জাতীয়

বাংলাদেশে পাইলট প্রকল্প চালু করছে জাপানি ইভি ব্র্যান্ড ‘গ্লাফিট’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জাপানি ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) কোম্পানি ‘গ্লাফিট’ বাংলাদেশে ৮০০ ইলেকট্রিক বাইক নিয়ে একটি পাইলট প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে। প্রকল্পের লক্ষ্য হলো- বাংলাদেশকে তাদের উদ্ভাবনী ইভি ব্যবসায়িক মডেলের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

এই উদ্যোগে সহযোগিতা করছে হোন্ডা’র অন্যতম প্রধান যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘মুসাশি’। প্রকল্পটির প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য মুসাশির প্রতিনিধিদল বর্তমানে ঢাকা সফর করছেন। এই প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে- চার্জিং এবং ব্যাটারি সোয়াপিং (পরিবর্তন) অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়গুলো।

কার্যক্রম শুরুর অংশ হিসেবে, গত ১৫ জানুয়ারি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে গ্লাফিট বাংলাদেশ লিমিটেড। এ চুক্তির আওতায়, ঢাকা ও অন্যান্য এলাকায় চার্জিং এবং ব্যাটারি সোয়াপিং স্টেশন স্থাপনের জন্য প্রাণ-আরএফএল-এর খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র ‘বেস্ট বাই’-এর নেটওয়ার্কের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে গ্লাফিট।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই সহযোগিতার মাধ্যমে প্রাণ-আরএফএল-এর বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারজাতকরণ নেটওয়ার্কের সাথে গ্লাফিট-এর উন্নত জাপানি ইভি প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সিস্টেমের চমৎকার সমন্বয় ঘটবে।

গ্লাফিট-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তেইজো নারুমি বাসস-কে বলেন, এই প্রকল্পে ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তি এবং একটি ডেডিকেটেড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মাধ্যমে বাইকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কোম্পানিটি মূলত ডেলিভারি এবং লজিস্টিকস (পণ্য পরিবহন) খাতকে লক্ষ্য করে কাজ করছে, যাতে ব্যবসায়িক পরিচালনা খরচ কমানো এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি, পরিবহন চাহিদা বাড়ছে এবং বিশেষ করে ঢাকায় বায়ুদূষণ মোকাবিলার জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। এসব কারণে বাংলাদেশের ইভি খাতে প্রবৃদ্ধির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।

নারুমি আরো বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনসংখ্যা প্রোফাইল একটি বড় সুবিধা। দেশের গড় বয়স প্রায় ২৭ বছর, যা জাপানের বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার তুলনায় একটি গতিশীল কর্মশক্তি ও ক্রমবর্ধমান ভোক্তা বাজার তৈরি করছে।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগ ইভি ইকোসিস্টেম-সংযুক্ত ডেলিভারি ও লজিস্টিকস সেবার মাধ্যমে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

তবে নারুমি ইভি খাতের জন্য স্পষ্ট সরকারি নীতি ও বিধিমালার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানবাহনের দ্রুত ও নিয়ন্ত্রণহীন সম্প্রসারণ আনুষ্ঠানিক নির্মাতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

গ্লাফিট-এর প্রধান কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যাটারি ও চার্জিং সিস্টেমের জন্য বিশেষভাবে নিরাপত্তা মান ও নির্দেশিকা প্রণয়নের আহ্বান জানান, যাতে উন্নত ইভি উৎপাদন ও বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত হয়।

তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোম্পানিটি বাংলাদেশে উৎপাদন সুবিধা স্থাপনের কথা বিবেচনা করতে পারে। কারণ, জাপানের বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যা দেশীয় শিল্প উৎপাদনে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

মুসাশির ওপেন ইনোভেশন ডিরেক্টর আকিরা মাতাগা বলেন, টেকসই নগর পরিবহন প্রসার এবং বাংলাদেশের উদীয়মান ইভি ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মুসাশি গ্লাফিট-কে বাংলাদেশে ব্যবসা চালুর জন্য আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।

