আইন অনুযায়ী টিকটক, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট, রেডিট, থ্রেডস, এক্স, কিক, ও টুইচ—কোনো প্ল্যাটফর্মই নাবালক অস্ট্রেলিয়ান ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট বা সক্রিয় রাখতে পারবে না। বয়স যাচাইয়ে ব্যবহৃত হবে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ও সরকারি পরিচয়পত্র।
অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের মাধ্যমে বিশ্ব প্রথমবারের মতো এমন আইন দেখলো। নতুন আইনে টিকটক, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ ১০টি বড় প্ল্যাটফর্মকে অস্ট্রেলিয়ান নাবালক ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে হবে। তা না মানলে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে। খবর রয়টার্স।
কঠোর এ পদক্ষেপকে প্রযুক্তি কোম্পানি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সমালোচনা করলেও বহু অভিভাবক ও শিশু অধিকারকর্মী সমর্থন জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া সরকার বলছে—বুলিং, অনলাইন প্রতারণা, যৌন ও সহিংস কনটেন্ট ঠেকাতে এ ‘অভূতপূর্ব’ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, সামাজিকমাধ্যম অনেক সময় সমাজবিরোধী হয়ে ওঠে—যেখানে হয়রানি, প্রতারণা ও মানসিক চাপ বাড়ে।
আইন অনুযায়ী টিকটক, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট, রেডিট, থ্রেডস, এক্স, কিক, ও টুইচ—কোনো প্ল্যাটফর্মই নাবালক অস্ট্রেলিয়ান ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট বা সক্রিয় রাখতে পারবে না। বয়স যাচাইয়ে ব্যবহৃত হবে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ও সরকারি পরিচয়পত্র। রোবলক্স, পিন্টারেস্ট ও হোয়াটসঅ্যাপ আপাতত নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকলেও সরকার জানিয়েছে, এসব অ্যাপও পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।
ইউটিউব আইনটিকে ‘তড়িঘড়ি করে নেয়া সিদ্ধান্ত’ বলে সমালোচনা করে দাবি করেছে, এতে শিশুদের আরো অনিরাপদ কোণে ঠেলে দেয়া হতে পারে। এদিকে, ডিজিটাল অধিকার সংগঠনগুলোও আদালতে আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সরকার স্বীকার করেছে, শুরুতে নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ ফলপ্রসূ নাও হতে পারে, কারণ চতুর কিশোররা নিয়ম এড়ানোর পথ খুঁজে পেতে পারে। তবে বিশ্বজুড়ে আইনপ্রণেতারা আগ্রহ নিয়ে দেখছেন, অস্ট্রেলিয়ার এই কঠোর মডেল আদৌ কার্যকর হয় কিনা। মালয়েশিয়া, ডেনমার্কসহ কয়েকটি দেশ এরইমধ্যে অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগাম (এআইএডিএমকে)-এর যে সমস্ত বিদ্রোহী বিধায়ক সরকারকে সমর্থন দিচ্ছেন, তাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বলে শরিক দলগুলোকে নিশ্চিত করেছে মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে)। বামপন্থী দলগুলো এবং বিদুতলাই চিরুতাইগল কাটচি (ভিসিকে)-এর আপত্তির মুখে বুধবার (২০ মে) এই নিশ্চয়তা দিল দলটি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে। টিভিকে-র নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন দেওয়া এআইএডিএমকে-র একাংশের বিধায়কদের আসন্ন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে মন্ত্রী পদের পুরস্কার দেওয়া হতে পারে এমন জল্পনার পর দলটির পক্ষ থেকে অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বড় ধরনের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে কংগ্রেস দুটি মন্ত্রিত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টিভিকের সাধারণ সম্পাদক আধব অর্জুন বলেন, খুব শিগগিরই মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের ঘোষণা দেবেন এবং জোটসঙ্গীদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির বিষয়ে দল উন্মুক্ত রয়েছে। আধব জানান, বিজয় মূলত সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানো দলগুলোকে সরকারে জায়গা দিতে চান; বিশেষ করে কংগ্রেসকে, যারা টিভিকে-র নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন করেছে। