জাতীয়

বাংলাদেশে শিশুর বিরুদ্ধে নৃশংসতার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিল ইউনিসেফ

মারিয়া রহমান মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুর প্রতি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইউনিসেফ। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শিশুদের ওপর নৃশংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে!’

দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা বেড়েছে।এতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, উঠছে প্রশ্ন।
 
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে ৪৬ শিশু। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ১৪ শিশু এবং ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়েছে তিন শিশুকে।

ধর্ষণের শিকার দুই শিশু আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া, বিভিন্ন ঘটনায় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ১১৫ শিশু খুন হয়েছে।
এর মধ্যেই রাজধানীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধের পদক্ষেপ নিতে জোরাল আহ্বান জানাল ইউনিসেফ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশজুড়ে সম্প্রতি শিশুদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মেয়ে ও ছেলেশিশুদের ধর্ষণ-হত্যার ঘটনাও রয়েছে। অথচ শিশুদের নিরাপদ থাকার কথা ছিল। এসব ঘটনায় ইউনিসেফ গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের প্রতি ইউনিসেফ আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশজুড়ে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে নৃশংস ও যৌন সহিংসতার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি দেশব্যাপী শিশু সুরক্ষা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং অবিলম্বে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ জোরদারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরছে। 

অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিরোধ, অভিযোগ জানানো, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারব্যবস্থা, কমিউনিটি সুরক্ষা এবং সামাজিক সেবার ঘাটতিগুলো দূর করতে হবে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের জন্য মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং স্কুল, মাদরাসা, কর্মস্থল, পাড়া-মহল্লা ও যত্নকেন্দ্রের জবাবদিহি আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করা প্রয়োজন।’

শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সবার সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্প্রদায় নীরব থাকলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ইউনিসেফ শিশু, নারী, পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে— তারা যেন বিদ্যমান সুরক্ষা সেবার মাধ্যমে সহিংসতা, নির্যাতন বা শোষণের ঘটনা অবহিত করেন।

‘প্রয়োজনে শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-তে যোগাযোগ করার আহ্বানও জানানো হয় বিবৃতিতে। 
 
নির্যাতনের শিকার শিশু ও নারীদের মর্যাদা সুরক্ষার আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফের বিবৃতিতে বলা, ‘তাদের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করা আরো একটি নির্যাতনের শামিল। যারা এসব শেয়ার করেন, তারা বেঁচে থাকা ভুক্তভোগীদের মানসিক আঘাত, পরিবারের ট্রমা এবং ভুক্তভোগীর প্রতি অসম্মান আরো বাড়িয়ে দেন।’

জনগণ, সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে বিবৃতিতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকারকে সম্মান করা এবং বিতর্কিত কিছু কিছু শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, ‘প্রতিটি শিশুর সর্বত্র সুরক্ষার অধিকার রয়েছে। কমিউনিটি, স্কুল, ঘর, এমনকি জনপরিসরে তাদের গল্প ও ছবির ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই সুরক্ষা থাকতে হবে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
স্বাধীনতার সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ বাংলাদেশ-আলজেরিয়ার বন্ধুত্বকে দৃঢ় করেছে: তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার স্বাধীনতার ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং মুক্তির চেতনার মধ্যে গভীর মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, আলজেরিয়া ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, আর বাংলাদেশ লড়াই করেছে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে।   উভয় দেশের লাখো শহীদ দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়। রবিবার (৫ জুলাই) ঢাকায় আলজেরিয়ার ৬৪তম স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বাংলাদেশ-আলজেরিয়া বিজনেস ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল মোস্তফাসহ ব্যবসায়ী, বিশিষ্টজন, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।   তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার যুবসমাজ স্বাধীনতার জন্য অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার করেছে। তাদের কাছ থেকে নতুন প্রজন্মের শেখার সবচেয়ে বড় বিষয় হলো দেশের জন্য আত্মনিবেদন ও দেশপ্রেম।   দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদারের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিপুল সুযোগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ-আলজেরিয়া বিজনেস ফোরামের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং এর সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল মোস্তফার ভূমিকাকে সাধুবাদ জানান।   জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আলজেরিয়া প্রাকৃতিক ও খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ একটি দেশ। দেশটি ইউরোপের মোট গ্যাস আমদানির প্রায় ১৪ শতাংশ সরবরাহ করে, যা এর কৌশলগত গুরুত্বকে আরো বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত আলজিয়ার্স বিশ্বের অন্যতম সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন শহর।   মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রয়োজন। বাংলাদেশ ও আলজেরিয়া উভয় দেশই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করে।   দুই দেশের পতাকার সবুজ ও লাল রঙের মধ্যেও স্বাধীনতার চেতনার প্রতীকী মিল রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে। আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি বলেন, আলজেরিয়ার স্বাধীনতা কেবল একটি দেশের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির ইতিহাস নয়; এটি বিশ্বব্যাপী মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক। আলজেরিয়ার জনগণের আত্মত্যাগ আজও বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।   তিনি বলেন, ১৯৬২ সালের ৫ জুলাই ১৩২ বছরের ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে আলজেরিয়া। একই দিন দেশটিতে জাতীয় যুব দিবসও পালিত হয়, কারণ স্বাধীনতা সংগ্রামে তরুণদের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘দ্য লেগ্যাসি অব জেনারেশনস’ বা ‘প্রজন্মের উত্তরাধিকার’, যা স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী পূর্বসূরিদের স্মরণ এবং নতুন প্রজন্মকে দেশ গঠনে উদ্বুদ্ধ করার বার্তা বহন করে।   রাষ্ট্রদূত বলেন, আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল উপনিবেশবিরোধী ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। এ যুদ্ধে প্রায় ৫৬ লাখ আলজেরীয় শহীদ হন। স্বাধীনতার পর আলজেরিয়া শুধু নিজের উন্নয়নই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন মুক্তি আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা ও সহায়তা দিয়েছে। এ কারণেই একসময় দেশটিকে ‘বিপ্লবীদের মক্কা’ বলা হতো।   তিনি বলেন, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, জোটনিরপেক্ষতা ও উপনিবেশবিরোধী নীতিই আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি। ফিলিস্তিন ও পশ্চিম সাহারা ইস্যুসহ বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে আলজেরিয়া সবসময় সোচ্চার।   রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, ভূমধ্যসাগর ও সাহেল অঞ্চলের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে আলজেরিয়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটি ইউরোপের মোট গ্যাস আমদানির প্রায় ১৪ শতাংশ সরবরাহ করে এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।   তিনি জানান, স্বাধীনতার পর শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে আলজেরিয়া উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তরুণ উদ্যোক্তারা প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। ২০২৬-২০২৯ সালের জাতীয় যুব পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব উদ্যোগকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে।   রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৬ সালে আলজেরিয়ার জিডিপি ৩১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন বিনিয়োগ আইনসহ বিভিন্ন সংস্কারের ফলে দেশটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের ওষুধশিল্প, কৃষি, জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এসব খাতে শতভাগ বিদেশি মালিকানা, কর অব্যাহতি এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রণোদনার সুবিধা রয়েছে বলে জানান তিনি।   বাংলাদেশ-আলজেরিয়া বিজনেস ফোরামের ভূমিকা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর, নেটওয়ার্কিং এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফোরামটি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরো জোরদার করছে।   বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরো দৃঢ় করেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম আরব দেশ ছিল আলজেরিয়া। সেই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই বর্তমানে দুই দেশ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণে কাজ করছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