গ্লাফিট বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং গ্লাফিট জাপান হেডকোয়ার্টারের গ্লোবাল বিজনেস হেড হাসান কামরুল জানান, ঢাকাজুড়ে চার্জিং এবং ব্যাটারি সোয়াপিং (ব্যাটারি পরিবর্তন) অবকাঠামো উন্নয়নে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করেছে গ্লাফিট।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রাণ-আরএফএল পরিচালিত ‘বেস্ট বাই’ আউটলেটগুলোতে ইভি (বৈদ্যুতিক যান) চার্জিং এবং ব্যাটারি সোয়াপিং স্টেশন স্থাপন করা হবে।

তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে কোম্পানিটি ডেলিভারি এবং লজিস্টিকস (পণ্য পরিবহন) খাতের ওপর জোর দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যার লক্ষ্য শহরে পণ্য স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আরো দক্ষ এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা।

কামরুল বলেন, এই চার্জিং ও ব্যাটারি সোয়াপিং নেটওয়ার্কে আইওটি (আইওটি) প্রযুক্তিসম্পন্ন স্মার্ট সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কাছাকাছি থাকা চার্জিং স্টেশন খুঁজে পাবেন, ব্যাটারির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন, সোয়াপিং পয়েন্ট বুকিং বা ব্যবহার করতে পারবেন এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে ইভি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

তিনি জানান, শক্তিশালী বাজারের সম্ভাবনা, জনসংখ্যাগত সুবিধা এবং পরিবেশগত জরুরি প্রয়োজনের কারণে এই ব্যবসায়িক মডেলের জন্য প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় জনসংখ্যা ঘনত্বের কারণে দক্ষ দুই চাকার যানবাহনের বিশাল চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি, শহরের মারাত্মক বায়ু দূষণ পরিস্থিতি আরো পরিচ্ছন্ন পরিবহন ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হওয়ার গুরুত্বকে নির্দেশ করে।

হাসান কামরুল এই প্রকল্পের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান ডেলিভারি ও লজিস্টিকস খাতের কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের তরুণ ও কর্মক্ষম জনসংখ্যা এই ধরনের উদ্ভাবনী পরিবহন সেবার প্রসারের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

তিনি বৈদ্যুতিক যান (ইভি) শিল্পের জন্য সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতিমালা এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেন, বিশেষ করে ব্যাটারির নিরাপত্তা এবং উৎপাদন মানদণ্ডর বিষয়ে।

তার মতে, একটি সুনির্দিষ্ট ও কাঠামোগত নীতিমালা নিশ্চিত করা গেলে তা বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে এবং এই শিল্পের টেকসই উন্নয়নে সহায়তা করবে।

ব্যবসায়িক মূলনীতির কথা উল্লেখ করে কামরুল বলেন, এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কেবল বাণিজ্যিক স্বার্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি নাগরিক জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে, যাত্রীদের পরিবহন খরচ কমাতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং পরিচ্ছন্ন পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে কাজ করবে।

২০১৭ সালে জাপানের ওয়াকায়ামায় প্রতিষ্ঠিত গ্লাফিট ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিক পরিবহন যেমন- ফোল্ডিং ইলেকট্রিক মোপেড এবং সেলফ-স্ট্যাবিলাইজিং যানবাহন তৈরিতে বিশেষায়িত একটি প্রতিষ্ঠান। প্যানাসনিক এবং ইয়ামাহা মোটরের মতো বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় কোম্পানিটি তাদের এই টেকসই পরিবহন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
অ্যাগ্রো-টেক শিল্পে বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলবে: ড. আব্দুল্লাহ

