সারাদেশ

বাগেরহাটে বাধা পেয়ে খালের উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করল প্রশাসন

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বাগেরহাটে মাছ চাষের জন্য অবৈধ বাঁধ দিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে একটি খাল। সেখানে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়েও ফিরতে হয়েছে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন পরে বিএনপি নেতাদের অনুরোধে দখলদারদের ১৫ দিনের মধ্যে বাঁধ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, এমন দৃষ্টান্ত দখলদারদের উৎসাহিত করবে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দেলভাষানী খালের একাংশে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। অতীতে ওই এলাকা আওয়ামী লীগের লোকজনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তা চলে যায় বিএনপিপন্থি কয়েকজনের হাতে।

 

শনিবার পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যান প্রশাসনের কর্মকর্তারা। কিন্তু উচ্ছেদ শুরুর আগেই সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন দখলদার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে বাঁধ না কাটার জন্য অনুরোধ জানান। সংবাদ পেয়ে সেখানে যান সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। তাদের কাছেও খালের বাঁধ না কাটার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন যুক্তি দেন সেলিম কাজী। তিনি দাবি করেন, খালে তারা পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মাছ ছেড়েছেন। এখন কেটে দিলে ক্ষতি হয়ে যাবে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁধ কেটে দেওয়ার দাবি জানান, চাপ সৃষ্টি করেন সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের ওপর। তবে শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক দখলদারদের ১৫ দিনের মধ্যে বাঁধ সরিয়ে নেওয়ার সময় দিয়ে চলে যান।

 

এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছে। উল্টো তারা খালের পাড় দিয়ে গরু নিয়েও যেতে দেয় না। সরকারি লোকজন বাঁধ কাটতে আসায় আনন্দিত ছিলেন। কিন্তু এভাবে চলে যাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়। এমন দৃষ্টান্ত দখলদারদের উৎসাহিত করবে বলেও মনে করেন তারা।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেল বলেন, সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষকে তারা অপরাধই মনে করে না। জেলার সবচেয়ে বড় কর্মকর্তা, এমনকি সংসদ সদস্যের সামনেও তারা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করলেন। সাধারণ মানুষ হিসেবে এটি ভালো লাগেনি।

 

এদিকে প্রকাশ্যে খালের বাঁধ কাটতে বাধা দিলেও অন্যদিকে দখলের বিষয়টি অস্বীকার করেন সেলিম কাজী। তাঁর দাবি, তিনি এ খাল দখল করেননি। আওয়ামী লীগ চলে যাওয়ার পরে এক বছর ছাত্রদল, যুবদল ও দলীয় লোকজন খালটি ভোগদখল করছেন।

 

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘এই দেলভাষানী খালে যারা বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন, তারা সময় চেয়েছেন। আমরা কৌশলগত কারণে ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেই বিষয়টি বিবেচনা করেছি। দুই সপ্তাহ পরে আমরা খালটি উন্মুক্ত করে দেব।’ 

 

সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, ‘খাল খনন ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ সরকারের চলমান কর্মসূচির অংশ। সারাদেশের মতো বাগেরহাটেও এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেলভাষানী খালে এসে জানতে পেরেছি এখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। যারা মাছ চাষ করছেন, তারা সময় প্রার্থনা করেছে। আমরা দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছি। দুই সপ্তাহের মধ্যেও তারা মাছ তুলে নেবেন, তারপর আমরা খালটি উন্মুক্ত করে দেব।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ বিরতির পর ফের পড়াশোনা, ৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস