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যেন কংগ্রেস মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়। তিনি আরও বলেন, বাইরে থেকে সরকারকে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে বামপন্থী দলগুলোর সিদ্ধান্তকে টিভিকে শ্রদ্ধা জানায়। তবে একই সঙ্গে ভিসিকে এবং আইইউএমএল-কে মন্ত্রিসভার অংশ হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩৪ জনে উন্নীত হতে পারে। জোটের প্রতিশ্রুতি এবং জাতিগত ও আঞ্চলিক সমীকরণ রক্ষা করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলো টিভিকে নিজের হাতেই রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।চেন্নাইয়ের রাজভবনে অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর তাদের পদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। গত ১০ মে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন বিজয়। এন আনন্দ, আধব অর্জুন এবং কে এ সেঙ্গোট্টাইয়ানসহ ৯ জন মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। নতুন গঠিত এই সরকার আগামী সপ্তাহগুলোতে তাদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বিধানসভা অধিবেশন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রস্তুতি নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছেন, যারা ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে এসেছেন, কিন্তু নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ-এর) আওতায় পড়েন না, তারা পুরোপুরি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তিনি বলেন, তাদের সরাসরি রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করবে এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ-এর) হাতে তুলে দেবে। বিএসএফ বিডিআরের সঙ্গে কথা বলে তাদের ডিপোর্ট করার ব্যবস্থা করবে। অর্থাৎ ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সেটির পুরোনো নাম বিডিআর বলেই উল্লেখ করেন অধিকারী। এ সময় তিনি বলেন, বিএসএফ-এর সঙ্গে সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করে আমরা রাজ্য এবং দেশকে সুরক্ষিত করব। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ১৪ মে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। আমাদের আগের সরকার এক দিকে শরণার্থীদের সিএএ (সুরক্ষা) দেওয়ার বিরোধিতা করেছে। অন্য দিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ আইনকে কাজে লাগায়নি। আজ থেকে এই আইন আমরা কার্যকর করলাম। সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া সম্পর্কে শুভেন্দু বলেন, আমাদের রাজ্যে ২২০০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৬০০ কিলোমিটার কাঁটাতার রয়েছে। আমাদের সীমান্তে যে কাঁটাতার সম্পূর্ণ আমরা করতে পারিনি। আমরা বর্তমান সরকার আসার পর দ্রুততার সঙ্গে এই জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছি। আজকে এর সূচনা লগ্নে আমরা ২৭ কি.মি এলাকাকে সুরক্ষিত করার প্রয়োজনীয় জমি, সরকারি এবং প্রাইভেট জমি বিএসএফ এবং ভারত সরকারকে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি পশ্চিমবাংলার দেশপ্রেমিক জনগণ এবং আমাদের অত্যন্ত দক্ষ আধিকারিকরা আগামী কিছুদিনের মধ্যে এই জমিতে যেখানে যেখানে সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব, তারা তা দিবে। উল্লেখ্য, ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে যে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের আগে ভারতে এসেছেন তারা ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এই আইনের আওতায় পড়েন না। সূত্র : বিবিসি বাংলা ও আনন্দবাজার পত্রিকা
প্রায় এক বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের পক্ষ থেকে ‘ট্রাম্প মোবাইল’ বাজারে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। গত বছরের জুনে ট্রাম্পের ছেলেদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ট্রাম্প অর্গানাইজেশন জানায়, আগস্ট থেকে বাজারে আসবে ফোনটি। সে সময় আগ্রহী ক্রেতাদের কাছ থেকে ১০০ ডলার করে জামানতও নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ প্রায় এক বছর পার হলেও ফোনটির বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য জানা যায়নি। অবশেষে ক্রেতাদের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহ থেকেই গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাবে স্বর্ণখচিত ‘ট্রাম্প ফোন’। বুধবার (২০ মে) এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। ট্রাম্প ফোনের দাম ধরা হয়েছে ৪৯৯ ডলার। এর আনুষ্ঠানিক নাম ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১।’ বিশ্লেষকদের মতে, এটা দেখতে অনেকটাই চীনে নির্মিত টি-মোবাইল রেভেল ৭ প্রো ৫জি জিএসএম ফোনের মতো। ওয়ালমার্টে ওই ফোনটি ২০০ ডলারে বিক্রি হয়। শর্তাধীনে ফোন ডেলিভারি ট্রাম্প মোবাইলের ওয়েবসাইটে ‘শর্তাধীনে’ ফোন ডেলিভারির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, যারা ১০০ ডলার জামানত রেখে ‘প্রিঅর্ডার’ করেছিলেন, তারা সবাই ফোনটি নাও পেতে পারেন। পরিবর্তিত শর্ত মতে, ১০০ ডলার জামানত রাখা মানেই এই নয় যে ইউজার ফোনটি পাবেন। এটি একটি ‘বিশেষ শর্তের আওতায় পাওয়া সুযোগ’। ওয়েবসাইটে এসব তথ্য প্রকাশের পর ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে ফোন ডেলিভারির বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন। একটি পোস্টে বলা হয়, ‘যারা টি১ ফোন প্রি-অর্ডার করেছিলেন, তারা শিগগির ইমেইলে আপডেট পাবেন। এ সপ্তাহেই ফোনগুলো ইউজারদের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে’। ট্রাম্প মোবাইলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যাট ও’ব্রায়েন সিএনএনকে জানান, ‘গুণগত মান ঠিক রাখতে দীর্ঘ সময় ধরে ফোনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফোনটির চাহিদা অনেক বেশি থাকা সত্ত্বেও ধাপে ধাপে অর্ডার অনুযায়ী ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সবাই আরাধ্য ফোনটি হাতে পেয়ে যাবেন।’ প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিস-এর বিশ্লেষক ম্যাক্স ওয়েইনবাখ বলেন, ‘অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে আনতে কমপক্ষে ১৮ মাস সময় লাগে। সফটওয়্যার চূড়ান্ত করা, উৎপাদনকারী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করতেই অনেক সময় লেগে যায়।’ ট্রাম্প ফোন নিয়ে যত সমালোচনা ট্রাম্প ফোনের কয়েকটি বিষয় সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ‘ট্রাম্পের ব্র্যান্ড’ ও সোনালী অবয়ব যথাস্থানেই থাকলেও, আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় প্রতিশ্রুত সবগুলো ফিচার চূড়ান্ত মডেলে থাকছে না। তুলনামূলকভাবে ছোট স্ক্রিন ও কম মেমোরি থাকবে এতে। ট্রাম্প মোবাইল মূলত একটি বিশেষায়িত ‘অ্যান্ড্রয়েড ফোন’। শুরুতে এর প্রচারণায় ‘মেইড ইন ইউএসএ’ বলা হলেও দ্রুত এই দাবি থেকে সরে আসে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন। পরবর্তীতে জানানো হয়, ‘মার্কিন মূল্যবোধ মাথায় রেখে এটি তৈরি করা হয়েছে’। মোবাইল ফোন খাতের বিশ্লেষকরা শুরুতেই ‘মেইড ইন ইউএসএ’ দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ দাবি করেন, ফোনের ডিজাইন ও ফিচার চীনে নির্মিত অপর একটি ফোনের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডিভাইস ট্র্যাকার বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান রেইথ সিএনএনকে বলেন, এ ধরনের শব্দগুলো বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য ব্যবহার করা হয়। ফোন তৈরির প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকটি ধাপ আছে। অ্যাপলের ফোনের ডিজাইন তৈরি হয় ক্যালিফোর্নিয়ায়। তবে নির্মাণ হয় চীন ও ভারতের মতো জায়গায়, যেখানে শ্রম-খরচ অপেক্ষাকৃত কম। পাশাপাশি, ফোনের ডিজাইন বা নকশা ‘আমেরিকান’ হলেও এর ছোট ছোট আনুষঙ্গগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। ফোনের আরেকটি বিষয় সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন ‘সাবেক’ ব্যবসায়ী, তিনি এ মুহূর্তে দেশের প্রেসিডেন্ট। এ পরিস্থিতিতে নিজের নাম ব্যবহার করে ‘ব্র্যান্ড’ তৈরি করা ও পণ্য বিক্রি করার বিষয়টি কতটুকু নৈতিক, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ট্রাম্প নিজে নয়, ফোন বিতরণের সঙ্গে যুক্ত তার দুই ছেলে এরিক ও ডোনাল্ড জুনিয়র। ফোনের ডেটা ও ভয়েস প্যাকেজের দাম ধরা হয়েছে ৪৭ ডলার ৪৫ সেন্ট। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের অর্জনকে বিশেষায়িত করা হয়েছে।