বিশ্ব

কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তবুও ইসরায়েল থেকে যুদ্ধাস্ত্র কিনেছে সৌদি ও কাতার!

মারিয়া রহমান জুন ২৮, ২০২৬
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

কূটনৈতিক ও কোনো সামরিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও দখলদার ইসরায়েলের কাছ থেকে যুদ্ধাস্ত্র কিনেছে সৌদি আরব ও কাতার। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ রোববার (২৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।


সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের কম্পিউটারাইজড হেলমেট নিয়েছে আরব অঞ্চলের এ দুটি দেশ।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের রাজ পরিবারের ১১টি বিমানের মধ্যে তিনটিতে ইসরায়েলি কোম্পানি এলবিটের সি-মিউজিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা আছে। বিমানগুলো বাসিলে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২০২০ থেকে ২০২২ সালে আনা হয়। ওই সময় এগুলো স্থাপন করা হয়।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে এফ-১৫কিউএ আবাবিল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চুক্তি হয়। ওই যুদ্ধবিমানে অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশ সরবরাহে ইসরায়েলি কোম্পানি ১৫০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলারের সাব-কন্টাক্ট পায়। যারমধ্যে ১৬০টি জেএইচএমসিএস হেলমেটও আছে। যেগুলোর একেকটির দাম দুই লাখ ডলার। এরসঙ্গে ইসরায়েল এএন/এভিএস-৯ নাইট ভিসন গ্লাসও সরবরাহ করেছিল।


অপরদিকে ২০১০ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে হারেৎজ বলেছে, সৌদি আরব ওই সময় মার্কিন কোম্পানি বোয়িং থেকে এফ-১৫এসএ কেনার চুক্তি করে।


কাতারকে ইসরায়েলি কোম্পানি যে মডেলের হেলমেট ও নাইট ভিশন গ্লাস দিয়েছিল সৌদি আরবও সেগুলো ওই সময় কিনেছিল। দেশটি ইসরায়েল থেকে সবমিলিয়ে ৪৫২টি অত্যাধুনিক হেলমেট এবং ৪৬২টি নাইট ভিশন গ্লাস নিয়েছিল।


অনলাইনের ফুটেজে দেখা গেছে সৌদি ইসরায়েলের সরবরাহকৃত এসব যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করছে।


সৌদি ও কাতার কারও সঙ্গে দখলদার ইসরায়েলের কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। তবে তা সত্ত্বেও তারা ইসরায়েলি যুদ্ধাস্ত্র নিজেদের সামরিক বাহিনীর জন্য নিয়েছে।

সূত্র: হারেৎজ

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই

দীর্ঘমেয়াদি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করেছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। বর শাফাক নিউজের।     ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান ‘১২৩ এগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এবং একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা ও তদারকি (সেফগার্ডস) চুক্তিতে সই করেন।     মার্কিন জ্বালানি দপ্তরের ভাষ্য, এই চুক্তিগুলো কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের বেসামরিক পারমাণবিক অংশীদারত্বের পথ খুলে দেবে এবং একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকেও সমর্থন করবে।     চুক্তিগুলো এখন পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করার আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের নেই: ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাব, ইরানের কঠোর সতর্কবার্তা

নিহত মার্কিন সেনাদের শ্রদ্ধা জানিয়ে স্যালুট দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট। ছবি : সংগৃহীত

নিহত মার্কিন সেনাদের মরদেহ গ্রহণই সবচেয়ে কঠিন কাজ—ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
হরমুজে জাহাজে হামলা হলেই ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কোনো জাহাজকে ইরান লক্ষ্যবস্তু করলে প্রতিবারই ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর সিএনএনের।   বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এখন থেকে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র বোমা মেরে ধ্বংস করবে। এর মধ্যে তেহরানের রাজধানীর ভেতরে বা আশপাশে থাকা স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   এর আগেও ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ইরান আলোচনায় না এলে দেশটির সব সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হবে।   ইরান ইতোমধ্যেই অভিযোগ করেছে, তাদের সেতু, রেল সংযোগ, পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্র, বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে; যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী তা অস্বীকার করেছে।   তবে বেসামরিক অবকাঠামোতে ইচ্ছাকৃত হামলার হুমকি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২২, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে আমেরিকানদের সমর্থন আছে, দাবি ট্রাম্পের

জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটি (বাঁয়ে) ও আইআরজিসির হামলার দৃশ্য (ডানে)। ছবি : সংগৃহীত

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি

হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ইরান করলে বিশ্বজুড়ে ঝুঁকি তৈরি হবে: রুবিও

নিট পরীক্ষা পুরোপুরি বাতিল চায় বিজয়ের টিভিকে

ভারতের তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন জোসেফ বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) জাতীয় মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা (এনইইটি বা নিট) শুধু অনিয়মমুক্ত করার নয়, পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে চিকিৎসা শিক্ষা-সংক্রান্ত সব বিষয়ে রাজ্যগুলোর পূর্ণ ক্ষমতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।   মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে টিভিকে জানায়, নিট পরীক্ষা নিয়ে তাদের অবস্থান ‘অটল ও আপসহীন’। দলটির মতে, চিকিৎসাশিক্ষায় ভর্তির জন্য জাতীয় পর্যায়ের এই পরীক্ষা বাতিল করা উচিত। পাশাপাশি সংবিধানের সমবর্তী (কনকারেন্ট) তালিকা থেকে শিক্ষা খাতকে সরিয়ে রাজ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি জানানো হয়েছে।   দলটি বলেছে, যদি শিক্ষা খাতকে রাজ্য তালিকায় স্থানান্তরে আইনি বা প্রক্রিয়াগত বাধা থাকে, তাহলে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে একটি বিশেষ সমবর্তী তালিকা গঠন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে শিক্ষা, বিশেষ করে চিকিৎসা শিক্ষার ওপর রাজ্য সরকারগুলোর পূর্ণ কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।   বিবৃতিতে বলা হয়, এটি স্থায়ী ও অন্তর্বর্তী উভয় ধরনের সমাধানের জন্য তাদের প্রস্তাবিত দৃষ্টিভঙ্গি। দলটির ভাষ্য, তাদের বিজয়ী নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় আগেই এই অবস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।   টিভিকে অভিযোগ করেছে, অন্যের পরিশ্রম, ধারণা ও আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের নামে নেওয়ার ‘অনৈতিক রাজনীতি’ বন্ধ করা উচিত এবং এ ধরনের আক্রমণ থেকে দলটিকে বিরত থাকতে হবে।   বিবৃতিতে প্রধান বিরোধী দল ডিএমকের নাম উল্লেখ না করে তাদেরও আক্রমণ করেছে টিভিকে। দলটির অভিযোগ, আমরাই নিট বাতিল করবো এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটের রাজনীতি করা প্রতারণামূলক। টিভিকে বলেছে, তারা কখনও এমন রাজনীতি করবে না। উল্লেখ্য ২০২১ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আগে ক্ষমতায় এলে নিট পরীক্ষা বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ডিএমকে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২২, ২০২৬

‘সময় নষ্ট করবেন না’, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশি বলপ্রয়োগ নিয়ে আবেদন নাকচ সুপ্রিম কোর্টের

ছবি: সংগৃহীত

অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার ছাড়িয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের সমর্থনে রাহুলের আন্দোলন, মোদি সরকারের কাছে ৫ দাবি

0 Comments