একসময় ভেবেছিলেন আর পড়বেনই না। তবে পরে নিজেই এই সিদ্ধান্ত বদল করেন।দীর্ঘ বিরতির বিরতির পর জরিমানা দিয়ে ভর্তি হয়ে আবার পড়াশোনা শুরু করেন। অবশেষে ৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস পাস করেন মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজের চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় ১ সেপ্টেম্বর। এই পরীক্ষায় হাবিবুল্লাহ পাস করেন।   ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বন্ধু, শিক্ষকসহ পরিচিতদের কাছ থেকে শুভেচ্ছাবার্তা পাচ্ছেন হাবিবুল্লাহ। বিভিন্ন গণমাধ্যম তাঁর সাক্ষাৎকার নিচ্ছে। এই ব্যস্ততার ফাঁকে তিনি প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন।   ৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস পাস করে কেমন লাগছে, জানতে চাইলে হেসে উত্তর দিলেন হাবিবুল্লাহ। বললেন, এই যাত্রায় তাঁকে অনেক বাধাবিপত্তি অতিক্রম করতে হয়েছে। এখন তিনি নিজের নামে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করতে পারবেন।   হাবিবুল্লাহ জানালেন, তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ‘কে-৫৩’ ব্যাচের (সেশন ১৯৯৫-১৯৯৬) শিক্ষার্থী ছিলেন। আর এখন ‘কে-৭৮’ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমবিবিএস পাস করলেন। ২০০২ সালে তাঁর এমবিবিএস পাস করার কথা ছিল। কিন্তু পাস করলেন ২০২৬ সালে। এর মধ্যে কেটে গেছে ২৪টি বছর।   দীর্ঘ বিরতির পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের বন্ধু, শিক্ষকসহ সবার সহযোগিতায় আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে এমবিবিএস শেষ করতে পেরেছেন বলে জানালেন হাবিবুল্লাহ। এ জন্য তিনি বিশেষ করে বন্ধু ও শিক্ষকদের নাম ধরে ধরে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন। এ প্রসঙ্গে বললেন, তাঁর বন্ধুদের অনেকে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যাপক হওয়ার পথে আছেন।   কেন এই দীর্ঘ বিরতি হাবিবুল্লাহ প্রথমবার মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাননি। পরেরবার তিনি ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে সুযোগ পান। তাঁর ক্লাস শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। এসব তথ্য জানিয়ে হাবিবুল্লাহ বললেন, শুরুর দিকে তিনি ফলাফল ভালোই করছিলেন। একপর্যায়ে এক শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর ঝামেলা শুরু হয়। তবে এখন আর তিনি এই বিষয়ের বিস্তারিত বলতে চান না।   একসময় হাবিবুল্লাহ ভেবেছিলেন, আর পড়বেনই না। তিনি বলেন, দোটানার মধ্যে পিছিয়ে পড়তে থাকেন। পিছিয়ে পড়ে জুনিয়রদের সঙ্গে তাঁকে ক্লাস করতে হতো। এতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। তিনি মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। একদিকে পড়াশোনায় জটিলতা, অন্যদিকে পারিবারিক নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ফলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে থাকেন।   হাবিবুল্লাহর বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। হাবিবুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বাবা সিভিল সার্জন হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিগত চেম্বারে তিনি রোগীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ টাকা ফি নিতেন। স্ত্রী, সাত ছেলে-মেয়ে নিয়ে আবু বক্করের বড় পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না। এই আর্থিক টানাটানির বিষয়টি হাবিবুল্লাহর জীবনেও প্রভাব ফেলেছিল। হাবিবুল্লাহর বাবা ২০০০ সালে মারা যান। আর মা মারা যান ২০১৬ সালে।   জরিমানা দিয়ে আবার ভর্তি ২০২৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলু। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সেই সময় এক দিন তাঁর সঙ্গে দেখা করেন হাবিবুল্লাহ। তখনই হাবিবুল্লাহর সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয়। সাক্ষাতে হাবিবুল্লাহ তাঁকে বলেন, নানা জটিলতায় তাঁর পড়াশোনা দীর্ঘদিন থমকে ছিল। কিন্তু তিনি এখন আবার ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শেষ করতে চান।   এই দীর্ঘ শিক্ষা বিরতির পর ভর্তির জন্য জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ টাকা। এই তথ্য জানিয়ে অধ্যাপক আবদুল হানিফ বলেন, তখন তিনি মেডিকেলের স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এই কমিটি, হাবিবুল্লাহ নিজে এবং ‘কে-৫৩’ ব্যাচের বন্ধুদের সহায়তায় দুই লাখ টাকা জোগাড় হয়। আবার ভর্তি হয়ে এক দফা বিরতি দিয়ে তিনি এমবিবিএস শেষ করেন।   হাবিবুল্লাহর এমবিবিএস পাসের পর আবদুল হানিফ তাঁর ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। হাবিবুল্লাহর সঙ্গে নিজের ছবিসহ দেওয়া এই পোস্টে তিনি তাঁর এই শিক্ষার্থীসহ অন্য নবীন চিকিৎসকদের অভিনন্দন, শুভকামনা জানান। হাবিবুল্লাহ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ২৪ বছর পর এমবিবিএস পাস! চেষ্টা থাকলে কি না হয়!   পোস্টে আবদুল হানিফ উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁর জন্য উপহার নিয়ে এসেছিলেন হাবিবুল্লাহ। উপহারের মধ্যে ছিল হাবিবুল্লাহর প্রয়াত বাবার ব্যবহৃত একটি স্টেথোস্কোপ এবং একটি পবিত্র কোরআন শরিফ। পবিত্র কোরআন শরিফ রেখেছেন তিনি। স্টেথোস্কোপটি ফেরত দিয়েছেন, যাতে হাবিবুল্লাহ সেটি ব্যবহার করতে পারেন।   ‘ইচ্ছাশক্তি বড় বিষয়’ হাবিবুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। নিজেই নিজেকে ‘কাউন্সেলিং’ করেছেন। বন্ধু, সহপাঠী, শিক্ষকেরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ভর্তির ক্ষেত্রে জরিমানার দুই লাখ টাকার মধ্যে এক লাখ টাকা তিনি নিজে দিয়েছেন। বাকি এক লাখ বন্ধু, শিক্ষকসহ অন্যরা দিয়েছিলেন। সবার সহযোগিতা ছিল বলেই তিনি সব বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে এমবিবিএস পাস করতে পেরেছেন।   হাবিবুল্লাহ এখন ইন্টার্নশিপের অপেক্ষায়। এরপর তিনি সাইকিয়াট্রি বা মনোরোগ বিদ্যায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে চান বলে জানালেন। তিনি বলেন, মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। এই আগ্রহ থেকে তিনি আগে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একটি পত্রিকার সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।   হাবিবুল্লাহ বিয়ে করেছিলেন। ২০০২ সালে কিডনি জটিলতায় তাঁর স্ত্রী মারা যান। হাবিবুল্লাহ বলেন, তিনি জীবনে খুব বেশি কিছু চান না। পেটে-ভাতে মাস পার হলেই তিনি খুশি।   ৫১ বছর বয়সে হাবিবুল্লাহর এমবিবিএস পাস করার ক্ষেত্রে তাঁর ইচ্ছাশক্তিকে বড় বিষয় মনে করেন অধ্যাপক আবদুল হানিফ। তিনি বলেন, হাবিবুল্লাহর ইচ্ছাশক্তি তো ছিলই, পাশাপাশি অন্যরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। তাই তাঁর পক্ষে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।   অধ্যাপক আবদুল হানিফ বলেন, মেডিকেল কলেজে দেশের সেরা শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হয়। কিন্তু ভর্তির পর পড়াশোনাকালে বিভিন্ন কারণে কিছু শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়ে। এমন শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষকের দিক থেকে একটু বেশি যত্ন দরকার। এ জন্য শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে মেন্টরশিপ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা দরকার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সাভারে পুলিশ হত্যা: প্রধান আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের সব সিসি ক্যামেরা অচল

