স্বাস্থ্য

অনুমোদন পেল আরও  এক নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ, প্রজ্ঞাপন জারি

মারিয়া রহমান জুন ১৫, ২০২৬
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

নরসিংদী জেলায় নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে রবিবার (১৪ জুন) প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের চিকিৎসা শিক্ষা সম্প্রসারণ ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নরসিংদীতে সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


বর্তমান সরকারের মেয়াদে নরসিংদীতে নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। নরসিংদী-৪ (মনোহরদী–বেলাবো) আসনের সংসদ সদস্য সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিজ জেলায় এ কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ ত্বরান্বিত হয় বলে জানা গেছে।


বর্তমানে দেশে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন মেডিকেল কলেজের অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ নরসিংদী মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সরকারি অনুমোদন দেওয়া হলো।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
প্রতীকী ছবি
ফল খাওয়ার সঠিক সময় কখন? কী বলছে গবেষণা

ফল স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য, তবে এটি খাওয়ার সঠিক সময় নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। কেউ মনে করেন খালি পেটে ফল খাওয়া ভালো, আবার কেউ বলেন খাবারের পর ফল খেলে হজমে সমস্যা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব নিয়ে নানা তথ্য ঘুরে বাড়ালেও বিজ্ঞান আসলে কী বলে, তা জানা জরুরি।   পাকস্থলীতে ফল কি পচে যায়? একটি প্রচলিত ধারণা হলো, খাবারের পর ফল খেলে তা পাকস্থলীতে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে এবং পচে গিয়ে গ্যাস বা হজমের সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, পাকস্থলী প্রোটিন, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট একসাথে হজম করার জন্য তৈরি। ফল খাবারের সাথে বা পরে খেলে তা পেটে পচে যাওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই এবং এতে পুষ্টি শোষণেও কোনো বাধা সৃষ্টি হয় না। ওজন কমাতে চাইলে খাবারের আগে আপনি যদি ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তবে খাবারের আগে ফল খাওয়া আপনার জন্য ফলদায়ক হতে পারে। ফলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও জল থাকে, যা দ্রুত পেট ভরার অনুভূতি দেয়। একটি ছোট ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, যারা খাবারের আগে ফল খেয়েছেন, তারা মূল খাবারের সময় কম ক্যালরি গ্রহণ করেছেন। ফাইবার ধীরে ধীরে হজম হয় বলে এটি দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তি বজায় রাখে। রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ ও ডায়াবেটিস ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ফলের টাইমিং কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত ফল যেকোনো সময় খাওয়া নিরাপদ। তবে মাঝারি বা উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত ফলের ক্ষেত্রে মূল খাবারের পর খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা কেন হয়? যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা নির্দিষ্ট শর্করার প্রতি সংবেদনশীলতা রয়েছে, তারা ফল খাওয়ার পর অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। তবে এটি খাবারের টাইমিংয়ের চেয়ে ফলের ধরন এবং পরিমাণের ওপর বেশি নির্ভর করে। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শারীরিক লক্ষণ বুঝে খাবারের তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন। ফল খাওয়ার কার্যকর উপায় পুষ্টিবিদরা ফলকে একা না খেয়ে প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সাথে মিলিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন। উদাহরণস্বরূপ, আপেলের স্লাইসের সাথে পিনাট বাটার বা টক দইয়ের সাথে বেরি মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এই সংমিশ্রণটি পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি রোধ করে। শেষকথা ফল খাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট ‘পারফেক্ট’ সময় নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আপনি কখন খাচ্ছেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল খাচ্ছেন কি না। যদি খাবারের আগে ফল খেলে আপনার পেট ভরা লাগে এবং তা আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে, তবে সেটিই আপনার জন্য সঠিক সময়। আবার খাবারের পর ফল খেয়ে যদি আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তবে তাতে কোনো বাধা নেই। আসল কথা হলো, ঘড়ির কাঁটা নয়, বরং আপনার শরীর যেভাবে ভালো থাকে সেভাবেই নিয়মিত গোটা ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
কাঁঠালের বিচি। ছবি: সংগৃহীত

