জাতীয়

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসেরও দুদক তদন্ত চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মারিয়া রহমান জুন ২৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিগত সরকারের আমলে হওয়া প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাট ও অর্থপাচারের তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের সময়কালেরও যাবতীয় কর্মকাণ্ডের ওপর দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গত কয়েকদিনে একটি রিপোর্ট দিয়েছে, যেখানে বর্তমান সরকারের সময়েও সর্বোচ্চ দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে। যদিও সেই পত্রিকা বা রিপোর্টটি এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই, তবুও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তাই ১৮ মাসের অস্থির সময়ে কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, কীভাবে হয়েছে এবং কারা এর পেছনে জড়িত, তার সবকিছুই দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে খুঁজে বের করা উচিত। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকারের ভিত্তি হচ্ছে স্বচ্ছতা, তাই যেকোনো ধরনের অভিযোগেরই নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের অতীত ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন শ্বেতপত্রের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তিনি জানান, বিগত ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার অভাবে এক ধরনের লুটেরা অর্থনীতি ও ক্রনি ক্যাপিটালিজম গড়ে উঠেছিল। সেই সময়কালে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং গত ১৫ বছরে সব মিলিয়ে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে লোন স্ক্যাম, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক দখল এবং মেগা প্রজেক্টের নামে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বাড়িয়ে বিপুল পরিমাণ জনগণের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক ছিল আইনি মোড়কে দুর্নীতি বা লেজিসলেটিভ ম্যানিপুলেটেড করাপশন, যার মাধ্যমে কুইক রেন্টাল ও ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলোকে ইনডেমনিটি দিয়ে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি আদম ব্যবসার মাধ্যমে ১৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ৭৩ শতাংশ বরাদ্দ রাজনৈতিক বিবেচনায় অপাত্রে দেওয়ার খতিয়ানও তিনি তুলে ধরেন।


বিগত আমলের এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গত ১৮ মাসের চরম অস্থির সময় পার করে সরকার ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মুদ্রা ব্যবস্থার পতন ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও একটি নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। যমুনার অভ্যন্তরে ও কিনারে মিলিয়ে যে বহুমুখী সংকট ছিল, সেই অস্থির সময়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই জুলাই সনদে সমঝোতার মাধ্যমে স্বাক্ষর করতে হয়েছে। দেশের মানুষের কল্যাণে বর্তমান নেতৃত্ব সবসময় সময়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদাসল ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এবারের বাজেটকে ‘এ বাজেট অব নিউ ইকোনমিক অর্ডার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, পুরাতন ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে ফরাসি অর্থনীতিবিদ ফ্রেডরিক বাস্টিয়া কিংবা ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী উইলিয়াম ইওয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোনের জনকল্যাণমুখী দর্শনের আলোকে এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। টেকনাফের সীমান্তের একজন অসহায় বিধবা মহিলাও যেন এই বাজেটের সুফল পান, সেই লক্ষ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কোনো ধরনের ট্যাক্স বাড়ানো হয়নি।


বাজেটের মূল দর্শন হিসেবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্মার্ট রূপান্তরের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ এবং ড. গোহ-এর সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের সফল মডেলের উদাহরণ দেন। নোবেলজয়ী জোসেফ স্টিগলিৎসের তত্ত্বের আলোকেই বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও মাল্টি-পোলার বিশ্বে বাংলাদেশকে নিজস্ব সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছে বলে তিনি জানান। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে মিল রেখে এই বাজেটে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধারসহ পাঁচটি মূল ভিত্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
খুলনায় ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, ২৪ ঘণ্টায় ১৭৩ রোগী ভর্তি

খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। চলতি আগস্টে বিভাগজুড়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে নতুন করে ১৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে মারা গেছেন দুজন। গত এক সপ্তাহে খুলনা জেলায় অন্তত সাতজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।   স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট খুলনা জেলায় দুজনের মৃত্যু হয়। এরপর ১৭ আগস্ট থেকে বুধবার পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে একজন করে আরও তিনজন মারা যান। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন করে মারা গেছেন।   হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীদের জায়গা দিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের ২০ আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ১৭৩ রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯৩ জন খুলনা জেলার। এর মধ্যে খুলনা জেলা সদরে ৫১ জন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪২ জন ভর্তি হয়েছেন।   এ ছাড়া বাগেরহাটে ৩৮, যশোরে ১৯, সাতক্ষীরায় ৭, মাগুরায় ৬, কুষ্টিয়ায় ৩, মেহেরপুরে ৩, নড়াইলে ২ এবং ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে রোগী ভর্তি হয়েছেন।   সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ৩ হাজার ৯৯৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময় সরকারি হিসাবে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন ১৩ জন। বাগেরহাটে একজন এবং খুলনায় দুজনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।   এ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৪৩৫ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫০৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় ৩৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।   গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১টার দিকে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমা ইয়াসমিন পলি (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। তিনি খুলনার বড় মির্জাপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত ১৫ আগস্ট তার ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। একই সময়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও আরও একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়।   এদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনে বিশেষ কার্যক্রম চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার নগরীতে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে বাড়ির আঙিনা অপরিচ্ছন্ন রাখার অভিযোগে নয়জনকে মোট ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।   কেসিসি সূত্র জানায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রজননস্থল ও লার্ভা পাওয়া গেলে বাড়ি বা স্থাপনার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাসাবাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখা এবং টায়ার, কৌটা, ডাবের খোল, ফুলের টবসহ বিভিন্ন স্থানে পানি জমে না থাকার বিষয়ে নগরবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে।   কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশন ব্যাপক কার্যক্রম চালাচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং বিভিন্ন হাসপাতালে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। আক্রান্তের হার বিবেচনায় নগরীর ওয়ার্ডগুলোকে রেড, কমলা ও হলুদ জোনে ভাগ করে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।   তিনি জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে ফগার মেশিন ও হ্যান্ড স্প্রের মাধ্যমে মশক নিধন করা হচ্ছে। পাশাপাশি উন্মুক্ত স্থান ও বড় নালায় হুইল ব্যারো ফগার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২০, ২০২৬

বিএসআইসির প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী হলেন ওয়াইজ রহিম

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি

নতুন রাষ্ট্রপতিকে অধ্যাপক ইউনূসের শুভেচ্ছা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ৬ সংসদ সদস্য

২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ৬ সংসদ সদস্য। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।   ভোট না দেওয়া সংসদ সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. ওসমান ফারুক ও চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, জামায়াতে ইসলামী বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. অলি উল্লাহ।   নির্বাচনে ৩৪৯ সংসদ সদস্য ভোটার ছিলেন। চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩৪৯। এরমধ্যে ৩৪৩ জন সদস্য ভোট প্রদান করেন।   অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস ভোট দিতে পারেননি। ভোট দিতে না পারার বিষয়টি অবহিত করে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি দেন তিনি।   অন্যদিকে নৈতিক স্খলনজনিত কারণে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু তার সংসদ সদস্য পদ এখনো বহাল আছে। কিন্তু তিনি ভোট দেননি।   ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংদস্য রুমিন ফারহানাও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি। ভোট দেননি কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. ওসমান ফারুক ও চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা। তাদের ভোট না দেওয়ার কারণ জানা যায়নি।   এদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ি নির্বাচনে ভোটদানে বিরত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মো. অলি উল্লাহ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২০, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানালেন জামায়াত আমীর

