বাংলাদেশ দূতাবাস সিউল এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) যৌথভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই দিনব্যাপী একটি উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন সেমিকন্ডাক্টর রোডশো সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
গত ১২-১৩ মে অনুষ্ঠিত এই রোডশোর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইনে অন্তর্ভুক্ত করা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অ্যাডভান্সড প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে।
রোডশোটি ১২ মে শুরু হয় দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন হাউস এবং কোরিয়া সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (কেএসআইএ)-এর সঙ্গে একাধিক একান্ত বৈঠকের মাধ্যমে। বিএসআইএর প্রেসিডেন্ট এম এ জব্বারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই সফরে অংশ নেন।
রোডশোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল গত ১২ মে সিউলের ডাবলট্রি বাই হিলটন পাংয়ো হোটেলে আয়োজিত ব্যাংকোয়েট রিসেপশন। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শাতিল, এনডিসি স্বাগত বক্তব্যে দুই দেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের মধ্যে যৌথ সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি এডিবির প্রস্তাবিত ৭৯ বিলিয়ন ডলারের ২০ বছর মেয়াদি টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোরের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি ঐতিহ্যবাহী শহরাঞ্চলের বাইরে হাই-টেক শিল্পায়নের জন্য একটি বিশেষায়িত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলবে, যেখানে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং এবং ইলেকট্রনিক্স খাত সমৃদ্ধ হবে।
বিএসআইএর প্রেসিডেন্ট এম এ জব্বার সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমে প্রবেশের জন্য ডিজাইন ভেরিফিকেশন, এমবেডেড সিস্টেম এবং অ্যাডভান্সড প্যাকেজিংয়ের মতো কৌশলগত পথের উপর জোর দেন।
পরবর্তী টেকনিক্যাল সেশনে পার্ডু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা হোসেন ‘সিলিকন রিভার’ উদ্যোগ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। এরপর বিএসআইএর সাতটি শীর্ষস্থানীয় সদস্য কোম্পানি— ডায়নামিক সল্যুশন ইনোভেটরস, টেস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, উলকাসেমি প্রাইভেট লিমিটেড, নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড, প্রাইমসিলিকন টেকনোলজি ইনক., সিলিকোনোভা লিমিটেড এবং মার্স সল্যুশনস লিমিটেড— তাদের সক্ষমতা তুলে ধরে। এসকে হাইনিক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট চ্যাং হিউন কিম এবং ম্যাকিন্সির মিস ইনজি ইয়ম এআই যুগের মেমরি প্যাকেজিং প্রযুক্তির সাফল্যের গল্প শেয়ার করেন।
গত ১৩ মে বিএসআইএ প্রতিনিধি দল কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (কেইএসটি), এসকে হাইনিক্স, হানা মাইক্রন, কোরিয়া সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (কেএসআইএ), কুলমাইক্রো, ওয়াই-টেক, গ্রোউইথ অ্যাসোসিয়েটসসহ বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর ও গবেষণা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
রোডশোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল কেইএসটি গ্লোবাল কমার্শিয়ালাইজেশন সেন্টার (জিসিসি), সেন্টার অব রিসার্চ এক্সেলেন্স অন সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি (ক্রেস্ট) এবং বিএসআইএ-র মধ্যে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) স্বাক্ষর। এই চুক্তির লক্ষ্য সেমিকন্ডাক্টর খাতে যৌথ গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি।
এই রোডশোর সফল সমাপ্তি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে তুলে ধরেছে। আশা করা যায়, বাংলাদেশের উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর শিল্প কোরিয়ার বিশ্বসেরা প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাস এসব উদ্যোগকে সমর্থন করে দেশকে বিশ্বের একটি উন্নত প্রযুক্তির গন্তব্যে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েলি উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের মধ্যে রাশিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছেন বিশ্ব রাজনীতির প্রভাবশালী তিন শীর্ষ নেতা। আগামী মঙ্গলবার মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পৃথকভাবে বৈঠক করবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি-এর সাথে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ এই বৈঠকের বিষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মস্কোয় আয়োজিত ‘গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলোর ফোরামের’ (জিইসিএফ) শীর্ষ সম্মেলনের আতিথেয়তা দেওয়ার পর পুতিন দুই নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং নতুন ভূ-রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে এই বৈঠক মূল ভূমিকা পালন করতে পারে। গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলোর এই ফোরামে বিশ্ব জ্বালানি বাজার সম্পর্কিত আলোচনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিরসনে পুতিন, পেজেশকিয়ান ও কাতারের আমিরের মধ্যকার এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বিশ্ব রাজনীতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সূত্র: রয়টার্স।