কাঁঠালের বিচি খাওয়া কি সত্যিই উপকারী? জেনে নিন

ছবি: সংগৃহীত

মশাবাহিত রোগ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই: বিজ্ঞান সচিব

ছবি : সংগৃহীত

কম খেয়েও ওজন বাড়ছে? জানুন কারণ

ফাইল ছবি
গলার কোন উপসর্গ ক্যানসারের সংকেত? জেনে নিন সতর্ক হওয়ার সময়

আমাদের শরীরে কোথাও হঠাৎ ফোলা দেখা দিলে অনেকেই সেটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দিই না। বিশেষ করে গলায় ছোট একটি ফোলা হলে অনেকেই মনে করেন— এটি সর্দি-কাশি কিংবা সংক্রমণের কারণে হয়েছে। আর দীর্ঘস্থায়ী গলাব্যথা, গলার স্বর পরিবর্তন, খাবার গিলতে সমস্যা এবং ঘাড়ে চাকা অনুভব করা গলার ক্যানসারের প্রধান লক্ষণ। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এ জাতীয় সমস্যা থাকলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, গলার ফোলা সবসময় সাধারণ সমস্যা নাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি থাইরয়েড ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। তবে এ ক্যানসার যদি শুরুতেই ধরা পড়ে, তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব হয়।   থাইরয়েড ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা প্রথম দিকে শনাক্ত করা গেলে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ বেশিরভাগ থাইরয়েড ক্যানসার ধীরে ধীরে বাড়ে। তাই সময়মতো পরীক্ষা করালে এবং চিকিৎসা শুরু করলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।   বিশেষ করে গলায় ফোলা থাকলে তা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ যদি ফোলাটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ ছাড়া আরও কয়েকটি লক্ষণের দিকে নজর রাখা দরকার। যেমন— হঠাৎ কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়া কিংবা দীর্ঘদিন কর্কশ হয়ে থাকা। খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া কিংবা শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া বা গলায় চাপ অনুভব করা। এ ধরনের সমস্যা কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে অবশ্যই পরীক্ষা করানো উচিত। আর লক্ষণগুলোর মানেই যে ক্যানসার, এমন নয়। অনেক সময় থাইরয়েডের সাধারণ সমস্যা, সংক্রমণ বা অন্য কোনো কারণেও এমনটি হতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে শ্রেয়।   থাইরয়েড ক্যানসার নির্ণয়ের জন্য সাধারণত শারীরিক পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড, রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে বায়োপসি করা হয়। রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক ঠিক করেন কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন।   আবার রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার করে থাইরয়েড গ্রন্থির আক্রান্ত অংশ বা পুরো গ্রন্থি বাদ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন থেরাপি, ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসাও দেওয়া হয়। আধুনিক চিকিৎসার ফলে এখন থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বালিশ ছাড়াই ঘুমালে শরীরে কী পরিবর্তন আসে? জানুন

প্রতীকী ছবি

ক্ষুধা পেলেই রাগ বাড়ে—স্বাভাবিক নাকি রোগের ইঙ্গিত?

চা | ছবি: সংগৃহীত

টানা ৯০ দিন চা না খেলে শরীরে কী ঘটে? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

জ্বরে আক্রান্ত নারী | ছবি: সংগৃহীত
জ্বর হলে গোসল করা কি নিরাপদ? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

জ্বর আসলে শরীরে অস্বস্তি, ক্লান্তি এবং ঘাম হওয়া খুব স্বাভাবিক। এই অবস্থায় গোসল করা নিয়ে আমাদের সমাজে নানা রকম মত প্রচলিত আছে। কেউ বলেন জ্বর থাকলে একদমই গোসল করা যাবে না, আবার কেউ বলেন ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে জ্বর কমে যাবে। এই নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সঠিক পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের ফরিদাবাদের অমৃতা হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সঞ্জয় রায়না।   ভ্রান্ত ধারণা ও বাস্তবতা সাধারণত মনে করা হয় যে জ্বরের সময় গোসল করলে শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। কিন্তু চিকিৎসকের মতে, এটি একটি ভুল ধারণা। প্রকৃতপক্ষে, হালকা গরম বা কুসুম কুসুম গরম পানিতে গোসল করা অধিকাংশ মানুষের জন্য নিরাপদ এবং এটি জ্বর নিরাময়ে সাহায্য না করলেও রোগীকে অনেকটা সতেজ ও আরামদায়ক অনুভব করতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীর থেকে ঘাম পরিষ্কার হয় এবং শরীর প্রাকৃতিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কেন ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলবেন? অনেকেই মনে করেন বরফ-ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমবে। কিন্তু চিকিৎসকরা এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন। ডা. রায়নার মতে, খুব ঠান্ডা পানি শরীরে কাঁপুনি সৃষ্টি করতে পারে, যা পেশিতে তাপ তৈরি করে এবং শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া ঠান্ডা পানি অস্বস্তি এবং কাঁপুনি বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত গরম পানিও ক্ষতিকর ঠান্ডা পানির মতো অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করাও ঠিক নয়। কারণ অতিরিক্ত গরম পানি: ঘামের মাধ্যমে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে। মাথা ঘোরার সমস্যা বাড়াতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং শারীরিক অস্বস্তি তৈরি করে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, হালকা গরম পানি ব্যবহার করা, যা শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে না। কখন গোসল করা থেকে বিরত থাকবেন? জ্বর থাকলেও গোসল করা নিরাপদ হলেও কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। যদি রোগী: প্রচণ্ড দুর্বল অনুভব করেন। মাথা ঘোরে বা জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা হয়। বিভ্রান্তি বা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় থাকেন। নিজে নিরাপদভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে না পারেন। খুব বেশি জ্বরের সাথে গুরুতর অসুস্থতা থাকে। এমন অবস্থায় গোসলের চেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং বিশ্রাম নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।   সুস্থ হতে আরও যা প্রয়োজন মনে রাখতে হবে, জ্বর কোনো রোগ নয় বরং এটি শরীরে অন্য কোনো সংক্রমণের উপসর্গ। তাই শুধু শরীরের তাপমাত্রা কমানোর দিকে নজর না দিয়ে চিকিৎসকরা আরও কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলেছেন: প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও পানি পান করে শরীর হাইড্রেটেড রাখা। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া। পুষ্টিকর ও হালকা খাবার খাওয়া। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা।   কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? যদি জ্বর দুই থেকে তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে, শ্বাসকষ্ট হয়, তীব্র মাথাব্যথা বা ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, বারবার বমি হয় কিংবা রোগী বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।শিশু, বয়স্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জ্বরের বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। পরিশেষে বলা যায়, জ্বর মানেই গোসল বন্ধ নয়। নিয়ম মেনে হালকা গরম পানিতে গোসল করলে আপনার শরীর পরিষ্কার থাকবে এবং আপনি মানসিকভাবেও স্বস্তি বোধ করবেন, যা দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৪, ২০২৬
ফাইল ছবি।

চর্বি কমাতে যেসব ভুল ধারণা এখনই বাদ দিন

ছবি: সংগৃহীত

হামের টিকা ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণে ৩৯ লাখ শিশুর ব্যবধান কেন?

ছবি: সংগৃহীত

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৭২৯

0 Comments