বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির পশ্চিম উপকূল থেকে পূর্ব উপকূল পর্যন্ত নির্মাণাধীন নতুন কৌশলগত তেল পাইপলাইন প্রকল্পের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
এখন দেশটি জ্বালানি রপ্তানি নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সরাসরি ওমান উপসাগরে তেল পৌঁছাতেই এই প্রচেষ্টা দেশটির।
আমিরাতের শিল্প ও উন্নত প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. সুলতান আহমেদ আল জাবের জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে নির্মাণকাজ আরও ত্বরান্বিত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার আটলান্টিক কাউন্সিল আয়োজিত এক লাইভস্ট্রিম অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
আল জাবের বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৭ সালের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই এটি চালু করতে আমরা দ্রুতগতিতে কাজ করছি।’
হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ও নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স ও এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের নির্দেশনার পর কাজের গতি আরও বাড়ানো হয়। সম্প্রতি এডিএনওসি বোর্ডের নির্বাহী কমিটির এক বৈঠকেও দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
আল জাবের বলেন, ‘বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ এখনও অল্প কয়েকটি সংকীর্ণ সামুদ্রিক রুট বা চোকপয়েন্টের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণেই এক দশকেরও বেশি সময় আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প অবকাঠামো গড়ে তোলার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’
নতুন পাইপলাইনটি ওমান উপসাগরীয় উপকূলের ফুজাইরাহ বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। ২০২৭ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে ফুজাইরাহর মাধ্যমে এডিএনওসি-র তেল রপ্তানি সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হবে।
বর্তমানে ‘হাবশান-ফুজাইরাহ পাইপলাইন’ নামে পরিচিত বিদ্যমান আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে এই বিকল্প রুটের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় চুক্তিটি সই হবে বলে জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ পাবে। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, চুক্তিটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোনো খরচ হবে না। এর মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও রক্ষায় ‘যা প্রয়োজন তা করার’ সক্ষমতা পাবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি দাবি করেন, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া কোনো মার্কিন প্রতিপক্ষ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে বা ‘সংবেদনশীল বিনিয়োগ’ করতে পারবে না। তবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি বলেছেন, এই চুক্তি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা জোরদার করবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চুক্তিটি ডেনমার্কের রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। জাতীয় নিরাপত্তা, কৌশলগত অবস্থান ও গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে ট্রাম্প দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বারবার বলেছেন। চুক্তিটি সেই দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যেই নতুন সমঝোতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুই গোষ্ঠীর জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক নির্ধারণের পর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, কমিশনের এই পদক্ষেপ গণতন্ত্রের কালো অধ্যায় এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত কোনও গোষ্ঠীই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের সংরক্ষিত জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। শুক্রবার কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর জন্য ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক বরাদ্দ করেছে। বিরোধী গোষ্ঠীর জন্য দেওয়া হয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং খাম প্রতীক। এই ব্যবস্থা আগামী ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে কার্যকর থাকবে। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, উপনির্বাচনের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে দলের নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তার দাবি, এইভাবে একটি ২৮ বছরের পুরনো দলের নাম ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া যায় না। মমতার কথায়, ‘আজ গণতন্ত্রের কালো অধ্যায়। অগণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এটা অন্তর্বর্তী নির্দেশ হলেও আমরা মাথানত করব না।’ তিনি বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর তৃণমূলের সাংগঠনিক নির্বাচন হয়েছে। দলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং নির্বাচনের যাবতীয় নথি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তারপরও এই ধরনের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী।মমতার আরও অভিযোগ, ‘মধ্যরাতে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে।’ তার দাবি, দেশে বহু নামহীন রাজনৈতিক দল রয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, তৃণমূলের ক্ষেত্রে কেন তা নেওয়া হল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেই কমিশন এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, দুই গোষ্ঠীই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল বলে দাবি করছে। ফলে দলীয় নাম ও প্রতীকের অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুই পক্ষকে সমান সুযোগ দিতে এই অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী প্রতীক বিধির অধীনে বিস্তারিত প্রক্রিয়া শেষে। এদিকে মমতা বিরোধী শিবিরকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তার অভিযোগ, যারা তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে লড়াই করছে, তারা দলের স্বার্থের কথা ভাবছে না। তার দাবি, প্রকৃত তৃণমূল কে এবং কারা অন্য পরিচয়ে দলকে দখল করতে চাইছে, তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হয়ে যাবে।তবে কমিশনের সিদ্ধান্তে আপাতত তৃণমূলের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে মমতা শিবিরকে পুরনো নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ছাড়াই ভোটের মাঠে নামতে হবে। মমতা জানিয়েছেন, এই লড়াই এখানেই শেষ নয়। উপনির্বাচন শেষ হওয়ার পর দলীয় নাম ও প্রতীকের বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথাও তিনি জানিয়েছেন। রেজিনগর নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তদারককারী বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের আনা একটি খসড়া প্রস্তাব ভেটো দিয়ে বাতিল করে দিয়েছে রাশিয়া ও চীন। নিরাপত্তা পরিষদের ১৭৩৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির আওতাধীন এই বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। তবে ভেটো প্রদানকারী দুই স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়, আর পাকিস্তান ও সোমালিয়া ভোটদানে বিরত থাকে। জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধি ফু চং খসড়া প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে নিরাপত্তা পরিষদকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের জন্য ইরানের ওপর মার্কিন হামলা ও সর্বোচ্চ চাপের নীতিকে দায়ী করেন এবং সতর্ক করে বলেন, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা বা চাপ সৃষ্টির চেষ্টা সংকট আরও বাড়াবে। এছাড়া ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর রেজোলিউশন ২২৩১-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বেইজিং জানায়, ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের আলাদা আলোচনার আইনি ভিত্তি আগেই সমাপ্ত হয়েছে। চীন নিরাপত্তা পরিষদকে একতরফা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের মঞ্চ না বানিয়ে বহুপাক্ষিক কূটনীতির স্বার্থে গঠনমূলক পথ খোঁজার পরামর্শ দেয়। অন্যদিকে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভাসিলি নেবেনজিয়া ১৭৩৭ কমিটিকে সম্পূর্ণ অকার্যকর ও অবৈধ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো আইনি উপায়ে ইরানের ওপর পুরনো নিষেধাজ্ঞাগুলো বা ‘স্ন্যাপব্যাক’ মেকানিজম পুনর্বহাল করা হয়নি। ফলে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ বাড়ানোর এই বৈঠক আইনগত ও কার্যপ্রণালীগতভাবে ভিত্তিহীন। নেবেনজিয়া জানান, মস্কো আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতের পথ থেকে সরে আসার বার্তা দিয়েছিল, কিন্তু ওয়াশিংটন রাজনৈতিক মুখোমুখি অবস্থানের পথই বেছে নিয়েছে। ভোটাভুটিতে বিরত থাকা পাকিস্তানের প্রতিনিধি পরমাণু ইস্যুর সমাধানে কূটনৈতিক আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ভূমিকাকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: মেহের নিউজ