পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার বাবর আজম দীর্ঘ সময় ধরে ফর্মহীনতায় ভুগছেন। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তার পারফরম্যান্স হতাশাজনক। পাওয়ার প্লেতে তার স্ট্রাইকরেট একশোর নিচে এবং স্লগ ওভারে তিনি কোনো বড় হিট করতে পারছেন না।
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন মনে করছেন, পাকিস্তান বাবরকে এমনভাবে ব্যবহার করছে যেন তিনি দলটির ‘ইনস্যুরেন্স পলিসি’, কিন্তু সেই পলিসিও কার্যকর হচ্ছে না।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে পাকিস্তান ২৭ রানে ২ উইকেট হারালে বাবর চতুর্থ ওভারে ক্রিজে আসে, কিন্তু ২৪ বল খেলে মাত্র ২৫ রান করে আউট হন। পাকিস্তান সুপার এইটে ১৬৪ রান করেও ২ উইকেটে ৫ বল আগে হেরেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবরের ধীর ব্যাটিং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের রান কমানোর মূল কারণ।
এই বিশ্বকাপে বাবর ৫ ম্যাচের ৪ ইনিংসে মোট ৯১ রান করেছেন, স্ট্রাইকরেট ১১২.৩৪। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে কম স্ট্রাইকরেটের ব্যাটসম্যান তিনিই। পাকিস্তানে বাবরকে প্রতিটি ম্যাচে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। ভনও মনে করেন, দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং কোচ মাইক হেসন বাবরকে বাধ্য করে খেলাচ্ছেন।
ভন আরও বললেন, বাবর এখন দলটির ইনস্যুরেন্স পলিসি হিসেবে খেলছেন। দুই উইকেট পড়ার পর চার নম্বরে নেমে তিনি নিজের মতো খেলেন। ভন শ্রীলঙ্কার ধীর পিচে বাবরের কার্যকারিতা দেখার আশা করেছিলেন, কিন্তু বাবর সেখানে ২৫ রান করে দলের পতনের কারণ হয়ে ওঠেন।
পাকিস্তানকে চলমান বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখতে অন্য দলের ম্যাচের ফলের দিকে তাকাতে হবে, আপাতদৃষ্টিতে তাদের বিদায়ের সম্ভাবনাই বেশি।
সূত্র- এনডিটিভি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
উত্তর লন্ডনের ছায়া ছেড়ে এবার ফ্যাশনের শহর মিলানে নতুন ঠিকানা গড়তে যাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। টটেনহ্যাম হটস্পারের আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে ডেরা ভেড়াতে ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলান পৌঁছে গেছে চূড়ান্ত সমঝোতায়। ইএসপিএন-এর খবর অনুযায়ী, ৪০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে দুই পক্ষই মৌখিকভাবে একমত হয়েছে। ২০২১ সালের আগস্টে আতালান্তা থেকে ধারে টটেনহ্যামে পা রেখেছিলেন রোমেরো। সেখান থেকে পরের বছরই পাকাপাকি চুক্তি করেন এই বিশ্বজয়ী ডিফেন্ডার। স্পার্সদের জার্সিতে ১২৩ ম্যাচে মাঠে নেমে ১১টি গোলও রয়েছে তার নামের পাশে। গত বছর সন হিউং-মিন দল ছাড়ার পর তৎকালীন কোচ টমাস ফ্রাঙ্ক এই শক্তপোক্ত ডিফেন্ডারের হাতেই তুলে দিয়েছিলেন নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড। তবে চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদল শুরু হতেই নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে ক্লাব ছাড়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন ২৭ বছর বয়সী এই তারকা। রোমেরোর এই সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধার সঙ্গেই মেনে নিয়েছেন টটেনহ্যামের বর্তমান ইতালিয়ান প্রধান কোচ রবার্তো ডি জার্বি। গত এপ্রিলে স্পার্সদের দায়িত্বে আসার পর ফুটবলারদের সঙ্গে হওয়া ব্যক্তিগত আলোচনার কথা স্মরণ করে তিনি স্পষ্ট করেন, দলের প্রতি যাদের