স্কুলের খাবার খেয়ে আবারও অসুস্থ শিক্ষার্থীরা, তদন্তে কমিটি

অপচিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু: অবৈধ চক্ষু হাসপাতালের মালিক কারাগারে

নোয়াখালীর জেলা শহরের দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ‘অপচিকিৎসায়’ মো. মোসলিম (১২) নামের এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের কথিত ডাক্তার ও এর মালিক আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।     এদিকে এ ঘটনায় নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ওই অবৈধ হাসপাতালটি সিলগালা করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।       রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে সদর কোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।     তার অপচিকিৎসায় নিহত মোসলিম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে।      শনিবার বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সময় এক শিশুর আঘাতে তার চোখে রক্ত জমে ফুলে যায়।     পরে স্বজনরা এলাকার পল্লী চিকিৎসকের প্ররোচনায় তাকে নোয়াখালী জেলা শহরে দত্তেরহাটের ইসলামীয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান।     স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে হাসপাতালের মালিক আবুল হোসেন নিজে শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে চোখে তিনটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।   ঘটনার পর আবুল হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় নিহত শিশুর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।     অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের মালিক আবুল হোসেন জানান, তিনি নিজেই একজন প্যারামেডিকস। তাই তিনি নিজেই তার চিকিৎসা করেন।      নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, চোখের ওপরের ও নিচের পাতায় লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ড্রপ দেওয়া হয়েছিল।   তার মতে, এ ধরনের অ্যানেসথেসিয়ার কারণে মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা নেই।   নোয়াখালীর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালটি পরিদর্শন করে সিলগালা করে দিয়েছি। ঘটনা তদন্তে নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈমা নুসরাত জাবিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।     তদন্ত কমিটির প্রধান ডাক্তার নাইমা নুসরাত জাবিন জানান, এটি একটি অবৈধ হাসপাতাল। এর আগেও অপচিকিৎসার কারণে এ হাসপাতালকে দুবার এটি বন্ধ করা হয়। আর মালিক আবুল হোসনে তিনি কোনো ডাক্তার নন। এ ধরনের চিকিৎসা তিনি দিতে পারেন না। আমরা তদন্ত করে রিপোর্ট দেব।     সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের জন্য অপেক্ষা করা হলেও তারা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় তাকে আপাতত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে পরবর্তীতে মামলা করতে পারবে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬

যাত্রাবাড়ীতে মাদক সংক্রান্ত বিরোধে গুলিতে যুবক নিহত, আহত ১

মিয়ানমারে পাচারকালে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করলো বিজিবি

ফেনীতে বাস উল্টে কাস্টমস কর্মকর্তা নিহত, আহত ১৫ যাত্রী

এক দিনেই ঢামেকে চার কারাবন্দির মৃত্যু, তদন্তে ঢামেক পুলিশ

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা আজহারুল ইসলাম (৫১) নামের এক সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু হয়েছে।     রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত রাত ৯টা ২০ মিনিটে কারাগার থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।     আজহারুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার সায়েম উদ্দিনের ছেলে। পাকুন্দিয়া থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।       তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, লাশটি মর্গে রাখা হয়েছে।     উল্লেখ্য, এর আগে একই দিন সকালে পৃথক সময়ে ৩ জন কারাবন্দির মৃত্যু হয়েছে।     তারা হলেন—হাজতি আবুল বাশার (৫৮), হাজতি আবদুল কাইয়ুম (৬২) ও কয়েদি শাহাদাত হোসেন লিটন (৪৮)।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬

বাড্ডার ফার্নিচার কারখানার আগুন ১ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

সাভারে পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ১

প্রতীকী ছবি

আজ টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা

0 Comments