাকা হয়।   ২০০৯ সালের সপ্তম পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৪ হাজার ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।   সর্বশেষ ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ১০১ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৯৫ শতাংশ বেড়ে ৭৮ হাজার টাকায় উন্নীত হয়।     বাস্তবায়নে বড় আর্থিক চাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের আওতায় প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েক লাখ পেনশনভোগী আসবেন। মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব ভাতা ও পেনশন ব্যয়ও বাড়বে।     অর্থনীতিবিদদের ধারণা, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় অন্তত ৮২ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে। ফলে অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরো দক্ষতা প্রয়োজন হবে।     আইএমএফের আপত্তি, সরকারের ভিন্ন অবস্থান অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হলে সরকারের রাজস্ব ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই আইএমএফ অন্তত দুই বছর পে স্কেল বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, এতে বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।   তবে সরকার আইএমএফের এই পরামর্শ গ্রহণ করেনি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নতুন পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব, বাজেট সক্ষমতা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।   বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত বহাল রেখে প্রয়োজনে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের বিষয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেন।     অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বলেছেন, নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে আইএমএফের ঋণের কোনো সম্পর্ক নেই। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করতে বেশি সময় লাগবে না।     শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে প্রস্তাব সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথ খুলবে।   তবে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব আয়ের ওপর এর প্রভাব বড় বিষয় হয়ে থাকবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এক যুগ পর সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কুমারখালীতে ব্রিটিশ আমলের রেল টানেল ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা

ছবি: সংগৃহীত

নিসচার খুলনা মহানগর কমিটির সভাপতি মুন্না, সম্পাদক সোহাগ

ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস সংকটে আয় কমলেও কমেনি সিএনজি চালকদের জমা

0 Comments