চীন তাদের নতুন প্রজন্মের আকাশপথে আগাম সতর্কতা ও নজরদারির বিমান কেজে-৩০০০-এর সীমিত পরিসরে উৎপাদন শুরু করে থাকতে পারে। স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, দেশটির একটি উড়োজাহাজ কারখানায় এ ধরনের তিনটি সম্ভাব্য উৎপাদিত বিমান এপ্রিল মাস থেকেই অবস্থান করছে। সামরিক বিমান বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিমান পরীক্ষামূলক নমুনা না হয়ে প্রাথমিক উৎপাদন ব্যাচের অংশ হতে পারে। তবে ছবিগুলো থেকে উৎপাদন শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলেও বিমানগুলো চীনের সামরিক বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভূস্থানিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টর গত ৫ অক্টোবরের স্যাটেলাইট চিত্রে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশের শিয়ান-ইয়ানলিয়াং বিমান চলাচল কমপ্লেক্সে চারটি কেজে-৩০০০ বিমান দেখতে পায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ার জোন (টিডব্লিউজেড) গত সপ্তাহে এ তথ্য প্রকাশ করে। ছবিতে দেখা যায়, বিমানগুলোর তিনটি শিয়ান এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করপোরেশনের (এক্সএআইসি) কারখানার কাছে পার্ক করা রয়েছে। অন্যটি পাশের চায়না ফ্লাইট টেস্ট এস্টাবলিশমেন্টে অবস্থান করছে। এটি কেজে-৩০০০-এর একটি প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক নমুনা। এর আগে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাবিষয়ক প্রকাশনা জেনস গত ১৫ মে জানায়, এপ্রিলে তোলা স্যাটেলাইট চিত্রে একই কমপ্লেক্সে কেজে-৩০০০-এর পঞ্চম একটি কাঠামোও দেখা গিয়েছিল। উৎপাদন শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মত নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষক বলেন, পাঁচটি বিমানের মধ্যে তিনটির গায়ে ৭৮এক্সএক্স সিরিজের ক্রমিক নম্বর নেই। অন্য দুটি পরীক্ষামূলক বিমানের নম্বর ৭৮২১ ও ৭৮২২। এ কারণে নম্বরবিহীন তিনটি বিমানকে প্রাথমিক উৎপাদন ব্যাচের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কারখানার কাছে থাকা বিমানগুলো এপ্রিল থেকে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এক্সএআইসির ওই অংশ সাধারণত সরবরাহের অপেক্ষায় থাকা উড়োজাহাজ রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়। অথচ বিমানগুলোকে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের জন্য নির্ধারিত এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেজে-৩০০০-এর মতো বিমানের জন্য চীনের এতগুলো অতিরিক্ত প্রোটোটাইপ তৈরির প্রয়োজন কেন হবে, বিশেষ করে যখন এতে আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত ওয়াই-২০বি পরিবহন বিমানের কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। তার মতে, মূল উড়োজাহাজের কাঠামো পরীক্ষিত হওয়ায় নতুন করে ব্যাপকসংখ্যক প্রোটোটাইপ তৈরির চেয়ে এর বিভিন্ন প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা পরীক্ষা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে অক্টোবরের স্যাটেলাইট চিত্রে আগের পরীক্ষামূলক বিমান ৭৮২১-কে দেখা যায়নি। বিশ্লেষক বলেন, কেজে-৩০০০ বিমানকে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বিমানবাহিনীর (পিএলএএএফ) কোনও কার্যকর ঘাঁটিতে অবস্থান করতে দেখার প্রমাণও তার কাছে নেই। ফলে কারখানায় বিমানগুলোর উপস্থিতি থেকে উৎপাদন শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হলেও সামরিক বাহিনীর কাছে সরবরাহ শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। চীনের সামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়াস রুপপ্রেখট বলেন, নতুন তৈরি বিমানগুলো সাধারণত কয়েক মাস এক্সএআইসির কারখানায় অবস্থান করে। পরে সেগুলো একসঙ্গে কয়েকটি করে সরবরাহ করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সামরিক ইউনিটগুলো বিমান গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ও এগুলো কারখানায় থাকতে পারে। আবার কিছু বিমানে অতিরিক্ত ব্যবস্থা বা সরঞ্জাম সংযোজনের কাজ চলতে পারে। তবে শুধু স্যাটেলাইট চিত্র দেখে এগুলো সেখানে পড়ে থাকার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। টিডব্লিউজেডের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মিচেল ইনস্টিটিউট ফর অ্যারোস্পেস স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক জে মাইকেল ডাহম মনে করেন, কেজে-৩০০০-এর ধারাবাহিক উৎপাদন শুরু হয়ে থাকতে পারে। তবে সংবাদমাধ্যমটি সতর্ক করে দিয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। পুরোনো কেজে-২০০০-এর জায়গা নিতে পারে নতুন