জাতীয়

যেখানে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী

মারিয়া রহমান মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের পর যমুনায় উঠবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তার আগেই ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময়ের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানটি সেখানে করবেন সরকারপ্রধান। গণপূর্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, বড় ধরনের কোনো সংস্কার নয়, চলছে রুটিন কাজ।

আগস্টের অভ্যুত্থানের সময় গণমানুষ গণভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলা হয় ভবনটি। ফলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর থাকার সুযোগ আর নেই। এর আগে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে গণভবন ব্যবহার হতো।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য জাতীয় সংসদ ভবন ও আগারগাঁও এলাকায় বাসভবন দেখা হয়েছিল। তবে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। তাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকেই সরকার প্রধানের বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী গুলশান থেকে দীর্ঘ পথ ও যানজট পেরিয়ে সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন। যমুনা থেকে কার্যালয় ও সচিবালয় দুটিরই দূরত্ব কাছাকাছি। ৩০ হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনার আয়তন প্রায় ৮ একর। এর মধ্যে ভেতরের অংশ ৫.২ একর, আর বাইরের অংশ ২.৮ একর। অফিসসহ ভবনের মোট আয়তন ৩৫ হাজার স্কয়ার ফিট।

গণপূর্ত অধিদফতর জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ভেতরের কাজগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে সবই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ। এর সঙ্গে কিছু ছোটোখাটো সংস্কারও করতে হচ্ছে। হাইজিনিক ওয়াশ এবং রং মেইন কাজ। এছাড়া সিলিংয়ের কিছু পুরনো অংশে সমস্যা থাকলে তা ঠিক করা হচ্ছে।

তবে বড় ধরনের সংস্কার বা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমরা কোনো ব্যাপক নির্দেশনা পাইনি। মূলত রুটিন কাজগুলোই আমরা করছি। এটি শেষ করতে বেশি সময় লাগবে না। দুই সপ্তাহের মধ্যে আমরা সব কাজ শেষ করে ফেলব।

এদিকে, সরকার প্রধান যমুনায় এরই মধ্যে দুই দফায় দুটি ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এতে দেশি ও বিদেশি কয়েকশ অতিথি অংশগ্রহণ করেছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় 'ফুয়েল পাস' অ্যাপ চালু, নিবন্ধন করার পদ্ধতি

জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কিউআর কোডভিত্তিক 'ফুয়েল পাস' অ্যাপের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। এর ফলে এখন থেকে অ্যাপের মাধ্যমে নির্ধারিত বরাদ্দের তথ্য যাচাই করে তেল নিতে হবে চালকদের। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এই উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকার দুটি ফিলিং স্টেশনে শুধু মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। স্টেশন দুটি হলো তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ও আসাদগেটের সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশন।   মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে ম্যানুয়াল বা সনাতন পদ্ধতিতে তেল বিতরণের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করেন, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে বিতরণ প্রক্রিয়ায় রিয়েল-টাইম মনিটরিং বা তাৎক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত হবে।   সিস্টেমটি যেভাবে কাজ করবে   জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এই সিস্টেমের সঙ্গে বিআরটিএ-এর কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের সংযোগ থাকবে। ফলে গাড়ির সঠিক তথ্য যাচাই করা সহজ হবে। যাদের স্মার্টফোন নেই, তারা চাইলে ওয়েবসাইট থেকে রেজিস্ট্রেশন করে কিউআর কোডটি প্রিন্ট করে সঙ্গে রাখতে পারবেন। তেল নেয়ার সময় পাম্পে কোডটি স্ক্যান করলেই চালকের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দ দেখা যাবে।   ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সুবিধা   স্বচ্ছতা: ফিলিং স্টেশন মালিকরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে তেলের বরাদ্দ এন্ট্রি দিতে পারবেন।   তদারকি: কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে সারা দেশের জ্বালানি মজুত ও বিতরণের চিত্র সরাসরি দেখা যাবে।   অপচয় রোধ: অনিয়ম ও তেলের অপচয় কমবে এবং সংকটকালীন সময়ে ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।   জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আশা করছে, এই পাইলটিং সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য 'ফুয়েল পাস' অ্যাপটি উন্মুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সরকার।   ফুয়েল পাস কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া   গ্রাহককে প্রথমে fuelpass.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কর্তৃক রেজিস্ট্রিশনকৃত গাড়ি ও মালিকের তথ্য প্রদান করতে হবে। বিআরটিএ থেকে যাচাই-বাছাইয়ের পর ফোনে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) আসবে এবং সেটি সাবমিট করে যাচাইয়ের পর অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করতে হবে।   ফুয়েল পাস কার্ডের জন্য একজন গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), গাড়ির ব্লু-বুক, ড্রাইভিং লাইসেন্স, সচল ফোন নম্বর এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি প্রয়োজন হতে পারে।   জানা গেছে, শিগগিরই রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল পাস চালু হবে। শুরুর দিকে মোটরসাইকেল চালকরা এই পাস কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর মাধ্যমে কে কতটা তেল উত্তোলন করলেন, সেটির হিসাব পাওয়া যাবে।