ছবি: সংগৃহীত

স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

বর্ষাকে ঘিরে বিসিকের মেলা: দেশীয় ঐতিহ্য, হস্তশিল্প ও সুস্বাদু খাবারের মিলনমেলা

ছবি: সংগৃহীত
সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ

সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুত করা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে সরকার। একই সঙ্গে এসব প্রচারসামগ্রীতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক উপস্থাপনার পরিবর্তে অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু, উদ্দেশ্য ও বার্তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   রোববার (৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।   পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত করা কোনো ব্যানার, ফেস্টুন বা বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি—থ্রিডি বা অন্য যেকোনো আঙ্গিকে—ব্যবহার করা যাবে না।   এতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রচারসামগ্রী তৈরির সময় অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, বার্তা এবং মূল প্রতিপাদ্য স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।   মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক পরিচালনায় এলো নতুন নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই আরোহীর

ছবি: সংগৃহীত
প্রবেশপত্র জটিলতা কাটিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় বসলেন বগুড়ার ৬ শিক্ষার্থী

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের প্রবেশপত্র-সংক্রান্ত জটিলতায় পড়া ছয় শিক্ষার্থী শেষ পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলেও পরে শিক্ষা বোর্ড ও কলেজ প্রশাসনের উদ্যোগে তাদের প্রবেশপত্র প্রস্তুত করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো হয়।   শনিবার (৪ জুলাই) বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এতে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।   পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন— হাসর, সম্রাট সরকার, তৌহিদুর রহমান তামিম, মইনুর ইসলাম, অমিত হাসান এবং সাব্বির হোসেন। তাদের পরীক্ষাকেন্দ্র শিবগঞ্জ সরকারি মোজাফফর হোসেন মহাবিদ্যালয়।   তাদের মধ্যে তৌহিদুর রহমান তামিম ও অমিত হাসানের কেবল ইংরেজি আবশ্যিক বিষয়ের পরীক্ষা বাকি থাকায় তারা বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেননি। অন্য চারজন নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।   জানা গেছে, মানবিক বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলে কলেজের এক খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করেন। পরে তিনি নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ না করে আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে জেলা প্রশাসন, কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষা বোর্ড দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে বিশেষ বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করে প্রবেশপত্র ইস্যু করা হয়।   কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান জানান, বিষয়টি জানার পরপরই শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুত প্রবেশপত্র পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। তিনি বলেন, অভিযোগে ১০ শিক্ষার্থীর কথা উঠে এলেও এখন পর্যন্ত ৬ জনের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে এবং তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।   শিবগঞ্জ সরকারি মোজাফফর হোসেন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আসাদ বলেন, শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রবেশপত্র পাওয়ার পর তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কলেজে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।   ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সম্রাট সরকার বলেন, পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার আশঙ্কায় তারা ভেঙে পড়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সুযোগ পাওয়ায় তারা নতুন করে আশাবাদী হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের দালালের মাধ্যমে নয়, সরাসরি কলেজে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন।   আরেক শিক্ষার্থী মইনুর ইসলাম বলেন, প্রবেশপত্র প্রস্তুত হওয়ার খবর পাওয়ার পর তাদের পরিবারের স্বস্তি ফিরে আসে। যে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আশা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই পরীক্ষায় বসতে পারা তাদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।   এদিকে, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০৫, ২০২৬
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়াগামী ফ্লাইটের আগে বিমানবন্দর থেকেই উধাও ৭১ যাত্রী

ছবি - সংগৃহীত

আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি - সংগৃহীত

স্বাস্থ্য খাতে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

0 Comments