কৃষিপ্রযুক্তিভিত্তিক (অ্যাগ্রো-টেক) শিল্পের সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।   সোমবার (২৭ জুলাই) কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, কৃষি গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কুড়িগ্রামের মতো কৃষিপ্রধান জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব। তিনি কৃষি ও কৃষিপ্রযুক্তি খাতে সরকারের বিনিয়োগের সুফল শিক্ষার্থী, গবেষক এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   তিনি আরও বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্পের পাশাপাশি কৃষি পর্যটনের সম্ভাবনাকেও কাজে লাগাতে হবে, যাতে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয় এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।   একই দিনে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ভূমি নির্বাচন বিষয়ে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত পৃথক সমন্বয় সভায় ইউজিসি সদস্য বলেন, স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি নির্বাচন করতে হবে স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে।   তিনি পরামর্শ দেন, কৃষি উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক ফসলি বা তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ না করে খাস জমিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। পাশাপাশি সহজ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে কৃত্রিমভাবে জমির মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।   সমন্বয় সভার আগে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত স্থায়ী ক্যাম্পাসের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং স্থানীয় উচ্চশিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।   জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে ৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপির পদায়ন

ছবি: সংগৃহীত

নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকচাপায় সৌদি প্রবাসীর মৃত্যু, আহত স্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

পর্যটন ও বিমান খাতে পিপিপি মডেলে প্রকল্প জোরদারের নির্দেশ

ছবি : সংগৃহীত
শাপলা চত্বরের ঘটনা ছিল জেনোসাইড: চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে জেনোসাইড বা গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।     সোমবার (২৭ জুলাই) ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।     চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ মিলে একটি নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালায়। তবে ঘটনার পর এ নিয়ে করা মামলাটির কোনো তদন্তকাজ চালানো হয়নি। বহু চেষ্টা করার পরও এই হত্যাকাণ্ডের কোনো তদন্ত বা বিচার পায়নি হেফাজতে ইসলাম। অবশেষে এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।’     আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বভার নেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচারের সম্মুখীন করার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেননা শিশুসহ আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এটি জেনোসাইড ছিল। দেশের ইতিহাসে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড কখনো ঘটেছে বলে জানা নেই।’     তিনি আরও বলেন, ‘মোট ৬১ জন মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুটি ঘটনার ওপর আমরা অভিযোগ দিয়েছি। একটি হলো শাপলা চত্বরে ৫ মে মধ্যরাতে নারকীয় ঘটনায় ৩২ জন শহীদ, আরেকটিতে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জন মানুষকে হত্যা করার ঘটনা। এ সবকিছুই জেনোসাইড ছিল। এই দুটি অভিযোগে আমরা ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছি। তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।’     এর আগে শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর শাপলা চত্বরের ঘটনাকে জেনোসাইড আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অভিযানের আগে মন্ত্রী ও প্রশাসনের একটি বৈঠকে গ্রেনেড ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিশুসহ হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয় বলে আদালতে অভিযোগ উপস্থাপন করেন তিনি।     ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ওই ঘটনা নিয়ে প্রথমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। তিনি হেফাজতের নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে অভিযোগটি দাখিল করেন। প্রাথমিক অভিযোগে ২১ জনকে আসামি করা হলেও তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন আসামির সংখ্যা বাড়িয়ে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।     শুনানি শেষে শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার থাকা ১০ আসামিকে পরবর্তী শুনানিতে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

পরিবেশবান্ধব কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় জোর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তুললেই দেশ এগিয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
গণমাধ্যমের নীতিমালায় সম্পাদকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের চলমান কাজে সম্পাদকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।     এছাড়া সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।   সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।     প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।   ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।     অন্যরা হলেন, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, দৈনিক নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম এবং মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাবনায় ট্রান্সফরমার চুরি চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার চোরাই মালামাল ও সরঞ্জাম

ছবি: সংগৃহীত

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম বদলে আধুনিক প্রযুক্তি আনার উদ্যোগ

ছবি : সংগৃহীত

২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অভিযোগ, তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

0 Comments