বিমান কেজে-৩০০০ কার্যকরভাবে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হলে এটি চীনের পুরোনো কেজে-২০০০ আগাম সতর্কতামূলক বিমানের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। প্রায় দুই দশক আগে রুশ নির্মিত ইল-৭৬ পরিবহন বিমানের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে কেজে-২০০০ তৈরি করা হয়েছিল। এ ধরনের মাত্র চারটি বিমান নির্মিত হয়েছে। টিডব্লিউজেডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, উপযুক্ত উড়োজাহাজের কাঠামোর স্বল্পতা কেজে-২০০০-এর উৎপাদন সীমিত রাখার একটি কারণ। তবে রুপপ্রেখটের মতে, এর পেছনে প্রধান কারণ ছিল বিমানটির বিশেষায়িত কৌশলগত ভূমিকা, শুধু ইল-৭৬-এর স্বল্পতা নয়। প্রয়োজন হলে চীন আরও ইল-৭৬ বিমানকে আগাম সতর্কতামূলক বিমানে রূপান্তর করতে পারত বলেও তিনি মনে করেন। কেজে-২০০০ মূলত আকাশপথে কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ, কম্পিউটারভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে, তুলনামূলক ছোট কেজে-৫০০ বিমানগুলো চীনের অধিকাংশ কৌশলগত ও রণক্ষেত্রভিত্তিক আকাশপথের আগাম সতর্কতা মিশন পরিচালনা করে। রুপপ্রেখটের ধারণা, কেজে-৩০০০-ও কেজে-২০০০-এর মতো কৌশলগত ভূমিকা পালন করবে। তাই এ ধরনের বিমানের সংখ্যা খুব বেশি হওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। এ কারণে ওয়াই-২০ পরিবহন বিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমানের উৎপাদনের সঙ্গে কেজে-৩০০০-এর উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও তিনি দেখছেন না। কোথায় কাজে লাগবে কেজে-৩০০০-এর সম্ভাব্য সামরিক গুরুত্ব শুধু শত্রুপক্ষের বিমান শনাক্ত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি আকাশপথে নজরদারি, বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও অনুসরণ এবং যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় সাধনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিমান পিএলএকে বিস্তৃত এলাকায় নজরদারি চালানো এবং সামরিক অভিযান সমন্বয়ে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের আরও গভীর অঞ্চল এবং ভারতের দিকে বিস্তৃত সামরিক কার্যক্রমেও এর ব্যবহার হতে পারে। রুপপ্রেখটের মতে, এসব অঞ্চলে কেজে-৩০০০ ব্যবহার করা হলে চীনের আকাশপথের নজরদারি ও কমান্ড সক্ষমতায় বড় ধরনের আধুনিকায়ন ঘটবে। তার ভাষায়, এটি হবে সক্ষমতার ক্ষেত্রে ‘এক বিরাট অগ্রগতি’। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে মিচেল ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ২০৩৫ সালে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য যুদ্ধের ওপর পরিচালিত একটি যুদ্ধ-অনুশীলনের বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। সেখানে কেজে-৩০০০ ও কেজে-৫০০-কে চীনের সামরিক বাহিনীর উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও আক্রমণের সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণেই বিমানগুলোকে এ শ্রেণিতে রাখা হয়। রাডার প্রযুক্তি ও আকাশে দীর্ঘক্ষণ থাকার সক্ষমতা কেজে-৩০০০-এর রাডারব্যবস্থার প্রকৃত বিন্যাস ও কার্যক্ষমতা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে জেনস ২০২৫ সালে জানায়, পরীক্ষামূলক বিমানটির রাডার ডোমের গায়ে থাকা চিহ্ন থেকে ধারণা করা যায়, এতে বিপরীতমুখী দুটি অ্যানটেনা অ্যারে থাকতে পারে। এ ধরনের বিন্যাস বিমানের চারপাশের বিস্তৃত এলাকায় নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট নকশা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। বিমানটিতে আকাশে জ্বালানি গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ প্রোব থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। এটি থাকলে উড্ডয়নকালীন জ্বালানি নিয়ে বিমানটি দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করতে পারবে, যা দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিতে পারে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের এক মূল্যায়নে ধারণা দেওয়া হয়েছিল, কেজে-৩০০০-এ ডিজিটাল রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। এতে শত্রুপক্ষের বৈদ্যুতিন জ্যামিং মোকাবিলা, নিষ্ক্রিয় পদ্ধতিতে সংকেত শনাক্ত এবং লক্ষ্যবস্তুর পরিচয় নির্ধারণের সক্ষমতা থাকতে পারে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়। তবে এগুলো সম্ভাব্য সক্ষমতা; বিমানটির চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনও সীমিত। কেজে-৩০০০-এর আরেকটি সম্ভাব্য সুবিধা হলো, এটি শুধু নিজে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করবে না, বরং অন্য সামরিক প্ল্যাটফর্মকেও লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করতে পারবে। এর ফলে জাহাজ, যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য অস্ত্রব্যবস্থা নিজস্ব সেন্সরের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে আরও দূরের লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে। ২০২৫ সালের মে