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

জব এক্সপো এবং এডভোকেসি ইভেন্ট ২০২৬: ফ্রম স্কিলস টু অপরচুনিটিজ” অনুষ্ঠিত

এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন- এডুকো ও ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর সহযোগিতায় এবং চোরোগ উসান ফর চিলড্রেন কোরিয়ান সংস্থা -এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত লিফট প্রকল্পের আওতায় বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) ‘জব এক্সপো ও অ্যাডভোকেসি ইভেন্ট’ আয়োজন করেছে।    উক্ত অনুষ্ঠানে (Technical and Vocational Education and Training – TVET) চাকরি প্রত্যাশী যুবদের সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধি, টিভেট বিশেষজ্ঞ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সদস্য, বিভিন্ন অংশীজন এবং প্রায় ৩১টি স্বনামধণ্য চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান  অংশ নেন। এতে যুবরা সম্ভাব্য নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা, চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। পাশাপাশি সিভি তৈরি, সাক্ষাৎকার দক্ষতা, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, মক ইন্টারভিউ এবং চাকরি অনুসন্ধান বিষয়ে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেশনও আয়োজন করা হয়।   জনাব আব্দুল হামিদ, কান্ট্রি ডিরেক্টর,এডুকো বাংলাদেশ, তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে LIFT প্রকল্পের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি ৩০০ জন সুবিধাবঞ্চিত তরুণকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতার জন্য ৩৪টি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দক্ষতার ওপর আস্থা রেখে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। পরে লিফট প্রকল্পের কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরেন এডুকোর চাইল্ড লেবার এলিমিনেশন ম্যানেজার আফজাল কবির খান। এছাড়া প্রকল্পের ওপর ভিডিও প্রদর্শন এবং অংশগ্রহণকারী তরুণদের অভিজ্ঞতা ও সফলতার গল্প তুলে ধরা হয়৷   অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।  তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জীবনের অর্জন শুধু বস্তুগত পুরষ্কার দিয়ে মূল্যায়ন করা নয় বরং যেসব তরুনরা এরকম ক্যানভাসের সৃষ্টি করতে পারেন, তারা ভবিষ্যতের কান্ডারী। লক্ষ্য স্থির ও সুনির্দিষ্ট করার লক্ষ্যে তিনি তরুনদের আহ্বান করেন। সেই সাথে লক্ষ্য ও পথ নকশা ঠিক করতে পারলে রাষ্ট্র, দেশ, সবাই উপকৃত হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেন। চাকুরী খোজার পাশাপাশি তরুনদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইকো সিস্টেম তৈরির লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান করেন। সেই সাথে সঠিক উদ্যোক্তাদের কাছে পুঁজি প্রদান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে তাল মিলিয়ে বাজারের পণ্যজ্ঞান ও বাজার পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার উপর গুরুত্ব  আরোপ করেন৷   সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। তিনি দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে তরুণদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে NSDA-এর ভূমিকা তুলে ধরেন। শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিকুলাম উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেশন ও অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে প্রকৃত দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে জব প্লেসমেন্ট, সনদধারীদের মনিটরিং এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য ভাষা প্রশিক্ষণ ও অ্যাসেসমেন্টের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি তরুণদের চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নিজেদের চাকরির উপযোগী করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং ২০৩০ সালের মধ্যে একটি কার্যকর স্কিল ইকোসিস্টেম তৈরির লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। “দক্ষ যুবক, দক্ষ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানের মাধ্যমে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।   বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন - মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসাইন, অতিরিক্ত সচিব এবং এক্সিকিউটিভ প্রোগ্রাম ডিরেক্টর (ইপিডি), সিসিপ বেনজীর আহমেদ, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) দেবব্রত চক্রবর্তী, যুগ্ম সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন), উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (বিটিইবি) মেজর জেনারেল (অবঃ), ডঃ শাহেদুল ইসলাম, জেনারেল সেক্রেটারি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) মির্জা নুরুল গনি শোভন, চেয়ারম্যান, ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিল (আইএসআইএসসি)   বিশেষ অতিথি জনাব বেনজীর আহমেদ, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক), তিনি চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তুলতে এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে বিসিক -এর ভূমিকা তুলে ধরেন। পাশাপাশি, প্রশিক্ষণের পর কর্মীদের যথাযথ ফলোআপের ঘাটতিকে একটি দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বাজারের চাহিদার সঙ্গে দক্ষ কর্মীদের সংযোগ স্থাপন এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী নিয়মিত ফলোআপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   ড. মোঃ শহীদ উজ জামান, নির্বাহী পরিচালক, ইএসডিও,উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বর্তমান সংকটময় সময়ে এমন একটি সুযোগ সৃষ্টিতে অংশগ্রহণকারী চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান, দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্কিং স্টেশন এবং এডুকো বাংলাদেশ -কে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।   অনুষ্ঠানের অ্যাডভোকেসি পর্বে বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) খাতের গুণগত মান, প্রাসঙ্গিকতা এবং কর্মসংস্থান ফলাফল উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ পর্বে তরুণদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, টিভেট খাত শক্তিশালীকরণে নীতিপ্রস্তাব উপস্থাপন এবং “দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়” শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।   প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন সরকারি প্রতিনিধি, বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধি।   পরবর্তীতে অতিথিরা জব এক্সপোর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন এবং অংশগ্রহণকারী তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।   লিফট প্রকল্প সম্পর্কে লিফট (LIFT) – Leveraging Youth Employment in Bangladesh through Improving Their Employability and Competitiveness to Fit with the 21st-Century Job Market প্রকল্পটি এডুকো ও ইএসডিও যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য ১৬–২২ বছর বয়সী, বিশেষ করে কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা (NEET) ৩০০ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। চাহিদাভিত্তিক টিভেট প্রশিক্ষণ, জীবন দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তি, দক্ষতা মূল্যায়ন, কর্মসংস্থান সংযোগ, উদ্যোক্তা সহায়তা এবং ক্যারিয়ার কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি কাজ করছে।   প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে, শতভাগ লক্ষ্যভুক্ত তরুণদের ছয় মাসের টিভেট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা, ৮৯ শতাংশের এনএসডিএ দক্ষতা মূল্যায়নে অংশগ্রহণ, ৭৮ শতাংশের দক্ষতা সনদ অর্জন এবং ৮৪ শতাংশ তরুণের কর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া।  

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কওমি শিক্ষা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আল-হাইআতুল উলয়ার মতবিনিময়

ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁয় দুই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকের ছবি-নাম-ভয়েস ব্যবহার করে ভুয়া ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ২

0 Comments