আবরার আল মামুন সাহাফ এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

সংসদে পাস হলো ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ

ছবি : সংগৃহীত

“এটা শাহবাগ মোড় নয়, এটা সংসদ”—হাসনাতকে স্পিকার

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ১০০ আসন বরাদ্দ

ছবি: সংগৃহীত
খুলনায় ট্যাংকলরি থেকে অকটেন চুরি, হাতেনাতে ধরা পড়ল ৫ জন

খুলনা মহানগরীতে ট্যাংকলরি থেকে অকটেন চুরির সময় পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।   প্রশাসন জানায়, পদ্মা ডিপো এলাকায় একটি ট্যাংকলরি থেকে ড্রামে করে অকটেন চুরি করার সময় অভিযানে থাকা সদস্যরা তাদের ধরে ফেলে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ১০ লিটার অকটেন উদ্ধার করা হয়।   আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চালক ও কয়েকজন হেল্পার। তারা সংঘবদ্ধভাবে তেল চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।   পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালমা খানুন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬ অনুযায়ী তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।   ম্যাজিস্ট্রেট জানান, অভিযানে আটক ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলেই তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। জব্দ করা তেল সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0

সংসদে নতুন ইতিহাস : ২ দিনে ৪১ বিল পাশ

ছবি: সংগৃহীত

ইস্টার উপলক্ষে ৩২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা রাশিয়ার

ছবি: সংগৃহীত

ওসি পদায়নের নামে প্রতারণা: সতর্কতা জারি ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের

ছবি: সংগৃহীত
হজ ফ্লাইটে বিপর্যয়ের শঙ্কা কাটল, একক প্রচেষ্টায় সমাধান করলেন বেবিচক কর্মকর্তা

আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া হজ ফ্লাইটে সম্ভাব্য শিডিউল বিপর্যয় ও ফ্লাইট সংকটের শঙ্কা কেটে গেছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পরিচালক (এয়ার ট্রান্সপোর্টেশন) মোহাম্মদ সফিউল আজমের একক উদ্যোগ ও ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতায় সৌদি আরব বাংলাদেশকে সাপ্তাহিক অতিরিক্ত ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে।   বেবিচক জানায়, বর্তমান চুক্তি অনুসারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সাপ্তাহিক ৩৫টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এবারের হজযাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় এই সংখ্যা যথেষ্ট না হওয়ায় ফ্লাইট বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দেয়।   বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সৌদি কর্তৃপক্ষকে তিন দফা চিঠি পাঠালেও শুরুতে কোনো সাড়া মেলেনি। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে সরাসরি মাঠে নামেন বেবিচকের পরিচালক মোহাম্মদ সফিউল আজম।   তিনি সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবির আল সোহাইবানি ও আহমেদ এস আল জুবিয়াদির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যান। তার জোরালো অনুরোধ ও সমন্বয়ের ফলে সৌদি আরব শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত ১৪টি ফ্লাইটের অনুমতি দেয়। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৭টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।   এই অতিরিক্ত ফ্লাইট যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে সাপ্তাহিক মোট ফ্লাইট সংখ্যা এখন ৬৩টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করবে ৪২টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২১টি।   পারস্পরিক সমন্বয়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সকে সিলেট থেকে সৌদি আরব রুটে ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে।   মোহাম্মদ সফিউল আজম বলেন, “হজ মৌসুমকে সামনে রেখে ফ্লাইট সংকট নিরসনে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এতে হজযাত্রীদের যাতায়াত অনেক নির্বিঘ্ন হবে এবং শিডিউল বিপর্যয় এড়ানো যাবে।”   এ বছর হজে যাওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৭৬ হাজার ৫৮০ জন যাত্রী। ভিসাসহ সব কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শেষ মুহূর্তে সফিউল আজমের একক প্রচেষ্টা না থাকলে হজ ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারত বলে জানিয়েছে বেবিচক।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে আরও ১০টি বিল পাস, অন্তর্বর্তী অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর

ছবি: সংগৃহীত

বাড়ি না পৌঁছে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ যাত্রীর ইটের আঘাতে ভ্যানচালক নিহত

0 Comments