মাসে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, দেশটির টাইপ-০৫৫ শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ লাসা একটি আগাম সতর্কতামূলক বিমানের দেওয়া তথ্য ব্যবহার করে নিজস্ব রাডারের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করেই শনাক্তকরণের পরিসর বাড়াতে এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বিমানটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সেটি কেজে-৩০০০ ছিল কি না, তা জানা যায়নি। তবে ঘটনাটি আকাশপথের সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্য কীভাবে নৌবাহিনীর দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়াতে পারে, তার একটি উদাহরণ। চীনের সামরিক বাহিনী কেজে-৩০০০-এর উৎপাদন শুরু করে থাকলে দেশটির আকাশপথে আগাম সতর্কতা, দূরপাল্লার নজরদারি এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে তথ্য বিনিময়ের সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। তবে বিমানগুলো কবে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক বাহিনীর কাছে সরবরাহ করা হবে এবং কবে থেকে কার্যকর অভিযানে অংশ নেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্যাটেলাইট চিত্রে পাওয়া তথ্য আপাতত উৎপাদন শুরুর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, চূড়ান্ত নিশ্চয়তা নয়। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীল করতে সিঙ্গাপুরে অপরিশোধিত তেল মজুতের উদ্যোগ নিচ্ছে সৌদি আরব। দুই দেশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে সিঙ্গাপুরের জুরং রক ক্যাভার্নসে সৌদি তেল সংরক্ষণের কার্যক্রম শুরু হতে পারে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক জ্বালানি সপ্তাহের সম্মেলনে দুই দেশের জ্বালানিমন্ত্রীরা এ পরিকল্পনার কথা জানান। সংশ্লিষ্টদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এশীয় বাজারের কাছাকাছি তেল সংরক্ষণ করা গেলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার সময় জ্বালানি ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। সিঙ্গাপুরের জ্বালানি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী তান সি লেং জানান, সৌদি আরব ও সিঙ্গাপুর যৌথভাবে এই উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাঁর মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় সৌদি অপরিশোধিত তেলের সরবরাহব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল হবে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে সিঙ্গাপুরের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সৌদি আরামকো সিঙ্গাপুরের জ্বালানি বাজার কর্তৃপক্ষ এবং জেটিসি করপোরেশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করেছে। কয়েক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আলোচনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান আল সৌদ এক ভিডিওবার্তায় বলেন, এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাজারের কাছাকাছি তেলের মজুত থাকলে সরবরাহ নেটওয়ার্কের নমনীয়তা বাড়বে। এতে সিঙ্গাপুরের জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা ও সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতিও শক্তিশালী হবে। ভূগর্ভে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল রাখার সক্ষমতা সিঙ্গাপুরের জুরং দ্বীপে মাটির প্রায় ১৫০ মিটার গভীরে অবস্থিত জুরং রক ক্যাভার্নসে অপরিশোধিত তেল, কনডেনসেটসহ বিভিন্ন ধরনের তরল হাইড্রোকার্বন সংরক্ষণ করা যায়। এসব ভূগর্ভস্থ গুহায় সর্বোচ্চ ১৪ লাখ ৭০ হাজার ঘনমিটার বা প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি মজুতের সক্ষমতা রয়েছে। সৌদি আরব এর আগে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও অপরিশোধিত তেল মজুত করেছে। সেখানে অপ্রত্যাশিত জ্বালানি সংকট দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার ওই মজুত থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায়। হরমুজ প্রণালির সংকটের প্রভাব ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের এই উদ্যোগ সামনে এসেছে। সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ নিজেদের তেলের মজুত ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছে। এতে কৌশলগত জ্বালানি মজুতের পর্যাপ্ততা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। যুদ্ধের আগে এশিয়ার আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসত। ফলে এই অঞ্চলের সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে এশিয়ার জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। সিঙ্গাপুরে তেল মজুতের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এশিয়ার বাজারে সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা শক্তিশালী হতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়ন, মজুত ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যতের জ্বালানি বাজার পরিস্থিতির ওপর। সূত্র: রয়টার্স