অবদান আছে, তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার পুরো স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। ডি জার্বি বলেন, ‘রোমেরোর আচরণ, পেশাদারিত্ব ও ক্লাবের প্রতি সম্মান এক কথায় অনুকরণীয়। সে বিশ্বসেরা সেন্টার-ব্যাকদের একজন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পরও আমাদের কথা হয়েছিল, কিন্তু থাকার জন্য আমি তাকে কখনোই জোর করিনি। আমি সবসময় খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে সম্মান করি।’ ইন্টার মিলানের আগে এই ডিফেন্ডারকে ছাঁকি দিতে মুখিয়ে ছিল দুই স্প্যানিশ পরাশক্তি বার্সেলোনা ও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। তবে শেষ পর্যন্ত লা লিগার ক্লাবগুলোর আলোচনা আলোর মুখ দেখেনি। এদিকে রোমেরো ক্লাব ছাড়ছেন—এমন পূর্বাভাস পেয়ে আগেই প্রতিরক্ষাব্যূহ মজবুত করে ফেলেছে টটেনহ্যাম। চলতি ট্রান্সফার উইন্ডোতেই ইয়ান পল ফান হেকে ও মার্কোস সেনেসিকে সই করিয়ে রক্ষণভাগ সামাল দেওয়ার রসদ তৈরি করে রেখেছে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি। দুই ক্লাবের মাঝে ট্রান্সফার ফির বোঝাপড়া হলেও ইন্তারের সঙ্গে রোমেরোর ব্যক্তিগত শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। তবে সব আনুষ্ঠানিকতা দ্রুতই সম্পন্ন হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর তা হলেই স্পার্সদের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের বাঁধন ছিঁড়ে সিরি ‘আ’-তে নতুন অধ্যায় শুরু করবেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।
দ্বিতীয় দফায় রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে ফিরেই ‘স্পেশাল ওয়ান’খ্যাত হোসে মরিনহো স্কোয়াডে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসছেন। তার একের পর এক সাইনিংয়ে তৈরি হয়েছে মধুর সমস্যা! বার্নার্দো সিলভা, মার্ক কুকুরেয়া, ডেঞ্জেল ডামফ্রিস ও ইব্রাহিমা কোনাতে এসেছেন সান্তিয়াগো বার্নাব্যু শিবিরে। ইয়ান দিওমান্দের আগমনও কার্যত নিশ্চিত, তবে স্প্যানিশ তারকা রদ্রিগো হার্নান্দেজকে পেতে বড় মুখ ছাটাই করতে হবে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে। গ্রীষ্মের দলবদলে খেলোয়াড় বিক্রি করতে গিয়েই রিয়ালকে আসল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কারণ ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় শুধু নতুন খেলোয়াড় আনলেই হবে না, খেলোয়াড় বিক্রির অনেক বেশি জটিল সমীকরণও বাস্তবায়ন করতে হবে। কেমন দল চান ইতোমধ্যেই তা নির্ধারণ করেছেন মরিনহো, কিন্তু এটি গড়তে মাঠের প্রতিটি ক্ষেত্রে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তার পরিকল্পনার সঙ্গে খাপ খান না, খেলার সুযোগ পাওয়ার উপযোগী এবং বিক্রি করলে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হবে– এমন খেলোয়াড়ের ব্যবস্থাপনা হতে হবে ঠিকঠাক। এক্ষেত্রে প্রথমেই যে নামটি আলোচনায় আসছে, তা হলো ডিফেন্ডার রাউল অ্যাসেনসিও। এই মুহূর্তে লস ব্লাঙ্কোস থেকে তারই বিদায়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। যদিও এই স্প্যানিশ সেন্টারব্যাক ছুটির সময়েও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন শুধুমাত্র মরিনিয়োকে সন্তুষ্ট রাখার লক্ষ্যে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্তুগিজ কোচের হাতে। পরবর্তী আলোচনা এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে ঘিরে। ফরাসি এই তারকার চাহিদা এখনও রয়েছে, বিশেষত ইংল্যান্ডে। রিয়ালও