সরকারি মেডিকেল বোর্ড ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অনুমোদনবিহীন ওষুধ প্রেসক্রাইব করার প্রবণতা রোধে শাস্তিমূলক বিধানসহ একটি নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করেছেন। তারা মনে করেন, এই ধরণের ওষুধ ব্যবহারের ফলে রোগীর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে এবং স্বাস্থ্যখাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নীতিমালায় শাস্তির বিধান থাকলে চিকিৎসকরা শুধুমাত্র অনুমোদিত ওষুধই প্রেসক্রাইব করবেন এবং ঔষধ সরবরাহকারীরা নৈতিক ও আইনগতভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন। এছাড়া, অনুমোদনবিহীন ওষুধের উৎপাদন ও বণ্টন নিয়ন্ত্রণের কড়াকড়ি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, এই নীতিমালা বাস্তবায়ন করলে রোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।
পরামর্শক কমিটি জানিয়েছে, শিগগিরই প্রাথমিক খসড়া তৈরি করা হবে, যা পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নিয়ম-নীতি প্রণয়ন সংস্থার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে জাপানি প্রতিষ্ঠান Sub Working Group আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) বেলা ২টায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদপ্তরে তাদের প্রস্তাব দাখিল করে। জাপানি প্রতিষ্ঠান Sub Working Group-এর পক্ষ থেকে মাসাহিরু হিরাই বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিএসপি, জিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, এসিএসসি, পিএসসি-এর নিকট এই প্রস্তাব জমা দেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের অন্যান্য সদস্য এবং জাপানি প্রতিনিধি দলের সদস্যবৃন্দ। প্রস্তাব দাখিলের সময় জাপানি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কারিগরি (Technical) ও আর্থিক (Financial) প্রস্তাবসংবলিত পৃথক ডকুমেন্ট জমা দেওয়া হয়। দাখিলকৃত প্রস্তাবসমূহ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত RFP Evaluation Committee-এর মাধ্যমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হবে। উক্ত মূল্যায়ন কমিটিতে বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন), সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা), অর্থ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ রয়েছেন। মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথমে কারিগরি প্রস্তাব (Technical Proposal) এবং পরবর্তী সময়ে আর্থিক প্রস্তাব (Financial Proposal) মূল্যায়ন করা হবে। মূল্যায়ন শেষে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও সমঝোতা (Negotiation) কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। সফলভাবে Negotiation সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চুক্তির তারিখ চূড়ান্ত করা হবে হবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দেশের বিমান খাতের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প। আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা এবং দক্ষ অপারেশনাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে আরও শক্তিশালী ও বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচনের পর বাংলাদেশে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে—এমন মন্তব্য করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরো গভীর করতে কাজ করার কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এখনো শুরু না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত এই রাষ্ট্রদূত। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ—সিজিএস আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসাডর’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউর ভবিষ্যৎ সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরেন মাইকেল মিলার। ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে ইইউর সম্পর্ক এখন নতুন এক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শুধু অনুদাননির্ভর সহযোগিতা নয়; যৌথ অর্থায়ন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ এবং চট্টগ্রাম বন্দরে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো বহুমুখী করতে চায় ইইউ। এ সময় কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। এ ছাড়া ঋণনির্ভরতা বা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোনো অংশীদারত্ব নয়, বিশ্বাস, ন্যায্যতা ও ভাগাভাগি সমৃদ্ধির ভিত্তিতে ইইউ সম্পর্ক চায় বলে জানান তিনি। বাংলাদেশে ইইউর প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরোর চলমান চুক্তি, প্রকল্প ও অনুদান রয়েছে বলেও জানান মাইকেল মিলার। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ সামনে রেখে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বন্দর নিরাপত্তা, মানবপাচার ও উগ্রবাদ মোকাবেলায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। এদিকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মাইকেল মিলার। ২০১৭ সালের পর থেকে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ইউরোর বেশি সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থও বিবেচনায় রাখছে ইইউ।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক বাহিনীর সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কানাডা। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। রোহিঙ্গা সংকটের নবম বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মিয়ানমারে কানাডার দূতাবাস এবং বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশন এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংস অভিযান শুরু হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। ওই সময়ে প্রায় সাত হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হন এবং প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে এই সংকট বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকটগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অঞ্চলজুড়ে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে কানাডা। রাখাইনে এখনো অনুকূল পরিস্থিতি নেই: কানাডার যৌথ বিবৃতিতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যসহ পুরো দেশে মানবাধিকার ও মানবিক পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশটিতে সংঘাত তীব্র হওয়া, বেসামরিক মানুষের ওপর বিমান হামলা, নতুন করে বাস্তুচ্যুতি, চলাচলে বিধিনিষেধ এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে জোরপূর্বক শ্রম ও নিয়োগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। কানাডার মতে, এসব কারণে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠীগুলোর একটি বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা বাড়ছে: বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ পথে মিয়ানমার ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের চলাচলের ক্ষেত্রে ওই বছরটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী সময়গুলোর একটি ছিল। জীবিকার সুযোগ কমে যাওয়া, নির্যাতন এবং রাষ্ট্রহীনতার কারণে রোহিঙ্গাদের অনিয়মিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছে কানাডা। ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা: ২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমারের সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কানাডা ৭০০ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা দিয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতার বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে কানাডা। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ, দেশজুড়ে মানবিক সহায়তা অবাধে পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত এবং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। আসিয়ানের উদ্যোগে সমর্থন: মিয়ানমার সংকট সমাধানে আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকা এবং পাঁচ দফা ঐকমত্য বাস্তবায়নের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে কানাডা। জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের উদ্যোগের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে দেশটি। দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে কানাডা। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার মতো নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।