বোঝে যে তাকে বড় অঙ্কের টাকায় বিক্রি করতে পারলে মরিনহোর কাছে অপরিহার্য রদ্রিকে দলে নেওয়া সহজ হয়ে যাবে। যদিও কামাভিঙ্গার সঙ্গে ২০২৯ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে রিয়ালের। আবার ক্লাবও তাকে ছাড়ার কথা ক্লাব ভাবছে না, এবং তার বয়সী ও সম্ভাবনাময় একজন খেলোয়াড়কে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে রাজি নয়। তবে গত মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স না করায় কামাভিঙ্গা আর দলের অপরিহার্য খেলোয়াড় নন। তার জায়গা হয়নি ফ্রান্সের বিশ্বকাপ দলেও। রিয়ালের প্রাক-মৌসুমের আক্রমণভাগে একটি অপ্রত্যাশিত মোড় এসেছে। গঞ্জালো গার্সিয়ার ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন থাকলেও, তার সামর্থ্য দেখে মত বদলাতে পারেন মরিনহো। মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াল কোচের মতে– গার্সিয়ার মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অন্য কোনো স্ট্রাইকার নেই এবং তিনি এমন একজন নম্বর নাইন যে সেন্টার-ব্যাকদের আটকে রাখতে, বাতাসে বলের দখল নিতে এবং ম্যাচে ভিন্ন কৌশলের প্রয়োজনে বিকল্প হিসেবে ভূমিকা রাখতে সক্ষম। ফলে তাকে ধরে রাখা অপরিহার্য বলে মনে করছেন মরিনিয়ো। যদিও কিলিয়ান এমবাপের স্বাভাবিক বিকল্প হওয়ায় তিনি গত মৌসুমে খুব কম খেলার সুযোগ পেয়েছেন। গার্সিয়া থেকে গেলে এর প্রভাব পড়বে ব্রাজিলিয়ান বিস্ময়বালক এন্ড্রিকের ওপর। তিনি নিজেকে কয়েক মাস আগের পরিস্থিতির মতোই এক অবস্থায় খুঁজে পেতে যাচ্ছেন! নিজের উন্নতি অব্যাহত রাখতে তার খেলার সুযোগ প্রয়োজন, কিন্তু আক্রমণভাগে প্রতিযোগিতা আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। প্রাক-মৌসুমে পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে, তার অগ্রগতি যাতে আবারও থেমে না যায়, সেজন্য তাকে ধারে অন্য ক্লাবে পাঠানোর বিষয়টি একটি বাস্তব সম্ভাবনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনোর ক্ষেত্রেও একই বিবেচনা প্রযোজ্য। এই আর্জেন্টাইন তরুণ তার প্রথম অনুশীলন পর্ব থেকেই মরিনহোর ওপর এক অসাধারণ ছাপ ফেলেছেন। তার প্রতিভা সমস্ত প্রত্যাশাকে সত্যি প্রমাণ করেছে, এবং বার্নাব্যুতে নিজের ছাপ ফেলতে সক্ষম এই খেলোয়াড়ের ওপর ক্লাবের অটল আস্থা রয়েছে। ঠিক এই কারণেই, কয়েক সপ্তাহ আগেও যে সম্ভাবনাটি প্রায় বিবেচনাতেই আসেনি, তা এখন গতি পাচ্ছে। তার জন্য এমন একটি ঠিকানা খুঁজে বের করা যেখানে সে নিয়মিত খেলতে পারবে। সবমিলিয়ে মরিনিয়োকে এখন জটিল ধাঁধার সমাধান করতে হবে।
ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে এক দশকের পথচলা শেষে ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলানে যোগ দিয়েছেন জন স্টোন্স। গত জুনে সিটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ফ্রি এজেন্ট ছিলেন এই ইংলিশ ডিফেন্ডার। সেরি আ চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছেন তিনি। গণমাধ্যমের খবর, ইতালিয়ান ক্লাবটিতে প্রতি মৌসুমে ৪০ লাখ ইউরো পাবেন স্টোন্স। সিটির হয়ে ১০ বছরে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ আরও অনেক শিরোপা জিতেছেন তিনি। সিটি অধ্যায় শেষ করে জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে যান ৩২ বছর বয়সী এই সেন্টার-ব্যাক। ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হওয়া ইংল্যান্ডের আট ম্যাচের পাঁচটিতে খেলেন তিনি। ক্যারিয়ারে এই প্রথম দেশের বাইরের কোনো ক্লাবে খেলবেন স্টোন্স।